সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

রাসায়নিকে পাকানোর অভিযোগে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ৩ হাজার ৩৬০ কেজি আম বিনষ্ট

২০২৬ সালের ২৩ এপ্রিল সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ঢাকাগামী একটি পিকআপ থেকে ৩ হাজার ৩৬০ কেজি আম জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে পিষে বিনষ্ট করা হয়। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আমগুলো অপরিপক্ব ও ইথিলিন দিয়ে পাকানো; তবে পরীক্ষাগারে যাচাইয়ের কথা জানানো হয়নি।

রাসায়নিকে পাকানোর অভিযোগে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ৩ হাজার ৩৬০ কেজি আম বিনষ্ট
ফল

সাতক্ষীরায় ঢাকাগামী একটি পিকআপ থেকে ৩ হাজার ৩৬০ কেজি আম জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে বিনষ্ট করেছে যৌথ বাহিনী। ২০২৬ সালের ২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের শুইলপুর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে যুক্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আমগুলো অপরিপক্ব ছিল এবং রাসায়নিক দিয়ে পাকিয়ে রাজধানীতে পাঠানো হচ্ছিল। জাগো নিউজ ২৪ পরদিন সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে খবরটি প্রকাশ করে। আমগুলো ছিল ১৬৮টি ক্যারেটে।

শুইলপুরে যেভাবে আম জব্দ হয়


কালিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন জানায়, ইথিলিন নামের হরমোন ব্যবহার করে অপরিপক্ব আম পাকিয়ে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ঢাকাগামী একটি পিকআপ তল্লাশি করে তাতে থাকা ১৬৮ ক্যারেট আম জব্দ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে জব্দ করা আম শুইলপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ক্যাম্পের পাশের বেড়িবাঁধ সড়কে রোলার দিয়ে পিষে নষ্ট করা হয়।

কালিগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাইনুল ইসলাম খান জানান, ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশ্রিত আম পরিবহনের দায়ে পিকআপের চালককে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজে জড়িত না হওয়ার শর্তে মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। জব্দ করা আমে ঠিক কোন রাসায়নিক ছিল, তার মাত্রা কত এবং আমগুলো পরীক্ষাগারে যাচাই করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে কিছু জানাননি। জাগো নিউজ লিখেছে, এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আমের মালিক বা যে ব্যবসায়ী আমগুলো পাঠাচ্ছিলেন, প্রতিবেদনে তাঁদের নাম আসেনি, তাঁদের কোনো বক্তব্যও ছিল না। কোন আইনে চালককে জরিমানা করা হয়েছে, সেটিও বলা হয়নি।

ফলে আমগুলো সম্পর্কে অভিযোগটি কর্মকর্তাদের ভাষ্যের ওপরই দাঁড়িয়ে ছিল। প্রশাসনের বর্ণনা অনুযায়ী গোপন সংবাদটি ছিল ইথিলিন নিয়ে, যে গ্যাসকে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) আম পাকার সূচনাকারী হিসেবে বর্ণনা করে; অন্যদিকে জরিমানার ব্যাখ্যায় সহকারী কমিশনার সাধারণভাবে ক্ষতিকর রাসায়নিকের কথা বলেন।

গ্রামের পথে সাইকেলে দুটি ঝুড়িতে কাঁচা আম নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, ২০২৪ সালের জুনে তোলা ছবি; এটি প্রসঙ্গচিত্র, জব্দ করা চালানের ছবি নয়। ছবি: Mahinur11 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
গ্রামের পথে সাইকেলে দুটি ঝুড়িতে কাঁচা আম নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, ২০২৪ সালের জুনে তোলা ছবি; এটি প্রসঙ্গচিত্র, জব্দ করা চালানের ছবি নয়। ছবি: Mahinur11 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

পশ্চিম সীমান্তের কালিগঞ্জ ও ভাড়াশিমলা


জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা জেলার আয়তন ৩ হাজার ৮১৭ দশমিক ২৯ বর্গকিলোমিটার, অবস্থান বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে। জেলার উত্তরে যশোর জেলা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে খুলনা জেলা এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য। জেলার প্রধান নদীর মধ্যে আছে যমুনা, কালিন্দী, কপোতাক্ষ, বেতনা, ইছামতী ও রায়মঙ্গল।

