সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

লালস্বর্ণ ধানের বিকল্প খুঁজতে পশ্চিমবঙ্গের কালনায় ২১ জাতের ধানের পরীক্ষা

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা মহকুমা কৃষি খামার ২১টি জাতের ধান নিয়ে পরীক্ষা শুরু করে। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, বহু বছর ধরে লালস্বর্ণ ধান চাষের ফলে রোগপোকা বেড়েছে, ফলন কমেছে এবং রবি মৌসুমের চাষ পিছিয়ে যাচ্ছে।

লালস্বর্ণ ধানের বিকল্প খুঁজতে পশ্চিমবঙ্গের কালনায় ২১ জাতের ধানের পরীক্ষা
ফসল

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা মহকুমায় কৃষি কর্মকর্তারা ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ২১টি জাতের ধান নিয়ে মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা শুরু করেন। লক্ষ্য ছিল লালস্বর্ণের বিকল্প খোঁজা, যে জাতের ধান জেলার বেশির ভাগ কৃষক বহু বছর ধরে চাষ করে আসছেন। কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, কালনা মহকুমা কৃষি খামারে কৃষি বিশেষজ্ঞরা প্রায় দুই বিঘা জমিকে অনেকগুলো ছোট ছোট প্লটে ভাগ করে প্রতিটিতে ভিন্ন ভিন্ন জাতের ধানবীজ বুনেছিলেন।

খামার জানায়, এই পরীক্ষার দুটি উদ্দেশ্য ছিল। একটি হলো এমন জাত খুঁজে বের করা, যা পুষ্টিগুণ ধরে রেখেও ভালো ফলন দেয়। অন্যটি হলো কম সময়ে পাকে এমন ধান বেছে নেওয়া, যাতে কৃষকেরা সময়মতো আলু, সরিষা ও শীতের অন্যান্য ফসল বুনতে পারেন। একই খামারে রানিধান নামে আরও একটি জাত নিয়েও গবেষণা চলছিল, যা দেখতে লালস্বর্ণের মতো।

লালস্বর্ণের বিকল্প কেন খোঁজা হচ্ছিল


প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলার বেশির ভাগ কৃষক দীর্ঘদিন ধরে লালস্বর্ণ জাতের ধান চাষ করায় এই ফসলে রোগ ও পোকার আক্রমণ বাড়ছিল এবং ফলন কমছিল। জাতটি পাকতেও সময় নেয় বেশি: কৃষি বিশেষজ্ঞদের হিসাবে লালস্বর্ণ চাষে ১৩৫ থেকে ১৪০ দিন লাগে। দেরিতে ধান কাটার কারণে কৃষকেরা রবি (শীতকালীন) মৌসুমের আলু, সরিষাসহ নানা ফসলের চাষ সময়মতো শুরু করতে পারছিলেন না। সেসব ফসল দেরিতে বোনা হলে সেগুলোতেও রোগ ও পোকার আক্রমণ বাড়ে, বাড়ে চাষের খরচ।

কালনার সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (কৃষি গবেষণা) সুব্রত ঘোষ পত্রিকাটিকে বলেন, "বহু বছর ধরে একই জাতের ধান চাষ করলে নানা সমস্যা দেখা দেয়। লালস্বর্ণের ক্ষেত্রেও এই সমস্যা হচ্ছে। কৃষকদের বিকল্প হিসেবে নানা ধরনের ধানের জাত দেওয়ার জন্য কৃষি খামারে বিভিন্ন জাত নিয়ে পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।"

অভ্যাসের টানের কথাও কর্মকর্তারা স্বীকার করেন। তাঁদের ভাষায়, লালস্বর্ণ ধানের প্রতি কৃষকদের দীর্ঘদিনের দুর্বলতা রয়েছে।

ধান নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর ফসল সুরক্ষা পরামর্শও একই দিকে ইঙ্গিত করে। থাইল্যান্ডের ব্যুরো অব রাইস রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট খোলপচা রোগ নিয়ে যে নির্দেশনা দিয়েছে, যা সিএবিআই প্ল্যান্টওয়াইজের কৃষক-তথ্যপত্রে প্রকাশিত হয়েছে, তাতে রোগমুক্ত বীজ ও চারা ব্যবহার, নিয়মিত মাঠ পর্যবেক্ষণ এবং একটিমাত্র জাতের ধান একটানা চাষ এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে; একই জমিতে অন্তত দুটি জাত লাগানোর কথা বলা হয়েছে।

