সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

গরুর মাংস আমদানির অনুমতি চাইল রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি, প্রয়োজন দেখছে না সরকার

২০২৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি গরুর মাংস আমদানির অনুমতি চায়; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, কোরবানির চাহিদা মেটার পরও ২৫ লাখের বেশি গবাদিপশু উদ্বৃত্ত থাকে বলে আমদানির প্রয়োজন নেই।

গরুর মাংস আমদানির অনুমতি চাইল রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি, প্রয়োজন দেখছে না সরকার
এগ্রোবিজ

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি ২০২৬ সালের মে মাসে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে গরুর মাংস আমদানির অনুমতি চায়। বিবিসি বাংলা ১১ মে জানায়, তখন বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছিল কেজিপ্রতি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়। সমিতির দাবি, আমদানির সুযোগ পেলে দাম কেজিপ্রতি ৫০০ টাকার মধ্যে রাখা যাবে। তবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, মাংস আমদানির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

বিবিসি বাংলার হিসাবে দেশে প্রায় ৬০ হাজার হোটেল-রেস্তোরাঁ আছে, যার প্রায় ২৫ হাজারই ঢাকায়। কিছু প্রতিষ্ঠান অবশ্য হিমায়িত গরুর মাংস আমদানি করে, যা পাঁচতারকা হোটেল ও কিছু রেস্তোরাঁয় ব্যবহার হয়।

রেস্তোরাঁ মালিকদের যুক্তি


সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বিবিসি বাংলাকে বলেন, "আমাদের হোটেল রেস্তোরার ব্যবসা নির্ভর করে গরুর মাংসের ওপর। সব দেশে এর দাম যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। এখানে ৮০০-১০০০ টাকা দাম। আবার যে ধরনের মাংস রেস্টুরেন্টে দরকার তেমন মাংসও খুব একটা পাওয়া যায় না।"

তার অভিযোগ, বড় বড় শিল্পগ্রুপ ও শৌখিন উদ্যোক্তারা খামার নিয়ন্ত্রণ করায় মাংসের দাম বেড়েছে এবং সাধারণ কৃষকের জন্য গরু পালন ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, সংবাদ সম্মেলনে দাবি জানালেও সরকারের কাছে তারা তখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রস্তাব দেননি।

বাংলাদেশে পরিবেশিত গরুর মাংসের তরকারি, ওপরে ভাজা পেঁয়াজ। ছবি: Mohammed Tawsif Salam / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
বাংলাদেশে পরিবেশিত গরুর মাংসের তরকারি, ওপরে ভাজা পেঁয়াজ। ছবি: Mohammed Tawsif Salam / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সরকার কেন আমদানির পক্ষে নয়


মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ দেলোয়ার হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, এ ধরনের কোনো প্রস্তাবও কেউ তাদের দেয়নি এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। তার ভাষায়, "এবারের কুরবানিতেও পর্যাপ্ত সংখ্যক গবাদিপশু বাজারে আসবে। ফলে সরবরাহজনিত কারণে দাম বৃদ্ধির কোনো আশংকা নেই। আর আমরা মনে করি আমদানির প্রয়োজনীয়তাই তো নেই। কারণ কুরবানির চাহিদা পূরণের পরেও দেশে প্রায় ২৫ লাখের বেশি গবাদিপশু উদ্বৃত্ত থাকে।"

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) ২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসাবে দেশে গরু ছিল ২৫১ দশমিক ৭১ লাখ, মহিষ ১৫ দশমিক ৩২ লাখ। ওই বছর মাংসের উৎপাদন ছিল ৮৯ দশমিক ৫৪ লাখ মেট্রিক টন, যেখানে চাহিদা ধরা হয়েছিল ৭৭ দশমিক ৯২ লাখ মেট্রিক টন। ২০২২ সালের এপ্রিলে জারি হওয়া আমদানি নীতি আদেশে প্রথমবারের মতো গরু, ছাগল ও মুরগির মাংস আমদানিতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পূর্বানুমতির বিধান আসে; অধিদপ্তর জানায়, বিশেষ কারণ ছাড়া এ অনুমতি দেওয়া হয় না।

বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) দুগ্ধ খামারে একটি প্রজনন ষাঁড়। ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) দুগ্ধ খামারে একটি প্রজনন ষাঁড়। ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

