ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি খাবার পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে কৃষকদের এক মৌসুমের ধান চাষ বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। বিজ্ঞানীরা যাকে ‘সুপার এল নিনো’ বলছেন, তার প্রভাবে রাজ্যে খরা তীব্র হচ্ছে। ১৫ অক্টোবর তিনি বলেন, কৃষকেরা সব সময় মানুষের ডাকে সাড়া দিয়েছেন, এবার খাবার পানির জন্য তাঁদের সাহায্য দরকার। খবরটি দিয়েছে ডাউন টু আর্থ।
অক্টোবরের মাঝামাঝি রাজ্যে বৃষ্টির ঘাটতি প্রায় ২৮ শতাংশ। সরকারের মূল্যায়নে আগামী আট থেকে দশ মাস খাবার পানির সরবরাহ হুমকিতে। জলাধারগুলোতে পানি আছে মাত্র ২০০ টিএমসি (হাজার মিলিয়ন ঘনফুট), যেখানে বছরের এই সময়ে স্বাভাবিক থাকে ৪৬২ টিএমসি। আগামী বর্ষা পর্যন্ত এই পানি দিয়ে চালাতে হলে সবচেয়ে বড় ব্যবহারকারী কৃষিকেই ছাড় দিতে হবে, এটিই মুখ্যমন্ত্রীর পরিকল্পনা।
আনুমানিক ১৩ লাখ হেক্টর জমিতে কৃষকেরা এবার ধান লাগাননি। তবে ৫৩ লাখ হেক্টরে ধান দাঁড়িয়ে আছে, পানির অভাবে সেই ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) বলছে, চলমান এল নিনো ১৯৫০ সালে পর্যবেক্ষণ শুরুর পর সবচেয়ে শক্তিশালী হতে পারে, এর চূড়া আসবে ডিসেম্বরের দিকে। বার্কলে আর্থের বিজ্ঞানী জিক হাউসফাদার জানান, প্রশান্ত মহাসাগরের নিনো ৩.৪ অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি, যা আগের কোনো এল নিনোতে দেখা যায়নি। ভারতের রাজ্যগুলো ঝুঁকিপূর্ণ জেলা চিহ্নিত করেছে, কয়েকটি রাজ্য খরা ঘোষণা করে ত্রাণ শুরু করেছে।
ডাউন টু আর্থের রিচার্ড মহাপাত্র লিখেছেন, উষ্ণ হয়ে ওঠা পৃথিবীতে ১৯৮২-৮৩, ১৯৯৭-৯৮ ও ২০১৫-১৬ সালের সুপার এল নিনোর অভিজ্ঞতা দিয়ে এবারের প্রস্তুতি নেওয়া যাবে না। তবে অর্থনৈতিক ক্ষতি যে বড় হবে তা নিশ্চিত: ১৯৯৭-৯৮ সালের এল নিনোতে বৈশ্বিক জিডিপি কমেছিল ৫ লাখ ৭০ হাজার কোটি ডলার।
ছবি: Adityamadhav83 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ




মন্তব্য
(০)