সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

খামার কমেছে, দুধ বেড়েছে: দুই দশকে বদলে যাওয়া মার্কিন দুগ্ধশিল্প

ইউএসডিএর গবেষণা বলছে, ২০০৪ থেকে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দুধের উৎপাদন বেড়েছে ৩২ শতাংশ, অথচ নিবন্ধিত দুগ্ধপালের সংখ্যা কমেছে ৬৩ শতাংশ। বড় খামার আর নতুন প্রযুক্তিই এই বদলের মূলে।

খামার কমেছে, দুধ বেড়েছে: দুই দশকে বদলে যাওয়া মার্কিন দুগ্ধশিল্প
লাইভস্টক

যুক্তরাষ্ট্রে খামার কমছে, কিন্তু দুধ বাড়ছে। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস (ইআরএস) ২০২৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তাদের সাময়িকী অ্যাম্বার ওয়েভসে এ নিয়ে একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করে। তাতে দেখা যায়, ২০২৪ সালে দেশটিতে দুধ উৎপাদিত হয়েছে ২২৫.৯ বিলিয়ন পাউন্ড, যা ২০০৪ সালের ১৭০.৮ বিলিয়ন পাউন্ডের চেয়ে ৩২ শতাংশ বেশি। অথচ এই দুই দশকে দুধ বিক্রির নিবন্ধিত দুগ্ধপালের সংখ্যা ৬৬,৮২৫ থেকে কমে ২৪,৮১১-তে নেমেছে, পতন ৬৩ শতাংশ। ইআরএসের অর্থনীতিবিদ জেফরি গিলেস্পি ও এরিক এনজুকি কৃষিশুমারি এবং অ্যাগ্রিকালচারাল রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সার্ভের (এআরএমএস) দুগ্ধখামার-বিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণ করে এই বদলের কারণ খুঁজেছেন।

কম খামার, বড় পাল


বাড়তি দুধের একটি অংশ এসেছে গাভির নিজের উৎপাদনক্ষমতা থেকে। প্রতি গাভির গড় বার্ষিক উৎপাদন ২০০৪ সালের ১৮,৯৬০ পাউন্ড থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে হয়েছে ২৪,১৭৮ পাউন্ড, বৃদ্ধি ২৮ শতাংশ। তবে প্রতি খামারে দুধ বাড়ার মূল কারণ খামারের আকার বেড়ে যাওয়া। ২০০২ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এক হাজারের কম গাভির পালের সংখ্যা কমেছে, আর এক হাজার বা তার বেশি গাভির পাল বেড়েছে ৬০ শতাংশ। এআরএমএসের হিসাবে গড় মার্কিন দুগ্ধখামারে ২০০০ সালে গাভি ছিল ১১২টি, ২০২১ সালে ২৮৩টি।

এই ধারা নতুন নয়। ইআরএসের ২০২০ সালের জুলাইয়ের প্রতিবেদন ‘কনসলিডেশন ইন ইউএস ডেইরি ফার্মিং’ অনুযায়ী, ১৯৮৭ সালে দেশের অর্ধেক গাভি ছিল ৮০ বা তার বেশি গাভির পালে; ২০১৭ সালে এই মধ্যমা আকার দাঁড়ায় ১,৩০০ গাভিতে। ২০১৭ সালে প্রায় ২ হাজার খামারে অন্তত এক হাজার গাভি ছিল এবং দেশের অর্ধেকের বেশি গাভি দোহন হতো সেসব খামারে; ২৫ বছর আগে এমন খামার ছিল পাঁচ শর কিছু বেশি, আর তাতে দোহন হতো ১০ শতাংশের কম গাভি।

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনের ভার্নন কাউন্টিতে ওয়েস্টবির কাছে একটি পারিবারিক দুগ্ধখামারের কয়েকটি হলস্টেইন গাভি; খামারটিতে গাভি প্রায় ৬০টি। ছবি: Carol M. Highsmith / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনের ভার্নন কাউন্টিতে ওয়েস্টবির কাছে একটি পারিবারিক দুগ্ধখামারের কয়েকটি হলস্টেইন গাভি; খামারটিতে গাভি প্রায় ৬০টি। ছবি: Carol M. Highsmith / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

আকারের সঙ্গে এগিয়েছে প্রযুক্তি


২০০০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে কম্পিউটারচালিত দোহন ব্যবস্থা ব্যবহার করা খামার থেকে আসা দুধ বিক্রির হিস্যা ২০ থেকে বেড়ে ৪৫ শতাংশ হয়েছে, আর দিনে তিন বা তার বেশিবার দোহন করা খামারের হিস্যা ১৯ থেকে ৫০ শতাংশ। কম্পিউটারচালিত খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার হিস্যা ২২ থেকে ৫২ শতাংশ, মিল্কিং পার্লারের হিস্যা ৭০ থেকে ৮৮ শতাংশ হয়েছে। কৃত্রিম প্রজনন, ভ্রূণ স্থানান্তর ও সেক্সড সিমেনের মতো উন্নত প্রজনন পদ্ধতির হিস্যা ৭৬ থেকে বেড়ে ৯৬ শতাংশে পৌঁছেছে।

স্বয়ংক্রিয় দোহন রোবটে একটি গাভি। ছবি: .Anja. / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
স্বয়ংক্রিয় দোহন রোবটে একটি গাভি। ছবি: .Anja. / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

