সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

সময়ের আগেই দিনাজপুরের বাজারে অপরিপক্ব মাদ্রাজি লিচু, দাম চড়া

২০২৬ সালের ১১ মে দিনাজপুর শহরের বাজারে মৌসুমের প্রথম মাদ্রাজি লিচু প্রতি ১০০টি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হয়। কৃষি বিভাগ জানায়, টক ও কাঁচাপাকা এই লিচু পরিপক্ব নয়; পাকা লিচু বাজারে আসতে আরও ১০ থেকে ১২ দিন লাগবে।

সময়ের আগেই দিনাজপুরের বাজারে অপরিপক্ব মাদ্রাজি লিচু, দাম চড়া
ফল

২০২৬ সালের মে মাসে মৌসুম শুরুর আগেই দিনাজপুর শহরের বাজারে উঠতে শুরু করে মাদ্রাজি জাতের লিচু। কৃষি বিভাগ লিচুগুলোকে অপরিপক্ব বললেও চড়া দামেই সেগুলো বিক্রি হয়। জাগো নিউজের সেদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১ মে সোমবার সকালে শহরের নিউ মার্কেট, থানা মোড়, বাহাদুর বাজার ও পুলহাটসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতি ১০০টি মাদ্রাজি লিচু বিক্রি হচ্ছিল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায়। স্বাদে টক আর রঙে কাঁচাপাকা হলেও বছরের প্রথম লিচু হিসেবে উৎসুক ক্রেতারা তা কিনছিলেন। দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, পূর্ণাঙ্গ রূপ নিয়ে লিচু বাজারে আসতে তখনো অন্তত ১০ থেকে ১২ দিন সময় লাগবে।

মৌসুমের প্রথম লিচু, প্রতি শ ৩০০ টাকা


প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরের নতুন ফল হিসেবে কৌতূহলের বশেই মূলত ক্রেতারা চড়া দামে এসব লিচু কিনছিলেন। তবে অনেক ক্রেতার অভিযোগ ছিল, লিচুগুলো পরিপক্ব না হওয়ায় খেতে টক লাগছে।

নিউ মার্কেটের বিক্রেতা রানা বলেন, সেদিনই সে বছর প্রথম বাজারে লিচু উঠেছে। তিনি ১০০টি লিচু ৩০০ টাকায় বিক্রি করছিলেন এবং উৎসুক ক্রেতারা মাদ্রাজি জাতের এই লিচু কিনছিলেন বলে জানান।

থানা মোড়ের বিক্রেতা মো. রাকিব হাসান বলেন, বাজারে যে লিচু উঠেছে তা তখনো পরিপক্ব হয়নি; তবে লিচু খুব তাড়াতাড়ি বাজারে আসছে, সেটি জানান দিতেই তিনি এগুলো বাজারে তুলেছেন।

আকাশ নামের এক ক্রেতা বলেন, নতুন ফল দেখে লোভ সামলাতে না পেরে তিনি ১০০টি লিচু কিনেছেন। কিন্তু লিচুগুলো তখনো পরিপক্ব হয়নি, খেতে টক-মিষ্টি, আরও সময় লাগবে। তবুও মৌসুমি ফল হিসেবে তিনি কিনেছেন।

কৃষি বিভাগের পরামর্শ: আরও ১০ থেকে ১২ দিন অপেক্ষা


দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী উপপরিচালক (শস্য) আনিছুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, বাজারে তখন যে লিচু পাওয়া যাচ্ছিল তা কোনোভাবেই পরিপক্ব নয় এবং এগুলো খাওয়া ঠিক হবে না। পরিপক্ব ও সুস্বাদু লিচু বাজারে আসতে আরও প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন সময় লাগবে। অপরিপক্ব ফল খাওয়ার বিষয়ে সাধারণ মানুষের সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

