সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

জামের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা: ডায়াবেটিসসহ নানা দাবি নিয়ে গবেষণা কী বলে

২০২৬ সালের জুনে বাজারে ওঠা মৌসুমি ফল জাম কম ক্যালরির রসালো ফল, যাতে ভিটামিন সি, পটাশিয়াম ও আঁশ আছে। তবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণসহ অনেক দাবির পক্ষে মানুষের ওপর গবেষণার প্রমাণ মিশ্র বা অনুপস্থিত; জাম কোনো ওষুধের বিকল্প নয়।

জামের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা: ডায়াবেটিসসহ নানা দাবি নিয়ে গবেষণা কী বলে
স্বাস্থ্য

২০২৬ সালের জুনের শুরুতে দেশের বাজারে মৌসুমি ফল জাম উঠতে শুরু করে। গাঢ় বেগুনি থেকে প্রায় কালো রঙের এই রসালো ফল নিয়ে জাগো নিউজ ২৪ ওই বছরের ৮ জুন একটি স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন (এনসিবিআই) ও ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের তথ্যের বরাতে বলা হয়, জামে ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খাদ্যআঁশ আছে এবং পরিমিত পরিমাণে নিয়মিত খেলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, হজম, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

এই প্রতিবেদনে সেই দাবিগুলো স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ, সরকারি খাদ্য-উপাদান তালিকা ও গবেষণাপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। কোন দাবির পক্ষে মানুষের ওপর পরীক্ষার প্রমাণ আছে, কোনটি কেবল প্রাণী বা গবেষণাগারের পরীক্ষায় দেখা গেছে, আর কোনটি শুধু ঐতিহ্যগত বিশ্বাস, তা আলাদা করে বলা হয়েছে। পাশাপাশি জাম গাছটি কী, বাংলাদেশে কোথায় কেমন জাম বেচাকেনা হয় এবং কারা জাম খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন, সেসব তথ্যও যুক্ত করা হয়েছে। এখানে দেওয়া সব তথ্য ২০২৬ সালের ৮ জুন বা তার আগে প্রকাশিত উৎস থেকে নেওয়া।

জাম কী: গাছ, ফুল ও ফলের পরিচয়


জামের বৈজ্ঞানিক নাম সিজিজিয়াম কুমিনি (Syzygium cumini); এটি মির্টেসি (Myrtaceae) পরিবারের চিরসবুজ গাছ, যে পরিবারে লবঙ্গ ও পেয়ারাও আছে। ইংরেজিতে ফলটি ব্ল্যাক প্লাম, জাভা প্লাম, জামুন, জাম্বোলান বা ইন্ডিয়ান ব্ল্যাকবেরি নামে পরিচিত। এশিয়ান প্যাসিফিক জার্নাল অব ট্রপিক্যাল বায়োমেডিসিনে ২০১২ সালে প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় এম আয়্যানার ও পি সুবাশ-বাবু লেখেন, গাছটি ভারতীয় উপমহাদেশে জন্মায় এবং ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়ায় এর বিস্তার আছে।

উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, জাম গাছ ৩০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে এবং ১০০ বছরের বেশি বাঁচতে পারে। মার্চ-এপ্রিলে ফুল আসে, মে বা জুনের মধ্যে ফল ধরে। পাকার সময় ফলের রং সবুজ থেকে গোলাপি, তারপর গাঢ় লাল এবং শেষে কালো হয়। ফলের স্বাদে মিষ্টি, হালকা টক ও কষ ভাব একসঙ্গে থাকে, আর খেলে জিভ বেগুনি হয়ে যায়। আয়্যানার ও সুবাশ-বাবুর বর্ণনায়, গাছের ছাল ধূসর-বাদামি, পাতা চামড়ার মতো পুরু, ফুল ছোট, সুগন্ধি ও সবুজাভ সাদা, গুচ্ছে ফোটে। ফল দেড় থেকে সাড়ে তিন সেন্টিমিটার লম্বা, ভেতরে একটি বড় বীজ।

যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউ ক্রপ রিসোর্স অনলাইন প্রোগ্রামে থাকা উদ্যানতত্ত্ববিদ জুলিয়া মর্টনের ১৯৮৭ সালের বই ‘ফ্রুটস অব ওয়ার্ম ক্লাইমেটস’-এ বলা হয়েছে, জাম সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত জন্মায়, তবে প্রায় ৬০০ মিটারের ওপরে ফল দেয় না। বেশি বৃষ্টির এলাকায় গাছটি ভালো জন্মায়, আর একবার শিকড় গেড়ে বসলে খরাও সইতে পারে। উঁচু ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধাযুক্ত জমিতে এটি ভালো হয়। ভারতে ফলের মৌসুম মে মাসের শেষ থেকে জুন ও জুলাই পর্যন্ত চলে।