১৮৬১ সালে যশোর জেলার অধীনে সাতক্ষীরা মহকুমা গঠিত হয়, ১৮৮২ সালে এটি খুলনা জেলার অন্তর্ভুক্ত হয় এবং ১৯৮৪ সালে পূর্ণ জেলায় রূপ নেয়। জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে শ্যামনগর আয়তনে সবচেয়ে বড়। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে জেলার জনসংখ্যা ছিল ১৯ লাখ ৮৫ হাজার ৯৫৯। বাংলাপিডিয়া জানায়, জেলার ৬২ দশমিক ৫৬ শতাংশ মানুষের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি।

কালিগঞ্জ উপজেলার আয়তন ৩৩৩ দশমিক ৭৮ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তরে দেবহাটা ও আশাশুনি উপজেলা, দক্ষিণে শ্যামনগর, পূর্বে আশাশুনি এবং পশ্চিমে পশ্চিমবঙ্গ। কালিগঞ্জ থানা গঠিত হয় ১৯৪২ সালে, উপজেলা হয় ১৯৮৩ সালে। উপজেলার নদীর মধ্যে আছে যমুনা, কাকশিয়ালী, গলঘেসিয়া, কালিন্দী ও গুতিয়াখালী; বিলগালি, বাঁশতলা ও বাগেরখালী খাল উপজেলার ভেতর দিয়ে গেছে।

উপজেলায় ইউনিয়ন ১২টি। যে ভাড়াশিমলা ইউনিয়নে পিকআপটি থামানো হয়, বাংলাপিডিয়ায় দেওয়া আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী তার আয়তন ৫ হাজার ৭৭৭ একর। বাংলাপিডিয়া কালিগঞ্জের প্রধান ফলের তালিকায় সবার আগে আমের নাম রেখেছে, এরপর কাঁঠাল, লিচু, তরমুজ, ফুটি, কলা ও পেঁপে। প্রধান ফসলের মধ্যে আছে ধান, আলু, বেগুন, পান ও মিষ্টি আলু; প্রধান রপ্তানিপণ্য পান ও চিংড়ি। উপজেলার ৫৬ দশমিক ৮১ শতাংশ মানুষের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি, ১৯ দশমিক ৮৮ শতাংশের ব্যবসা।

সংখ্যায় সাতক্ষীরার আগাম আম


সাতক্ষীরার আম অন্য জেলার আগে বাজারে আসে বলে পরিচিত। জব্দের দুই মাস আগে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সাতক্ষীরা ঢাকা টাইমসকে জানায়, ২০২৫-২৬ মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার ১৩৭ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। জাতভিত্তিক হিসাবে হিমসাগর ৮৯৯ হেক্টরে, আম্রপালি ৫৬৪ হেক্টরে, গোবিন্দভোগ ৩৮২ হেক্টরে, গোপালভোগ ২১৯ হেক্টরে, লতা ১৪৩ হেক্টরে, মল্লিকা ৮০ হেক্টরে এবং বোম্বাই ৫০ হেক্টরে চাষ হয়েছে; অন্যান্য স্থানীয় জাত ছিল ২৪৩ হেক্টরে।

উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সাতক্ষীরা সদরে ১ হাজার ২৫০ হেক্টর এবং কালিগঞ্জে ৮৩৯ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ ছিল; তালায় ৭১৫, কলারোয়ায় ৬৫৮, দেবহাটায় ৩৭০, শ্যামনগরে ১৬০ এবং আশাশুনিতে ১৪৫ হেক্টর। ডিএইর একই তথ্যে বলা হয়, আগের মৌসুমে জেলায় ৭০ হাজার ৮৮০ টন আম উৎপাদিত হয়েছিল এবং ২০২৬ সালের জন্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭০ হাজার ৯০০ টন। জেলায় আমবাগান ছিল ৫ হাজার ২৯৯টি, আমচাষি ৫০ হাজার ৭৪৫ জন, যাঁদের মধ্যে নিবন্ধিত চাষি ৩৫১ জন।

