সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

পাকা আম পানিতে ভিজিয়ে খাওয়ার পরামর্শ: গবেষণা ও কর্তৃপক্ষ যা বলে

২০২৬ সালের ৮ জুন জাগো নিউজ ২৪ খাওয়ার আগে পাকা আম এক থেকে দুই ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখার পরামর্শ দেয়। গবেষণা অনুযায়ী সাধারণ পানিতে ধোয়া বা ভেজানো কীটনাশক কিছুটা কমায়, পুরোটা নয়; ফাইটিক অ্যাসিড ও 'শরীর গরম' নিয়ে দাবির পক্ষে কোনো স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সমর্থন মেলেনি।

পাকা আম পানিতে ভিজিয়ে খাওয়ার পরামর্শ: গবেষণা ও কর্তৃপক্ষ যা বলে
ফল

২০২৬ সালের ৮ জুন, পাকা আমের ভরা মৌসুমে, অনলাইন সংবাদমাধ্যম জাগো নিউজ ২৪-এর লাইফস্টাইল ডেস্ক পাঠকদের একটি পরামর্শ দেয়: খাওয়ার আগে পাকা আম অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখা ভালো, আর সময় কম থাকলে কমপক্ষে ৩০ মিনিট। প্রতিবেদনটি ভারতের স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথশটস, দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া ও অন্যান্য সূত্রের বরাতে লেখা হয়েছিল। এতে আম ভিজিয়ে রাখার চারটি কারণ বলা হয়: খোসার কীটনাশক ও ময়লা আলগা করা, ফাইটিক অ্যাসিডের প্রভাব কমানো, 'শরীর গরম' হওয়ার অনুভূতি কমানো এবং বোঁটার কাছের আঠালো কষ পরিষ্কার করা। এখানে সেই পরামর্শের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও গবেষণার তথ্য তুলে ধরা হলো, যেগুলো ২০২৬ সালের জুনের আগে প্রকাশিত।

জাগো নিউজের প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছিল


প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকা আমের মৌসুমে বাজার রঙিন, রসালো আমে ভরে যায় এবং গ্রীষ্মে আম অনেকের প্রিয় ফল। অনেকে আম কিনে এনে ভালোভাবে ধুয়ে খান, কেউ আবার সরাসরি কেটে খেয়ে ফেলেন। বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটি জানায়, আম খাওয়ার আগে পানিতে ভিজিয়ে রাখার ধাপটি অনেকেই এড়িয়ে যান, অথচ এই ছোট ভুলে স্বাস্থ্যঝুঁকি লুকিয়ে থাকতে পারে।

প্রথম কারণ হিসেবে বলা হয়, আম গাছে ফলন বাড়াতে ও পোকামাকড় ঠেকাতে নানা ধরনের কীটনাশক ও রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যার কিছু অংশ খোসায় লেগে থাকতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু পানি দিয়ে ধুলে তা সবসময় পুরোপুরি যায় না, কিন্তু কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে খোসার ধুলা, ময়লা ও কিছু ক্ষতিকর রাসায়নিক আলগা হয়ে আসে, ফলে আম তুলনামূলক নিরাপদে খাওয়া যায়।

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আমের খোসায় ফাইটিক অ্যাসিড নামে একটি অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্ট থাকে, যা শরীরে কিছু পুষ্টি উপাদান শোষণে বাধা দিতে পারে, এবং ভিজিয়ে রাখলে এর প্রভাব কিছুটা কমে। তৃতীয় দাবি ছিল, বেশি আম খেলে কারও কারও শরীর গরম লাগা, হালকা অস্বস্তি বা পেটের সমস্যা হয়, আর পানিতে ভেজানো আমে এই 'তাপজনিত প্রভাব' কমে বলে হজমের অস্বস্তিও কিছুটা কমে।

চতুর্থ কারণ ছিল আমের বোঁটার কাছ থেকে বের হওয়া আঠালো কষ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই কষ ত্বকে লাগলে কখনো কখনো চুলকানি বা র‍্যাশ হতে পারে, খাওয়ার সময় মুখ বা গলায় অস্বস্তি তৈরি করতে পারে, আর পানিতে ভিজিয়ে রাখলে কষ অনেকটা পরিষ্কার হয়। প্রতিবেদনের শেষে পরামর্শ দেওয়া হয়, আম সবসময় ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।