ভারতের সরকারি ধান কর্মসূচিও নতুন বীজের পক্ষে ছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের 'ব্রিংগিং গ্রিন রেভল্যুশন টু ইস্টার্ন ইন্ডিয়া' কর্মসূচির ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে জারি করা কার্যনির্দেশিকায় উচ্চফলনশীল ধান ও গমের বীজে সহায়তা কেবল সেই জাতগুলোর জন্য রাখা হয়েছিল, যেগুলো ১০ বছরের বেশি পুরোনো নয়। সহায়তার হার ছিল কেজিপ্রতি ১০ রুপি অথবা দামের ৫০ শতাংশ, যেটি কম; হাইব্রিড ধানে কেজিপ্রতি ৫০ রুপি অথবা দামের ৫০ শতাংশ, যেটি কম। একজন কৃষক সর্বোচ্চ ২ হেক্টর জমির জন্য এই সহায়তা পেতেন।

ভারতের কর্ণাটকের বেল্লারিতে আইসিএআর-ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সয়েল অ্যান্ড ওয়াটার কনজারভেশনের কেন্দ্রে ধানের মাঠ পরীক্ষার প্লট; গবেষণা খামারে এভাবেই ছোট ছোট খণ্ডে পরীক্ষা সাজানো হয়। ছবি: Amrut Morade / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ভারতের কর্ণাটকের বেল্লারিতে আইসিএআর-ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সয়েল অ্যান্ড ওয়াটার কনজারভেশনের কেন্দ্রে ধানের মাঠ পরীক্ষার প্লট; গবেষণা খামারে এভাবেই ছোট ছোট খণ্ডে পরীক্ষা সাজানো হয়। ছবি: Amrut Morade / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

পুষ্টিগুণের জন্য বাছাই করা সাতটি জাত


খামারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পরীক্ষার প্রথম উদ্দেশ্য ছিল পুষ্টিগুণসম্পন্ন জাতগুলোর ফলন কেমন হয় তা দেখা। রাজ্যের কৃষি দপ্তর জানায়, তখন প্রচলিত ধান থেকে পাওয়া চালের উপরের অংশ ছাঁটাইয়ের সময় বাদ পড়ে যাওয়ায় এর পুষ্টিগুণ অনেকটাই কমে যায়।

পরীক্ষাধীন জাতগুলোর মধ্যে সাতটি বাছাই করা হয়েছিল পুষ্টিগুণের জন্য; এর মধ্যে রয়েছে পুষ্পা, কৌশল্যা ও বিপিটি ৫২০৪। কৃষি কর্মকর্তারা পত্রিকাটিকে জানান, পুষ্পা ও কৌশল্যা জাতে আয়রন বেশি এবং বিপিটি ৫২০৪ জাতে জিঙ্ক বেশি। তাঁদের মতে, এই তিনটি জাত লালস্বর্ণের মতোই উচ্চফলনশীল; হেক্টরপ্রতি প্রায় সাড়ে পাঁচ টন ধান পাওয়া যায়।

বিপিটি ৫২০৪ ভারতে 'সাম্বা মাসুরি' নামেই বেশি পরিচিত। আশির দশকে অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলায় আচার্য এন জি রঙ্গা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে জাতটি উদ্ভাবিত হয়। এটি মাঝারি মেয়াদের ধান, এর চাল মাঝারি সরু, রান্নার গুণও ভালো, আর দক্ষিণ ভারতের কৃষকদের মধ্যে জাতটি জনপ্রিয়। জাতটি ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতা ঝলসানো রোগে সহজে আক্রান্ত হয় বলে সেন্টার ফর সেলুলার অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব রাইস রিসার্চের বিজ্ঞানীরা 'ইমপ্রুভড সাম্বা মাসুরি' উদ্ভাবন করেন, যাতে ব্যাকটেরিয়াজনিত ঝলসানো রোগ প্রতিরোধী তিনটি জিন (Xa21, Xa13 ও Xa5) রয়েছে। ২০০৯ সালে অন্ধ্রপ্রদেশের পশ্চিম গোদাবরী জেলায়, যেখানে বিপিটি ৫২০৪ ছিল জনপ্রিয় জাত, এই উন্নত সংস্করণের প্রদর্শনী চাষ হয়।

