বাঙ্গি পচনকারী রোগ শনাক্তের পদ্ধতি উদ্ভাবন
বাঙ্গি ও তরমুজ জাতীয় ফসল চাষাবাদের বড় অন্তরায় ফল পচনকারী রোগ। ফল পচনকারী রোগের জন্য একদিকে যেমন ফলন কমছে অন্যদিকে কৃষকও আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। আবার ফলের গুণগত মানও ভা
বাঙ্গি ও তরমুজ জাতীয় ফসল চাষাবাদের বড় অন্তরায় ফল পচনকারী রোগ। ফল পচনকারী রোগের জন্য একদিকে যেমন ফলন কমছে অন্যদিকে কৃষকও আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। আবার ফলের গুণগত মানও ভালো হচ্ছে না। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম এ জাতীয় ফল পচনকারী ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করতে তিনসেট মলিকিউলার মারকার ডেভেলপ করেছেন। যার মাধ্যমে আক্রান্ত ফসলের ক্ষতি থেকে আগাম রক্ষা পাওয়া যাবে।
সোমবার বেলা ১১টায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (শেকৃবিসাস) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ড. মো. রফিকুল ইসলাম এ তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার সুনচন ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে প্রায় তিনবছর গবেষণা শেষে এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, অ্যাসিডোভোরাক্স সাট্রুলি ( Acidovorax citrulli) নামক ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে বাঙ্গি ফল পচনকারী রোগ হয়। এই ব্যাকটেরিয়া শনাক্তকরণের জন্য প্রায় তিন বছর গবেষণা শেষে তিনসেট মলিকিউলার মারকার ডেভেলপ করা হয়েছে। যার মাধ্যমে আক্রান্ত ফসলের ক্ষতি থেকে আগাম রক্ষা পাওয়া যাবে। ইতোমধ্যে এই ব্যাকটেরিয়ার দুইটি স্ট্রেইনকে ক্লোনিং এবং সিকুয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে ইউনিভার্সাল ডাটাবেস এনসিবিআইয়ে সাবমিট করা হয়েছে।
ড. মো. রফিকুল ইসলাম আরও জানান, বাঙ্গির ৩৫ টি এবং তরমুজের ৭৭ টি ইনব্রিড লাইন/কালটিভারকে এই ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে কৃত্রিম উপায়ে ইনুকিউলেশন করে ফল পচনকারী রোগ সহনশীল বাঙ্গির ছয়টি এবং তরমুজের চারটি ইনব্রিড লাইন/কালটিভার শনাক্ত করা হয়েছে। বাঙ্গি ফল পচনকারী রোগ প্রতিরোধকারী একসেট মলিকিউলার মারকার ডেভেলপ করা হয়েছে, যা দিয়ে আমরা আগাম বাঙ্গি ফল পচনকারী রোগ সহনশীল জাত বাছাই করতে পারব। শনাক্তকরণের এই আধুনিক (পিসিআর) পদ্ধতিটি আমরাই প্রথম উদ্ভাবন করেছি।
তিনি বলেন, বাঙ্গি ও তরমুজ সাশ্রয়ী এবং সহজলভ্য একটি ফল যা আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন করে সারা বছর চাষ করা সম্ভব। এতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন, মিনারেলস এবং স্বাস্থ্য সমৃদ্ধিকরণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা অপুষ্টি নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমাদের ল্যাবে এখন থেকে এই পরীক্ষাটি করা যাবে। আশা করি এই গবেষণাটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে কৃষিতে উন্নতির মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সাহায্য করবে।



