সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

জাতীয় ফল মেলায় কাঁঠালের কেক থেকে মাশরুমের মিষ্টি, দর্শনার্থীর ভিড়

২০২৬ সালের ১৮ জুন ঢাকার খামারবাড়িতে শুরু হওয়া তিন দিনের জাতীয় ফল মেলায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের স্টলে কাঁঠালের প্রায় ২০ ধরনের প্রক্রিয়াজাত পণ্য দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে; মেলায় অংশ নেয় মোট ৬৭টি স্টল।

জাতীয় ফল মেলায় কাঁঠালের কেক থেকে মাশরুমের মিষ্টি, দর্শনার্থীর ভিড়
ফল

কাঁঠালের কোয়া দিয়ে সাজানো সবুজ-সাদা পেস্ট্রি কেক, পাশে কাঁঠালের জালি কাবাব, পাকোড়া, নকশি পিঠা, চিপস, রুটি, কাঠি কাবাব, হালুয়া ও সাসলিক। ২০২৬ সালের ১৮ জুন বৃহস্পতিবার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) চত্বরে শুরু হওয়া তিন দিনের জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ এ কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের স্টলের এই আয়োজন ঘিরে দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। মেলা শনিবার পর্যন্ত চলার কথা ছিল।

মেলায় মোট ৬৭টি স্টল অংশ নেয়। দেশি ফলের পাশাপাশি সেখানে ফলভিত্তিক নানা প্রক্রিয়াজাত পণ্য রাখা হয়। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য ও উদ্ভাবন তুলে ধরে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি দপ্তর, যার কাজ কৃষিপণ্যের বিপণন। আর বিএডিসি একটি স্বায়ত্তশাসিত সরকারি সংস্থা, যা কৃষকদের বীজ, সার ও ক্ষুদ্র সেচের সুবিধা জোগায়।

কাঁঠালের প্রায় ২০ ধরনের প্রক্রিয়াজাত পণ্য


কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের স্টলে কাঁঠালের প্রায় ২০ ধরনের প্রক্রিয়াজাত পণ্য সাজানো ছিল। এর মধ্যে ছিল কাঁঠালের পিঠা, পুডিং, বিস্কুট, বড়া, কাপ কেক, পাটিসাপটা, আচার, কাটলেট এবং কাঁঠালের বিচির বরফি।

অধিদপ্তরের প্রতিনিধি আল আমিন সরকার জাগো নিউজকে জানান, উদ্যোক্তারা কাঁঠাল ও আমভিত্তিক এসব পণ্য তৈরি করে মেলায় এনেছেন। কাঁঠালের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরে একটি কর্মসূচির আওতায় কাজ হয়েছে, যার ফলে কাঁঠালভিত্তিক পণ্যের উদ্যোক্তার সংখ্যাও বেড়েছে।

স্টলে থাকা উদ্যোক্তা চুমকী জানান, গাজীপুরে তার এলাকায় প্রচুর কাঁঠাল হয়। মৌসুমি ফল বলে সংরক্ষণের জন্য তিনি নানা পণ্য তৈরি শুরু করেন, যা এখন অনলাইনে বিক্রি হয়। তার কথায়, কাঁঠালের কাশ্মীরি আচার, চিপস ও কাবাবের চাহিদাই বেশি।

কাঁঠাল বাংলাদেশের জাতীয় ফল। গাছে ধরা ফলের মধ্যে এটি সবচেয়ে বড়গুলোর একটি। কাঁচা কাঁঠাল দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তরকারিতে রান্না হয়, পাকা কোয়া দিয়ে চিপস তৈরি হয়, আর বিচি সেদ্ধ বা ভেজে খাওয়া হয়, গুঁড়া করে আটা হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

কাঁঠালের চিপস, কাঁঠালের প্রচলিত প্রক্রিয়াজাত পণ্যের একটি। ছবি: Vaikoovery / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
কাঁঠালের চিপস, কাঁঠালের প্রচলিত প্রক্রিয়াজাত পণ্যের একটি। ছবি: Vaikoovery / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

মন্ত্রী বললেন ফল উৎপাদনে ‘বিপ্লব’


সকালে মেলা ঘুরে দেখার পর কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, দেশে ফল উৎপাদনে এক ধরনের বিপ্লব ঘটেছে। তিনি জানান, কাঁঠাল দিয়ে সিঙ্গারা, সমুসা, কাবাবসহ নানা খাবার তৈরি হচ্ছে, যেগুলোর পুষ্টিগুণও অনেক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের কাঁঠালভিত্তিক খাদ্যপণ্যে আগ্রহ দেখাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ঢাকার খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, যার চত্বরে জাতীয় ফল মেলা বসে। ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ঢাকার খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, যার চত্বরে জাতীয় ফল মেলা বসে। ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

