ইউরোমনিটর ইন্টারন্যাশনালের হিসাবে ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালে মাংস ও সামুদ্রিক খাবারের উদ্ভিজ্জ বিকল্পের বিক্রি ৮ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে; মন্দা কাটিয়ে উঠছে খাতটি। তবে এসব পণ্য তৈরির ধরন বদলাচ্ছে বলে জানিয়েছে ফুডনেভিগেটর। বিকল্প প্রোটিনের জন্য আলাদা কারখানা বানানোর বদলে কোম্পানিগুলো ক্রমেই চুক্তিভিত্তিক উৎপাদক, যৌথ অবকাঠামো ও পুনর্ব্যবহৃত স্থাপনা ব্যবহার করছে।
গুড ফুড ইনস্টিটিউট ইউরোপের প্রিয়াংশা রেড্ডি (Priyansha Reddy) বলেন, ব্র্যান্ডের নিজস্ব কারখানায় স্থায়ী মূলধন ব্যয় থাকে, যা উৎপাদন কম হলে ভাগ করে নেওয়া কঠিন; এতে দাম বাড়ে, চাহিদা আরও কমে। নেদারল্যান্ডসের ভিভেরা, সুইজারল্যান্ডের প্ল্যান্টেড ও জার্মানির ভেগান ফুড গ্রুপের মতো কিছু প্রতিষ্ঠান এখনো নিজস্ব কারখানা চালায়, তবে স্টার্টআপ ও ছোট ব্র্যান্ডগুলো, বিশেষ করে নতুন পণ্যের জন্য, চুক্তিভিত্তিক বা যৌথ সক্ষমতাই বেশি ব্যবহার করছে।
রেড্ডির ব্যাখ্যায়, চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনে ব্র্যান্ড পুরো কারখানার স্থায়ী খরচ না দিয়ে প্রতি কেজি উৎপাদনের দাম দেয়, ফলে খরচ বিক্রির সঙ্গে ওঠানামা করে। নিউ লিফ ফুডসের লুক টাউনসেন্ড (Luke Townsend) বলেন, ইমালসিফাই, মিশ্রণ, এক্সট্রুশন, আকার দেওয়া, প্রলেপ, ভাপানো, ভাজা, ঠান্ডা করা, হিমায়িত করা ও প্যাকেটজাত, সব কাজ একই কারখানায় করতে বিপুল বিনিয়োগ লাগে, যা কম উৎপাদনের নতুন ব্র্যান্ডের জন্য ভারী বোঝা। চুক্তিভিত্তিক কারখানায় যন্ত্রপাতি, খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দক্ষ কর্মী আগে থেকেই থাকে, আর একাধিক কোম্পানির পণ্য একই লাইনে চলায় যন্ত্র বেশি সময় সচল থাকে।
টাউনসেন্ড জানান, যৌথ কারখানায় স্থায়ী খরচ বেশি উৎপাদনে ভাগ হয়ে যায় এবং দফায় দফায় তৈরি উদ্ভিজ্জ খাবারের জন্য তা উপযোগী। তবে এতে মিশ্রণের ঝুঁকি থাকে, যেমন নিরামিষ পণ্যের ডিম বা দুধ ভেগান পণ্যে চলে যাওয়া, কিংবা সয়া ও গমের মতো অ্যালার্জেন। এ জন্য আলাদা রাখা, পরিষ্কার করা ও অ্যালার্জেন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা লাগে, যাতে খরচ বাড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, মাংস প্রক্রিয়াকরণের মিক্সার, ফর্মার, প্রলেপ যন্ত্র, রান্নার যন্ত্র ও প্যাকেজিং লাইনের অনেকগুলোই সামান্য বা কোনো পরিবর্তন ছাড়াই উদ্ভিজ্জ মাংস তৈরিতে ব্যবহার করা যায়।
ছবি: Mx. Granger / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: ফুডনেভিগেটর




মন্তব্য
(০)