সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৬৪%বাতাস ৪ কিমি/ঘ

কুমিল্লায় পোলট্রি খাবারের দাম না বাড়লেও বেড়েছে ডিমের দাম

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে কয়েক দিন ধরে সারাদেশে হুহু করে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। এর মধ্যে লাফিয়ে বাড়ছে ডিমের দামও। এক সপ্তাহ আগে ফার্মের মুরগির লাল ডিম যেখানে ৩৬-৩৮ টাকা হালি বিক্রি হয়েছে তা এখন ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে কয়েক দিন ধরে সারাদেশে হুহু করে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। এর মধ্যে লাফিয়ে বাড়ছে ডিমের দামও। এক সপ্তাহ আগে ফার্মের মুরগির লাল ডিম যেখানে ৩৬-৩৮ টাকা হালি বিক্রি হয়েছে তা এখন ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এতে করে ভোক্তাদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, মুরগির খাদ্যের দাম না বাড়লেও সিন্ডিকেটের কারণেই ডিমের দাম ঊর্ধ্বমুখী।

মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) কুমিল্লা নগরীর নিউমার্কেট, রাজগঞ্জ, রানীবাজার ও বাদশা মিয়ার বাজার ঘুরে ডিমের দামে উত্তাপ ছড়াতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফার্মের এক ডজন লাল ডিমে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে ১৫০ টাকায়। দেশি মুরগির ডিমের ডজন ২১০ টাকা ও হাঁসের ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। কোয়েল পাখির ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি হালি ১৪ থেকে ১৮ টাকা। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি দরে। কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায়।

বিক্রেতাদের দাবি, একদিকে চাহিদার তুলনায় হঠাৎ করে ডিমের সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে গাড়িভাড়া, মুরগির খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও লোডশেডিংয়ের কারণেই ডিমের দাম বেড়ে গেছে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক মাসে ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগির খাদ্যের দাম বাড়ানো হয়নি। আগের দামেই বিক্রি করা হচ্ছে। বাজারদরে দেখা যায়, কোম্পানিভেদে ব্রয়লার স্টার্টার ৫০ কেজির বস্তা বিকি হচ্ছে ৩ হাজার ১৫০ থেকে ৩ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত। ব্রয়লার গ্রোয়ারও একই দামে বিক্রি হচ্ছে। কক স্টার্টার বিক্রি করা হচ্ছে ২ হাজার ৯০০ থেকে ৩ হাজার ৫০ টাকা পর্যন্ত। লেয়ার ওয়ান ও টু বিক্রি করা হচ্ছে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮৫০ টাকা পর্যন্ত।

নগরীর চকবাজারের জাহানারা স্টোরের খাদ্য বিক্রেতা মনির হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, গত দু-তিন মাসেও খাবারের দাম বাড়েনি। আমরা এখনো আগের দামেই মুরগির খাদ্য বিক্রি করে আসছি। সামনে বাড়বে কি না সেটা কোম্পানিই ভালো বলতে পারবে।

চকবাজার রূপসী ফিশ ফিড লিমিটেডের ডিলার ও আল আমীন স্টোরের মালিক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, এক মাস আগে মুরগির খাদ্য আমরা যে দামে বিক্রি করেছি এখনো সেই দামেই বিক্রি করছি। ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি করছি ২ হাজার ৭০০ টাকায়।

চকবাজারে ডিম কিনতে আসা রুবেল মিয়া নামে এক ক্রেতা জাগো নিউজকে বলেন, খাবারের দাম না বাড়লেও হঠাৎ করে ডিমের দাম বেড়ে গেছে। কী কারণে বাড়ানো হয়েছে বিষয়টি বুঝে আসে না। যারা বাজার মনিটরিং করেন তাদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার প্রতি অনুরোধ রইলো। তা না হলে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষ ডিম কিনেও খেতে পারবে না।

