ইথিওপিয়ার মধ্যাঞ্চলের হাদিয়া জোনের মিশা জেলার উঁচু ভূমিতে ক্ষুদ্র কৃষকেরা ছোট জমিতে ওট চাষ করে পশুখাদ্যের বীজ বিক্রির লাভজনক ব্যবসা গড়ছেন। আন্তর্জাতিক প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট আইএলআরআই (ILRI) এ তথ্য দিয়েছে। পশুখাদ্যের সংকট, অনিয়মিত বৃষ্টি, জমি ছোট হয়ে আসা আর ভালো চারা-বীজের অভাবে এখানকার পশুপালন দীর্ঘদিন পিছিয়ে ছিল।
পাঁচ সন্তানের বাবা আয়েলে তিবেবু (Ayele Tibebu) ২০২৪ সালে মাত্র শূন্য দশমিক ২৫ হেক্টর জমিতে বীজের জন্য ওট লাগান এবং ৬০০ কেজি বীজ পান। চাহিদা বেশি থাকায় পুরোটা বিক্রি হয় ৪৫ হাজার ইথিওপীয় বির্রে (প্রায় ২৮৮ মার্কিন ডলার)। ২০২৫ সালে তিনি শূন্য দশমিক ৩৭৫ হেক্টরে চাষ করে ৯০০ কেজি বীজ পান; তখন দাম বেড়ে টনপ্রতি ১ লাখ ২০ হাজার বির্র (৭৭০ ডলার) হয়। সেই আয় ও পরিবারের অন্য আয় মিলিয়ে তিনি একটি হালের ষাঁড় কিনেছেন, ফলে আর ভাড়া করতে হয় না; দুধের জন্য কিনেছেন একটি জার্সি বকনা; লাগিয়েছেন অ্যাভোকাডোর মতো ফলগাছ। এখন সার ও উন্নত বীজ কিনতেও কষ্ট হয় না। ২০২৭ মৌসুমে তিনি শূন্য দশমিক ৫ হেক্টরে ওট বীজ চাষের পরিকল্পনা করছেন।
বাড়ির চারপাশে তিনি ফ্যালারিস, গুয়াতেমালা, নেপিয়ার (এলিফ্যান্ট) ও দেশো ঘাসও চাষ করেন। এগুলো ভিন্ন ভিন্ন মৌসুমে বাড়ে বলে তাঁর পশু সারা বছর খাবার পায়, আর দেশোর মতো বহুবর্ষজীবী ঘাস ঢালু জমির মাটি ঢেকে রেখে ক্ষয় কমায়। তিবেবু বলেন, খুব ছোট জমিতে শুরু করেছিলেন, কিন্তু সেই ছোট শুরুই তাঁর পরিবারকে নিরাপদ ভবিষ্যৎ দিয়েছে।
কাজটি টিএএটি-২ (TAAT II) প্রকল্পের আওতায় আইএলআরআইয়ের নেতৃত্বে পশুখাদ্যের বীজ বাণিজ্যিকীকরণ উদ্যোগের অংশ। গবেষণাকেন্দ্র থেকে কৃষকেরা আদি প্রজন্মের মানসম্মত বীজ ও কাটিং পান, সঙ্গে বীজ উৎপাদন, প্রত্যয়ন ও বিপণনের প্রশিক্ষণ। ৮৩টি সমবায় ও ১০ হাজার সদস্যের লিচা কৃষক ইউনিয়ন এর প্রধান অংশীদার। তিবেবু এর একটি দল গোম্বোরা সমবায়ের সভাপতি; এর সদস্যরা মিলে ২৫ হেক্টর জমিতে ১৯ টন মানঘোষিত বীজ উৎপাদন করেছেন, যা আঞ্চলিক কৃষি উপকরণ মান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ যাচাই করে।
আইএলআরআইয়ের সমাজবিজ্ঞানী মিলিয়ন গেব্রেয়েস (Million Gebreyes) বলেন, মান নিশ্চিত করা আর নির্ভরযোগ্য বাজারই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী কিন্দু মেকোনেন (Kindu Mekonnen) জানান, ভালো খাবার পাওয়া পশু বেশি দুধ ও মাংস দেয়, ফলে প্রতি লিটার দুধ বা কেজি মাংসে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণও কমে। পদ্ধতিটি বিস্তারে আঞ্চলিক সরকারগুলোর সহায়তা চেয়েছেন তিনি।
সূত্র: ILRI




মন্তব্য
(০)