২০২৫ সালে বিশ্বে বন উজাড় ১৫ শতাংশ কমে ৭০ লাখ হেক্টরে নেমেছে, যা ২০১৮-২০২০ সালের ভিত্তিবছরের পর সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতন। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে বন উজাড় বন্ধের লক্ষ্য থেকে বিশ্ব এখনও অনেক দূরে। ফরেস্ট ডিক্লারেশন অ্যাসেসমেন্ট ২০২৬-এর বরাতে এ খবর দিয়েছে ভারতের ডাউন টু আর্থ। ২০২১ সাল থেকে প্রতিবছরই ৮০ লাখ হেক্টরের বেশি বন হারিয়ে যাচ্ছিল।
ক্লাইমেট ফোকাস ও কয়েকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এই স্বাধীন মূল্যায়ন বলছে, ২০২১ সাল থেকে প্রয়োজনীয় হ্রাসের তুলনায় মোট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭ লাখ হেক্টরে। প্রতিবেদনের ভাষায়, পাঁচ বছর ধরে বন উজাড় প্রায় একই জায়গায় আটকে থাকার পর এটুকু সুখবর এল।
ক্রান্তীয় লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে বন হারানো ভিত্তিবছরের চেয়ে ৩৩ শতাংশ কমেছে। তবে আমাজন এমন এক উষ্ণতার সীমার কাছে পৌঁছাচ্ছে, যা বড় ধরনের পরিবেশগত পরিবর্তন ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। ক্রান্তীয় আফ্রিকায় বন উজাড় বেড়েই চলেছে এবং প্রথমবারের মতো লাতিন আমেরিকার সমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। ক্রান্তীয় এশিয়ায় অবস্থা মোটামুটি অপরিবর্তিত। পুরোপুরি উজাড়ের বাইরে শুধু ২০২৪ সালেই ৬ কোটি ৫৪ লাখ হেক্টর বনের পরিবেশগত মান নেমে গেছে।
কৃষি এখনও বন উজাড়ের বড় চালিকা। কৃষিপণ্য ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কাজে বন উজাড় ভিত্তিবছরের ৭২ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর থেকে ২০২৫ সালে ৬০ লাখ ১০ হাজার হেক্টরে নেমেছে, যা ২০৩০ সালে শূন্যে নামানোর পথের চেয়ে অনেক বেশি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গরুর মাংস ও সয়াবিনের মতো বনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য এবং খনিজের চাহিদা বাড়ায় বনের ওপর চাপ আরও বাড়বে। তৃণভূমিসহ বনের বাইরের প্রাকৃতিক এলাকা প্রতিবছর ৯০ লাখ থেকে ১ কোটি ৩০ লাখ হেক্টর হারে রূপান্তরিত হচ্ছে।
ফরেস্ট ৫০০ উদ্যোগে মূল্যায়ন করা কোম্পানির মাত্র ২৯ শতাংশের সব পণ্যে বন উজাড় না করার পূর্ণ অঙ্গীকার আছে, আর ২০২৫ সালে ১৪টি বড় কোম্পানি তাদের অঙ্গীকার দুর্বল করেছে বা প্রত্যাহার করেছে। প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ হেক্টর জমিতে সক্রিয় বন পুনরুদ্ধার চলছে, যা বিশ্বের আনুমানিক সম্ভাবনার প্রায় ৬ শতাংশ। প্রতিবেদনটি লিখেছেন হিমাংশু নিতনাওয়ারে।
ছবি: Jesse Allen and Robert Simmon / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ



মন্তব্য
(০)