চাল ছাঁটাইয়ে দানা থেকে কী হারায়


ছাঁটাই নিয়ে কৃষি দপ্তরের বক্তব্যের পক্ষে জোরালো প্রমাণ আছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) তাদের 'রাইস ইন হিউম্যান নিউট্রিশন' গ্রন্থে ব্যাখ্যা করেছে, দানার বাইরের আবরণ, বীজত্বক, অ্যালিউরোন স্তর ও ভ্রূণ সরাতে ছাঁটাই করলে চর্বি, আমিষ, খনিজ (ছাই), থায়ামিন, রাইবোফ্লাভিন ও নায়াসিন কমে যায়। বি ভিটামিনগুলো এবং ভিটামিন ই মূলত কুঁড়ার স্তরে জমা থাকে; খনিজ উপাদানও লাল বা বাদামি চালের বাইরের স্তরে ও কুঁড়ায় বেশি থাকে।

এফএওর বইয়ে এর হিসাবও দেওয়া আছে। বাদামি চালের থায়ামিনের (ভিটামিন বি১) ৬৫ শতাংশ থাকে কুঁড়ায়, ১৩ শতাংশ পালিশে এবং ২২ শতাংশ ছাঁটা চালে। রাইবোফ্লাভিনের ক্ষেত্রে এই ভাগ যথাক্রমে ৩৯, ৮ ও ৫৩ শতাংশ, আর নায়াসিনের ক্ষেত্রে ৫৪, ১৩ ও ৩৩ শতাংশ। বাদামি চালের খনিজের (ছাই) ৫১ শতাংশ কুঁড়ায়, ১০ শতাংশ ভ্রূণে, ১০ শতাংশ পালিশে এবং ২৮ শতাংশ ছাঁটা চালে থাকে; আয়রন, ফসফরাস ও পটাশিয়ামের বণ্টনও প্রায় একই রকম। কিছু খনিজ অবশ্য দানাজুড়ে তুলনামূলক সমানভাবে ছড়ানো থাকে: ছাঁটা চালে বাদামি চালের সোডিয়ামের ৬৩ শতাংশ এবং ক্যালসিয়ামের ৭৪ শতাংশ থেকে যায়।

এফএওর সারণি অনুযায়ী, ১৪ শতাংশ আর্দ্রতায় প্রতি ১০০ গ্রাম বাদামি চালে আয়রন থাকে ০.২ থেকে ৫.২ মিলিগ্রাম এবং জিঙ্ক ০.৬ থেকে ২.৮ মিলিগ্রাম; ছাঁটা চালে আয়রন ০.২ থেকে ২.৮ মিলিগ্রাম এবং জিঙ্ক ০.৬ থেকে ২.৩ মিলিগ্রাম; আর চালের কুঁড়ায় আয়রন ৮.৬ থেকে ৪৩.০ মিলিগ্রাম এবং জিঙ্ক ৪.৩ থেকে ২৫.৮ মিলিগ্রাম।

চালের কুঁড়া, বাদামি চাল ছেঁটে সাদা চাল করার সময় যে বাইরের স্তর বাদ পড়ে; এই নমুনা থেকে তেল নিষ্কাশন করা হয়েছে। ছবি: Palagiri / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
চালের কুঁড়া, বাদামি চাল ছেঁটে সাদা চাল করার সময় যে বাইরের স্তর বাদ পড়ে; এই নমুনা থেকে তেল নিষ্কাশন করা হয়েছে। ছবি: Palagiri / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