এই চারটি দাবির মধ্যে প্রথম ও চতুর্থটি, অর্থাৎ কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ ও আমের কষ, নিয়ে প্রকাশিত গবেষণা ও কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা রয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দাবির পক্ষে কোনো স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা এই প্রতিবেদনের জন্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। নিচে প্রতিটি বিষয় আলাদা করে দেখা হলো।

কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ: ধোয়া আর ভেজানো নিয়ে গবেষণা


জাগো নিউজের প্রতিবেদন প্রকাশের মাস দেড়েক আগে, ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল, ফ্রন্টিয়ার্স ইন এনভায়রনমেন্টাল হেলথ সাময়িকীতে ঘরে ফল ও সবজি ধোয়ার পদ্ধতি নিয়ে একটি পর্যালোচনা (স্কোপিং রিভিউ) প্রকাশিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এনভায়রনমেন্টাল ওয়ার্কিং গ্রুপের (ইডব্লিউজি) গবেষক ডেনা ডি মন্টাগনাক, বরুণ সুব্রামানিয়াম, ওলগা ভি. নাইডেনকো ও অ্যালেক্সিস এম. টেমকিন ৪৭টি পিয়ার-রিভিউড গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করেন, যেগুলোতে ২৩ ধরনের ফল ও সবজি এবং ৭৯টি কীটনাশক পরীক্ষা করা হয়েছিল। তাঁরা চারটি পদ্ধতি তুলনা করেন: কলের পানিতে ধোয়া, সাধারণ পানিতে ভিজিয়ে রাখা, বেকিং সোডার দ্রবণে ভেজানো এবং ভিনেগারের দ্রবণে ভেজানো।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, কলের পানিতে ধুলে কীটনাশকের মাত্রা কমেছে শূন্য থেকে ৯৪ শতাংশের বেশি পর্যন্ত, মধ্যমা (মিডিয়ান) ৩০.২ শতাংশ। সাধারণ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে কমেছে ০.৬ শতাংশ থেকে ৯৯ শতাংশের বেশি পর্যন্ত, মধ্যমা ৩৩.৭ শতাংশ। বেকিং সোডার দ্রবণে ভেজালে মধ্যমা হ্রাস ছিল ৫০.৯ শতাংশ, আর ভিনেগার বা অ্যাসিটিক অ্যাসিডের দ্রবণে ৫৪.২ শতাংশ। অর্থাৎ শুধু পানিতে ধোয়া বা ভেজানোয় সাধারণত মোট কীটনাশকের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমেছে, পুরোটা নয়; আর ফল, কীটনাশক ও পদ্ধতিভেদে ফলাফলের তারতম্য ছিল অনেক।

গবেষণাগুলোতে ফল-সবজি ভেজানো হয়েছিল ১ থেকে ৬০ মিনিট, যার ভারযুক্ত গড় ১১ মিনিট; ধোয়ার সময় ছিল ১৫ সেকেন্ড থেকে ২ মিনিট। ফলে জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা এক থেকে দুই ঘণ্টা ভেজানোর সময় এই পর্যালোচনায় অন্তর্ভুক্ত গবেষণার পরীক্ষিত সময়ের বাইরে। পর্যালোচনার ২৩টি ফল-সবজির মধ্যে আমও ছিল না, তাই আমের জন্য আলাদা কোনো সংখ্যা এতে নেই।

গবেষকেরা ব্যাখ্যা করেন, অ্যাজোক্সিস্ট্রোবিন, টেট্রাকোনাজোল ও অ্যাসিটামিপ্রিডের মতো সিস্টেমিক কীটনাশক গাছের ভেতরে শোষিত হতে পারে, তাই এর একটি অংশ ধুয়ে নাগাল পাওয়া যায় না; অন্যদিকে ক্লোরোথ্যালোনিল, ক্লোরপাইরিফস ও ম্যালাথিয়নের মতো কন্টাক্ট বা নন-সিস্টেমিক কীটনাশক সাধারণত ফল-সবজির উপরিভাগে থাকে। তাঁরা এ-ও সতর্ক করেন যে অনেক গবেষণায় বেকিং সোডা বা ভিনেগারের যে উচ্চ ঘনত্ব ব্যবহার করা হয়েছে, ঘরের সাধারণ ব্যবহারে সেই ফল সবসময় খাটে না।

