রাজশাহীর ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গোপালভোগ আম বাজারে আসার কথা ছিল ২২ মে থেকে। কিন্তু জাগো নিউজ ২৪ ২০২৫ সালের ১৭ মে জানায়, তার আগেই নগরের সাহেববাজার, কোর্টবাজার, নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন বাজার গোপালভোগে ছেয়ে গিয়েছিল। বেশ কিছু দোকানে এবং পাড়া-মহল্লায় ভ্যানে করে এ আম বিক্রি হচ্ছিল, যার অধিকাংশই ছিল কাঁচা। কৃষি বিভাগের ভাষ্য ছিল, এসব আম রাজশাহীর বাইরের; জেলায় দুয়েকজন কৃষকের আম পাকলেও তাঁদের তখনো আম নামানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি।
ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডারে কোন আম কবে
প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৭ মে রাজশাহী জেলার আম পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও সংগ্রহবিষয়ক মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার সে বছরের ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার ঘোষণা করেন। সূচিতে জাতভেদে গাছ থেকে আম নামানোর তারিখগুলো ছিল এ রকম:
- গুটি আম: ১৫ মে
- গোপালভোগ: ২২ মে
- রানিপসন্দ ও লক্ষ্মণভোগ: ২৫ মে
- হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাতি: ৩০ মে
- ব্যানানা ম্যাংগো ও ল্যাংড়া: ১০ জুন
- আম্রপালি ও ফজলি: ১৫ জুন
- বারি আম-৪: ৫ জুলাই; আশ্বিনা: ১০ জুলাই; গৌড়মতি: ১৫ জুলাই
- কাটিমন ও বারি আম-১১: সারা বছর, পাকা সাপেক্ষে
সেই সভায় রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক উম্মে সালমা বলেছিলেন, ‘অপরিপক্ব আম যাতে ভোক্তাদের কাছে না যায়, এ জন্যই আমাদের এই ক্যালেন্ডার।’ জেলা প্রশাসক জানিয়েছিলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কোথাও নির্ধারিত তারিখের আগে আম পাড়ার প্রয়োজন হলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে তা করা যাবে। অধিদপ্তরের হিসাবে সে বছর জেলায় ১৯ হাজার ৬০৩ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছিল, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন।

ক্রেতাদের অভিযোগ: কাঁচা আম, চড়া দাম
বাজারে ওঠা গোপালভোগের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, দামও ছিল চড়া: ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল এ আম। এতে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।
সাহেববাজারে আম কিনতে আসা ফিরোজ আলী বলেন, ‘এখনো গুটি আম থাকার কথা। অথচ গোপালভোগ চলে এসেছে। যেগুলো পাওয়া যাচ্ছে, সবই কাঁচা অবস্থায় পাকানো। খেতেও একদম ফিকে স্বাদ। তারপরও প্রথম আম হিসেবে কিছু কিনেছি।’ আরেক ক্রেতা রায়হান আলী জানান, বাইরে থেকে আম পাকা মনে হলেও কাটার পর ভেতরে একদম কাঁচা পাওয়া যায়; বেশি দামে প্রথম আম কিনে তিনি ঠকেছেন।

বিক্রেতা, চাষি ও কৃষি বিভাগের বক্তব্য
আম বিক্রেতা আবু জাফর বলেন, ‘আমরা জানি ২২ তারিখ গোপালভোগ তোলার কথা। কিন্তু চাহিদা বেশি থাকায় কিছু আম আগেই তুলতে হয়েছে। ফল ভালো হয়নি, মান খারাপ। কিন্তু বাজারে দিতে বাধ্য হয়েছি।’
খড়খড়ি বাইপাস এলাকার আমচাষি মারুফ হোসেন জানান, তাঁর বাগানে কিছু গোপালভোগ পাকতে শুরু করেছিল, তবে পুরোপুরি নয়। তখনো কোনো পাইকার আসেনি, তাই বাধ্য হয়ে আগেভাগে কিছু আম তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘কৃষি বিভাগ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। পেকেছে তাই নামিয়ে বিক্রি করছি।’
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক উম্মে সালমা বলেন, ‘গোপালভোগ আম ২২ মে বাজারে আসার কথা। বাজারে যে সব আম এসেছে এগুলো সম্ভবত আমাদের এলাকার নয়।’
আগাম গোপালভোগ শুধু নগরের বাজারেই দেখা যায়নি। প্রথম আলো ২০২৫ সালের ১৬ মে জানায়, আগের দিন ১৫ মে গুটি আম নামানোর মধ্য দিয়ে জেলায় আম পাড়া শুরু হলেও পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর আমবাজারের দখল প্রথম দিনেই ছিল গোপালভোগের। চাষিরা বলেছিলেন, গাছে আম পেকে গেছে বলেই তাঁরা বাজারে এনেছেন। অনলাইনে আম বিক্রেতা ব্যবসায়ী মনিরুল বেলাল পত্রিকাটিকে বলেন, বড় গাছগুলোতে আম আগেই পেকে যায়।

ছবি: Mostafizur Rahman Sawon / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, প্রথম আলো (৭ মে ও ১৬ মে ২০২৫), রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর





মন্তব্য
(০)