পশ্চিমবঙ্গে আয়রন ও জিঙ্ক কেন গুরুত্বপূর্ণ


পুষ্টিসমৃদ্ধ ধানের খোঁজ চলছিল এমন এক রাজ্যে, যেখানে রক্তস্বল্পতা ব্যাপক। আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইএফপিআরআই) পরিচালিত পুষ্টি গবেষণা উদ্যোগ পোষণ ২০১৭ সালের নভেম্বরে পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে একটি নীতিপত্র প্রকাশ করে। জাতীয় পারিবারিক স্বাস্থ্য সমীক্ষা-৪ (২০১৫-১৬)-এর তথ্যপত্র ব্যবহার করে দশ বছরের তথ্য তুলনা করে সেখানে দেখা যায়, প্রজননক্ষম বয়সী নারীদের মধ্যে রক্তস্বল্পতা ২০০৬ সালের ৬৩.২ শতাংশ থেকে ২০১৬ সালে সামান্য কমে ৬২.৫ শতাংশ হয়েছে।

একই নীতিপত্রে দেখা যায়, নারীদের রক্তস্বল্পতা জেলাভেদে অনেক আলাদা: কলকাতায় ৪৬.৪ শতাংশ, পুরুলিয়ায় ৮০ শতাংশ; সমীক্ষার আওতাভুক্ত ১৯টি জেলার মধ্যে ১২টিতে এই হার ৬০ শতাংশের ওপরে, যা অত্যন্ত উচ্চ। এই দশকে রাজ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের খর্বতা ৪৪.৬ শতাংশ থেকে কমে ৩২.৫ শতাংশ হলেও কৃশতা ১৬.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০.৩ শতাংশ হয়।

কালনার কর্মকর্তারা পরীক্ষাধীন জাতগুলোকে কোনো রোগের চিকিৎসা হিসেবে উপস্থাপন করেননি। রক্তস্বল্পতা নিয়ে উদ্বেগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

শীতের ফসলের জন্য জমি খালি করতে স্বল্পমেয়াদি ধান


পরীক্ষাধীন জাতগুলোর দ্বিতীয় দলটি বাছাই করা হয়েছিল দ্রুত পাকার গুণের জন্য। কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানান, লালস্বর্ণে ১৩৫ থেকে ১৪০ দিন লাগলেও মুক্তশ্রী, সুকুমার, মনীষা, ভূপেশ, অজিত ও পুরুলিয়া ১-এর মতো আরও কয়েকটি জাতের ধান অন্তত ২০ দিন আগে ঘরে তোলা যায়। তাঁদের মতে, কৃষকেরা এ ধরনের স্বল্পমেয়াদি ধান চাষ করলে সময়মতো রবি মৌসুমের চাষ শুরু করতে পারবেন।

কৃষি দপ্তর জানায়, ইতিমধ্যে 'পূর্ব ভারতে সবুজ বিপ্লব আনয়ন' কর্মসূচির আওতায় বেশ কিছু কৃষক অজিত জাতের ধান এবং মন্তেশ্বর ব্লকে মুক্তশ্রী জাতের ধান চাষ করেছেন। এসব স্বল্পমেয়াদি জাত নিয়েও নানা পরীক্ষা শুরু হয়েছিল।

মুক্তশ্রী (আইইটি ২১৮৪৫) জাতটি উদ্ভাবন করেছে পশ্চিমবঙ্গ কৃষি দপ্তরের অধীন চুঁচুড়া (চিনসুরা) ধান গবেষণা কেন্দ্র, লখনৌয়ের ন্যাশনাল বোটানিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সঙ্গে মিলে। গবেষণায় দেখা গেছে, অন্যান্য জাতের তুলনায় এই ধান মাটি ও ভূগর্ভস্থ পানি থেকে কম আর্সেনিক শোষণ করে।

সময়ের হিসাব এখানে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জেলার চাষের পঞ্জিকা ধানকে ঘিরেই সাজানো। পূর্ব বর্ধমানে বছরে তিন মৌসুমে ধান হয়: শরতে আউশ, শীতে আমন এবং গ্রীষ্মে বোরো। খাদ্যশস্য ও ডালের পাশাপাশি সরিষা, তিল, পাট ও আলুর মতো অর্থকরী ফসলও চাষ হয়। জেলার কৃষি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিভক্ত বর্ধমান জেলায় ধানের মোট জমির ৬৪.৩২ শতাংশে আমন, ৩২.৮৭ শতাংশে বোরো এবং ২.৮১ শতাংশে আউশ চাষ হতো।