আম বাগানে কীটনাশক কেন লাগে, ব্যাগিং কী বদলেছে


আমের খোসায় কীটনাশক থাকার প্রশ্নটি আসে বাগানের বাস্তবতা থেকে। ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের মাঠ গবেষণাগারে করা এবং ২০১৪ সালের জুলাইয়ে দ্য সায়েন্টিফিক ওয়ার্ল্ড জার্নালে প্রকাশিত এস. এম. আদনান ও সহকর্মীদের এক গবেষণায় বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আমে তিন শতাধিক প্রজাতির ক্ষতিকর পোকা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আমের হপার পোকার বাচ্চা ও পূর্ণবয়স্ক পোকা কচি ডগা, মুকুল ও পাতা ফুটো করে রস চুষে খায়, ফলে মুকুল নষ্ট হয় ও ফল ঝরে পড়ে। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, বেশি আক্রান্ত গাছে ৫০ শতাংশ বা তার বেশি ফলন ক্ষতির তথ্য রয়েছে। হপারের নিঃসৃত মধুরসে শুটি মোল্ড বা কালো ছত্রাক জন্মায়, যা পাতার সালোকসংশ্লেষণ কমিয়ে দেয়।

একই গবেষণায় প্রচলিত কীটনাশকনির্ভরতার কয়েকটি সমস্যার কথাও বলা হয়: উপকারী প্রাকৃতিক শত্রু পোকার ক্ষতি, কীটনাশক-প্রতিরোধী পোকা তৈরি হওয়া, গৌণ পোকার প্রাদুর্ভাব, পোকার পুনরুত্থান এবং পরিবেশ দূষণ। এ কারণে গবেষকেরা নিরাপদ বিকল্পের ওপর জোর দেন। কোন কীটনাশক কখন, কতটা দিতে হবে, সে বিষয়ে কৃষকদের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়াই নিয়ম।

এমন একটি বিকল্প হলো ফ্রুট ব্যাগিং, অর্থাৎ গাছে থাকা অবস্থাতেই কচি আম খাদ্যোপযোগী বিশেষ ব্যাগে মুড়ে দেওয়া। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ২০২৩ সালের ১১ জুনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাগিং আমকে পোকা, বিশেষ করে ফলের মাছি থেকে রক্ষা করে এবং কষের দাগ ও ছত্রাকের দাগ ঠেকায়। কৃষকেরা সাধারণত ব্যাগ পরানোর আগে একবার কীটনাশক দেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাগ ছাড়া ফসল তোলা পর্যন্ত ১৭ থেকে ১৮ বার কীটনাশক দিতে হয়, ব্যাগ দিলে ৬ থেকে ৭ বারই যথেষ্ট, আর কীটনাশকের খরচ নেমে আসে প্রায় এক-তৃতীয়াংশে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) বরাতে প্রতিবেদনটি জানায়, তখন রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁয় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ আম ব্যাগে মুড়ে উৎপাদন করা হচ্ছিল। শুরুতে ফজলি ও আশ্বিনার মতো নাবি জাতে এ পদ্ধতি চললেও পরে খিরসাপাত, ল্যাংড়া ও আম্রপালির মতো আগাম জাতেও তা ছড়ায়।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এম. জামাল উদ্দিন ও কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের মো. সামি উর রশিদ ২০১৯ সালে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব সাসটেইনেবল অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চে পার্বত্য চট্টগ্রামে আমে ব্যাগিংয়ের আর্থসামাজিক প্রভাব নিয়ে একটি গবেষণা প্রকাশ করেন। এতে ৯৬ শতাংশ উত্তরদাতা জানান, তাঁরা ফলের মাছি নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছেন, আর ৯২ শতাংশ জানান, তাঁরা নিরাপদ ও বিষমুক্ত ফল উৎপাদন করতে পেরেছেন। ব্যাগে মোড়ানো আমের গড় বাজারদর ব্যাগ ছাড়া আমের চেয়ে ৭৪ শতাংশ বেশি ছিল। ব্যাগিংয়ের জন্য বারি আম-৪, বারি আম-৮, বারি আম-৩, মল্লিকা ও আশ্বিনা জাত বেশি পছন্দের ছিল।