একটি প্রযুক্তি গেছে উল্টো পথে। বোভাইন সোমাটোট্রপিন (বিএসটি) একটি বৃদ্ধি হরমোন; মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) ১৯৯৩ সালে গাভির দুধ বাড়ানোর ওষুধ হিসেবে পসিল্যাক নামে এটি অনুমোদন দেয়, যা দুধ দেওয়ার মৌসুমে প্রতি ১৪ দিন পরপর চামড়ার নিচে ইনজেকশন দেওয়া হয়। এই হরমোন ব্যবহারকারী খামার থেকে আসা দুধ বিক্রির হিস্যা ২০০০ সালের ৩৫ শতাংশ থেকে ২০২১ সালে নেমেছে ২ শতাংশে। গবেষকদের মতে, এর কারণ বাজারজাতকরণসংক্রান্ত উদ্বেগ।

ভার্জিনিয়ার বিলটনে একটি পারিবারিক দুগ্ধখামারে গাভির খাবার ঠেলে দেওয়ার একটি রোবট প্রোগ্রাম করা হচ্ছে, আগস্ট ২০২৫। ছবি: USDA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
ভার্জিনিয়ার বিলটনে একটি পারিবারিক দুগ্ধখামারে গাভির খাবার ঠেলে দেওয়ার একটি রোবট প্রোগ্রাম করা হচ্ছে, আগস্ট ২০২৫। ছবি: USDA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

বড় খামারে খরচ কম, তবু লাভ কঠিন


গবেষণায় এসব প্রযুক্তির কিছুকে বলা হয়েছে ‘স্কেল-নির্ভর’, অর্থাৎ খামার একটি নির্দিষ্ট আকারে না পৌঁছালে সেগুলো নেওয়াই সম্ভব হয় না। পাল বড় হলে উৎপাদন খরচ কমে যাওয়ার এটিও একটি কারণ। ২০২১ সালে ৫০-এর কম গাভির পালে ১০০ পাউন্ড দুধ উৎপাদনে খরচ পড়েছে ৪২.৭১ ডলার, আর দুই হাজার বা তার বেশি গাভির পালে ১৯.১৪ ডলার।

তবু খরচ তুলে আনা সহজ হয়নি। ২০০০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গড় দুগ্ধখামার প্রতিবছরই খাদ্যের খরচ তুলতে পেরেছে; খাদ্য, শ্রম, উপকরণ ও সেবা মিলিয়ে পুরো পরিচালন ব্যয় তুলতে পেরেছে ২০০৯ ও ২০১২ ছাড়া প্রতিটি বছর। ঘরবাড়ি, যন্ত্রপাতি ও বিমার মতো মালিকানা ব্যয় যোগ করলে ২৫ বছরের মধ্যে ১৩ বছর খরচ উঠেছে। আর অবৈতনিক শ্রম ও জমির ব্যয়সহ মোট অর্থনৈতিক ব্যয় ধরলে তা উঠেছে মাত্র ৪ বছরে।

গবেষকেরা মনে করিয়ে দেন, আকারই সব নয়। কোন প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে, খামার কীভাবে চলছে, দুধ ও গবাদিপশুর কত দাম মিলছে, উপকরণে কত খরচ হচ্ছে, এমনকি খামারের চারপাশের পরিবেশও খরচ ঠিক করে দেয়। প্রতিটি আকারের খামারেই কম খরচের উৎপাদক যেমন আছেন, বেশি খরচের উৎপাদকও আছেন। ইআরএসের ২০২০ সালের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছিল, প্রতিটি আকারশ্রেণিতেই কিছু খামার লাভে থাকে, আর আবহাওয়া, অবস্থান, অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা খামারের আর্থিক ফলাফলে প্রভাব ফেলে।

ছবি: USDA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

সূত্র: ইউএসডিএ ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস (অ্যাম্বার ওয়েভস, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), ইউএসডিএ ইআরএস প্রতিবেদন ‘কনসলিডেশন ইন ইউএস ডেইরি ফার্মিং’ (ইআরআর-২৭৪, জুলাই ২০২০), মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

লাইভস্টক

সম্পর্কিত খবর

লাইভস্টক

সৌরপ্যানেলের নিচে ভেড়া চরালে বাড়ে মৌমাছি, তবে সংখ্যা রাখতে হবে কম

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, সৌরখামারে হেক্টরপ্রতি দুটি ভেড়া চরালে ঘাস কাটার তুলনায় উপকারী পোকা ৩৮ শতাংশ বাড়ে। খামারিদের জন্য ভেড়ার পাল পরিকল্পনার একটি সহায়ক টুলও তৈরি করেছেন গবেষকেরা।

Farms.com১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

প্রোটিনের চাহিদায় বদলে গেল কানাডার দুধের বাজার, মাখনের উদ্বৃত্ত শেষ

দুগ্ধজাত প্রোটিনের চাহিদা বাড়ায় পাঁচ বছরের মধ্যে কানাডার দুধের বাজারে মাখনচর্বির কাঠামোগত উদ্বৃত্ত মিটে গেছে, দুধের দাম নির্ধারণেও এসেছে পরিবর্তন।

Manitoba Co-operator১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

সিকি হেক্টরে ওটের বীজ চাষ, ইথিওপিয়ার এক কৃষকের পারিবারিক ব্যবসা

ইথিওপিয়ার এক ক্ষুদ্র কৃষক মাত্র শূন্য দশমিক ২৫ হেক্টর জমিতে বীজের জন্য ওট চাষ করে প্রথম ফসল ৪৫ হাজার বির্রে বিক্রি করেন এবং পরের বছর চাষ বাড়ান। আইএলআরআইয়ের পশুখাদ্যের বীজকে ব্যবসায় রূপ দেওয়ার উদ্যোগের অংশ এটি।

ILRI১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)