ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে চলমান নিষেধাজ্ঞা আরও কার্যকর করতে ১৬টি উপকূলীয় জেলাসহ ৩৮ জেলায় ১১১টি আধা সরকারি পত্র (ডিও) দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। মন্ত্রণালয়ে ইলিশ সম্পদ উন্নয়নবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চিঠি গেছে ওই জেলাগুলোর মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকদের কাছে। তাতে ইলিশ রক্ষায় স্থানীয় মানুষকে যুক্ত করে সচেতনতা বাড়ানো, নদীতে নামা জেলেদের বিষয়ে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারীদের আরও সজাগ থাকা এবং বরাদ্দের খাদ্যসহায়তা প্রকৃত জেলেদের হাতে পৌঁছানোর দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সভায় মন্ত্রী বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না; বরিশাল, চাঁদপুর ও ভোলাসহ প্রধান প্রজনন এলাকায় নজরদারি ও অভিযান জোরদার করতে হবে। জেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, প্রয়োজনে হটস্পটে বাড়তি নৌযান দেওয়া হবে। অবৈধভাবে ধরা মাছ ঠেকাতে বরফকল, আড়ত ও বাজারে নজরদারি এবং চাঁদপুর মোহনাসহ প্রজননক্ষেত্রে অবৈধ জাল অপসারণে কঠোর অভিযানের নির্দেশ দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ইলিশের উৎপাদন কেন কমছে তা গবেষণা করে খুঁজে বের করতে হবে। নিষিদ্ধ জাল উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। উৎপাদন কমে বিদেশ থেকে মাছ আমদানি করতে হচ্ছে, যা উদ্বেগের বিষয়; ইলিশকে জাতীয় সম্পদ ও জিআই পণ্য হিসেবে রক্ষায় সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যে, ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞায় ৩৮ জেলার ১৬৮টি উপজেলার ৬ লাখ ৪৬ হাজার ২৯০টি জেলে পরিবারকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৫১৬, চট্টগ্রাম বিভাগে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫৯৫ এবং ঢাকা বিভাগে ৬৫ হাজার ৭১৭টি পরিবার। নিষিদ্ধকালে সারা দেশে ইলিশ পরিবহন, মজুত, বাজারজাত ও কেনাবেচাও বন্ধ।
কোস্টগার্ড জানিয়েছে, তাদের আওতাধীন ১৬ জেলার ৫৪টি উপজেলায় গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত ও বিশেষ টহল এবং সন্দেহজনক নৌযানে তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, বিএফআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা ছিলেন।
ছবি: Mamun2a / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5)
সূত্র: কৃষি সংবাদ





মন্তব্য
(০)