বাংলাদেশে গাছে ব্যাগে মোড়ানো আশ্বিনা জাতের আম। ছবি: Fozli.com / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাংলাদেশে গাছে ব্যাগে মোড়ানো আশ্বিনা জাতের আম। ছবি: Fozli.com / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

আমের কষ: ফলের দাগ থেকে ত্বকের প্রদাহ


জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা আঠালো কষের বিষয়টি উদ্যানতত্ত্ব ও চিকিৎসা, দুই দিক থেকেই আলোচিত। অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড সরকারের আম সংগ্রহ নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বোঁটা ছাড়ানোর সময় ফল থেকে প্রথমে যে কষ ছিটকে বের হয়, তা খোসায় লাগলে 'স্যাপবার্ন' বা কষপোড়া দাগ হয়, যা ফলের মান ও বাজারদর কমায়; কেনসিংটন প্রাইড জাতে এ সমস্যা সবচেয়ে বেশি। কষ ছাড়ানোর কাজে নিয়োজিত কর্মীদের হাত কষমুক্ত রাখতে বলা হয়েছে, কারণ অনেক কষপোড়ার জন্য 'কষমাখা আঙুল'কে দায়ী করা হয়েছে। প্যাকিং শেডে বোঁটা ছাড়ানোর আগে ফল ডিটারজেন্টে ঢেকে দেওয়া এবং পরে পানির ঝাপটায় ডিটারজেন্ট ও কষ ধুয়ে ফেলার পদ্ধতির কথাও নির্দেশিকায় আছে।

ভারতের বিহার কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাবৌর, ভাগলপুর) কল্যাণ বর্মন ও সহকর্মীরা ল্যাংড়া জাতের আম নিয়ে ২০১৫ সালে ইন্ডিয়ান জার্নাল অব অ্যাগ্রিকালচারাল সায়েন্সেসে প্রকাশিত গবেষণায় দেখান, সকালে পাড়া আম থেকে কষ বেশি বের হয়। সংগ্রহের পর ফল ১ শতাংশ সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড দ্রবণে ডুবিয়ে কষ ঝরালে নিয়ন্ত্রিত নমুনার তুলনায় কষপোড়া প্রায় ১১ গুণ কম হয়েছে, আর ফলের মিষ্টতা, অম্লতা ও ক্যারোটিনয়েডে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি। এটি বাগান ও প্যাকিং পর্যায়ের সংগ্রহোত্তর পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা।

মানুষের ত্বকের ক্ষেত্রেও আমের কষ গুরুত্বপূর্ণ। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড কেসেস ইন ইমার্জেন্সি মেডিসিন সাময়িকীতে ২০১৯ সালে প্রকাশিত মাইকেল জে. ইয়ু ও ব্র্যান্ডন এম. ক্যারিয়াসের এক কেস রিপোর্টে বলা হয়, আম অ্যানাকার্ডিয়েসি গোত্রের উদ্ভিদ, যে গোত্রে উরুশিওল নামের যৌগসমৃদ্ধ পয়জন আইভি ও পয়জন ওকও রয়েছে। আমের ৫-রিসরসিনল ও সংশ্লিষ্ট ফেনলজাতীয় যৌগ, যেগুলোকে একসঙ্গে 'ম্যাঙ্গো ল্যাটেক্স' বলা হয়, মূলত খোসা, পাতা ও বোঁটায় থাকে; শাঁসে এর পরিমাণ নগণ্য। যাঁরা আগে উরুশিওলের সংস্পর্শে সংবেদনশীল হয়ে আছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে আমের সংস্পর্শে বিলম্বিত অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া (টাইপ ফোর হাইপারসেনসিটিভিটি) হতে পারে। প্রতিবেদনে বর্ণিত রোগীর সংস্পর্শের দুই থেকে চার দিন পর তীব্র চুলকানিসহ লাল র‍্যাশ দেখা দিয়েছিল।

