সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৫%বাতাস ৪ কিমি/ঘ

বাংলায় নেমেছে হেমন্তের দিন

শীত-শরতের সেতু বাঁধতে বঙ্গের ভূমিতে নেমেছে হেমন্তের দিন। মাঠে মাঠে হালকা বাতাসে দুলছে সোনার ধান। কার্তিকের সবুজ মধ্যাহ্নে ফসলের মাঠে চোখজুড়ে স্বপ্ন বুনছে কৃষান-কৃষানিরা। স্কুল বাল

শীত-শরতের সেতু বাঁধতে বঙ্গের ভূমিতে নেমেছে হেমন্তের দিন। মাঠে মাঠে হালকা বাতাসে দুলছে সোনার ধান। কার্তিকের সবুজ মধ্যাহ্নে ফসলের মাঠে চোখজুড়ে স্বপ্ন বুনছে কৃষান-কৃষানিরা। স্কুল বালিকারা ধানক্ষেতের আল ডিঙিয়ে হেঁটে যাচ্ছে শিশিরভেজা পায়ে, নদীতে হাঁসের বাথান মেতেছে জলকেলিতে, সারি সারি ডিঙি নৌকা দেহ এলিয়ে চিৎ হয়ে শুয়ে আছে আকাশের তলে। দূরের অরণ্যঘেরা পাহাড়টা ক্রমে ঢেকে দিচ্ছে মৃদু কুয়াশা। জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা এ বাংলায় এমনই বিচিত্র দৃশ্যের আবাহন নিয়ে হাজির হয়েছে চতুর্থ ঋতু হেমন্ত। এরই মধ্য দিয়ে প্রকৃতিও শোনাচ্ছে শীতের পূর্বাভাস।

আজ পহেলা কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, হেমন্তের প্রথম দিন। জীবন ও প্রকৃতিতে এক আশ্চর্য বিভোরতা-রোমান্টিকতা নিয়ে আসে হেমন্ত। বাংলা সাহিত্যে কবি-শিল্পীদের সৃজনে নানা মাত্রিকতা ও আঙ্গিকে ধরা দিয়েছে নবান্নের এ ঋতু। বাংলা কবিতায় হেমন্ত বন্দনা সবিশেষ স্থানজুড়ে বিরাজ করছে। তিমির হননের কবি জীবনানন্দ দাশ তো পরাবাস্তবতাকেই জীবন ও কবিতার সারবস্তু হিসেবে প্রত্যক্ষ করেছেন। শঙ্খচিল, শালিক কিংবা ভোরের কাক হয়ে বাংলার এ সবুজ করুণ ডাঙায় বারবার ফেরার আকুতি প্রকাশ করেছেন।

এ বিভোরতা নিয়ে কবিতায় লিখেছেন- ‘প্রথম ফসল গেছে ঘরে,-/ হেমন্তের মাঠে, মাঠে ঝরে/ শুধু শিশিরের জল; অঘ্রানের নদীটির শ্বাসে/ হিম হয়ে আসে/ বাঁশ, পাতা, মরা ঘাস- আকাশের তারা!/ বরফের মতো চাঁদ ঢালিছে ফোয়ারা !/ ধানক্ষেতে, মাঠে/ জমিছে ধোঁয়াটে/ ধারালো কুয়াশা!/ ঘরে গেছে চাষা ;/ ঝিমায়াছে এ- পৃথিবী ,- তবু পাই টের/ কার যেন দুটো চোখে নাই এ ঘুমের কোনো সাধ!’ [কবিতা- পেঁচা (মাঠের গল্প)]

ধান মাঠের দৃশ্য শিকারি কবি নবান্নের অবিচ্ছিন্ন অনুভবে লিখেছেন- ধান কাটা হয়ে গেছে কবে যেন, ক্ষেত মাঠে পড়ে আছে খড়/ পাতা কুটো ভাঙা ডিম, সাপের খোলস নীড় শীত। এই সব উৎরায়ে ওইখানে মাঠের ভিতর/ ঘুমাতেছে কয়েকটি পরিচিত লোক আজ, কেমন নিবিড়। [কবিতা- ধান কাটা হয়ে গেছে]

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতায়ও হেমন্তগীত দুর্দান্তভাবে উদ্ভাসিত হয়েছে। তার লেখায়- ‘অন্ন জোটে না, কথা জোটে মেলা,/ নিশিদিন ধরে এ কি ছেলেখেলা!/ ভারতীরে ছাড়ি ধরো এইবেলা/ লক্ষ্মীর উপাসনা।’ [কবিতা- পুরস্কার]