দিনাজপুরের কোন জাতের লিচু কখন পাকে, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ আগের মৌসুমগুলোতে যা জানিয়েছে, তাঁর এই হিসাব তার সঙ্গে মেলে। ২০২১ সালের ২৮ মে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (টিবিএস) কৃষি বিভাগের তথ্য উদ্ধৃত করে জানায়, মাদ্রাজি জাতের লিচু পরিপক্ব হয় মে মাসের শেষ দিকে, বোম্বাই ও বেদানা জাতের লিচু জুনের ১০ তারিখের পর, আর সবশেষে পাকে চায়না-থ্রি ও কাঁঠালি জাতের লিচু।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ব্যাংককের আঞ্চলিক কার্যালয় ২০০২ সালের মার্চে বাংলাদেশে লিচু উৎপাদন নিয়ে এস বি এম আবু বকর সিদ্দিকীর একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করে। তাতেও একই চিত্র পাওয়া যায়। প্রবন্ধে বলা হয়, লিচু বাজারে আসে মে ও জুন মাসে এবং পাওয়া যায় মাত্র প্রায় ৬০ দিন। মৌসুমের শুরুতে আসে টক ও নিম্নমানের লিচু, তারপর বোম্বাই; জুনের শেষ সপ্তাহে আসে বেদানা, তার পরে চায়না-থ্রি। প্রবন্ধে প্রধান জাতগুলোর পরিপক্ব হওয়ার স্বাভাবিক সময় এভাবে দেওয়া আছে:

  • বোম্বাই, দেশে সবচেয়ে বেশি চাষ হওয়া জাত: ফল সাধারণত মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে পাকে; আকারে হৃৎপিণ্ডের মতো, রং গাঢ় লাল, ওজন ১৮ থেকে ২০ গ্রাম।
  • মোজাফফরপুরী, ভারত থেকে আনা এবং মূলত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে চাষ হওয়া জাত: মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে পাকে; রং গোলাপি, আকার ডিম্বাকার, ওজন প্রায় ২০ গ্রাম।
  • বেদানা, বাংলাদেশের সেরা জাত হিসেবে বিবেচিত: জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে পাকে; রং উজ্জ্বল লাল, ওজন ২৫ থেকে ২৮ গ্রাম, আঁটি ছোট ও কুঁচকানো।
  • চায়না-থ্রি, নাবি জাত: জুনের শেষ সপ্তাহে পাকে; রং লাল, কমলা ও সবুজের মিশেল, ওজন প্রায় ২৫ গ্রাম।

লিচু কেন গাছেই পাকতে হয়


অনেক ফলের তুলনায় লিচুর ক্ষেত্রে আগাম পাড়া কেন বেশি ক্ষতিকর, এফএওর প্রবন্ধে তার ব্যাখ্যা আছে। ফলের মান, বিশেষ করে স্বাদ, গন্ধ, মিষ্টতা ও অম্লতা নির্ভর করে কোন অবস্থায় ফলটি তোলা হলো তার ওপর। লিচু তুলতে হবে ঠিকমতো পাকার পরেই, কারণ আমের মতো লিচুর মান গাছ থেকে তোলার পরে আর বাড়ে না। অর্থাৎ টক অবস্থায় পাড়া লিচু টকই থেকে যায়।