মর্টনের বর্ণনায়, জামের বীজ দ্রুত অঙ্কুরোদ্গমের ক্ষমতা হারায় এবং প্রায় দুই সপ্তাহে চারা গজায়। হরমোন দিয়ে আধা-শক্ত ডালের কাটিং থেকে চারা তৈরিতে প্রায় ২০ শতাংশ সাফল্য পাওয়া গেছে; এ ছাড়া কুঁড়ি সংযোজন, জোড় কলম ও গুটি কলমেও বংশবিস্তার করা হয়। ফল পাকার সঙ্গে সঙ্গে হাতে পাড়তে হয়, তাই এক মৌসুমে কয়েকবার গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করতে হয়। গাছটি ফ্লোরিডা, দক্ষিণ আফ্রিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চলের কিছু অংশ ও হাওয়াইয়ে আক্রমণাত্মক বা আগ্রাসী উদ্ভিদ হিসেবে গণ্য হয় বলে উইকিপিডিয়া জানায়, কারণ সেসব জায়গায় এটি স্থানীয় গাছপালার জায়গা দখল করে নেয়।

জাম গাছের ফুল, ভারত মহাসাগরের রেউনিয়ন দ্বীপে তোলা ছবি। ছবি: B.navez / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
জাম গাছের ফুল, ভারত মহাসাগরের রেউনিয়ন দ্বীপে তোলা ছবি। ছবি: B.navez / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

বাংলাদেশে জাম: বাড়ির আঙিনার গাছ থেকে পাইকারি হাটে


বাংলাদেশে জাম মূলত বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় ও সড়কের পাশের গাছ থেকে আসে; বাণিজ্যিক বাগান খুব কম। দ্য ডেইলি স্টার বাংলা ২০২৩ সালের ২৮ জুন দেশের ফল উৎপাদন নিয়ে এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে দেশে ৪ লাখ ৭৪ হাজার হেক্টর জমিতে ৮৭ লাখ ৮৬ হাজার টন ফল উৎপাদিত হয়েছিল; ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে ৭ লাখ ৩৪ হাজার হেক্টরে ১ কোটি ৪৩ লাখ টনে দাঁড়ায়। একই সময়ে দেশে উৎপাদিত ফলের ধরন ৫৬ থেকে বেড়ে ৭২টি হয়, আর মাথাপিছু দৈনিক ফল খাওয়ার পরিমাণ ২০০৬ সালের ৫৫ গ্রাম থেকে ২০১৮ সালে ৮৫ গ্রামে ওঠে। প্রতিবেদনে জামকে সেই ফলগুলোর তালিকায় রাখা হয়, যেগুলো বড় আকারে চাষ হচ্ছে; তবে জামের আলাদা উৎপাদনের হিসাব সেখানে নেই।

পাবনার ঈশ্বরদীর মুলাডুলি জামের বড় পাইকারি হাট হিসেবে পরিচিত। দৈনিক ইত্তেফাক ২০২৪ সালের ২৯ জুন জানায়, মৌসুমে ওই হাটে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার জাম বেচাকেনা হচ্ছিল এবং প্রতিদিন তিন থেকে চার ট্রাক জাম ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশালসহ দেশের নানা প্রান্তে যাচ্ছিল। সেখানে স্থানীয়ভাবে হাঁড়ি জাম, ঠাকি জাম ও খুদে জাম নামে তিন ধরনের জাম পাওয়া যায়। আকারভেদে পাইকারি দাম ছিল কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, খুচরা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা। জাম স্বল্পকালীন ফল হওয়ায় হাটটি সর্বোচ্চ এক মাস চলে।

