ঠিকাদারি ও ব্রয়লার মুরগি পালনে নানা চড়াই-উতরাইয়ের পর বাবার অনুপ্রেরণায় পেঁপে চাষে ভাগ্য বদলেছেন গাজীপুরের এক কৃষক। শুরুটা হয়েছিল বসতবাড়ির আঙিনায়: গোবরের স্তূপের পাশে আপনা থেকে গজানো দুই-একটি পেঁপেগাছ থেকে টানা দুই-তিন বছর ফলন পেতে দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হন, জানিয়েছে দিনাজপুর টিভির কৃষি ডেস্ক।
বাবার দিকনির্দেশনায় প্রায় ১০ শতাংশ জমিতে ১০৫টি চারা দিয়ে বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেন; প্রথম ধাপেই সব খরচ বাদে লাভ হয় ১ লাখ টাকার বেশি। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে ৭৫০টি চারা লাগান; সেই বাগান থেকে পরিবারের সব খরচ মিটিয়েও প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা নগদ উদ্বৃত্ত হয়েছে।
তাঁর বাগানের পেঁপের ওজন উঠেছে ৫ কেজি ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত; বেশির ভাগ আড়াই থেকে ৩ কেজি, কোনোটি ৫ থেকে ৬ কেজি। স্থানীয় লাল মাটির উপযোগী দেশি শাহী জাতে সবচেয়ে বেশি ফলন পেয়েছেন; একটি ভালো গাছ থেকে মৌসুমে ৮ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত পেঁপে মিলেছে, আর মানভেদে একেকটি গাছ থেকে দেড় হাজার, আড়াই হাজার বা তিন হাজার টাকার ফল বিক্রি হয়েছে।
তিনি জানান, চারা লাগানোর দুই মাসে ফুল আসে, পেঁপে পরিপক্ব হতে প্রায় ছয় মাস লাগে; একবার পাকা শুরু হলে টানা দুই বছর একই গাছ থেকে ফল বিক্রি করা যায়। ১০ বছরের অভিজ্ঞতায় পাঁচবার সর্বোচ্চ ফলন ও লাভের স্বীকৃতি পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
বাবার কথার উদ্ধৃতি দিয়ে তাঁর হিসাব, দুই লাখ টাকা খরচ করে পেঁপে চাষ করলে অন্তত তিন লাখ টাকা ফেরে, ফলন ভালো হলে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত। তাঁর মতে, যত্ন নিলে এ চাষে লোকসানের আশঙ্কা কম, আর ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজির পেঁপে আপেল-আঙুরের মতো দামি বিদেশি ফলের তুলনায় সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য পুষ্টিকর ফল।
ছবি: Joydeep / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: দিনাজপুর টিভি





মন্তব্য
(০)