প্রবন্ধ অনুযায়ী, লিচু পরিপক্ব হয়েছে কি না, তা বোঝা যায় রং আসা, খোসার ছোট ছোট দানাগুলো চ্যাপ্টা হয়ে আসা এবং খোসা তুলনামূলক মসৃণ হওয়া দেখে। ফলের রং সবুজাভ থেকে গোলাপি-লাল হয়ে ওঠে; এই রং পরিবর্তনের সঙ্গে অ্যান্থোসায়ানিন নামের রঞ্জক পদার্থের সম্পর্ক রয়েছে। সাধারণত গুটি আসার ৫৫ থেকে ৬০ দিন পর লিচু তোলা হয়, তবে জাত ও আবহাওয়াভেদে এই সময় কমবেশি হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর নিউ ক্রপস অ্যান্ড প্ল্যান্ট প্রোডাক্টস অনলাইনে জুলিয়া এফ মর্টনের ১৯৮৭ সালের বই ‘ফ্রুটস অব ওয়ার্ম ক্লাইমেটস’ প্রকাশ করেছে। সেখানেও একই লক্ষণের কথা বলা হয়েছে। বাড়িতে খাওয়া বা স্থানীয় বাজারের জন্য লিচু তোলা হয় পুরোপুরি রং আসার পর, আর দূরে পাঠানোর জন্য আংশিক রং আসার পর। ফল শেষবার ফুলে ওঠার সময় খোসার দানাগুলো কম ঘন ও খানিকটা চ্যাপ্টা হয়ে যায়; অভিজ্ঞ চাষি এ থেকেই বুঝতে পারেন লিচু পুরোপুরি পেকেছে। বেশি সময় তাজা রাখতে সাধারণত ডাঁটা ও কয়েকটি পাতাসহ থোকা কাটা হয়। তিন থেকে চার সপ্তাহ ধরে প্রতি তিন-চার দিন পরপর লিচু তুলতে হতে পারে, তবে বৃষ্টির ঠিক পরে কখনো তোলা হয় না, কারণ ভেজা ফল দ্রুত পচে যায়। সদ্য তোলা লিচু ঘরের তাপমাত্রায় মাত্র তিন থেকে পাঁচ দিন রং ও মান ধরে রাখে।

এফএওর প্রবন্ধে বেচাকেনার এমন এক রীতির কথাও আছে, যা লিচুকে আগেভাগে গাছ থেকে নামিয়ে আনে। প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশে ফল পাকার আগেই সাধারণত গাছ মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়, এর একটি কারণ বাদুড় ও পাখির হাত থেকে রেহাই পাওয়া। মধ্যস্বত্বভোগীরা সাধারণত একবারেই সব লিচু পেড়ে ফেলেন, আর লিচু তোলার সময় যেমন-তেমনভাবে ডাল ভাঙায় গাছের ক্ষতি হয়। দূরের শহরের বাজারের জন্য বিকেলে, লিচুতে সবে লাল রং ধরতে শুরু করলে, তা তোলা হয় এবং লিচুপাতা বিছানো বাঁশের ঝুড়িতে ভরে রাতেই পাইকারি বাজারে পৌঁছানো হয়। এমন ঝুড়িতে আলগাভাবে রাখা লিচু প্রায় ৪৮ ঘণ্টা তাজা থাকে।

গাছে ঝুলছে একটি কাঁচা লিচু, হংকং ওয়েটল্যান্ড পার্ক, জুন ২০১১; প্রসঙ্গচিত্র। ছবি: Mk2010 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
গাছে ঝুলছে একটি কাঁচা লিচু, হংকং ওয়েটল্যান্ড পার্ক, জুন ২০১১; প্রসঙ্গচিত্র। ছবি: Mk2010 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

আগের মৌসুমেও দিনাজপুরে আগাম লিচু পাড়া


দিনাজপুরের বাজারে অপরিপক্ব লিচু ২০২৬ সালেই প্রথম দেখা যায়নি। ২০২১ সালের ২৮ মে টিবিএস দিনাজপুর সদর উপজেলার মাসিমপুরের লিচুবাগান থেকে জানায়, ঠিকমতো পরিপক্ব হতে আরও আনুমানিক সপ্তাহখানেক লাগবে এমন লিচু বাছাই করে ঝাঁকায় বাঁধছেন চাষিরা। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল, লিচু ফেটে যাওয়া ও লোকসানের আশঙ্কা থেকেই তাঁরা অসময়ে লিচু পাড়ছেন।