ইত্তেফাকের ওই প্রতিবেদনে আড়তের মালিক আমিনুর রহমান বাবু জানান, ঈশ্বরদীসহ প্রায় সাত-আটটি উপজেলার মানুষ মুলাডুলিতে জাম বিক্রি করতে আসেন এবং প্রতিবছর সেখানে প্রায় আড়াই থেকে তিন কোটি টাকার জাম বেচাকেনা হয়। ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার তখন বলেন, ঈশ্বরদীতে বাণিজ্যিকভাবে জাম চাষ তখনো শুরু হয়নি; আড়তের বেচাকেনা দেখে কৃষকেরা একসময় জামবাগান করতে উৎসাহিত হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকাও জাম বেচাকেনার একটি কেন্দ্র। দ্য ডেইলি স্টার বাংলা ২০২৪ সালের ১৪ জুন জানায়, ব্যবসায়ীদের হিসাবে সেখান থেকে প্রতিদিন ১৮ থেকে ২০ হাজার কেজি পাকা জাম ঢাকায় যাচ্ছিল। গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় ৪ হাজার ৭৬০টি জাম গাছ ছিল এবং ওই বছর ২৩৮ মেট্রিক টন জাম পাওয়ার আশা করা হচ্ছিল; কেজিপ্রতি গড় দাম ছিল ১০৫ টাকা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, আগের বছর গড় দাম ছিল কেজিপ্রতি ৫৫ টাকা। সেখানকার জামের মৌসুম মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে জুনের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত চলে।

রাজধানীর বাজারে দাম আরও বেশি থাকে। দ্য ডেইলি অবজারভার ২০২৫ সালের ২০ মে কারওয়ান বাজার ঘুরে জানায়, বড় জাতের জাম পাইকারিতে কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং খুচরায় ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। সেখানকার এক বিক্রেতা পত্রিকাটিকে বলেন, জামের চাষ এখন খুব একটা হয় না, গাছ কমে যাওয়ায় সরবরাহও কম।

বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) প্রাঙ্গণে একটি জাম গাছ। ছবি: Afifa Afrin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) প্রাঙ্গণে একটি জাম গাছ। ছবি: Afifa Afrin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

১০০ গ্রাম জামে কী থাকে


জামের পুষ্টিমান নিয়ে বিভিন্ন উৎসের হিসাব এক নয়; ফলের জাত, পাকার মাত্রা, মাটি ও বিশ্লেষণের পদ্ধতি ভেদে সংখ্যা বদলায়। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক হিসাবটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের (আইএনএফএস) ‘ফুড কম্পোজিশন টেবিল ফর বাংলাদেশ’, যা ২০১৩ সালের জুনে জাতীয় খাদ্যনীতি সক্ষমতা জোরদার কর্মসূচির সহায়তায় প্রকাশিত হয়। সেখানে কালোজাম (জাম্বোলান, কাঁচা) নামে যে হিসাব দেওয়া আছে, তাতে খাওয়ার উপযোগী ১০০ গ্রাম জামে রয়েছে:

  • শক্তি ৩৯ কিলোক্যালরি, পানি ৮৮.২ গ্রাম
  • আমিষ ০.৯ গ্রাম, চর্বি ০.৫ গ্রাম, সহজলভ্য শর্করা ৬.১ গ্রাম
  • মোট খাদ্যআঁশ ৩.৫ গ্রাম
  • ক্যালসিয়াম ২৩ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৮ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ৩৭ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১৬ মিলিগ্রাম
  • পটাশিয়াম ১৭২ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ২৮ মিলিগ্রাম, দস্তা ০.২১ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন এ ৯৩ মাইক্রোগ্রাম, থায়ামিন ০.০৯ মিলিগ্রাম, রিবোফ্লাভিন ০.০২ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন সি ৭৪.১ মিলিগ্রাম

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফুডডেটা সেন্ট্রালে ‘জাভা-প্লাম (জাম্বোলান), কাঁচা’ নামে যে হিসাব আছে, তাতে সংখ্যাগুলো বেশ আলাদা: ১০০ গ্রামে শক্তি ৬০ কিলোক্যালরি, পানি ৮৩.১ গ্রাম, শর্করা ১৫.৬ গ্রাম, আমিষ ০.৭২ গ্রাম, চর্বি ০.২৩ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৯ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.১৯ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ১৫ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৭৯ মিলিগ্রাম এবং ভিটামিন সি ১৪.৩ মিলিগ্রাম। জুলিয়া মর্টনের বইয়ে উদ্ধৃত বিশ্লেষণে ১০০ গ্রামে লৌহ ১.২ থেকে ১.৬২ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৫৫ মিলিগ্রাম এবং ভিটামিন সি ৫.৭ থেকে ১৮ মিলিগ্রাম পাওয়া যায়; সেখানে অপরিশোধিত আঁশ ০.৩ থেকে ০.৯ গ্রাম।

