সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

বিশ্ববাজারে সয়াবিন-পাম তেলের দাম কমল, খাতুনগঞ্জে মণে বাড়ল ৩০০ টাকা

বিশ্বব্যাংকের পিংক শিট বলছে জুন-আগস্টে পাম তেলের গড় দাম কমেছে ১ দশমিক ৯ শতাংশ ও সয়াবিন তেলের ২ দশমিক ৫ শতাংশ; অথচ চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে দেড় মাসে দুই তেলেরই দাম মণপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকা বেড়েছে, কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন সরবরাহ ঘাটতি।

আন্তর্জাতিক বাজারে পাম ও সয়াবিন তেলের দাম নিম্নমুখী হলেও দেশের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে তার কোনো প্রভাব পড়েনি; উল্টো সরবরাহ ঘাটতির কথা বলে ব্যবসায়ীরা মণপ্রতি অন্তত ৩০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন।

বিশ্বব্যাংকের কমোডিটি প্রাইস ডেটা বা ‘পিংক শিট’-এর ২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে পাম তেলের আন্তর্জাতিক গড় দাম ছিল টনপ্রতি ১ হাজার ১১৭ ডলার; জুনে ১ হাজার ১০৪ এবং জুলাইয়ে ১ হাজার ১০১ ডলার। জুন-আগস্টের গড় দাঁড়ায় ১ হাজার ১০৭ দশমিক ৩৩ ডলার, যা এপ্রিল-জুনের গড় ১ হাজার ১২৮ দশমিক ৬৭ ডলারের চেয়ে প্রায় ২১ দশমিক ৩৪ ডলার বা ১ দশমিক ৯ শতাংশ কম।

সয়াবিন তেলেও একই প্রবণতা। এপ্রিল, মে ও জুনে টনপ্রতি দাম ছিল যথাক্রমে ১ হাজার ৬৪৩, ১ হাজার ৭৮১ ও ১ হাজার ৭৪০ ডলার, গড় ১ হাজার ৭২১ দশমিক ৩৩ ডলার। জুন, জুলাই ও আগস্টে দাম ছিল ১ হাজার ৭৪০, ১ হাজার ৬৫৮ ও ১ হাজার ৬৩৮ ডলার, গড় ১ হাজার ৬৭৮ দশমিক ৬৭ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৪২ দশমিক ৬৭ ডলার বা ২ দশমিক ৫ শতাংশ কম।

এই নিম্নমুখী গড়ের বিপরীতে খাতুনগঞ্জে এখন প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ টাকায়, পাম তেল ৬ হাজার ৬০০ টাকায় এবং সুপার পাম তেল প্রায় ৬ হাজার ৮০০ টাকায়। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেড় মাস আগেও সয়াবিন তেলের দর ছিল মণপ্রতি প্রায় ৭ হাজার ২০০ টাকা; অর্থাৎ এ সময়ে বেড়েছে প্রায় ৩০০ টাকা বা ৪ দশমিক ২ শতাংশ। পাম তেলের দরও একই সময়ে মণে প্রায় ৩০০ টাকা বেড়েছে।

