সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

ফল রপ্তানি বাড়াতে দূতাবাসগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার তাগিদ কৃষি অর্থনীতিবিদের

২০২৬ সালের ২৭ জুন ঢাকায় জাগো নিউজের এক গোলটেবিল বৈঠকে কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, দেশে উৎপাদিত ফলের সামান্য অংশই রপ্তানি হয়; নতুন বাজার খুলতে বিদেশে বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোকে আরও সক্রিয় হতে হবে।

ফল রপ্তানি বাড়াতে দূতাবাসগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার তাগিদ কৃষি অর্থনীতিবিদের
ফল

২০২৬ সালের ২৭ জুন, শনিবার সকালে রাজধানীর বাড্ডায় জাগো নিউজ কার্যালয়ে 'ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ: সমস্যা ও সম্ভাবনা' শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক হয়। সেখানে কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত ফলের খুবই সামান্য অংশ বিদেশে রপ্তানি হয় এবং শুধু উদ্যোক্তাদের চেষ্টায় তা বাড়ানো সম্ভব নয়। এ জন্য সরকারের অর্থনৈতিক কূটনীতি আরও কার্যকর করতে হবে।

তাঁর মতে, বিদেশে বাংলাদেশি দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনগুলোকে নতুন বাজার তৈরি এবং রপ্তানিকারকদের সহায়তায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। বিদেশি ক্রেতা ও কূটনীতিকদের নিয়মিত ফল উৎপাদন এলাকায় নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগও বাড়ানো দরকার বলে তিনি মনে করেন।

আমের বাইরেও নতুন বাজারের তাগিদ


চীনের সঙ্গে আম রপ্তানির সমঝোতা স্মারকের প্রসঙ্গ টেনে ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শুধু আম নয়, কাঁঠালসহ অন্য ফলের জন্যও নতুন বাজার তৈরি করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের আম রপ্তানির সম্ভাবনা অনেক হলেও বাস্তবে রপ্তানির পরিমাণ এখনো অত্যন্ত কম।

চীনের বাজারে আম পাঠানোর পথ খুলতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২০১৯ সালে চীনে আম রপ্তানির অনুমোদন চেয়ে আবেদন করে এবং চীনের সাধারণ শুল্ক প্রশাসন (জিএসিসি) ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রপ্তানি নিবন্ধন দেয়। এরপর ২০২৫ সালের ২৮ মে প্রথমবারের মতো চীনে আমের চালান পাঠানো হয়। সে সময় কৃষিসচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেছিলেন, ওই বছর প্রায় ৫০ টন আম চীনে রপ্তানি হবে এবং পরিমাণ বাড়াতে আলোচনা চলছে; কাঁঠাল রপ্তানির বিষয়েও সরকার কাজ করছিল। নিউ এজ জানায়, চীন পেয়ারা ও কাঁঠাল আমদানিতেও আগ্রহ দেখিয়েছিল।

উৎপাদন ও রপ্তানির ব্যবধানও ছিল বড়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ২০২৫ সালের মে মাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে বছরে প্রায় ২৭ লাখ টন আম উৎপাদিত হয়, অথচ ২০২৩-২৪ সালে আম রপ্তানি হয়েছিল মাত্র ১ হাজার ৩২১ টন।

বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল; আমের পাশাপাশি কাঁঠালের জন্যও নতুন বাজার খোঁজার তাগিদ দেওয়া হয়। ছবি: Shahnoor Habib Munmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল; আমের পাশাপাশি কাঁঠালের জন্যও নতুন বাজার খোঁজার তাগিদ দেওয়া হয়। ছবি: Shahnoor Habib Munmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

মাঠ থেকে সংরক্ষণ পর্যন্ত দুর্বলতা


ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন নতুন ফলের জাত উদ্ভাবন করলেও সেগুলো সব সময় মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে পৌঁছায় না। অনেক কৃষক সময়মতো প্রয়োজনীয় পরামর্শ বা কারিগরি সহায়তা পান না। তাই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) জনবল ও সক্ষমতা বাড়িয়ে কৃষকদের সেবার মান উন্নত করার কথা বলেন তিনি।

মৌসুমে ফলের দাম কমে গেলেও অমৌসুমে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় বলে জানান তিনি। এই বৈষম্য কমাতে কার্যকর কোল্ড চেইন, আধুনিক গুদাম ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। তাঁর ভাষ্যে, এসব নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা হলেও বাস্তবায়নে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি।

ঢাকার একটি ফলের দোকান। ছবি: Yahya / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ঢাকার একটি ফলের দোকান। ছবি: Yahya / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

রপ্তানি অবকাঠামো ও সমন্বিত উদ্যোগ


রপ্তানিযোগ্য ফল উৎপাদন এলাকায় বিশেষ রপ্তানি অঞ্চল গড়ে তোলা, ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট (ভিএইচটি) সুবিধা সম্প্রসারণ, উড়োজাহাজে কার্গো জায়গা নিশ্চিত করা এবং পরিবহন ব্যয় কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেন ড. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, উদ্যোক্তা, রপ্তানিকারক ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ খাতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসবে না।

২০২৪ সালের ২৭ জুন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার কান্দবোনা গ্রামে উত্তম কৃষি চর্চায় পরিচালিত একটি আমবাগান। ছবি: প্রেস ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্ট / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
২০২৪ সালের ২৭ জুন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার কান্দবোনা গ্রামে উত্তম কৃষি চর্চায় পরিচালিত একটি আমবাগান। ছবি: প্রেস ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্ট / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

বৈঠকে যাঁরা অংশ নেন


গোলটেবিল বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন জাগো নিউজের সম্পাদক কে. এম. জিয়াউল হক। আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. গোলাম ফেরদৌস চৌধুরী, বছরব্যাপী ফল উৎপাদন প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক ও ফল বিশেষজ্ঞ ড. মো. মেহেদী মাসুদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, বিএসটিআইয়ের উপপরিচালক (খাদ্য ও কৃষি) এনামুল হক, প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা, হাসেম ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল হাসেম, বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ইকতাদুল হক, ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, কাজু অ্যান্ড কফি অ্যাগ্রোর নির্বাহী পরিচালক মো. মাহাতাব আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি উদ্যোক্তা ইসমাইল খান শামীম ও নওগাঁর কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল রানা।

মোহাম্মদ আরিফুর রহমান ২০২৫ সালে চীনে প্রথম আমের চালান পাঠানোর সময়ও এই প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন। তখন তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন, চীন ওই চালানে সন্তুষ্ট হলে পরের চালান পাঠানো হবে।

ছবি: Mahmudul Karim Farsad / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, নিউ এজ

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারটি তাজা আপেলের একটি যায় বিদেশে, রপ্তানি আয় রেকর্ড

২০২৫/২৬ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৭ কোটি পাউন্ড তাজা আপেল রপ্তানি করেছে, যা মোট তাজা উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশ। রপ্তানি আয় রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে; বড় ক্রেতা মেক্সিকো ও কানাডা।

ers_usda১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

আপেলগাছের গোড়ায় লালচে গুঁড়া? সতর্ক করছে বিরল কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কানাডার ম্যানিটোবার কৃষি বিভাগ ফলচাষিদের রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছে। এই লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকার কীড়া জীবন্ত আপেল ও সাস্কাটুন গাছের ভেতরে তিন বছর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কাটে; কাণ্ডের গোড়ায় লালচে গুঁড়াই সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)