ডিএই সাতক্ষীরার উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম তখন বলেন, সাতক্ষীরার মাটি ও আবহাওয়া আম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী এবং নিরাপদ ও মানসম্মত আম উৎপাদনে চাষিদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দেওয়া হিসাবে জেলা থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৮০ টন, ২০২৩-২৪ সালে ৬০ টন এবং ২০২৪-২৫ মৌসুমে ৭২ টন আম বিদেশে রপ্তানি হয়; ২০২৬ মৌসুমে অন্তত ১০০ টন রপ্তানির লক্ষ্যে কাজ করছিল কৃষি বিভাগ।

এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল একই কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সাতক্ষীরায় ৪ হাজার ১৩৫ হেক্টর জমিতে প্রায় ৫ হাজার আমবাগান রয়েছে এবং সে বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৬২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন। তিনি বলেন, প্রতিটি জাতের আম পরিপক্ব হওয়ার নির্দিষ্ট সময় আছে; আগেভাগে পাড়লে আমের স্বাদ ও গুণমান কমে যায়, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ ক্ষুণ্ণ হয়। তাঁর ভাষ্য, ২০১৫ সাল থেকে সাতক্ষীরার আম নিয়মিত ইউরোপে রপ্তানি হচ্ছে। তখনকার জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ বলেন, আবহাওয়া ও মাটির গুণের কারণে এখানকার আম দেশের অন্য এলাকার আগে পরিপক্ব হয় এবং আগে বাজারে ওঠায় বেশি দামে বিক্রি হয়।

আম সংগ্রহের সময়সূচি ও তার তদারকি


অপরিপক্ব আম বাজারে আসা ঠেকাতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রতি মৌসুমে আম সংগ্রহের সময়সূচি বা ক্যালেন্ডার প্রকাশ করে, যাতে কোন জাতের আম কবে থেকে পাড়া ও বিক্রি করা যাবে তা ঠিক করা থাকে। ২০২৪ সালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে নিরাপদ আম বাজারজাতকরণ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এই সময়সূচি ঘোষণা করা হয়। দেশ রূপান্তর ২০২৪ সালের ৭ মে জানায়, সে বছর ৯ মে থেকে বোম্বাই ও গোলাপখাস, ১১ মে থেকে গোবিন্দভোগ, ২২ মে থেকে হিমসাগর, ২৯ মে থেকে ল্যাংড়া এবং ১০ জুন থেকে আম্রপালি সংগ্রহ ও বাজারজাত করা যাবে। ক্রেতাদেরও এই সময়সূচি মেনে সতর্কভাবে সাতক্ষীরার আম কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়।

২০২৫ সালের সময়সূচি ঘোষণা করা হয় সে বছরের ৩০ এপ্রিল, বুধবার, ‘নিরাপদ আম বাজারজাতকরণ’ শীর্ষক সভায়। এতে ৫ মে থেকে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, বোম্বাই, গোলাপখাস ও দেশীয় বৈশাখী আমসহ স্থানীয় জাত, ২০ মে থেকে হিমসাগর, ২৭ মে থেকে ল্যাংড়া এবং ৫ জুন থেকে আম্রপালি সংগ্রহ ও বাজারজাতের সময় ঠিক করা হয়। জেলা প্রশাসক বলেন, সময়সূচির আগে অপরিপক্ব আম সংগ্রহ, সংরক্ষণ বা বাজারজাতকরণে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও কৃষি বিভাগের সহায়তায় কঠোর নজরদারি থাকবে। সভায় জানানো হয়, মৌসুমজুড়ে মাঠপর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত, চেকপোস্ট ও বিশেষ মনিটরিং টিম কাজ করবে এবং চাষি ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে প্রচার চালানো হবে।