চাষি আইয়ুব আলী টিবিএসকে বলেন, সে বছর লিচুতে কিছু রোগ দেখা দিয়েছে, গাছের গোড়ায় পোকা ধরেছে, গাছে লিচু ফেটে যাচ্ছে, তার ওপর বাদুড়ের উপদ্রব; তাই তিনি আগাম লিচু ভাঙা শুরু করেছেন। আরেক চাষি আকবর আলী বলেন, বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় কাঁচা অবস্থাতেই লিচু পাড়তে হচ্ছে। আড়তদার সুমন ইসলাম বলেন, গরম হাওয়া লাগলে লিচু শুকিয়ে ফেটে যায়; তখন বাজারে প্রতি হাজার মাদ্রাজি লিচু ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তৎকালীন উপপরিচালক প্রদীপ কুমার গুহ টিবিএসকে বলেন, অপরিপক্ব লিচুতে জৈব অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বাজার পরিদর্শনে তাঁরা অপরিপক্ব লিচু বাজারজাতের বিষয়টি লক্ষ করেছেন, লিচু ফেটে যাওয়ার সমস্যা সমাধানযোগ্য, এবং অপরিপক্ব লিচু যেন বাজারে না আসে সে জন্য কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

২০২১ সালের ওই প্রতিবেদনে সেই একই বেচাকেনার জায়গাগুলোর কথা আছে, যেগুলোর নাম ২০২৬ সালের প্রতিবেদনেও এসেছে। তখন জেলা শহরের বড় লিচুর বাজার বসত কোতোয়ালি থানার সামনে থেকে খানিক এগিয়ে নিউ মার্কেটে; এ ছাড়া পুলহাট বাজার, বাহাদুর বাজার ও কোতোয়ালি থানার ফটকের সামনে ফুটপাতেও লিচু বিক্রি হতো। প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনা মহামারির কারণে দুই বছর লিচুর বাজার গোর-এ-শহীদ বড়মাঠে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতে আবহাওয়াও বড় ভূমিকা রেখেছে। ২০২৪ সালের ৩ জুন টিবিএস জানায়, দিনাজপুরে তীব্র তাপপ্রবাহ ও অনাবৃষ্টিতে লিচুর মুকুল ঝলসে গেছে, গুটি ঝরে পড়েছে, আর পাকার আগেই লিচু ফেটে যাচ্ছে। চাষিরা ধারণা করেছিলেন, সে বছর ফলন অন্তত ৩০ শতাংশ কম হবে। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা লিচুর জন্য আদর্শ, অথচ জেলায় তাপমাত্রা ৪০-এর ঘর ছুঁয়েছিল। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, তখন জাতভেদে প্রতি হাজার লিচু ২ থেকে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, আর অন্যান্য বছরে জেলায় গড়ে ৭০০ কোটি টাকার লিচু উৎপাদন হয়।

সংখ্যায় দিনাজপুরের লিচু


বাসসের ভাষায় দিনাজপুর ‘লিচুর রাজ্য’ হিসেবে খ্যাত। ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলো জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে জানায়, সে মৌসুমে জেলায় ৫ হাজার ৪৮৪ হেক্টর জমিতে ছোট-বড় ১০ হাজার ৬৬টি লিচুবাগান রয়েছে। সবচেয়ে বেশি, ৩ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে আছে বোম্বাই জাতের লিচু। এ ছাড়া ৭০৯ হেক্টরে চায়না-থ্রি, ৩০৮ হেক্টরে বেদানা, ১২৮ হেক্টরে চায়না-টু, ২৪ দশমিক ৫ হেক্টরে কাঁঠালি এবং দশমিক ২৬ হেক্টর জমিতে মোজাফফরপুরী জাতের লিচু রয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে প্রতি হেক্টরে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৮৫ মেট্রিক টন।