কেস রিপোর্টে বলা হয়, এ ধরনের প্রদাহের মূল ব্যবস্থাপনা হলো কারণটি এড়িয়ে চলা; সংস্পর্শের ৩০ মিনিটের মধ্যে ঠান্ডা সাবান-পানিতে ত্বক ধুয়ে ফেলার কথাও বলা হয়েছে, আর প্রদাহ বেশি হলে চিকিৎসক ওষুধ দেন। লেখকেরা উল্লেখ করেন, যাঁদের আগে আমজনিত ত্বকপ্রদাহ হয়েছে, তাঁরা অন্য কেউ খোসা ছাড়িয়ে দিলে ফলটি খেতে পারেন। আম ধরার বা খাওয়ার পর ত্বকে বা মুখের চারপাশে র‍্যাশ, ফোলা বা তীব্র চুলকানি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ফাইটিক অ্যাসিড ও 'শরীর গরম': প্রমাণ কী বলে


যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড টি. এইচ. চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের পুষ্টিবিষয়ক ওয়েবসাইট দ্য নিউট্রিশন সোর্সের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ফাইটিক অ্যাসিড বা ফাইটেট হলো বীজ, বাদাম, ডাল ও অপরিশোধিত গোটা শস্যে ফসফরাস সঞ্চয়ের রূপ; শস্যে এটি বেশি থাকে বাইরের তুষ বা ব্রান স্তরে। একই বেলার খাবারে থাকলে ফাইটিক অ্যাসিড আয়রন, জিংক ও ক্যালসিয়ামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অন্ত্রে এগুলোর শোষণ কমায়। রান্না, সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখা, অঙ্কুরোদগম, গাঁজন ও আচার তৈরির মাধ্যমে ফাইটিক অ্যাসিড ভেঙে যায়।

দ্য নিউট্রিশন সোর্স আরও জানায়, ফাইটেট কোলেস্টেরল কমানো, হজম ধীর করা ও রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি ঠেকানোর মতো উপকারও দেখিয়েছে। যাঁরা নানা ধরনের উদ্ভিজ্জ ও চর্বিহীন প্রাণিজ খাবার খান, তাঁদের ফাইটেটের পরিমাণ নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই; ঘাটতির ঝুঁকি মূলত তাঁদের, যাঁরা কেবল উদ্ভিজ্জ খাবার খান বা যাঁদের খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য কম।

হার্ভার্ডের এই ব্যাখ্যায় ফাইটেটের উৎস হিসেবে বীজ, বাদাম, ডাল ও গোটা শস্যের কথা বলা হয়েছে, ফল বা আমের উল্লেখ নেই, আর ভেজানোর উপকারের কথাও এসেছে ওই খাবারগুলোর প্রসঙ্গে। পুরো আম পানিতে ভিজিয়ে রাখলে খোসার ফাইটিক অ্যাসিডের প্রভাব কমে এবং শরীর বেশি পুষ্টি পায়, জাগো নিউজের প্রতিবেদনের এই দাবির পক্ষে কোনো স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা বা গবেষণা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

আম খেলে 'শরীর গরম' হওয়া এবং ভেজালে সেই প্রভাব কমার ধারণাটি দক্ষিণ এশিয়ার ঘরোয়া প্রচলিত বিশ্বাস হিসেবে বিভিন্ন লাইফস্টাইল প্রতিবেদনে আসে। এ বিষয়ে কোনো স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পাওয়া যায়নি, তাই একে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে নেওয়া যায় না। আম খাওয়ার পর পেটের সমস্যা, অ্যালার্জি বা অন্য অস্বস্তি বারবার হলে, কিংবা ডায়াবেটিসের মতো কোনো রোগ থাকলে খাদ্যতালিকা নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

