চরম আবহাওয়া বেড়ে চলায় মঙ্গোলিয়ার বায়ানখোঙ্গর ও দুন্দগোবি প্রদেশের ৪,০০০ পশুপালক পরিবারের পশু ও আয় রক্ষায় তিন বছরের একটি প্রকল্প ৬ অক্টোবর রাজধানী উলানবাটারে চালু হয়েছে। খবরটি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ)।
স্মার্ট-হার্ডার্স নামের প্রকল্পটির অর্থ দিচ্ছে অ্যাডাপ্টেশন ফান্ড, ২০ লাখ ডলারের অনুদান। মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ও জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থার (ইউনিডো) সঙ্গে এটি পরিচালনা করছে ইফাদ। মঙ্গোলিয়া বিশ্বের গড়ের চেয়ে অনেক দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে: গ্রীষ্ম শুষ্কতর, শীত কঠিনতর, চারণভূমির বেশির ভাগ শুকিয়ে যাচ্ছে। ‘জুদ’ নামের তীব্র শীতে প্রচণ্ড ঠান্ডা, ভারী তুষার ও পুরু বরফের কারণে পশু চরতে পারে না, ফলে পশুপালকেরা পশু হারাচ্ছেন।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দুই প্রদেশে প্রকল্পটি দুটি সৌরচালিত পানির স্টেশন ও বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ৪০টি ছোট মাটির বাঁধ তৈরি করবে। চারটি বন্যা-নিরাপদ কেন্দ্র হবে, যেখানে পশুপালকেরা উল, চামড়া ও দুগ্ধপণ্য রাখতে, প্রক্রিয়াজাত করতে ও বিক্রি করতে পারবেন। ১৪৪টি মাঠ স্কুলে ৪,০০০ পশুপালককে চারণভূমি ও পশু ব্যবস্থাপনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাঁদের অন্তত ৪০ শতাংশ নারী। একটি জাতীয় তথ্যভান্ডার আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে, যাতে খারাপ শীত বা খরার খবর তাঁরা আগেভাগে পান।
মঙ্গোলিয়ায় ইফাদের কান্ট্রি ডিরেক্টর নি কুয়ে-কুমাহ বলেন, পশুপালকেরা এই ভূমি ও জলবায়ু সবার চেয়ে ভালো চেনেন, কিন্তু যে আবহাওয়ায় তাঁরা বড় হয়েছেন তা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। প্রকল্পটি ২০২৩ সালে শেষ হওয়া ইফাদের আগের একটি প্রকল্পের ওপর দাঁড়িয়ে, যা ১ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেছিল। মূল্যায়নে দেখা গেছে, সেই প্রকল্পের পশুপালকেরা চারণভূমি বেশি টেকসইভাবে ব্যবহার করেছেন ও শীতের পশুখাদ্যের মজুত বাড়িয়েছেন। দীর্ঘমেয়াদি ছবি-পর্যবেক্ষণে প্রকল্প এলাকায় বাইরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ জায়গায় চারণভূমির উন্নতি দেখা গেছে।
ছবি: Francisco Anzola / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: আইএফএডি




মন্তব্য
(০)