কালনায় আলুও একটি প্রধান ফসল। ২০১৩-১৪ সালে কালনা ১ ব্লকে ১১,৮৭৫ হেক্টর জমি থেকে প্রধান শীতকালীন ফসল আমন ধান উৎপাদিত হয় ৩৬,৩৬৫ টন, ৫,২৮৫ হেক্টর থেকে বোরো ধান ২০,৭৮৬ টন, ১,০৪৫ হেক্টর থেকে পাট ২৩,০৮৪ টন এবং ২,৩৭৬ হেক্টর থেকে আলু ২৩,৮৭৬ টন; এর বাইরে ডাল ও তেলবীজও উৎপাদিত হয়। কালনার বিশেষজ্ঞরা যেমন ব্যাখ্যা করেছেন, দীর্ঘমেয়াদি ধান আলু ও সরিষা বোনা পিছিয়ে দেয়, আর স্বল্পমেয়াদি জাতের পরীক্ষা ছিল সেই সমস্যারই সমাধানের চেষ্টা।

২০১৩ সালের ডিসেম্বরে পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার রুপপুর গ্রামের কাছে গ্রামীণ পথের দুই পাশে সরিষার খেত; ধান কাটার পর বোনা রবি ফসলের মধ্যে সরিষা অন্যতম। ছবি: Abhijit Kar Gupta / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
২০১৩ সালের ডিসেম্বরে পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার রুপপুর গ্রামের কাছে গ্রামীণ পথের দুই পাশে সরিষার খেত; ধান কাটার পর বোনা রবি ফসলের মধ্যে সরিষা অন্যতম। ছবি: Abhijit Kar Gupta / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)

অজিত ধানের পেছনের সরকারি কর্মসূচি


'ব্রিংগিং গ্রিন রেভল্যুশন টু ইস্টার্ন ইন্ডিয়া' বা বিজিআরইআই কর্মসূচির সূচনা হয় ২০০৯ সালের ২৯ নভেম্বর ভারত সরকারের সচিব কমিটির এক বৈঠকের পর গঠিত টাস্কফোর্সের সুপারিশ থেকে। ২০১০-১১ সালে কর্মসূচিটি শুরু হয় সাতটি রাজ্যে ধানভিত্তিক শস্যবিন্যাসের উৎপাদনশীলতার বাধাগুলো দূর করতে: আসাম, বিহার, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, পূর্ব উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ। এর ঘোষিত লক্ষ্য ছিল পূর্ব ভারতের এতদিন অব্যবহৃত পানিসম্পদ কাজে লাগিয়ে ধানের উৎপাদন বাড়ানো।

২০১৫ সালের নির্দেশিকায় চারটি উদ্দেশ্যের কথা বলা হয়েছে: আধুনিক ফসল উৎপাদন প্রযুক্তি গ্রহণ করে ধান ও গমের উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো; শস্যনিবিড়তা ও কৃষকের আয় বাড়াতে ধান কাটার পর পতিত থাকা জমিতে চাষ বাড়ানো; পানি সংরক্ষণের অবকাঠামো তৈরি ও পানির দক্ষ ব্যবহার; এবং ফসল-পরবর্তী প্রযুক্তি ও বিপণনে সহায়তা। কৌশলের মধ্যে ছিল নতুন অবমুক্ত উচ্চফলনশীল জাত ও হাইব্রিড জনপ্রিয় করা, শস্যবিন্যাসভিত্তিক পদ্ধতিতে ধান-পরবর্তী পতিত জমিকে চাষের আওতায় আনা এবং প্রতিকূলতা সহনশীল ধানের জাত জনপ্রিয় করা।