এই পার্থক্য কতটা বড়, তা বোঝা যায় ২০২২ সালে ফুডস সাময়িকীতে প্রকাশিত এক পর্যালোচনা থেকে। পাকিস্তানের গবেষক মাদিহা কামারসহ লেখকেরা বিভিন্ন গবেষণা মিলিয়ে দেখান, জামে ভিটামিন সি-র পরিমাণ ১০০ গ্রামে ৫.৭ থেকে ১৩৭ মিলিগ্রাম পর্যন্ত পাওয়া গেছে। তাঁরা লেখেন, জামে ভিটামিন, খনিজ ও আঁশ ভালো পরিমাণে আছে এবং এতে ক্যালরি ও চর্বি কম। তাই কোনো একটি সংখ্যাকে নিশ্চিত ধরে নেওয়ার চেয়ে বলা ভালো, জাম কম ক্যালরির রসালো ফল, যাতে ভিটামিন সি ও পটাশিয়াম আছে, তবে পরিমাণ জাত ও ফলভেদে অনেক ওঠানামা করে।

জামের রঙের উৎস অ্যান্থোসায়ানিন নামের রঞ্জক। আয়্যানার ও সুবাশ-বাবুর পর্যালোচনায় ফলে ডেলফিনিডিন, ম্যালভিডিন ও পেটুনিডিনের কয়েকটি গ্লাইকোসাইড, গ্যালিক অ্যাসিড এবং র‍্যাফিনোজ, গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ জাতীয় শর্করার কথা বলা হয়েছে। কামারসহ লেখকেরা জানান, জামের খোসায় শাঁস ও বীজের চেয়েও বেশি ফেনলজাতীয় যৌগ পাওয়া গেছে, এবং গবেষণাগারের পরীক্ষায় খোসার নির্যাস বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সক্রিয়তা দেখিয়েছে।

ডায়াবেটিস ও জাম: গবেষণা আসলে কী বলে


জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, জামের বীজ ও ফলে জ্যাম্বোলিন ও জ্যাম্বোসিন নামের উপাদান আছে, যা শর্করা ধীরে ধীরে রূপান্তরে সাহায্য করে। উৎসগুলো এই দাবিকে আরও সাবধানে বলে। মর্টনের বই ও আয়্যানার-সুবাশ-বাবুর পর্যালোচনা দুটিতেই লেখা আছে, জামের বীজে জ্যাম্বোসিন নামের একটি অ্যালকালয়েড এবং জ্যাম্বোলিন বা অ্যান্টিমেলিন নামের একটি গ্লাইকোসাইড আছে বলে দাবি করা হয়, যা স্টার্চকে চিনিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়া থামায়। অর্থাৎ এটি বীজ নিয়ে একটি দাবি, পাকা ফলের শাঁস নিয়ে নয়।

উপমহাদেশে জামের বীজ বহুদিন ধরে ডায়াবেটিসের লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়েছে। মর্টন লিখেছেন, ১৯৪০ সালে মার্সিয়ার নামের এক গবেষক দেখান, বীজের জলীয় নির্যাস কুকুরের শরীরে ইনজেকশন দিলে রক্তে শর্করা দীর্ঘ সময় কম থাকে, কিন্তু মুখে খাওয়ালে কাজ করেনি। ভারতের লক্ষ্ণৌয়ের সেন্ট্রাল ড্রাগ রিসার্চ ইনস্টিটিউটে বীজের অ্যালকোহলভিত্তিক শুকনো নির্যাস মুখে খাইয়ে রোগীদের রক্তে শর্করা ও প্রস্রাবে চিনি কমার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। আয়্যানার ও সুবাশ-বাবুর পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশক থেকে ডায়াবেটিক প্রাণীর ওপর জামের বিভিন্ন অংশের পরীক্ষা হয়েছে, তবে এসব গবেষণার বেশির ভাগই হয়েছে অপরিশোধিত নির্যাস দিয়ে, তার রাসায়নিক গঠন না জেনে।

মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষার ফল মিশ্র। ব্রাজিলের ফেডারেল ইউনিভার্সিটি অব রিও গ্রান্দে দো সুলের গবেষক ক্লাউডিয়া টেইশেইরাসহ অন্যরা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের রোগীদের নিয়ে একটি দ্বৈত-অন্ধ, এলোমেলো নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা করেন, যার ফল ২০০৪ সালে ডায়াবেটিস কেয়ার সাময়িকীতে এবং বিস্তারিতভাবে ২০০৬ সালে জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড থেরাপিউটিকসে প্রকাশিত হয়। ২৭ জন রোগীকে ২৮ দিন ধরে তিন দলে ভাগ করে কাউকে জামপাতার চা, কাউকে ডায়াবেটিসের প্রচলিত ওষুধ গ্লাইবুরাইড এবং কাউকে প্লাসেবো দেওয়া হয়। গ্লাইবুরাইডে খালি পেটে রক্তের শর্করা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে, কিন্তু জামপাতার চা বা প্লাসেবোতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। গবেষকেরা সিদ্ধান্ত টানেন, জামপাতার চায়ের রক্তে শর্করা কমানোর কোনো প্রভাব নেই।

একই দল ২০০৬ সালে জার্নাল অব এথনোফার্মাকোলজিতে লেখে, সুস্থ ইঁদুর, ডায়াবেটিক ইঁদুর, সুস্থ স্বেচ্ছাসেবী ও ডায়াবেটিসের রোগী, চার ধরনের পরীক্ষাতেই জামপাতার চা ও নির্যাস রক্তে শর্করা কমায়নি; তাই রোগী ও চিকিৎসকদের এর ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। অন্যদিকে ফুডস সাময়িকীর ২০২২ সালের পর্যালোচনায় ২০১০ সালের সাহানা ও সহকর্মীদের একটি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে, যেখানে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে জামের বীজ মুখে খাওয়ানো কার্যকর পাওয়া যায় এবং কোনো বিষক্রিয়া দেখা যায়নি। দুই পর্যালোচনার লেখকেরাই বলেছেন, সক্রিয় উপাদান শনাক্ত করতে এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও ক্লিনিক্যাল গবেষণা দরকার।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ হেলথ (এনসিসিআইএইচ) ২০২৩ সালের নভেম্বরে হালনাগাদ করা পাতায় স্পষ্ট করে বলেছে, ডায়াবেটিসের চিকিৎসার জায়গায় অপ্রমাণিত কোনো স্বাস্থ্যপণ্য বা পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ খাদ্যসম্পূরক ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করতে পারে এবং বেশির ভাগ সম্পূরকের ডায়াবেটিসে উপকারের প্রমাণ নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বরের তথ্যপত্রে জানায়, বিশ্বে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১৯৯০ সালের ২০ কোটি থেকে বেড়ে ২০২২ সালে ৮৩ কোটিতে পৌঁছেছে এবং ২০২১ সালে ডায়াবেটিস সরাসরি ১৬ লাখ মৃত্যুর কারণ ছিল। সংস্থাটির মতে, স্বাস্থ্যকর ওজন, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, চিনি ও সম্পৃক্ত চর্বি এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার এবং তামাক বর্জন ঝুঁকি কমায়; চিকিৎসায় মেটফরমিনসহ ওষুধ ও প্রয়োজনে ইনসুলিন লাগে।

তাই ডায়াবেটিসের রোগীরা জাম খেতে চাইলে মনে রাখবেন, পাকা জামেও শর্করা আছে, যা দিনের মোট শর্করার হিসাবে ধরতে হয়। জাম, জামের বীজের গুঁড়া বা পাতার চা কোনোটিই ডায়াবেটিসের ওষুধের বিকল্প নয়। কোনো অবস্থাতেই নিজে থেকে ওষুধ বা ইনসুলিন বন্ধ বা কম করবেন না; জাম বা জামের কোনো অংশ নিয়মিত খেতে চাইলে আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের সঙ্গে কথা বলুন।

পাকা জামের বীজ। ছবি: Salil Kumar Mukherjee / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
পাকা জামের বীজ। ছবি: Salil Kumar Mukherjee / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

আঁশ, ভিটামিন সি ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা


মূল প্রতিবেদনে জামকে ‘প্রচুর খাদ্যআঁশসমৃদ্ধ’ বলা হয়েছিল। আইএনএফএসের খাদ্য-উপাদান তালিকায় ১০০ গ্রাম জামে মোট খাদ্যআঁশ ৩.৫ গ্রাম, যা একটি মাঝারি পরিমাণ; মর্টনের উদ্ধৃত পুরোনো বিশ্লেষণে অপরিশোধিত আঁশ ০.৩ থেকে ০.৯ গ্রাম। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের স্বাস্থ্যতথ্য সেবা মেডলাইনপ্লাস জানায়, দ্রবণীয় আঁশ হজমের সময় পানি টেনে জেলের মতো হয়ে হজম ধীর করে এবং কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করতে পারে; অদ্রবণীয় আঁশ মলের পরিমাণ বাড়ায় এবং খাবারকে পাকস্থলী ও অন্ত্র দিয়ে দ্রুত এগোতে সাহায্য করে বলে মনে হয়। জামের আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় কি না, তা নিয়ে আলাদা মানবগবেষণা উৎসগুলোতে পাওয়া যায়নি।