তবে ২০২৫ সালের সময়সূচি শেষ পর্যন্ত বদলাতে হয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস ২০২৫ সালের ১৫ মে জানায়, তীব্র গরমে হিমসাগর আম আগেভাগে পাকতে শুরু করে এবং গাছ থেকে ঝরে পড়তে থাকে; ক্ষতির আশঙ্কায় চাষিরা সময়সূচি উপেক্ষা করে আম পাড়তে শুরু করেন। ১৪ মে সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে জরুরি সভার পর প্রশাসন ২০ মের বদলে ১৫ মে থেকেই হিমসাগর সংগ্রহের অনুমতি দেয়। প্রথম দিন সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড়বাজারে প্রতি মণ হিমসাগর বিক্রি হয় ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায়। চাষিদের দাবি, কয়েক দিন আগে পাড়া গেলে একই আম ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করা যেত; তাঁরা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের সময়সূচি বাগানের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মেলেনি।

কালিগঞ্জে আম জব্দের ঘটনাটি ঘটে ২৩ এপ্রিল, আগের দুই বছরের সময়সূচির প্রথম তারিখেরও আগে: ২০২৪ সালে প্রথম তারিখ ছিল ৯ মে, ২০২৫ সালে ৫ মে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার রহনপুর বাজারে একটি আমের আড়ত, ২০১৫ সালের জুনে তোলা। ছবি: Ferdous / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার রহনপুর বাজারে একটি আমের আড়ত, ২০১৫ সালের জুনে তোলা। ছবি: Ferdous / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

আম যেভাবে পাকে, আর যেভাবে পাকানো হয় তাড়াতাড়ি


জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রকাশিত আমের সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সংকলনে বলা হয়েছে, আম সাধারণত শারীরবৃত্তীয়ভাবে পরিপক্ব অবস্থায় সংগ্রহ করা হয় এবং ভালো মানের জন্য পরে পাকানো হয়। সংকলনটি জানায়, ফুল আসার চার থেকে পাঁচ মাস পর আম সাধারণত পরিপক্ব হয়। ফলের কাঁধ চওড়া হয়ে ভরাট হলে এবং গাছের কিছু আমের রং সবুজ থেকে হলুদ হতে শুরু করলে ফসলকে পরিপক্ব ধরা হয়; রং বদলানোর আগে আঁটির কাছের শাঁস সাদা থেকে হলুদ হলে আমকে পরিপক্ব ধরা হয়। বোঁটা থেকে ছাড়াতে জোরে টানতে হলে বুঝতে হবে আম তখনো কিছুটা অপরিপক্ব, সেটি পাড়া উচিত নয়।

একই সংকলনে বলা হয়েছে, আগাম বাজার ধরতে মৌসুমের শুরুতে অপরিপক্ব অবস্থায় ফল পাড়া একটি প্রচলিত চর্চা, আর এমন ফল পাকানোর কোনো সহায়ক ছাড়া সমানভাবে পাকে না। আমের চারপাশের বাতাসে থাকা ইথিলিন আম পাকা শুরু করায়, এরপর তাপমাত্রা পাকার গতি ঠিক করে। প্যাকিং হাউসে আম পাকাতে হলে এফএও ১৮ থেকে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ও ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ আপেক্ষিক আর্দ্রতায় ইথিলিন দিয়ে নিয়ন্ত্রিত পাকানোর পদ্ধতির কথা বলে। সংকলন অনুযায়ী, পরিপক্বতার মাত্রাভেদে ইথিলিন প্রয়োগে সবুজ আম সাত থেকে দশ দিনে পূর্ণ রং পায়, প্রয়োগ ছাড়া লাগে দশ থেকে পনেরো দিন।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের গবেষকদের খাদ্যে ভেজাল বিষয়ক একটি পর্যালোচনা ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে পিয়ার-রিভিউড সাময়িকী ‘ফুডস’-এ প্রকাশিত হয়। এতে কর্মকর্তাদের অভিযোগ করা চর্চাটির বর্ণনা আছে। পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, নষ্ট হওয়ার ক্ষতি এড়াতে, কিংবা মৌসুমের আগে বিক্রি করে বাড়তি লাভের আশায় বিক্রেতারা যথাযথ পরিপক্বতার অনেক আগেই ফল পেড়ে খুচরা বিক্রির ঠিক আগে রাসায়নিক দিয়ে পাকান। ফল ও সবজি কৃত্রিমভাবে পাকাতে ব্যবহৃত উপাদানের মধ্যে পর্যালোচনায় ইথিলিন, ইথানল, মিথানল, প্রোপিলিন, মিথাইল জ্যাসমোনেট, ইথিলিন গ্লাইকল, ইথোফেন ও ক্যালসিয়াম কার্বাইডের নাম আছে।