ষড়ঋতুর এ দেশে কার্তিক-অগ্রহায়ণ দুই মাস হেমন্তকাল। এখন ধীরে কমছে সূর্যের প্রখরতা, ছোট হয়ে আসছে দিনের আয়ু। কদিন বাদেই এ ভূ-ভাগে জেঁকে বসবে শীত। শীতের পূর্বভাগে মূলত এ ঋতু ঘিরে বাঙালির চিরায়ত যে নবান্নের ছোঁয়া তা দিন দিনই মলিন হয়ে যাচ্ছে। নবান্ন উৎসবের ঐতিহ্যগত যে কদর, সেটিও যেন বিবর্ণ অনেকটাই। তবুও সব মলিনতা তুচ্ছ করে অপরূপ রূপে সেজেছে হেমন্ত।

বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলাম কবিতায় হেমন্তের বন্দনায় লিখেছেন- ‘ঋতুর খাঞ্চা ভরিয়া এল কি ধরণির সওগাত?/ নবীন ধানের আঘ্রাণে আজি অঘ্রাণ হল মাত।/ ‘গিন্নি-পাগল’ চালের ফিরনি/ তশতরি ভরে নবীনা গিন্নি/ হাসিতে হাসিতে দিতেছে স্বামীরে, খুশিতে কাঁপিছে হাত।/ শিরনি বাঁধেন বড়ো বিবি, বাড়ি গন্ধে তেলেসমাত!’ [কবিতা- অঘ্রাণের সওগাত]

হেমন্তের প্রথম মাস কার্তিক ও দ্বিতীয় মাস অগ্রহায়ণেরও রয়েছে ভিন্ন রূপ। হেমন্ত একদিকে যেমন শরতের বিদায় টঙ্কা বাজায়, অন্যদিকে শীতের আগমনী বার্তা শোনায়। এখন কৃষকের গোলার ধান প্রায় শেষ দিকে। এ কারণে অনেকে এ মাসকে ‘মরা কার্তিক’ বলেও অভিহিত করে। তবে অগ্রহায়ণে ধান কাটা শেষে কার্তিকের শূন্য গোলা ভরে উঠে সোনার ধানে। গ্রামীণ জীবনে তখন কেবলই ছড়ায় পাকা ধানের মিষ্টি ঘ্রাণ। রাতে প্রতিবেশী বধূদের ঢেঁকিতে ধান ভানার শব্দ ভেসে আসে দূর থেকে।

দেশের কিছু অঞ্চলে এরই মধ্যে ধান কাটা শুরু হয়েছে। এটা আগাম আমন ধান কাটার মৌসুম। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে মহাধুমধামে চলছে ফসল কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। কার্তিকের মাঝামাঝি সারাদেশেই ফসলের মাঠে ব্যস্ততা বাড়বে। ধুম পড়বে সোনার ধান ঘরে তোলার। এরপরই নতুন চালে শুরু হবে নবান্ন। পিঠা-পুলির উৎসব।

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

২০২৫ সালে বিশ্বে বন উজাড় কমেছে ১৫ শতাংশ, তবু ২০৩০ সালের লক্ষ্য নাগালের বাইরে

ফরেস্ট ডিক্লারেশন অ্যাসেসমেন্ট ২০২৬ বলছে, ২০২৫ সালে বিশ্বে ৭০ লাখ হেক্টর বন হারিয়েছে, যা ২০১৮-২০ সালের পর সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতন। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে বন উজাড় বন্ধের পথ থেকে বিশ্ব ১ কোটি ৭ লাখ হেক্টর পিছিয়ে।

ডাউন টু আর্থ১৭ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফসল

খাবার পানি বাঁচাতে কৃষকদের এক মৌসুম ধান না লাগানোর অনুরোধ তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীর

বৃষ্টির ঘাটতি প্রায় ২৮ শতাংশ, জলাধারে স্বাভাবিক ৪৬২ টিএমসির জায়গায় পানি মাত্র ২০০ টিএমসি ফুট। মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি বলছেন, আগামী বর্ষা পর্যন্ত খাবার পানি নিশ্চিত করতে কৃষিকে এক মৌসুম ছাড় দিতে হবে।

ডাউন টু আর্থ১৭ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সমুদ্র ঠান্ডা হলেও ১৫০ বছর গলতে থাকবে অ্যান্টার্কটিকার ‘ডুমসডে’ হিমবাহ

ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভের মডেলিং গবেষণা বলছে, সমুদ্রের তাপে গলন পুরো বন্ধ করে দিলেও পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার থোয়াইটস হিমবাহ বরফ হারাতে থাকবে। এটি পুরোপুরি ধসে পড়লে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে প্রায় ৬৫ সেন্টিমিটার।

ইউরোনিউজ১৭ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)