২০২৬ সালের ৮ জুলাই চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শরফ উদ্দিন জাগো নিউজকে জানান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) আমের নতুন একটি নাবি জাত উদ্ভাবন করেছে, যার নাম বারি আম-১৯। জাতটি মৌসুমের শেষ দিকে, অর্থাৎ আগস্টে ফলন দেয় এবং অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। অনুমোদন মিললে পরের মৌসুমে চাষিদের মধ্যে এর চারা সরবরাহ করা হতে পারে বলে তিনি জানান।
কেন আগস্টের আম
গবেষকদের ব্যাখ্যা ছিল, আম চাষে খরচ বাড়লেও চাষিরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না, কারণ একই সময়ে নানা জাতের আম বাজারে উঠে সরবরাহ বেড়ে যায়। ড. শরফ উদ্দিনের ভাষায়, ‘আম চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রধান অর্থকরী ফসল। এ জেলার কৃষি অর্থনীতি মূলত আমকে ঘিরেই আবর্তিত হয়।’ তিনি জানান, নতুন জাতের উৎপাদন ক্ষমতা, স্বাদ, সংরক্ষণ ক্ষমতা, রোগবালাই প্রতিরোধের সক্ষমতা এবং দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়গুলো দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা করা হয়েছে। জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই কেন্দ্রের গবেষকেরা তখন পর্যন্ত আমের ১৬টি জাত উদ্ভাবন করেছিলেন এবং অন্য গবেষণা কেন্দ্র থেকে আরও দুটি জাত এসেছিল।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মো. আব্দুল হালিম বলেন, বারির জাতগুলোর মধ্যে তখন সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল বারি-৪, অন্য জাতগুলোর চাহিদা তুলনামূলক কম। তার মতে, বারি-১৯ আগস্টের দিকে বাজারে আসবে, যখন সাধারণত আমের সরবরাহ কমে যায়, ফলে চাষিরা তুলনামূলক ভালো দাম পেতে পারেন। দ্য ডেইলি স্টারের ২০২১ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বারি আম-৪ ছাড়া হয় ২০০৩ সালে; ফ্লোরিডার এম৩৮৯৬ ও দেশি আশ্বিনা জাতের সংকরে তৈরি এই আম জুলাইয়ের শেষ থেকে আগস্টজুড়ে বাজারে থাকে, এবং তখন দেশে ৪ থেকে ৫ হাজার হেক্টরে এর চাষ হচ্ছিল।

চাষিরা চান দীর্ঘ মাঠ পরীক্ষা
শিবগঞ্জ প্রোডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল খান শামীম জাগো নিউজকে বলেন, ‘শুধু দেখতে সুন্দর হলেই বা ফলন বেশি হলেই একটি জাতকে সফল বলা যায় না।’ তার মতে, স্বাদ, গন্ধ, রং, সংরক্ষণ ও পরিবহন উপযোগিতা, রোগবালাই প্রতিরোধ এবং বাজারের চাহিদা সবই গুরুত্বপূর্ণ, আর বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের আগে অন্তত দুই বছর বিভিন্ন এলাকার মাটি, আবহাওয়া ও পরিবেশে জাতটি যাচাই করা দরকার।
কানসাট ইউনিয়নের আমচাষি উমর আলী বলেন, ‘নতুন নতুন নাবিজাত আসার কারণে আম চাষ করে দীর্ঘদিন ধরেই লোকসান গুনছি।’ তার অভিযোগ, আম্রপালির প্রভাবে ফজলির কদর কমে গেছে। শিবগঞ্জের শ্যামপুর ইউনিয়নের আমচাষি মজিবুর রহমান প্রতি বছর নতুন জাত আসায় মৌসুমি চাষিদের ক্ষতির কথা বললেও মানেন, মৌসুমের শেষে আসায় বারি-১৯ থেকে লাভের সম্ভাবনা আছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পল্লী উন্নয়ন বিভাগের গবেষক শারজানা আক্তার সাবা মনে করিয়ে দেন, নতুন জাতের কারণে জেলার পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী জাতগুলো যেন হারিয়ে না যায়।

ফজলির এই অবস্থান হারানোর কথা আগেও এসেছে। ২০২১ সালে দ্য ডেইলি স্টারকে বারির তৎকালীন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শরফ উদ্দিন বলেছিলেন, ২০১০ সাল পর্যন্ত ফজলির সুনাম ছিল সবচেয়ে বেশি, কিন্তু বারি আম-৩ (আম্রপালি) আসার পর চাহিদা সরে যায়। পত্রিকাটির হিসাবে সে বছর দেশের আম উৎপাদনের ২৮ শতাংশ ছিল আম্রপালি আর ফজলি ১০ শতাংশ।

ছবি: Shamim Ahammed sumon / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দ্য ডেইলি স্টার





মন্তব্য
(০)