পর্যালোচনাটি ব্যাখ্যা করে, পিএইচ ৫-এর ওপরে ইথোফেন ভেঙে ইথিলিন গ্যাস, বাইফসফেট আয়ন ও ক্লোরাইড আয়নে পরিণত হয় এবং এটি আমের খোসার রং উন্নত করে; ক্যালসিয়াম কার্বাইডে পাকানো ফলের চেয়ে ইথোফেনে পাকানো ফল বেশিদিন ভালো থাকে। অন্যদিকে অন্য রাসায়নিকের চেয়ে সস্তা এবং দ্রুত পাকায় বলে ক্যালসিয়াম কার্বাইডের ব্যবহার ব্যাপক। আর্দ্রতার সংস্পর্শে কার্বাইড থেকে অ্যাসিটিলিন গ্যাস তৈরি হয়, যা পাকা শুরু করায়। শিল্পে ব্যবহৃত মানের কার্বাইডে কখনো কখনো ক্যালসিয়াম ফসফাইড, আর্সেনিক সালফাইড ও ফসফিনের মতো অপদ্রব্য থাকে।

এই অপদ্রব্যের মধ্যে আর্সেনিকই উদ্বেগের বড় কারণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, অজৈব আর্সেনিক অত্যন্ত বিষাক্ত; পানি ও খাবারের মাধ্যমে দীর্ঘদিন আর্সেনিক শরীরে গেলে ক্যানসার ও ত্বকের ক্ষত হতে পারে, এবং এর সঙ্গে হৃদ্‌রোগ ও ডায়াবেটিসের সম্পর্কও পাওয়া গেছে।

ক্যালসিয়াম কার্বাইডের দলা; আর্দ্রতার সংস্পর্শে এই রাসায়নিক থেকে অ্যাসিটিলিন গ্যাস তৈরি হয়। ছবি: Rasbak / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
ক্যালসিয়াম কার্বাইডের দলা; আর্দ্রতার সংস্পর্শে এই রাসায়নিক থেকে অ্যাসিটিলিন গ্যাস তৈরি হয়। ছবি: Rasbak / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

ফল ধ্বংস নিয়ে পুরোনো বিতর্ক


জব্দ করা আম ধ্বংস করা নিয়ে বাংলাদেশে বিতর্ক বহু বছরের। দ্য ডেইলি স্টার জানায়, ২০১৮ সালের ২২ মে ঢাকায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) আয়োজিত এক কর্মশালায় বক্তারা সেসব অভিযানের সমালোচনা করেন, যেখানে ইথোফেন ও কার্বাইডের উপস্থিতি পাওয়ার কথা বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আম নষ্ট করেছিল। বক্তারা বলেন, ইথোফেন বহু দেশে ফল পাকাতে ব্যবহৃত হয় এবং সেখানে নিষিদ্ধ নয়; সঠিক সময়ের আগে এটি দিয়ে পাকানো ফলের পুষ্টিমান স্বাভাবিকের চেয়ে কম হতে পারে, তবে তা খাওয়ার উপযোগী ও ক্ষতিহীন। তাঁরা আরও বলেন, কার্বাইড দিয়ে পাকানো আম খেলে সরাসরি ক্ষতি হতে পারে, তাই নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী তা নিষিদ্ধ।