একই প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলার ১৩টি উপজেলাতেই কমবেশি লিচুর আবাদ আছে; তবে সবচেয়ে বেশি আবাদ সদর উপজেলার মাসিমপুর, আউলিয়াপুর ও ঘুঘুডাঙ্গা এবং বিরলের মাধববাটি, বটহাট ও রবিপুরে। চিরিরবন্দর, খানসামা, কাহারোল ও নবাবগঞ্জেও লিচুর আবাদ বেশি। এ অঞ্চলের বেলে-দোআঁশ মাটি লিচু চাষের উপযোগী। সবার আগে মুকুল আসে মাদ্রাজি ও বেদানা জাতের গাছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ছাড়া লিচুতে কীটনাশক প্রয়োগ না করতে কৃষকদের অনুরোধ জানান মোস্তাফিজুর রহমান।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ২০২৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি জানায়, ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে এবং এবার ২০২৫ সালের চেয়ে বেশি গাছে মুকুল এসেছে; আগের বছর অনেক গাছে মুকুলের বদলে নতুন পাতা এসেছিল। দিনাজপুরের লিচুর জাতের মধ্যে বাসস চায়না-থ্রি, বেদানা, বোম্বাই, মাদ্রাজি, হাড়িয়া ও কাঁঠালির কথা উল্লেখ করে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ হয় বোম্বাই লিচু। মৌমাছি পালনকারী রাকিবুল হাসান সংস্থাটিকে বলেন, তিনি আশা করছেন সে মৌসুমে বোম্বাই, কাঁঠালি ও মাদ্রাজি লিচুর উৎপাদন বাড়বে।

আগের মৌসুমগুলোর যে হিসাব কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর টিবিএসকে দিয়েছে, তাতে আবাদের এলাকা মোটামুটি স্থিতিশীল দেখা যায়:

  • ২০২২ সাল: ৫ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ, উৎপাদন প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন (টিবিএস, ৩ জুন ২০২৪)।
  • ২০২৪ সাল: ৫ হাজার ৪৮৯ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩২ হাজার ১১৭ মেট্রিক টন (টিবিএস, ৩ জুন ২০২৪)।
  • ২০২৫ সাল: ৫ হাজার ৪৮৪ হেক্টর জমিতে ৯ হাজার ৯৮টি লিচুবাগান, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩৫ হাজার ৯৭ টন (টিবিএস, ২৮ এপ্রিল ২০২৫)।

২০২৫ সালের মৌসুমে এপ্রিলের শেষ দিকে চাষিরা টিবিএসকে জানান, সে বছর মাদ্রাজি লিচুর দাম ছিল প্রতি হাজার ২ হাজার ২০০ টাকা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন আশা প্রকাশ করেন, জেলা থেকে অন্তত ৮০০ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হবে। ২০২৫ সালের জুনের শুরুতে বাংলা ট্রিবিউন কালিতলা ফল বাজারে দেখতে পায়, প্রতি ১০০টি মাদ্রাজি লিচু ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, বোম্বাই ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, বেদানা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং চায়না-থ্রি ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; ব্যবসায়ীরা বলছিলেন, দাম ২০২৪ সালের চেয়ে কম।

বেদানার জিআই স্বীকৃতি ও প্রথম রপ্তানি


দিনাজপুরের সবচেয়ে পরিচিত জাতটি ২০২৫ সালে সরকারি স্বীকৃতি পায়। বাংলা ট্রিবিউন ২০২৫ সালের ৫ মে জানায়, ৩০ এপ্রিল দিনাজপুরের বেদানা লিচু ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সদর উপজেলার মাসিমপুর ও বিরল উপজেলার মাধববাটিকে বেদানা লিচুর প্রধান উৎপাদন এলাকা হিসেবে ধরা হয়। চাষিরা এই স্বীকৃতিকে স্বাগত জানালেও এর পাশাপাশি রপ্তানির উদ্যোগ চান। দিনাজপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ ইমরুল আহসান বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তম কৃষিচর্চার (গ্যাপ) প্রটোকল মেনে এবং কীটনাশকের ব্যবহার সীমিত রেখে রপ্তানিযোগ্য লিচু উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দিনাজপুরের লিচু এর আগেই বিদেশে গেছে। ২০২৩ সালের ১৩ জুন টিবিএস জানায়, ওই বছরের ৮ জুন দিনাজপুর থেকে ৩০০ কেজি (১৬ হাজার পিস) লিচুর একটি পরীক্ষামূলক চালান প্যারিসে পাঠানো হয়; বাংলাদেশ থেকে ফ্রান্সে এটিই ছিল প্রথম লিচু রপ্তানি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, চালানটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি শর্ত পূরণ করেছে, এবং ফ্রান্সের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি দ্বিতীয় চালানে ২৫ হাজার পিস লিচুর অর্ডার দিয়েছে। এর প্রায় দুই দশক আগে এফএওর প্রবন্ধে উল্লেখ ছিল, বাংলাদেশ তখন লিচু রপ্তানিও করত না, আমদানিও করত না।