রাজগঞ্জ বাজারে ডিম কিনতে আসা গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আহসানুল কবীর জাগো নিউজকে বলেন, অবৈধ সিন্ডিকেটের কারণেই নিত্যপণ্যসহ বাজারের সব পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। ডিমের বাজারেও তাই হয়েছে। এক হালি ডিম ৫০-৬০ টাকা এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আজ দ্রব্যমূল্যের যে নাভিশ্বাস তার কারণে মানুষের বেঁচে থাকাটাই দায় হয়ে যাচ্ছে। এ সিন্ডিকেট ভাঙতে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

ডিমের মূল্যবৃদ্ধির কারণে জানতে চাইলে কুমিল্লা জেলা ও মহানগর ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবুল মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, খাদ্যের দাম বেশি, বিদ্যুতের লোডশেডিং ও মূল্যবৃদ্ধিসহ খামার চালানোর খরচ বেড়ে গেছে। ফলে অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। খামার বন্ধ হওয়ায় উৎপাদন কমে গেছে কিন্তু বেড়েছে চাহিদা। কুমিল্লায় দৈনিক ডিমের চাহিদা ২ লাখের ওপরে। সেখানে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৭০ হাজার। হঠাৎ করে সরবরাহ কমে যাওয়ায় চাহিদা পূরণ করতে বিভিন্ন জেলা থেকে সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে খরচ বাড়ার করণে ডিমের দামও বেড়েছে।

সিন্ডিকেটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কুমিল্লায় সিন্ডিকেট বলতে কিছু নেই। বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী মানুষ বলাবলি করছে। আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি, অন্য ব্যবসায় সিন্ডিকেট থাকতে পারে, তবে ডিম ব্যবসায় নেই। কারণ ডিম পচনশীল, তাই চাইলেও দীর্ঘদিন রাখা যাবে না। নষ্ট হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে কুমিল্লার মানবাধিকার বিষয়ক পরামর্শক আলী আকবর মাসুম জাগো নিউজকে বলেন, যারা অসাধু ব্যবসায়ী স্বাভাবিক কারণেই সবসময় তারা কারও না কারও আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকেন। তারা মিলেই মূলত সিন্ডিকেট। যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের এই জায়গা থেকে বের করা না যাবে, ততক্ষণ তারা সরকার ও বিভিন্ন দপ্তরের নাম ভাঙিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা লোটার চেষ্টা করবেন। মূলত বাজার নিয়ন্ত্রণে যেভাবে মনিটরিং দরকার, সেভাবে হচ্ছে না। এটি মুখে মুখে হচ্ছে। সঠিকভাবে তদারকি করা হলে আমার মনে হয় অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফা লোটার সুযোগ পাবে না।

কুমিল্লা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ডিমসহ নিত্যপণ্যের বাজার নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। এতে কোনো প্রকার অসংগতি পেলে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাহিদ পাটোয়ারী/এমআরআর/জেআইএম

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

লাইভস্টক

সম্পর্কিত খবর

মতামত

বায়ুদূষণ শুধু ঢাকার নয়: পোলট্রি খামার আর পাটকাঠির চুল্লির ধোঁয়া

লেখক ও গবেষক গওহার নঈম ওয়ারা লিখেছেন, ঝিনাইদহের মাদ্রাসার পাশে মুরগির খামারের দুর্গন্ধ থেকে পাটকাঠি পোড়ানো চারকোল কারখানা পর্যন্ত, ঢাকার বাইরেও বায়ুদূষণ বাড়ছে।

প্রথম আলো১৭ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

দুগ্ধজাত পণ্য তৈরি ও বাজারজাতকরণে সিভাসুতে ২৫ উদ্যোক্তার প্রশিক্ষণ

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে হাটহাজারী, কুমিল্লা ও মীরসরাইয়ের ২৫ দুগ্ধ উদ্যোক্তা পাঁচ দিনের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন।

বার্তা২৪১৭ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই চাষে পাঁচ খামার, পাবনার শিমুলের মাসে আয় ২ লাখ

হাঁসের খামারে লোকসানের পর পাবনার আটঘরিয়ার শিমুল হোসেন ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাইয়ের লার্ভা উৎপাদন শুরু করেন; এখন তাঁর পাঁচটি খামারে কাজ করেন ১৭ জন।

কৃষি সময়১৭ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)