কর্মশালায় বিএফএসএর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক বলেন, অভিযানে নির্ধারিত সময়ের আগে পাকানো ফল পাওয়া গেলে বিক্রেতাদের শাস্তি হওয়া উচিত, কিন্তু ক্ষতিকর নয় এমন ফল ধ্বংস করা দুর্ভাগ্যজনক। বিএফএসএর সদস্য অধ্যাপক ইকবাল রউফ মামুন বলেন, বিভিন্ন দেশে বদ্ধ কক্ষে ইথিলিন গ্যাস দিয়ে ফল পাকানো হয়, কিন্তু বাংলাদেশে গ্যাস আকারে তা ব্যবহৃত হয় না। এফএওর খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা শাহ মনির বলেন, অভিযানের আগে বিএফএসএ, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), স্বাস্থ্য বিভাগ, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে সমন্বয় দরকার, এবং ফলে রাসায়নিকের পরিমাণ কতটা আর কতটা অনুমোদনযোগ্য তা যাচাইয়ের একটি ভিত্তি ঠিক করা জরুরি। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, অভিযানকারীরা ফলে মাছি বসে কি না দেখার মতো পুরোনো পদ্ধতি ব্যবহার করেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার মো. শহীদ বলেন, রাসায়নিকের সঠিক পরিমাণ বা কোনগুলো গ্রহণযোগ্য তা নির্ধারণের স্বীকৃত কোনো পদ্ধতি না থাকায় শেষ পর্যন্ত ফল ধ্বংস হচ্ছে।

এই বিতর্ক আগেও সাতক্ষীরায় পৌঁছেছে। আগের এক আমের মৌসুমের প্রতিবেদনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানায়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অতীশ সরকারের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৩১ ক্রেট আম জব্দ করে, এর মধ্যে ৭২০ কেজি পৌরসভার পিটিআই মাঠে নিয়ে নষ্ট করে এবং একজন আম ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে। কেন নষ্ট করা হলো, এ প্রশ্নে ওই কর্মকর্তা বলেন, আমগুলো কেমিক্যাল দিয়ে পাকিয়ে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছিল এবং সেগুলো শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

একই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ফল বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শরফ উদ্দিন বলেন, রাইপেনিং হরমোন দিয়ে কৃত্রিমভাবে আম পাকানো হয় এবং এই হরমোন বাংলাদেশে অনুমোদিত নয়। তাঁর ভাষ্য, এটি দিয়ে পাকানো অপরিপক্ব আমে পূর্ণ পুষ্টিমান থাকবে না, কাঙ্ক্ষিত স্বাদও পাওয়া যাবে না; তবে এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই, বিদেশে এমন ফল খাওয়া হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন প্রথমে বলেন, এভাবে কেমিক্যাল ব্যবহার শরীরের জন্য উপকারী হওয়ার কথা নয়; পরে বলেন, অপরিপক্ব আম কেমিক্যাল দিয়ে পাকালে তা ঝুঁকিপূর্ণ কি না তাঁর জানা নেই। তাঁর মতে নিষিদ্ধ হলো জেলা প্রশাসকের ক্যালেন্ডারের তারিখের আগে আম পাড়া, আর সময় মেনে পাড়লে কেমিক্যালের প্রয়োজন পড়ে না।

ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সালের ৭ জুলাই খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ইসমাইল হোসেন ঢাকার এক সেমিনারে বলেছিলেন, ফরমালিন আছে ভেবে একসময় ট্রাকে ট্রাকে মাছ, শাকসবজি ও ফলমূল ধ্বংস করা হয়েছে, অথচ এখন শোনা যাচ্ছে যে যন্ত্র দিয়ে ফরমালিন পরীক্ষা করা হতো, তাতেই ত্রুটি ছিল।

আইনে যা বলা আছে


নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৪৩ নং আইন, ১০ অক্টোবর ২০১৩) অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি নিজে বা তাঁর পক্ষে নিয়োজিত অন্য কেউ, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বা বিষক্রিয়া সৃষ্টিকারী রাসায়নিক দ্রব্য বা তার উপাদান (যেমন ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ফরমালিন, সোডিয়াম সাইক্লামেট), কীটনাশক বা বালাইনাশক, খাদ্যের রঞ্জক বা সুগন্ধি কিংবা অন্য কোনো বিষাক্ত সংযোজন দ্রব্য বা প্রক্রিয়া সহায়ক কোনো খাদ্যে ব্যবহার করতে পারবেন না। এমন দ্রব্য মিশ্রিত খাদ্য মজুত, বিপণন বা বিক্রিও নিষিদ্ধ (ধারা ২৩)। এই ধারার উদাহরণের তালিকায় ইথিলিন বা ইথোফেনের নাম নেই।