পাকা আমের পুষ্টিগুণ


যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) খাদ্য উপাদান তথ্যভান্ডার ফুডডেটা সেন্ট্রালের এসআর লিগেসি অংশে ২০১৯ সালে প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ১০০ গ্রাম কাঁচা আমের খাওয়ার উপযোগী অংশে থাকে ৮৩.৪৬ গ্রাম পানি, ৬০ কিলোক্যালরি শক্তি, ১৪.৯৮ গ্রাম শর্করা, ১.৬ গ্রাম খাদ্য আঁশ, ০.৮২ গ্রাম আমিষ ও ০.৩৮ গ্রাম চর্বি। ভিটামিন ও খনিজের মধ্যে একই পরিমাণ আমে থাকে:

  • ভিটামিন সি: ৩৬.৪ মিলিগ্রাম
  • ফোলেট: ৪৩ মাইক্রোগ্রাম
  • ভিটামিন এ (রেটিনল অ্যাকটিভিটি ইকুইভ্যালেন্ট): ৫৪ মাইক্রোগ্রাম
  • বিটা-ক্যারোটিন: ৬৪০ মাইক্রোগ্রাম
  • ভিটামিন ই (আলফা-টোকোফেরল): ০.৯ মিলিগ্রাম
  • পটাশিয়াম: ১৬৮ মিলিগ্রাম

এই হিসাব ফলের শাঁসের, খোসার নয়। ধুয়ে বা ভিজিয়ে রাখার সঙ্গে এই পুষ্টি উপাদানের কোনো সম্পর্ক ইউএসডিএর তথ্যভান্ডারে দেখানো হয়নি।

টুকরো করে কাটা একটি পাকা আম। ছবি: T9E28 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
টুকরো করে কাটা একটি পাকা আম। ছবি: T9E28 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

বাংলাদেশে আমের উৎপাদন ও প্রধান অঞ্চল


বাংলাদেশে আম বড় পরিসরের ফসল। বণিক বার্তার ২০২৫ সালের ১০ মে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ডিএইর বরাতে বলা হয়, সেই মৌসুমে প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার ৩৪ হেক্টর জমি থেকে প্রায় ২৫ লাখ টন আম উৎপাদনের আশা করা হচ্ছিল, যার মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার টন রপ্তানির উপযোগী। ডিএইর তথ্য অনুযায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরে উৎপাদন ছিল ২৩ লাখ ৫০ হাজার টন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা বেড়ে ২৭ লাখ টনে দাঁড়ায় এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কিছুটা কমে ২৫ লাখ টন হয়।

উৎপাদনের তুলনায় রপ্তানি ছিল সামান্য: ডিএইর তথ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে ১,৭৫৭ টন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১,৭৮৮ টন এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১,৩২১ টন। ২০২৫ সালের মৌসুমে ৩৮টি দেশে ৫ হাজার টন রপ্তানির লক্ষ্য ঠিক করা হয়। ডিএইর রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, প্রতি মৌসুমে দেশে ২০ থেকে ২৫ লাখ টন আম হয় এবং উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে সপ্তম। প্রতিবেদনে ডিএইর সূত্রে বলা হয়, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, সাতক্ষীরা, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রংপুরে আমের উৎপাদন সবচেয়ে বেশি, আর ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হিমসাগর, খিরসাপাত, আম্রপালি, মল্লিকা ও হাঁড়িভাঙাসহ বহু জাতের আম দেশে চাষ হয়।

