খাদ্যদূষণ রোধে পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পানি, ঠিকভাবে রান্না ও খাবার সংরক্ষণের ওপর জোর দিয়েছেন দিনাজপুরের রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের পুষ্টিবিদ লিনা আকতার। তাঁর মতে, নিরাপদ খাবার শুধু ব্যক্তির সুস্থতার জন্য নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও জরুরি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, দূষিত খাবার থেকে ২০০টিরও বেশি ধরনের রোগ হতে পারে; ডায়রিয়া, বমি ও পেটব্যথা এর মধ্যে সাধারণ। উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিক্রির প্রতিটি ধাপে তাই সতর্কতা দরকার, আর দায়িত্ব উৎপাদক, ব্যবসায়ী, খাদ্যকর্মী, কর্তৃপক্ষ ও ভোক্তা সবার।
তাঁর আটটি পরামর্শ: খাদ্যনিরাপত্তা আইন ও মানদণ্ড মেনে চলা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, খাদ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, সঠিক তাপমাত্রায় রান্না ও সংরক্ষণ, নিরাপদ কাঁচামাল ও পানি ব্যবহার, নিরাপদ মোড়ক ও সংরক্ষণব্যবস্থা, উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রণের তথ্য সংরক্ষণ এবং ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়ানো।
ঘরে কী করবেন, সে কথাও বলেছেন তিনি। রান্নার জায়গা ও সরঞ্জাম পরিষ্কার রাখা, খাবার তৈরির আগে ও পরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখা জরুরি। মাছ, মাংস, ডিম ও দুধজাতীয় খাবার ভালোভাবে রান্না করতে হবে, আর দ্রুত পচনশীল খাবার বেশিক্ষণ সাধারণ তাপমাত্রায় ফেলে রাখা যাবে না।
ফলমূল ও শাকসবজি ভালো করে ধুয়ে নেওয়া এবং মোড়কজাত খাবার কেনার সময় উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। মেয়াদ পেরোনো, ক্ষতিগ্রস্ত মোড়কের কিংবা অস্বাভাবিক গন্ধ ও রঙের খাবার না কেনাই ভালো।
বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর আওতায় খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, সরবরাহ ও বিক্রি তদারকির বিধান আছে। প্রচলিত আইনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নির্দেশনা মানার ওপরও জোর দেন এই পুষ্টিবিদ।
ছবি: Serenity / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪




মন্তব্য
(০)