লিচুর জেলা দিনাজপুর


এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, রংপুর বিভাগের দিনাজপুর জেলার আয়তন ৩ হাজার ৪৪৪ দশমিক ৩০ বর্গকিলোমিটার। জেলার উত্তরে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়, দক্ষিণে গাইবান্ধা ও জয়পুরহাট, পূর্বে নীলফামারী ও রংপুর এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য। উল্লেখযোগ্য নদীর মধ্যে আছে যমুনা, তুলসীগঙ্গা, পুনর্ভবা ও আত্রাই। জেলাটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৭৮৬ সালে; এর ১৩টি উপজেলার মধ্যে বীরগঞ্জ সবচেয়ে বড় এবং হাকিমপুর সবচেয়ে ছোট। বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, জেলার ৬৩ দশমিক ৯০ শতাংশ পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জেলার জনসংখ্যা ছিল ৩৩ লাখ ১৫ হাজার ২৩৬।

দেশে লিচু কীভাবে এল, এফএওর প্রবন্ধে তারও বিবরণ আছে। প্রথম চাষের কোনো প্রামাণ্য দলিল নেই, তবে ধারণা করা হয় উনিশ শতকের শুরুর দিকে বার্মা (মিয়ানমার) থেকে লিচু বাংলাদেশে আসে। বিশ শতকের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে চীনা জাতের পাশাপাশি ভারতীয় জাত মোজাফফরপুরী ও বোম্বাই আনা হয়, আর বেদানা ও চায়না-থ্রি আনা হয় ১৯৫০-এর দশকে। প্রবন্ধে বলা হয়, বেদানাকে সেরা জাত ধরা হলেও এর ফলন সবচেয়ে কম, আর জাতটি তখন কৃষি-পরিবেশ অঞ্চল-১-এর অন্তর্ভুক্ত দিনাজপুর জেলাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। দেশে চাষ হওয়া জাতগুলোর তালিকায় প্রবন্ধে ‘মাদ্রাজি’ জাতের নামও আছে, ২০২৬ সালের প্রতিবেদনের লিচু এই জাতেরই।

জাতভেদে ফলনেও বড় পার্থক্য আছে। প্রবন্ধ অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সী একটি ভালো গাছে গড়ে বোম্বাই ধরে ৭ থেকে ৮ হাজার, মাদ্রাজি ৬ থেকে ৭ হাজার, চায়না-থ্রি ৪ থেকে ৫ হাজার এবং বেদানা ২ থেকে ৩ হাজার লিচু। প্রবন্ধে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) তখন পর্যন্ত বারি লিচু-১, বারি লিচু-২ ও বারি লিচু-৩ নামে তিনটি জাত অবমুক্ত করেছে; এর মধ্যে বারি লিচু-৩ সেরা বিবেচিত এবং দেখতে অনেকটা চায়না-থ্রির মতো।

সিলেটের জৈন্তাপুরে লেবুজাতীয় ফসল গবেষণা কেন্দ্রে বারি লিচু-৩। ছবি: Abu Sayeed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সিলেটের জৈন্তাপুরে লেবুজাতীয় ফসল গবেষণা কেন্দ্রে বারি লিচু-৩। ছবি: Abu Sayeed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ফলটি সম্পর্কে


