যুক্তরাজ্যে বিরল দেশি জাতের গবাদিপশু পালনকারীরা ব্লুটাং রোগের টিকা পেতে হিমশিম খাচ্ছেন, ফলে কিছু জাতের টিকে থাকা নিয়েই শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশটির পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামবিষয়ক দপ্তর ডেফ্রার জৈবনিরাপত্তা মন্ত্রী ব্যারনেস সু হেম্যানকে লেখা চিঠিতে এ সতর্কবার্তা দিয়েছে রেয়ার ব্রিডস সারভাইভাল ট্রাস্ট (আরবিএসটি)।
জাত-সমিতি ও প্রজননকারী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে পরামর্শে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ জানিয়েছে তাদের সদস্যরা টিকা পেতে সমস্যায় পড়ছেন। অনেক বিরল জাতে নিবন্ধিত পশুর ৫০ শতাংশের কমকে টিকা দেওয়া গেছে, কোনো কোনো জাতে আওতা ২০ শতাংশেরও নিচে।
আরবিএসটির প্রধান নির্বাহী ক্রিস্টোফার প্রাইস বলেন, এমনিতেই সংখ্যায় কম হওয়ায় ব্লুটাং ভাইরাস যুক্তরাজ্যের বিরলতম দেশি পশুর জাত হিসেবে টিকে থাকার জন্য উদ্বেগজনক হুমকি, আর খাদ্য ও কৃষির জন্য এসব জাত যে জিনগত বৈচিত্র্য ধরে রাখে তার জন্যও। তাঁর কথায়, ছোট পাল ও খামারের মালিকেরা প্রয়োজনমতো পরিমাণে টিকা কিনতে পারছেন না।
সংস্থাটি চায়, ডেফ্রা টিকা প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে মিলে ছোট প্যাকেট বাজারে আনুক, বিশেষ করে বুলটাভো-৩, যা ১০ ডোজের প্যাকেটে বিক্রির অনুমোদন আগেই পেয়েছে। পাশাপাশি নিরাপদ ও আইনসম্মতভাবে টিকা ভাগাভাগির জন্য পশুচিকিৎসকদের সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছে, যাতে প্রাপ্য টিকার অপচয় সবচেয়ে কম হয়। ২০২৭ সালের ব্লুটাং মৌসুমের প্রস্তুতিতে বিরল জাতের প্রয়োজন বিবেচনা এবং জাতভেদে সংবেদনশীলতার পার্থক্যের তথ্য সংগ্রহের অনুরোধও করেছে তারা।
১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২০২৬-২০২৭ মৌসুমে যুক্তরাজ্যে ৩,৪০২টি খামারে ব্লুটাং সেরোটাইপ ৩ (বিটিভি-৩) বা অনির্দিষ্ট সেরোটাইপ শনাক্ত হয়েছে: ইংল্যান্ডে ২,৮৬৪, ওয়েলসে ৪৮৪ ও স্কটল্যান্ডে ৫০টি। আরও ৬৩টি খামারে তদন্ত চলছে।
ব্লুটাং ছড়ায় কামড়ানো ছোট মাছি (মিজ), আক্রান্ত হয় গরু, ভেড়াসহ জাবরকাটা প্রাণী। ছোট দেশি জাতের পালে অল্প কয়েকটি পশুই একটি জাতের জিনগত সম্পদের বড় অংশ বহন করে, তাই সেখানে ক্ষতি বাণিজ্যিক খামারের চেয়ে বেশি ভারী।
ছবি: Fourrure / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Farmers Weekly





মন্তব্য
(০)