কর্মসূচির প্রধান হাতিয়ার ছিল গুচ্ছ প্রদর্শনী। ধান বা গমের প্রতিটি গুচ্ছ অন্তত ১০০ হেক্টরের হওয়ার কথা; সংলগ্ন জমি না পেলে একই গ্রামে অন্তত ৫০ হেক্টরের উপগুচ্ছ করা যেত। প্রত্যেক কৃষকের অন্তত ০.৪ হেক্টর এবং সর্বোচ্চ ২ হেক্টর জমি প্রদর্শনীতে রাখা হতো। ধানের প্রদর্শনীর জন্য বরাদ্দ অর্থের ৩০ শতাংশ প্রতিকূলতা সহনশীল জাতের জন্য সংরক্ষিত ছিল, আর ধানের প্রদর্শনীর অন্তত ৩০ শতাংশ শস্যবিন্যাসভিত্তিক পদ্ধতিতে করার কথা ছিল, অর্থাৎ ধানের পর একই জমিতে গম, মোটা দানার শস্য, ডাল বা তেলবীজের মতো দ্বিতীয় ফসল। কারিগরি সহায়তা ও তদারকির নোডাল সংস্থা ছিল কটকের সেন্ট্রাল রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট। শস্যবিন্যাসভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করায় বিজিআরইআইয়ের কৃষক প্রশিক্ষণ চার দফায় সাজানো হয়েছিল: খরিফ ও রবি মৌসুমের শুরুতে একটি করে এবং প্রতিটি মৌসুমের মাঝে একটি করে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র ও আইসিএআর প্রতিষ্ঠানের ফসল বিশেষজ্ঞরা ৩০ জন কৃষকের একেকটি দলকে এই প্রশিক্ষণ দিতেন।

রানিধান: দেখতে লালস্বর্ণের মতো, খোলপচা সহনশীল


২১টি জাতের পাশাপাশি কালনার খামারে রানিধান নামের একটি জাত নিয়েও গবেষণা চলছিল। কর্মকর্তারা জানান, রানিধান দেখতে লালস্বর্ণের মতো। তবে লালস্বর্ণের তুলনায় এই জাত খোলপচা রোগ সহনশীল এবং ফলনও ভালো। কালনা ১ ব্লকের কাঁকুরিয়া পঞ্চায়েত এলাকায় কৃষকেরা ইতিমধ্যে প্রায় একশো বিঘা জমিতে এই ধান চাষ করেছিলেন।

খোলপচা ধানের একটি ছত্রাকজনিত রোগ। এর সবচেয়ে বেশি উল্লিখিত জীবাণু সারোক্লাডিয়াম ওরাইজি, যা কচি শিষ ঢেকে রাখা সবচেয়ে উপরের পাতার খোলে আক্রমণ করে। ২০১৫ সালে 'ফ্রন্টিয়ার্স ইন প্ল্যান্ট সায়েন্স' সাময়িকীতে প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় রোগটিকে ধান উৎপাদনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান হুমকি বলা হয় এবং জানানো হয়, এস. ওরাইজির কারণে ফলনের ক্ষতি ২০ থেকে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। রোগে খোলের ওপর লম্বাটে দাগ পড়ে, যা প্রায়ই একসঙ্গে মিশে যায়; কচি শিষ খোলের ভেতরেই থেকে যেতে পারে বা আংশিক বের হয়, আর যে দানা হয় তা চিটা ও বিবর্ণ। থোড় আসার পর থেকে ছত্রাকটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। পর্যালোচনায় বলা হয়, প্রধানত খোল পচে যাওয়া এই ধরনের ধানের রোগের কথা প্রায় এক শতাব্দী আগে প্রথম জানা যায় তাইওয়ানে।

পর্যালোচনার লেখকেরা লিখেছেন, প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবনই সবচেয়ে ভালো উপায় বলে মনে হয়, যদিও রোগটির একাধিক জীবাণু থাকায় তা সীমিত। তাঁদের মতে নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করা উচিত: সুস্থ বীজ ব্যবহার, কারণ রোগটিকে বীজবাহিত বলা হয়; পোকার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা; ঘন করে চারা না লাগানো ও অতিরিক্ত নাইট্রোজেন এড়ানো; এবং ফসলের অবশিষ্টাংশ ও আগাছা ব্যবস্থাপনা। খেতে এই রোগের সন্দেহ হলে স্থানীয় পরামর্শের জন্য কৃষকদের ব্লক কৃষি দপ্তরে যোগাযোগ করা উচিত।