খাতুনগঞ্জের সয়াবিন তেল ব্যবসায়ী শাহজালাল বলেন, ‘বাজারে তেলের সরবরাহ তুলনামূলক কম। ডিলাররা সরবরাহ করলেও চাহিদার তুলনায় তা কম হওয়ায় দাম বেড়েছে।’ এর প্রভাব খুচরায়ও পড়েছে, খোলা সয়াবিন তেল কেজি ২০৮ থেকে ২১০ টাকা, পাম তেল ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা এবং সুপার পাম তেল ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দেশে ভোজ্যতেলের মোট চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানিনির্ভর, ফলে আন্তর্জাতিক দর ছাড়াও ডলারের বিনিময় হার, জাহাজভাড়া, বন্দর ও পরিবহন ব্যয়, শুল্ক-কর, ব্যাংকিং ব্যয় এবং পরিশোধন ও প্যাকেজিং খরচ স্থানীয় দরে প্রভাব ফেলে। আমদানিকারক আলা উদ্দীন বলেন, আন্তর্জাতিক দরের সঙ্গে দেশের পাইকারি দর মেলাতে হলে শুধু টনপ্রতি মূল্য নয়, আমদানি থেকে খাতুনগঞ্জ পর্যন্ত পুরো ব্যয় কাঠামো বিবেচনায় নিতে হবে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এইচএস কোডে ৬৫ হাজার ৯৫৬ টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে; এর মধ্যে পাম তেল ৫০ হাজার ৮৯৬ টন বা প্রায় ৭৭ দশমিক ১ শতাংশ এবং সয়াবিন তেল ১৫ হাজার ৬১ টন বা প্রায় ২২ দশমিক ৯ শতাংশ। সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, কাস্টমস মূলত আমদানিসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করে, বাজারদর নির্ভর করে সরবরাহ ও বাণিজ্যিক নানা উপাদানের ওপর।

চলতি বছর সরকার দুই দফায় সয়াবিন তেলের দাম সমন্বয় করেছে, ২৯ এপ্রিল এক লিটার বোতলজাত তেল ১৯৫ থেকে ১৯৯ টাকা, পাঁচ লিটার ৯৫৫ থেকে ৯৭৫ টাকা ও খোলা সয়াবিন ১৭৬ থেকে ১৮০ টাকা; পরে ২ সেপ্টেম্বর এক লিটার বোতলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য আরও ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা এবং পাঁচ লিটার ১ হাজার টাকা করা হয়। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘সামনে রমজান। এখন থেকেই দাম বৃদ্ধির অজুহাত তৈরি করা হচ্ছে কি না, সেটি নজরদারিতে রাখা দরকার।’

প্রতিবেদনটি ঢাকা পোস্টের চট্টগ্রামের নিজস্ব প্রতিবেদকের।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

ঢাকা পোস্টসূত্র

বাজার ব্যবস্থাপনা

সম্পর্কিত খবর

এগ্রোটেক

স্যাটেলাইটে ফসলের ফলন পূর্বাভাস এখন পণ্যবাজারের ব্যবসায়ীদের হাতে

যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের ফসলের ফলন, উৎপাদন ও আবাদি জমির মৌসুমকালীন স্যাটেলাইটভিত্তিক হিসাব এখন জেমা গ্লোবালের প্ল্যাটফর্মে দেবে স্যাটইল্ড। সরকারি হিসাব আসার আগেই ব্যবসায়ীরা ফসলের অবস্থার স্বাধীন চিত্র পাবেন।

PrecisionAg১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
বাজার ব্যবস্থাপনা

পেঁয়াজের দামে ভারতে সেপ্টেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭.৭%

ক্রিসিল ইন্টেলিজেন্সের হিসাবে ভারতে খুচরা মূল্যস্ফীতি আগস্টের ৪.৮% থেকে সেপ্টেম্বরে ৫.৫% এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৬.০% থেকে ৭.৭% হয়েছে। রবি মৌসুমে কম উৎপাদনে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১০৮.১%।

অ্যাগ্রোস্পেকট্রাম১৪ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

সংসারের টানাটানি সত্ত্বেও গরুর মাংসে বেশি দাম দিতে রাজি মার্কিন ক্রেতারা

কানসাস স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মিট ডিমান্ড মনিটর বলছে, সেপ্টেম্বরে রিবআই স্টেকে ক্রেতারা পাউন্ডপ্রতি ২০.৭১ ডলার আর কিমায় ১২.১১ ডলার দিতে রাজি ছিলেন, যদিও ৩৭ শতাংশ বলেছেন সংসারের অবস্থা আগের চেয়ে খারাপ।

All Ag News৯ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)