সৌরশক্তির একটি ডক থেকে নিজে উড়ে গিয়ে আপেলবাগানে ফলের সংখ্যা, ফুলের ঘনত্ব আর গাছের পাতার স্বাস্থ্যের মানচিত্র বানানো স্বয়ংক্রিয় ড্রোনের কয়েক মৌসুমের মাঠ পরীক্ষা শেষ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির (ডব্লিউএসইউ) ট্রি ফ্রুট এক্সটেনশন কর্মসূচি, জানিয়েছে গ্লোবাল এগ্রিকালচার।
ড্রোন-ইন-আ-বক্স নামের ব্যবস্থাটি সরবরাহ করেছে যুক্তরাজ্যের আউটফিল্ড টেকনোলজিস ও ওয়াশিংটনের টাইটন এভিয়েশন। এতে আছে ডিজেআই ডক ২ স্টেশন আর কয়েক সেন্টিমিটার নির্ভুল আরটিকে অবস্থান-প্রযুক্তি ও মাল্টিস্পেকট্রাল ক্যামেরাসহ ম্যাট্রিস থ্রিডি ড্রোন। সময় ঠিক করে দিলে ড্রোন নিজেই ওড়ে, নির্দিষ্ট পথে বাগান ঘুরে নামে এবং চার্জ নেয়, কোনো চালক লাগে না। পরীক্ষা চালিয়েছেন সম্প্রসারণ শিক্ষক দত্তাত্রয় ভালেকর, সহযোগী অধ্যাপক বার্নার্দিতা সাল্লাতো ও নির্ভুল কৃষির অধ্যাপক লভ খোত।
২০২৪ সালে মাত্তাওয়ার কাছে কসমিক ক্রিস্প জাতের একটি বাগানে হাতে চালানো ড্রোনের গণনা তিন দিনে শ্রমিকদের হাতে গোনার সঙ্গে মেলানো হয়: পার্থক্য ছিল ৫ থেকে ১৫ শতাংশ, যেমন জুলাইয়ের মাঝামাঝি গাছপ্রতি ১৬টি ফল, হাতে গোনায় ১৯টি। ২০২৫ সালে জিলাহর একটি এনভি আপেলবাগানে পূর্ণ ডক বসিয়ে এপ্রিল থেকে অক্টোবর বারবার উড়িয়ে ধারাবাহিকতা যাচাই করা হয়।
ক্যামেরা পাতার সবুজভাব ও নাইট্রোজেনের জন্য এনডিভিআই ও এনডিআরই, সারির মাঝের খালি মাটির প্রভাব বাদ দিতে এসএভিআই আর পানির চাপের জন্য এনডিডব্লিউআই সূচকও হিসাব করে। ফুল ও পাতার তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি হয় পরিবর্তনশীল মাত্রার মানচিত্র, যা স্প্রেয়ার বা সার প্রয়োগযন্ত্রকে বাগানের নির্দিষ্ট অংশে কম বা বেশি দিতে বলে। একটি ডক দুই মাইল ব্যাসার্ধে দিনে ২৫০ একর পর্যন্ত জরিপ করতে পারে; জিলাহর ৮.১ একরের বাগানে একবার উড়তে লেগেছে প্রায় ১৫ মিনিট।
২০২৬-২৭ মৌসুমে ম্যাট্রিস ৪টি ড্রোনে তাপীয় ক্যামেরা যোগ করে পানির চাপে থাকা গাছ আর সম্ভাব্য পোকা বা রোগের জায়গা খোঁজার পরিকল্পনা আছে। চাষির খরচ কত পড়বে, তা ডব্লিউএসইউ জানায়নি, আর ২০২৫ সালের নির্ভুলতার পরিসংখ্যানও দেওয়া হয়নি।
ছবি: Orygun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার





মন্তব্য
(০)