দীর্ঘ সময় ধরে কিডনির কার্যক্ষমতা কমতে থাকাকে বলে ক্রনিক কিডনি ডিজিজ বা দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ (সিকেডি)। এ রোগের বড় উদ্বেগ হলো, শুরুতে অনেকের কোনো উপসর্গ থাকে না, কিডনির কার্যক্ষমতা অনেকটা কমে যাওয়ার পর রোগটি ধরা পড়ে। আজকের পত্রিকায় এমন সতর্কতা দিয়েছেন চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালের নেফ্রোলজি কনসালট্যান্ট ডা. শওকত আজাদ।
তাঁর ভাষ্য, কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত পানি সরায়, লবণ ও খনিজের ভারসাম্য রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়তা করে। সিকেডির প্রধান কারণ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ; এ ছাড়া দীর্ঘদিনের কিডনি প্রদাহ, কিছু বংশগত রোগ, বারবার কিডনি সংক্রমণ, পাথরজনিত জটিলতা এবং কিছু ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ঝুঁকি বাড়ায়।
রোগ বাড়লে পা বা মুখ ফোলা, প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে পরিবর্তন, প্রস্রাবে ফেনা বা রক্ত, অতিরিক্ত ক্লান্তি, ক্ষুধামান্দ্য, বমি ভাব, চুলকানি, ঘুমের সমস্যা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। তবে শুধু উপসর্গ দেখে সিকেডি শনাক্ত করা যায় না। চিকিৎসকের পরামর্শে রক্তে সেরাম ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর এবং প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা কিডনির অবস্থা বোঝায়; প্রয়োজনে আলট্রাসনোগ্রামও করা হয়।
সব ধরনের সিকেডি প্রতিরোধ করা যায় না, তবে ঝুঁকি কমানো ও অগ্রগতি ধীর করা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব। এ জন্য ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান এড়ানো, স্বাস্থ্যকর ওজন, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশকসহ কোনো ওষুধ দীর্ঘদিন না খাওয়ার কথা বলেছেন তিনি। কিডনি রোগে সবার জন্য একই খাবার বা পানির পরিমাণ প্রযোজ্য নয়; রোগের পর্যায় দেখে চিকিৎসক ও ডায়েটিশিয়ান তা ঠিক করেন।
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, প্রস্রাবে প্রোটিন বা রক্ত, কিডনি পরীক্ষার অস্বাভাবিক ফল, বারবার কিডনির সমস্যা বা পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস থাকলে নেফ্রোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তাঁর কথায়, সিকেডি যত আগে শনাক্ত হয়, কিডনির অবশিষ্ট কার্যক্ষমতা রক্ষার সুযোগ তত বেশি থাকে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা



মন্তব্য
(০)