ভিটামিন সি নিয়ে মেডলাইনপ্লাস (জানুয়ারি ২০২৫) জানায়, এই ভিটামিন কোলাজেন নামের আমিষ তৈরিতে লাগে, যা দিয়ে ত্বক, রগ, অস্থিবন্ধনী ও রক্তনালি গঠিত হয়; এটি ক্ষত সারাতে, লৌহ শোষণে সাহায্য করে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে ফ্রি র‍্যাডিক্যালের কিছু ক্ষতি ঠেকায়। শরীর নিজে ভিটামিন সি তৈরি বা জমা করতে পারে না, তাই খাবার থেকে নিতে হয়। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দৈনিক প্রয়োজন ৯০ মিলিগ্রাম, নারীর ৭৫ মিলিগ্রাম। আইএনএফএসের হিসাব ধরলে ১০০ গ্রাম জাম থেকে এর বড় অংশ মিলতে পারে, আবার ইউএসডিএর হিসাব ধরলে অনেক কম।

জাম খেলে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঠেকানো যায়, মূল প্রতিবেদনের এমন দাবির পক্ষে মানুষের ওপর গবেষণা উৎসগুলোতে পাওয়া যায়নি। মেডলাইনপ্লাস জানায়, বেশির ভাগ মানুষের ক্ষেত্রে ভিটামিন সি সম্পূরক বা ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার সর্দি-কাশি হওয়ার ঝুঁকি কমায় না; যাঁরা নিয়মিত সম্পূরক নেন, তাঁদের সর্দি হয়তো সামান্য কম দিন থাকে বা উপসর্গ কিছুটা হালকা হয়। জামের নির্যাসের জীবাণুরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণের যে কথা গবেষণাপত্রে আছে, আয়্যানার ও সুবাশ-বাবুর ভাষায় তা মূলত পরীক্ষাগারভিত্তিক।

হৃদ্‌যন্ত্র, রক্তস্বল্পতা, ত্বক ও লিভার: দাবি আর প্রমাণ


পটাশিয়াম নিয়ে মেডলাইনপ্লাস জানায়, হৃদ্‌যন্ত্রের সুস্থতা, পেশির কাজ ও হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য শরীরে পটাশিয়াম দরকার। আইএনএফএসের হিসাবে ১০০ গ্রাম জামে পটাশিয়াম ১৭২ মিলিগ্রাম, ইউএসডিএর হিসাবে ৭৯ মিলিগ্রাম; মেডলাইনপ্লাস যেসব ফলকে পটাশিয়ামের ভালো উৎস হিসেবে নাম ধরে উল্লেখ করেছে, যেমন কলা, কমলাজাতীয় ফল, কিউই বা খুবানি, জাম সেই তালিকায় নেই। জাম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে বা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমায়, এমন সরাসরি মানবগবেষণা উৎসগুলোতে পাওয়া যায়নি; কামারসহ লেখকেরা যে হৃদ্‌সুরক্ষা ও চর্বি কমানোর গুণের কথা বলেছেন, তা প্রাণী ও গবেষণাগারের পরীক্ষাভিত্তিক।

মূল প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, জামের লৌহ ও ভিটামিন সি রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি কমাতে পারে। লৌহের হিসাবে উৎসগুলোর মধ্যে বড় ফারাক: ১০০ গ্রামে আইএনএফএস ০.৮ মিলিগ্রাম, ইউএসডিএ ০.১৯ মিলিগ্রাম, মর্টনের উদ্ধৃত বিশ্লেষণ ১.২ থেকে ১.৬২ মিলিগ্রাম। এই পরিমাণকে লৌহের উল্লেখযোগ্য উৎস বলা যায় না, তাই রক্তস্বল্পতা কমানোর দাবিটি এই প্রতিবেদনে রাখা হয়নি। তবে ভিটামিন সি খাবার থেকে লৌহ শোষণে সাহায্য করে, এটি মেডলাইনপ্লাসের তথ্যে আছে। রক্তস্বল্পতার উপসর্গ থাকলে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

