মৌসুম বদলের এই সময়ে ঘরে ঘরে জ্বর দেখা দিচ্ছে, অনেকের প্যারাসিটামল খেয়েও জ্বর কমছে না। গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মাহবুবা শবনম প্রথম আলোকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, জ্বর নিজে কোনো রোগ নয়, উপসর্গ মাত্র; তাই শুধু তাপমাত্রা নয়, সঙ্গের লক্ষণগুলোও খেয়াল করতে হবে।
তিনি জানান, জ্বরের পেছনে ফ্লু, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, টাইফয়েড, নিউমোনিয়া, প্রস্রাবের সংক্রমণ, মস্তিষ্কের প্রদাহ বা হেপাটাইটিসসহ নানা কারণ থাকতে পারে। ডেঙ্গুসহ ভাইরাসজনিত অনেক জ্বর সাধারণত তিন-চার দিন থেকে এক সপ্তাহ, কখনো তারও বেশি থাকে।
জ্বর হলে পানিশূন্যতা হচ্ছে কি না নজর রাখতে বলেছেন তিনি: মুখ ও জিব শুকিয়ে যাচ্ছে কি না, প্রস্রাবের পরিমাণ কেমন। দিনে প্রায় আড়াই লিটার তরল, যেমন পানি, ডাবের পানি, স্যুপ ও খাবার স্যালাইন খেতে হবে; যথাসম্ভব বিশ্রাম নিতে হবে। জ্বর মেপে কতটা উঠছে আর কত দিন থাকছে, তা লিখে রাখা ভালো।
প্যারাসিটামল লাগতে পারে, তবে বয়স ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী সঠিক মাত্রায়। নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যথানাশক বা স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ খাওয়া যাবে না। প্যারাসিটামলে জ্বর না কমলে আতঙ্কিত না হয়ে শরীর স্পঞ্জ করে দিতে এবং আলো-বাতাসপূর্ণ জায়গায় থাকতে বলেছেন তিনি। জ্বর তিন দিন বা তার বেশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ডা. মাহবুবা শবনমের পরামর্শ, জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, কাশি, খুব বেশি দুর্বলতা, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, বারবার বমি, পাতলা পায়খানা, পেটে প্রচণ্ড ব্যথা, শরীরের কোথাও রক্তপাত, প্রস্রাব স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যাওয়া বা খিঁচুনির মতো কোনো লক্ষণ দেখা দিলে সময় নষ্ট না করে হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।
শিশু, বয়স্ক মানুষ, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং আগে থেকে গুরুতর অসুস্থতা আছে এমন মানুষের ক্ষেত্রে জ্বরের মাত্রা যেমনই হোক, বাড়তি সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
ছবি: Wellcome Collection / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো



মন্তব্য
(০)