আমের আধিক্য, অপ্রচলিত ফল ও মাশরুমের পণ্য


মেলায় কাঁঠালের চেয়ে আমের উপস্থিতিই ছিল বেশি। ল্যাংড়া, আম্রপালি, নাগ ফজলি, বারি-৪, হাঁড়িভাঙা ও সূর্যপুরির মতো জনপ্রিয় দেশি জাতের পাশাপাশি থাই কাটিমন, পোকড়ি, হানিভিউ, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, মিয়াজাকি, আপেল ম্যাঙ্গো ও কিং অব চাকাপাতসহ বিভিন্ন বিদেশি ও উন্নত জাতের আম প্রদর্শিত হয়।

বিএডিসির স্টলে ছিল নানা জাতের আম, আনারস, ড্রাগন ফল, সফেদা ও বিদেশি খেজুর। গরান ফল, লতা ফল ও পশুর ফলের মতো অপ্রচলিত ফলও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। দেওয়ান অ্যাগ্রো ফার্মের স্টলে ছিল ৯ ধরনের আম, সঙ্গে কাঁঠাল, বেল ও ঢেউয়া; প্রতিষ্ঠানটির এক বিক্রয়কর্মী জানান, সব ফল নরসিংদীতে তাদের নিজস্ব খামারে উৎপাদিত।

‘টেস্টি মাশরুম’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের স্টলে উদ্যোক্তা মেহেদি এনেছিলেন মাশরুমের মিষ্টি ও চার স্বাদের মাশরুম চিপস। তিনি বলেন, দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় ক্রেতাদের ভালো সাড়া মিলছে। কয়েকটি স্টলে আম, জাম, আনারস ও লিচুর জুস বিক্রি হয় ৫০ থেকে ১৫০ টাকায়; মাশরুমের কেক, নাড়ু ও পিঠাও দর্শনার্থীদের টানে। ডাবের পুডিং ও তরমুজের পণ্যও ছিল।

মোহাম্মদপুর থেকে আসা আসলামুল হক জানান, তিনি প্রায় প্রতিবছর এই মেলায় আসেন, কারণ এখানে বাজারের চেয়ে ভালো মানের ফল পাওয়া যায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর বাজারে ঝুড়িভর্তি আম। ছবি: Ferdous / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর বাজারে ঝুড়িভর্তি আম। ছবি: Ferdous / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

আগের বছরের মেলা


ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের বছর ২০২৫ সালের ১৯ জুনও একই কেআইবি চত্বরে তিন দিনের জাতীয় ফল মেলা শুরু হয়েছিল। সেই মেলায় ৭৫টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়, যার ২৬টি সরকারি ও ৪৯টি বেসরকারি। সেবারের প্রতিপাদ্য ছিল দেশি ফল বেশি খাওয়া ও ফলের গাছ লাগানো, আর রাজধানীসহ দেশের ৬৪ জেলার ৪৩১টি উপজেলায়ও ফল মেলা হয়। মেলার লক্ষ্য ছিল দেশি ফল নিয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়ানো এবং আমদানি করা ফলের ওপর নির্ভরতা কমানো।

২০২৫ সালের ১৯ জুন কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে আগের বছরের জাতীয় ফল মেলা পরিদর্শন করছেন তৎকালীন কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ছবি: Press Information Department / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
২০২৫ সালের ১৯ জুন কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে আগের বছরের জাতীয় ফল মেলা পরিদর্শন করছেন তৎকালীন কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ছবি: Press Information Department / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

ছবি: Shahnoor Habib Munmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, ঢাকা ট্রিবিউন (১৯ জুন ২০২৫), উইকিপিডিয়া (Jackfruit, Department of Agricultural Marketing, Bangladesh Agricultural Development Corporation)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারটি তাজা আপেলের একটি যায় বিদেশে, রপ্তানি আয় রেকর্ড

২০২৫/২৬ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৭ কোটি পাউন্ড তাজা আপেল রপ্তানি করেছে, যা মোট তাজা উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশ। রপ্তানি আয় রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে; বড় ক্রেতা মেক্সিকো ও কানাডা।

ers_usda১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

আপেলগাছের গোড়ায় লালচে গুঁড়া? সতর্ক করছে বিরল কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কানাডার ম্যানিটোবার কৃষি বিভাগ ফলচাষিদের রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছে। এই লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকার কীড়া জীবন্ত আপেল ও সাস্কাটুন গাছের ভেতরে তিন বছর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কাটে; কাণ্ডের গোড়ায় লালচে গুঁড়াই সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)