বরেন্দ্র অঞ্চল নিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসের ২০২৫ সালের ২৯ জুনের এক প্রতিবেদনে ডিএইর কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়, সে বছর রাজশাহী জেলায় ১৯,৬০৩ হেক্টর জমি থেকে ২ লাখ ৬০ হাজার টন, নওগাঁয় ৩০,৩০০ হেক্টরে ৩ লাখ ৮৭ হাজার টন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৭,৫০৪ হেক্টর থেকে প্রায় ৩ লাখ ৮৬ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্য বা প্রত্যাশা ছিল। ডিএইর অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান জানান, এ অঞ্চলে ৮৭,৩০৭ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছিল, প্রত্যাশিত উৎপাদন প্রায় ১০ লাখ টন। প্রতিবেদনে বলা হয়, বরেন্দ্রের লাল, উঁচুনিচু মাটিতে ১৫ থেকে ২০ বছর আগে কেবল ধান চাষ হতো; উঁচু বরেন্দ্রে সেচের পানির সংকটে ধান চাষ কঠিন হওয়ায় অনেক জমিতে আমবাগান গড়ে উঠেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি প্রচলিত আমের হাটে সাইকেল ও ভ্যানে আনা আম, ২০২৪ সালের জুন। ছবি: Mahinur11 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি প্রচলিত আমের হাটে সাইকেল ও ভ্যানে আনা আম, ২০২৪ সালের জুন। ছবি: Mahinur11 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

রাসায়নিকে পাকানো নিয়ে আগের বিতর্ক


আম ধুয়ে বা ভিজিয়ে খাওয়ার পরামর্শের পেছনে রাসায়নিক নিয়ে ভোক্তাদের উদ্বেগও কাজ করে। দ্য ডেইলি স্টারের ২০১৮ সালের ২৪ মে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের দিন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ মিলনায়তনে ফলে রাসায়নিক ব্যবহার নিয়ে একটি কর্মশালা আয়োজন করে। সে সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানে ইথোফন ও কার্বাইডের উপস্থিতি পাওয়া আম নষ্ট করা হচ্ছিল; কর্মশালায় বিএফএসএ সেই অভিযানের সমালোচনা করে বলে, সীমিত পরিমাণে ব্যবহার করলে এগুলো ক্ষতিকর নয়।

কর্মশালার বক্তারা বলেন, ইথোফন অনেক দেশে ফল পাকাতে ব্যবহৃত হয় এবং সেখানে নিষিদ্ধ নয়; সময়ের আগে ইথোফনে পাকানো ফলে পুষ্টিমান কিছুটা কম হতে পারে, তবে তা খাওয়ার উপযোগী। তাঁরা আরও বলেন, কার্বাইডে পাকানো আম খেলে সরাসরি ক্ষতি হতে পারে, তাই নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর অধীনে কার্বাইড নিষিদ্ধ। বিএফএসএর তৎকালীন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক বলেন, সবজিতে সীমিত মাত্রায় প্রাকৃতিকভাবে ফরমালিন থাকে, যা মানুষের ক্ষতি করে না, আর প্রাকৃতিক ও ভেজাল ফরমালিন আলাদা করতে বিশেষ যন্ত্র দরকার। কর্তৃপক্ষের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ইকবাল রউফ মামুন বলেন, অন্য দেশে বদ্ধ কক্ষে ইথিলিন গ্যাস দিয়ে ফল পাকানো হয়, যা বাংলাদেশে তখন ব্যবহার হতো না।

একই কর্মশালায় কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, অভিযানে পুরোনো পদ্ধতিতে ভেজাল শনাক্ত করা হচ্ছিল। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (অপারেশন) মো. শহীদ জানান, অভিযান চালাচ্ছিল অনুমোদিত দল, আর শাস্তি দিতেন ম্যাজিস্ট্রেট আইন অনুযায়ী। ঘরে ধোয়া বা ভেজানো পাকানোর রাসায়নিক দূর করে কি না, সে বিষয়ে এই প্রতিবেদনের জন্য পড়া কোনো কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

ঘরে ফল ধোয়ার নিয়ম: কর্তৃপক্ষ যা বলে


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ২০০৬ সালে প্রকাশিত 'নিরাপদ খাদ্যের পাঁচ চাবিকাঠি' নির্দেশনায় পাঁচটি মূল নিয়ম দিয়েছে: পরিষ্কার রাখা, কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখা, ভালোভাবে রান্না করা, খাবার নিরাপদ তাপমাত্রায় রাখা এবং নিরাপদ পানি ও কাঁচামাল ব্যবহার করা। প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশনের (পাহো/ডব্লিউএইচও) ব্যাখ্যায় শেষ নিয়মটির মধ্যে আছে নিরাপদ পানি ব্যবহার করা বা পানি নিরাপদ করে নেওয়া এবং ফল ও সবজি ধুয়ে নেওয়া, বিশেষ করে সেগুলো কাঁচা খাওয়া হলে।

