অ্যাভোকাডো ও ব্লুবেরি চাষিদের জন্য রোবট দিয়ে পরাগায়নের প্রযুক্তি বাড়াতে সিরিজ এ পর্বে ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার (১ কোটি ১২ লাখ ইউরো) তুলেছে ইসরায়েলের কৃষিপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ব্লুমএক্স (BloomX)। এতে প্রতিষ্ঠানটির মোট বিনিয়োগ দাঁড়াল ২ কোটি ডলারে। বিনিয়োগে নেতৃত্ব দিয়েছে এলাহ ফান্ড, সঙ্গে ছিল ইসরায়েল ইনোভেশন অথরিটিসহ পুরোনো ও নতুন বিনিয়োগকারী।
যন্ত্রগুলো মৌমাছির বিকল্প নয়, সহায়ক: ফুল ফোটার সময় মৌমাছি কম এলে বা পরাগায়ন যথেষ্ট না হলে এগুলো কাজে লাগে। ব্লুবেরির জন্য তৈরি রোবি (Robee) ভোমরার মতো ফুলে নিয়ন্ত্রিত কম্পন দেয়, তাতে পরাগধানী থেকে রেণু ঝরে পড়ে। ২০২৬ সালে বাজারে আসা ইয়াহাভ ২৪০০ (Yahav 2400) অ্যাভোকাডো বাগানের জন্য: উচ্চ ভোল্টেজের ইলেকট্রোড বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র তৈরি করে পুরুষ ফুল থেকে রেণু টেনে নেয় মৌমাছির শরীরের মতো করে বানানো এক বিশেষ কাপড়ে, তারপর তা পৌঁছে দেয় স্ত্রী ফুলে। দুটি যন্ত্রেই রোবটের সঙ্গে আছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অ্যালগরিদম।
ব্লুমএক্সের দাবি, তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারকারী চাষিদের ফলন গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে, ফলও বড় ও ভালো হয়েছে, আর বিনিয়োগের সাড়ে ১০ গুণ পর্যন্ত ফেরত এসেছে। তবে ফিউচার ফার্মিং জানিয়েছে, পরীক্ষার পদ্ধতি, তুলনামূলক প্লট বা কোন সময়ের হিসাবে এই ফেরত, তা প্রতিষ্ঠানটি প্রকাশ করেনি; তাই এগুলো নির্মাতার নিজের দেওয়া হিসাব, স্বাধীনভাবে যাচাই করা নয়। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, একজন চালক দিনে ৩.৫ হেক্টর (৮.৬ একর) পর্যন্ত জমিতে কাজ করতে পারেন, আর যে আবহাওয়ায় মৌমাছি বের হয় না, তখনো যন্ত্র চলে।
রোবট বিক্রি না করে ব্লুমএক্স চাষিদের কাছ থেকে পরাগায়ন সেবার দাম নেয়, ফলে শুরুতে বড় অঙ্কের যন্ত্র কিনতে হয় না; হেক্টরপ্রতি খরচ অবশ্য জানানো হয়নি। প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী থাই সাদে বলেন, ফল উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পরাগায়ন এত দিন পুরোপুরি প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল ছিল। তাঁর মতে, এই প্রযুক্তি মৌমাছির পাশাপাশি কাজ করে ফুলের মৌসুমে চাষির হাতে বেশি নিয়ন্ত্রণ দেবে।
২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্লুমএক্স কাজ করছে পেরু, মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইসরায়েলে; গ্রাহকদের মধ্যে আছে পেরুর অ্যাগ্রোভিশন, দক্ষিণ আফ্রিকার অ্যালেসবেস্তে ও ইসরায়েলের গ্রানোত গ্রুপ। নতুন অর্থ যাবে এসব বাজারে এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের প্রস্তুতিতে, যেখানে ব্লুবেরির পাশাপাশি কাঠবাদামেও প্রয়োগ খতিয়ে দেখা হবে। ফিউচার ফার্মিংয়ের মতে, চাষির কাছে আসল প্রশ্ন হলো বাড়তি ফলন ও মান নিয়মিতভাবে সেবার খরচ পুষিয়ে দেয় কি না, যা প্রচলিত পরাগায়নের সঙ্গে স্বাধীন তুলনাতেই বোঝা যাবে।
ছবি: Andrew Mandemaker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5)
সূত্র: ফিউচার ফার্মিং





মন্তব্য
(০)