লিচুর বৈজ্ঞানিক নাম Litchi chinensis, এটি স্যাপিন্ডেসি পরিবারের উদ্ভিদ। মর্টনের বই অনুযায়ী, লিচুর আদি নিবাস দক্ষিণ চীনের কোয়াংতুং ও ফুকিয়েন প্রদেশের নিচু এলাকা; চীনা সাহিত্যে ১০৫৯ খ্রিষ্টাব্দের প্রাচীনতম জানা লিখিত বিবরণ থেকেই এর প্রশংসা পাওয়া যায়। সতেরো শতকের শেষ দিকে লিচু বার্মায় যায় এবং প্রায় ১০০ বছর পরে ভারতে পৌঁছায়। গাছটি ঘন ও গোলাকার মাথার; ২ থেকে ৩০টির আলগা থোকায় ফল ঝোলে, যা সাধারণত স্ট্রবেরির মতো লাল, প্রায় ২ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার চওড়া ও ৪ সেন্টিমিটার লম্বা, খোসা পাতলা, চামড়ার মতো ও খসখসে। স্বচ্ছ সাদা শাঁস একটি শক্ত আঁটিকে ঘিরে থাকে; আঁটিটি খাওয়ার উপযোগী নয়।

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, বাংলাদেশের সব জেলাতেই লিচু চাষ করা যায়, দেশের বৃক্ষজাত ফলের মধ্যে উৎপাদনে আমের পরেই লিচুর স্থান, এবং ফলের ওজনের ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ খাওয়ার উপযোগী অংশ। গাছের বৃদ্ধির জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া দরকার; শুষ্ক গরম বাতাস ফলের জন্য ক্ষতিকর, আর গভীর দোআঁশ পলিমাটি লিচুর জন্য সবচেয়ে উপযোগী। মর্টনের উদ্ধৃত চীন, ভারত ও ফিলিপাইনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১০০ গ্রাম তাজা লিচুর শাঁসে থাকে ৬৩ থেকে ৬৪ ক্যালরি, ৮১ দশমিক ৯ থেকে ৮৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ পানি, ২৪ থেকে ৬০ মিলিগ্রাম অ্যাসকরবিক অ্যাসিড (ভিটামিন সি) এবং ১৭০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম।

গাজীপুরে এক থোকা লিচু। ছবি: Mazhar Zarif / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
গাজীপুরে এক থোকা লিচু। ছবি: Mazhar Zarif / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

লিচু, শিশু ও স্বাস্থ্য গবেষণা


দক্ষিণ এশিয়ায় স্বাস্থ্য গবেষকেরা লিচু তোলার মৌসুমে লিচু-উৎপাদনকারী এলাকায় শিশুদের অসুস্থতা নিয়ে গবেষণা করেছেন। ভারতের বিহার রাজ্যের মুজাফফরপুর জেলায় ১৯৯৫ সাল থেকে ছোট শিশুদের মধ্যে তীব্র স্নায়বিক রোগের প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া যায়, যা সাধারণত জুনে চূড়ায় ওঠে। ২০১৫ সালের ৩০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) ‘মর্বিডিটি অ্যান্ড মর্টালিটি উইকলি রিপোর্ট’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সালে ১৩৩টি শিশু রোগের সংজ্ঞায় পড়ে এবং মোট রোগীর ৪৪ শতাংশ মারা যায়। ভর্তির সময় রক্তে গ্লুকোজ কম থাকা ছিল সাধারণ ঘটনা এবং তা খারাপ পরিণতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। গবেষকেরা লিচুর বীজে থাকা মিথিলিনসাইক্লোপ্রোপাইলগ্লাইসিন (এমসিপিজি) নামের একটি যৌগের চিহ্ন খুঁজছিলেন, প্রাণীর ওপর গবেষণায় যা রক্তে শর্করা কমিয়ে দেয় বলে জানা। জনস্বাস্থ্য পরামর্শে জোর দেওয়া হয় অসুস্থ শিশুর জন্য দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং দ্রুত রক্তের শর্করা স্বাভাবিক করার ওপর।

ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল ও সিডিসির একটি কেস-কন্ট্রোল গবেষণা ২০১৭ সালে দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথে প্রকাশিত হয়। তাতে দেখা যায়, ২০১৪ সালের ২৬ মে থেকে ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে মুজাফফরপুরে ৩৯০ জন রোগী ভর্তি হয়, যাদের ১২২ জন মারা যায়। অসুস্থ হওয়ার আগের ২৪ ঘণ্টায় লিচু খাওয়া এবং রাতের খাবার না খাওয়া, দুটিই রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত পাওয়া যায়; পরীক্ষা করা রোগীদের ৬৬ শতাংশের প্রস্রাবে হাইপোগ্লাইসিন এ, এমসিপিজি বা দুটিরই বিপাকজাত উপাদান মেলে। গবেষকেরা লিচু খাওয়া যথাসম্ভব কমানো, শিশুরা যেন রাতের খাবার পায় তা নিশ্চিত করা এবং সন্দেহজনক রোগীর রক্তের গ্লুকোজ দ্রুত স্বাভাবিক করার সুপারিশ করেন।

দিনাজপুরের কাছেই বাংলাদেশের নিজস্ব অনুসন্ধান অবশ্য ভিন্ন দিকে ইঙ্গিত করেছে। ২০১২ সালের ১৬ জুন দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসক রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে (আইইডিসিআর) উত্তরাঞ্চলে শিশুদের মধ্যে এনকেফালাইটিস প্রাদুর্ভাবের খবর জানান। আইইডিসিআর ও আইসিডিডিআর,বির এই গবেষণা ২০১৭ সালে আমেরিকান জার্নাল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিনে প্রকাশিত হয়। তাতে দেখা যায়, প্রাদুর্ভাবে ১৪টি শিশু আক্রান্ত হয়, যাদের ১৩টি মারা যায়, এবং সময়টি ছিল লিচু তোলার মৌসুম। বাগানগুলোতে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ কিছু কীটনাশকসহ একাধিক কীটনাশক প্রায়ই ব্যবহার করা হতো। অসুস্থ হওয়ার আগের দিনগুলোতে লিচুবাগানে, বিশেষ করে কীটনাশক ব্যবহৃত বাগানে যাওয়া রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত পাওয়া যায়, কিন্তু লিচু খাওয়া নয়। গবেষকেরা উল্লেখ করেন, ২০০৮ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে আইইডিসিআর ও আইসিডিডিআর,বি দেশে শিশুদের মধ্যে তীব্র এনকেফালাইটিস সিনড্রোমের নয়টি প্রাদুর্ভাব অনুসন্ধান করে, যার সাতটিই ঘটে লিচু তোলার মৌসুমে।

এই গবেষণাগুলো নির্দিষ্ট কিছু প্রাদুর্ভাব নিয়ে; ২০২৬ সালের মে মাসে দিনাজপুরের বাজারে বিক্রি হওয়া লিচু নিয়ে নয়। ভারতের প্রাদুর্ভাবগুলোতে জনস্বাস্থ্য পরামর্শ ছিল, শিশু অসুস্থ হলে পরিবার যেন দ্রুত চিকিৎসা নেয়; ফল খাওয়ার পর কেউ অসুস্থ বোধ করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ছবি: Sd Raihan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, প্রথম আলো, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), বাংলা ট্রিবিউন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর নিউ ক্রপস অ্যান্ড প্ল্যান্ট প্রোডাক্টস (জে এফ মর্টন, ফ্রুটস অব ওয়ার্ম ক্লাইমেটস), বাংলাপিডিয়া, যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (এমএমডব্লিউআর), দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ, আমেরিকান জার্নাল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিন, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারটি তাজা আপেলের একটি যায় বিদেশে, রপ্তানি আয় রেকর্ড

২০২৫/২৬ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৭ কোটি পাউন্ড তাজা আপেল রপ্তানি করেছে, যা মোট তাজা উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশ। রপ্তানি আয় রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে; বড় ক্রেতা মেক্সিকো ও কানাডা।

ers_usda১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

আপেলগাছের গোড়ায় লালচে গুঁড়া? সতর্ক করছে বিরল কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কানাডার ম্যানিটোবার কৃষি বিভাগ ফলচাষিদের রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছে। এই লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকার কীড়া জীবন্ত আপেল ও সাস্কাটুন গাছের ভেতরে তিন বছর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কাটে; কাণ্ডের গোড়ায় লালচে গুঁড়াই সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)