খাদ্য নিরাপত্তা কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা ডব্লিউএইচওর খাদ্য নিরাপত্তা তথ্যপত্রের হিসাবে স্পষ্ট। ২০২৬ সালে প্রকাশিত অনুমান তুলে ধরে সংস্থাটি জানায়, ২০২১ সালে দূষিত খাবার খেয়ে বিশ্বে আনুমানিক ৮৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ অসুস্থ হয়েছে এবং ১৫ লাখ ২০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে; এই বোঝা সবচেয়ে বেশি পড়ে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ওপর।

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) ফল ও সবজি পরিষ্কারের যে সাতটি নির্দেশনা দিয়েছে, তার মধ্যে আমের মতো ফলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্যগুলো হলো:

  • কাঁচা ফল-সবজি প্রস্তুতের আগে ও পরে কুসুম গরম পানি ও সাবানে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়া।
  • ফল থেঁতলে বা নষ্ট হয়ে গেলে খাওয়া বা প্রস্তুতের আগে সেই অংশ কেটে ফেলা।
  • খোসা ছাড়ানোর আগেই ধুয়ে নেওয়া, যাতে ছুরির মাধ্যমে ময়লা ও জীবাণু শাঁসে না যায়।
  • সাধারণ প্রবহমান পানির নিচে ধরে আলতো করে ঘষা; সাবান বা আলাদা 'প্রোডিউস ওয়াশ' দরকার নেই।
  • শক্ত খোসার ফল পরিষ্কার ব্রাশ দিয়ে ঘষা।
  • পরিষ্কার কাপড় বা কাগজের তোয়ালে দিয়ে মুছে শুকানো, এতে জীবাণু আরও কমে।

এফডিএর নির্দেশনায় ফল পানিতে ভিজিয়ে রাখার কোনো ধাপ নেই; জোর দেওয়া হয়েছে প্রবহমান পানিতে ঘষে ধোয়ার ওপর। ইডব্লিউজির পর্যালোচনা অনুযায়ী, সাধারণ পানিতে ধোয়া ও ভেজানো দুটোই কীটনাশক কিছুটা কমায়, তবে কোনোটিই পুরোপুরি দূর করে না। আমের কষ নিয়ে চিকিৎসা গবেষণা বলছে, ঝুঁকি মূলত খোসা ও বোঁটায়, শাঁসে নয়।

ছবি: Saidismailanik / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, ফ্রন্টিয়ার্স ইন এনভায়রনমেন্টাল হেলথ, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন, হার্ভার্ড টি. এইচ. চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ (দ্য নিউট্রিশন সোর্স), ইউএসডিএ ফুডডেটা সেন্ট্রাল, ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড কেসেস ইন ইমার্জেন্সি মেডিসিন, দ্য সায়েন্টিফিক ওয়ার্ল্ড জার্নাল, ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব সাসটেইনেবল অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ, ইন্ডিয়ান জার্নাল অব অ্যাগ্রিকালচারাল সায়েন্সেস, বিজনেস কুইন্সল্যান্ড, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, বণিক বার্তা, বাসস, দ্য ডেইলি স্টার

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারটি তাজা আপেলের একটি যায় বিদেশে, রপ্তানি আয় রেকর্ড

২০২৫/২৬ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৭ কোটি পাউন্ড তাজা আপেল রপ্তানি করেছে, যা মোট তাজা উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশ। রপ্তানি আয় রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে; বড় ক্রেতা মেক্সিকো ও কানাডা।

ers_usda১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

আপেলগাছের গোড়ায় লালচে গুঁড়া? সতর্ক করছে বিরল কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কানাডার ম্যানিটোবার কৃষি বিভাগ ফলচাষিদের রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছে। এই লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকার কীড়া জীবন্ত আপেল ও সাস্কাটুন গাছের ভেতরে তিন বছর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কাটে; কাণ্ডের গোড়ায় লালচে গুঁড়াই সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)