ধানে খোলপচা রোগের লক্ষণ; ছবিটি তুলেছেন নয়াদিল্লির ইন্ডিয়ান অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বীজবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের বিজ্ঞানীরা। ছবি: Dr Atul Kumar and Venkatesha M.G. / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ধানে খোলপচা রোগের লক্ষণ; ছবিটি তুলেছেন নয়াদিল্লির ইন্ডিয়ান অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বীজবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের বিজ্ঞানীরা। ছবি: Dr Atul Kumar and Venkatesha M.G. / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

কালনা ও তার কৃষিজমি


কালনা, যা অম্বিকা কালনা নামেও পরিচিত, ভাগীরথী নদীর পশ্চিম তীরের একটি শহর; বর্ধমান থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার এবং রেলপথে হাওড়া থেকে ৮১ কিলোমিটার দূরে। এটি কালনা মহকুমার সদর। শহরটি ঐতিহাসিক স্থাপনার জন্য পরিচিত, যার মধ্যে রয়েছে রাজবাড়ি ও ১০৮ শিবমন্দির; অষ্টাদশ শতকের শেষভাগে বর্ধমানের মহারাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় শহরটি উন্নতির শিখরে পৌঁছায়, তাঁরা পোড়ামাটির অলংকরণে সাজানো বেশ কয়েকটি মন্দির নির্মাণ করেন। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে শহরের জনসংখ্যা ছিল ৫৬,৭২২।

মহকুমার বেশির ভাগ অংশ ভাগীরথী অববাহিকায়, পশ্চিম দিকের অংশ বর্ধমান সমভূমিতে ঢুকে গেছে। এখানে পাঁচটি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক রয়েছে: কালনা ১, কালনা ২, মন্তেশ্বর, পূর্বস্থলী ১ ও পূর্বস্থলী ২; গ্রাম পঞ্চায়েত ৪৭টি। ২০১৭ সালে জেলা ভাগের পরের সীমানা ধরে হিসাব করলে ২০১১ সালের আদমশুমারিতে মহকুমার জনসংখ্যা ছিল ১০,৮৭,৭৩২।

রানিধান চাষ হওয়া কাঁকুরিয়া কালনা ১ ব্লকের নয়টি গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি। ভাগীরথীর তীর ধরে এই ব্লকের আয়তন ১৬৯.০৮ বর্গকিলোমিটার; নদীটিই এর পূর্ব সীমানা। মূলত পলি জমে তৈরি এখানকার মাটি উর্বর, এলাকায় অনেক জলাভূমি ও জলাবদ্ধ অংশ রয়েছে। ২০১১ সালে ব্লকের জনসংখ্যা ছিল ২,০৬,৯৪৫; কর্মজীবীদের ১৫.১৫ শতাংশ চাষি এবং ৪৭.০৩ শতাংশ কৃষিশ্রমিক। ২০১৩-১৪ সালে ব্লকের ১১,০৫০.৫৩ হেক্টর জমি সেচের আওতায় ছিল, এর মধ্যে ৬,৪৮৯ হেক্টরে সেচ হতো খালের পানিতে। ২০০৩-০৪ সালে কালনা ১ ব্লকের নিট আবাদি জমি ছিল ১৪,০৬৮ হেক্টর, যার ১১,৩৪৮ হেক্টরে বছরে একাধিক ফসল হতো।

মুক্তশ্রী চাষ হওয়া মন্তেশ্বর বর্ধমান সমভূমির অংশ; এর পূর্বে ভাগীরথী, উত্তর-পশ্চিমে অজয় এবং পশ্চিম ও দক্ষিণে দামোদর নদ। এখানকার মাটি নবীন পলিমাটি। ব্লকের আয়তন ৩০৫.১৯ বর্গকিলোমিটার, আর ২০১১ সালে এর জনসংখ্যা ছিল ২,৩৭,৩৯৮, যার সবাই গ্রামীণ।