দামের ইতিহাস ও আগের প্রস্তাব


বিবিসি বাংলার তথ্যে, ২০১৯ সালের রোজায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৫২৫ টাকা বেঁধে দেয়। ২০২১ সালে একই সময়ে দাম ছিল ৫৬০ থেকে ৬০০ টাকা, ২০২২ সালে সর্বোচ্চ ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, আর ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজারদরে ২০২৩ সালে ৭২০ থেকে ৭৫০ টাকা। ২০১২ সালের পর ভারত বাংলাদেশে গরু রপ্তানিতে কড়াকড়ি আরোপ করে এবং এক পর্যায়ে গরু আসা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। অনেকের অভিযোগ, এই সুযোগে এক শ্রেণির বিক্রেতা দাম বাড়িয়েছেন।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে দেশের কিছু ব্যবসায়ী ভারত থেকে গরুর মাংস আমদানির প্রস্তাব দেন। তখনকার এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন একে বাস্তবসম্মত সমাধান বলেছিলেন। কিন্তু ভারতের মাংস রপ্তানিকারকদের সমিতির প্রধান ফাওযান আলাভি তখন বিবিসিকে জানান, ভারত থেকে রপ্তানি হওয়া মাংসের পুরোটাই মহিষের মাংস, কারণ সেখান থেকে গরু বা গরুর মাংস রপ্তানি নিষিদ্ধ। পরে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি নাকচ করে জানায়, দেশের বছরে ৭০ লাখ টন মাংসের চাহিদার পুরোটাই দেশে উৎপাদিত হচ্ছে, আমদানি করলে খাতটি সংকটে পড়বে।

২০২৪ সালের ৭ এপ্রিল ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েইরা প্রথমবারের মতো ঢাকা সফরে এসে বাংলাদেশে প্রক্রিয়াজাত গরুর মাংস রপ্তানির আগ্রহ জানান; বিবিসি বাংলা জানায়, কেজিপ্রতি পাঁচশ টাকারও কম দামে সরবরাহের কথা বলা হয়েছিল। বাংলাদেশ এর বদলে কোরবানির জন্য জীবন্ত গরু আমদানির আগ্রহ দেখায়। সে সময় বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশন বলেছিল, দেশে পর্যাপ্ত গরু আছে এবং দেশীয় শিল্পের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। সেই আলোচনা আর এগোয়নি, আর সরকার দেশের পশু উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এমন কোনো সিদ্ধান্তে যেতে রাজি হয়নি।

বাংলাদেশে ঈদুল আজহার একটি পশুর হাট। ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাংলাদেশে ঈদুল আজহার একটি পশুর হাট। ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: বিবিসি বাংলা, বিডিনিউজ২৪, প্রথম আলো, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (ডিএলএস)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

এগ্রোবিজ

সম্পর্কিত খবর

ফসল

ইংল্যান্ডে যবের ফলন ১৪ বছরে সর্বনিম্ন, গম সামান্য বেশি

যুক্তরাজ্যের কৃষি মন্ত্রণালয় ডেফরার প্রাথমিক হিসাবে ইংল্যান্ডে যব উৎপাদন ১১ শতাংশ কমে ৩৭ লাখ টন হয়েছে, গম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৮ লাখ টন; গমের তুলনায় পশুখাদ্যের যব বিক্রি হচ্ছে অনেক কম দামে।

Farmers Weekly১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

নিজস্ব কারখানা ছেড়ে চুক্তিভিত্তিক ও যৌথ কারখানায় ঝুঁকছে উদ্ভিজ্জ মাংস

চাহিদা অনিশ্চিত থাকায় উদ্ভিজ্জ মাংসের ব্র্যান্ডগুলো নিজস্ব কারখানার বদলে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন, যৌথ অবকাঠামো ও মাংস প্রক্রিয়াকরণের পুরোনো যন্ত্রপাতির দিকে ঝুঁকছে বলে জানিয়েছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।

FoodNavigator১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোবিজ

সারের দাম দেখার প্ল্যাটফর্ম ক্লিয়ারকস্টে বিনিয়োগ, সালফার সংকটে কমছে ফসফরাস

কৃষকদের সারের দাম ও চালান দেখার এবং সরবরাহ চুক্তির সুযোগ দেওয়া কানাডার স্টার্টআপ ক্লিয়ারকস্ট সিরিজ এ তহবিল পেয়েছে; ২০২৭ সালের শুরুতে উত্তর আমেরিকাজুড়ে নতুন প্ল্যাটফর্ম চালু করবে তারা।

AgNavigator১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)