আইনের তফসিল অনুযায়ী ধারা ২৩ প্রথমবার লঙ্ঘনের দণ্ড অনধিক পাঁচ বছর কিন্তু অন্যূন চার বছর কারাদণ্ড, বা অনধিক ১০ লাখ টাকা কিন্তু অন্যূন ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ড; একই অপরাধ পুনরায় করলে পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ড। আইনে বলা আছে, এর অধীন অপরাধ যে ক্ষেত্রে যতটুকু প্রযোজ্য, মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ অনুসারে বিচার্য হবে (ধারা ৭৫)। পরিদর্শক কোনো খাদ্য মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বা ভেজাল বলে বিশ্বাসের কারণ থাকলে তা জব্দ করতে পারেন, এবং জব্দ করা নমুনা যথাশীঘ্র সম্ভব পৃথক করে নির্ধারিত পদ্ধতিতে বণ্টন ও হস্তান্তর করতে হয় (ধারা ৫৫)। এই আইনেই বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয় (ধারা ৫)।

মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৯ নং আইন) অনুযায়ী এমন আদালত যেভাবে কাজ করে:

  • আইনের অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তফসিলভুক্ত কোনো অপরাধ তাঁর সামনে সংঘটিত বা উদ্ঘাটিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলেই আমলে নিয়ে অভিযুক্তের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত করে দণ্ড দিতে পারেন (ধারা ৬)।
  • ম্যাজিস্ট্রেট সংক্ষিপ্ত অভিযোগ লিখিতভাবে গঠন করে অভিযুক্তকে পড়ে ও ব্যাখ্যা করে শোনান এবং তিনি তা স্বীকার করেন কি না জানতে চান; স্বীকারোক্তি লিপিবদ্ধ করে তাতে অভিযুক্ত ও দুজন উপস্থিত সাক্ষীর স্বাক্ষর বা টিপসই নিতে হয় (ধারা ৭)।
  • অভিযুক্ত অভিযোগ অস্বীকার করলে এবং তাঁর ব্যাখ্যা সন্তোষজনক হলে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়; সন্তোষজনক না হলে অভিযোগটি বিচারের জন্য উপযুক্ত এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে পাঠানো হয় (ধারা ৭)।
  • সংশ্লিষ্ট আইনে যে দণ্ডই থাকুক, মোবাইল কোর্ট দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড দিতে পারে না, তবে সংশ্লিষ্ট আইনে নির্ধারিত সীমার মধ্যে যেকোনো পরিমাণ অর্থদণ্ড দিতে পারে (ধারা ৮)।
  • ঘটনাস্থলে কেবল অর্থদণ্ড দেওয়া হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে আদায়যোগ্য; আদায় না হলে অনাদায়ে আরোপিত কারাদণ্ড তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়, তবে অর্থদণ্ড আদায়ে ব্যর্থতার জন্য বিনাশ্রম কারাদণ্ড তিন মাসের বেশি হবে না (ধারা ৯)।

ছবি: WhiteHade / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, ঢাকা টাইমস, দৈনিক ইত্তেফাক, দেশ রূপান্তর, বাসস, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, দ্য ডেইলি স্টার, বাংলাপিডিয়া, এফএও (ম্যাঙ্গো: পোস্ট-হারভেস্ট অপারেশনস), ফুডস (২০২৩), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বাংলাদেশ আইন (লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারটি তাজা আপেলের একটি যায় বিদেশে, রপ্তানি আয় রেকর্ড

২০২৫/২৬ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৭ কোটি পাউন্ড তাজা আপেল রপ্তানি করেছে, যা মোট তাজা উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশ। রপ্তানি আয় রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে; বড় ক্রেতা মেক্সিকো ও কানাডা।

ers_usda১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

আপেলগাছের গোড়ায় লালচে গুঁড়া? সতর্ক করছে বিরল কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কানাডার ম্যানিটোবার কৃষি বিভাগ ফলচাষিদের রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছে। এই লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকার কীড়া জীবন্ত আপেল ও সাস্কাটুন গাছের ভেতরে তিন বছর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কাটে; কাণ্ডের গোড়ায় লালচে গুঁড়াই সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)