পূর্ব বর্ধমান জেলা গঠিত হয় ২০১৭ সালের ৭ এপ্রিল, পুরোনো বর্ধমান জেলা ভাগ করে। অবিভক্ত বর্ধমান ছিল পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বেশি ধান উৎপাদনকারী জেলা, আর সেই ধানের বেশির ভাগই আসত আজকের পূর্ব বর্ধমান থেকে। ১৯৫৩ সালে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের সেচ প্রকল্প চালু হওয়ার পর মূলত বর্ষানির্ভর কৃষি নিবিড় চাষে রূপ নেয়, এবং অবিভক্ত জেলাটি রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সেচযুক্ত জমির জেলা হয়ে ওঠে।

সংখ্যায় পশ্চিমবঙ্গের ধান


রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার 'হ্যান্ডবুক অব স্ট্যাটিসটিকস অন ইন্ডিয়ান স্টেটস', যা ২০১৯ সালের মার্চে কৃষি ও কৃষককল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য নিয়ে প্রকাশিত হয়, তাতে ২০১৬-১৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের চাল উৎপাদন দেখানো হয়েছে ১৫,৩০২.৫ হাজার টন, যা সারণির সব রাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই বছরে উত্তরপ্রদেশে উৎপাদন ছিল ১৩,৭৫৪.০ হাজার টন এবং পাঞ্জাবে ১১,৫৮৬.২ হাজার টন; সারা ভারতে মোট ১,০৯,৬৯৮.৪ হাজার টন। পশ্চিমবঙ্গের উৎপাদন ২০১৫-১৬ সালে ছিল ১৫,৯৫৩.৯ হাজার টন এবং ২০১৩-১৪ সালে ১৫,৩৭০.৭ হাজার টন।

একই হ্যান্ডবুকে দেখা যায়, পশ্চিমবঙ্গের জমি কতটা নিবিড়ভাবে ব্যবহৃত হয়: ২০১৫-১৬ সালে রাজ্যের শস্যনিবিড়তা ছিল ১৮৮.৫, যেখানে ১৯৯০-৯১ সালে তা ছিল ১৬২.৪। শস্যনিবিড়তা হলো নিট আবাদি জমির শতাংশ হিসেবে মোট ফসলি জমি; তাই এই সংখ্যা ১০০-র বেশি হলে বোঝায়, জমিতে বছরে একাধিকবার ফসল হচ্ছে।

ছবি: Sohom data / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা, ভারত সরকারের কৃষি ও সমবায় বিভাগ, রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), ফ্রন্টিয়ার্স ইন প্ল্যান্ট সায়েন্স, পোষণ (আইএফপিআরআই), ইরি রাইস টুডে, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফসল

সম্পর্কিত খবর

ফসল

ইংল্যান্ডে যবের ফলন ১৪ বছরে সর্বনিম্ন, গম সামান্য বেশি

যুক্তরাজ্যের কৃষি মন্ত্রণালয় ডেফরার প্রাথমিক হিসাবে ইংল্যান্ডে যব উৎপাদন ১১ শতাংশ কমে ৩৭ লাখ টন হয়েছে, গম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৮ লাখ টন; গমের তুলনায় পশুখাদ্যের যব বিক্রি হচ্ছে অনেক কম দামে।

Farmers Weekly১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
বিশ্ব

ভালো ফসলের বছরেও আফগানিস্তানে শীতে তীব্র খাদ্যসংকটে পড়বে ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ

অনুকূল বৃষ্টি ও ভালো ফসলের পরও নভেম্বর-এপ্রিলে আফগানিস্তানের ৩৮ শতাংশ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এফএও ও ডব্লিউএফপি; গত বছর একই সময়ের পূর্বাভাস ছিল ১ কোটি ৭৪ লাখ।

ডব্লিউএফপি১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফসল

জমির সিদ্ধান্তের ভার পেয়ে তুলার ফলন সাত গুণ করলেন মহারাষ্ট্রের সুনীতা

একসময় দিনমজুরি করা, পরিবারের ১২ একর জমি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তের অধিকার না থাকা মহারাষ্ট্রের পাচোদ গ্রামের সুনীতা নেহারে এখন খামার চালান; মাটি ও পানি সংরক্ষণে একরপ্রতি তুলার ফলন প্রায় ১ থেকে বাড়িয়েছেন ৭ দশমিক ১৪ কুইন্টালে।

ডাউন টু আর্থ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)