ত্বকের উজ্জ্বলতা, বয়সের ছাপ কমা বা লিভার সুরক্ষার দাবিগুলোর পক্ষে মানুষের ওপর পরীক্ষা উৎসগুলোতে মেলেনি। কামারসহ লেখকেরা জানান, লিভার সুরক্ষার তথ্য পাওয়া গেছে প্রাণী ও গবেষণাগারের বিভিন্ন মডেলে। ওজন কমানো নিয়ে এটুকু বলা যায় যে আইএনএফএসের হিসাবে ১০০ গ্রাম জামে শক্তি ৩৯ কিলোক্যালরি এবং ইউএসডিএর হিসাবে ৬০ কিলোক্যালরি, অর্থাৎ এটি কম ক্যালরির ফল; তবে জাম খেলে ওজন কমে, এমন নির্দিষ্ট গবেষণা উৎসগুলোতে নেই। গরমে জাম শক্তি জোগায় ও সতেজ রাখে, মূল প্রতিবেদনের এই দাবিও কোনো কর্তৃপক্ষের সূত্রে মেলেনি, তাই তা বাদ দেওয়া হয়েছে।

পাতা, ছাল, কাঠ ও মধু: জাম গাছের অন্য ব্যবহার


জামের পাতা ও ছাল বহুদিন ধরে লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হচ্ছে, মূল প্রতিবেদনের এই তথ্য উৎসগুলোতে মেলে। আয়্যানার ও সুবাশ-বাবু লিখেছেন, ঐতিহ্যগতভাবে ছাল গলাব্যথা, ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানি, আমাশয় ও ঘায়ে এবং ফল মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে ব্যবহার করা হয়েছে। মর্টন লিখেছেন, ছাল সেদ্ধ করা পানি আমাশয় ও ডায়রিয়ায় খাওয়ানো হয় এবং মুখের সমস্যায় কুলকুচি হিসেবে ব্যবহার হয়। এগুলো প্রচলিত ব্যবহারের বর্ণনা, কার্যকারিতার প্রমাণ নয়; জামে মাড়ি শক্ত হয়, এমন মানবগবেষণা উৎসগুলোতে পাওয়া যায়নি।

মর্টনের তথ্যে জামের ছালে ৮ থেকে ১৯ শতাংশ ট্যানিন থাকে; এটি চামড়া পাকা করতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং টেকসই বাদামি রং দেয়। একই বইয়ে সতর্ক করা হয়েছে, ট্যানিনসমৃদ্ধ উদ্ভিদজাত পণ্য মুখে অতিরিক্ত খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। জামের কাঠ লাল বা লালচে-ধূসর, সোজা ও ঘন আঁশের; এ দিয়ে কড়িকাঠ, খুঁটি, সেতু, নৌকা, কৃষি যন্ত্রপাতি ও রেলের স্লিপার তৈরি হয়েছে। পাতা গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়, আর জাম ফুল মৌমাছির কাছে প্রিয়; ভারতের পশ্চিমঘাট অঞ্চলে মধুর বড় অংশ জাম ফুল থেকে আসে বলে মর্টন উল্লেখ করেছেন।

রান্নাঘরেও জামের ব্যবহার আছে। মর্টন জানান, পাকা জাম কাঁচা খাওয়া হয় এবং এ দিয়ে টার্ট, সস ও জ্যাম তৈরি হয়; লবণপানিতে ভিজিয়ে রাখলে কষ ভাব কমে। ভারত ও অন্যান্য গ্রীষ্মপ্রধান দেশে জামের রস থেকে জেলি, শরবত, সিরাপ, এমনকি ভিনেগারও তৈরি হয়। ফুডস সাময়িকীর পর্যালোচনায়ও বলা হয়েছে, জাম তাজা অবস্থায়, চাটনি ও জ্যাম হিসেবে খাওয়া হয় এবং এর রস দিয়ে সিরাপ, শরবত ও স্কোয়াশ বানানো হয়।

জামের সঙ্গে উপমহাদেশের সংস্কৃতির সম্পর্কও পুরোনো। উইকিপিডিয়া জানায়, বৌদ্ধ গ্রন্থে শৈশবে বুদ্ধের একটি জাম গাছের নিচে ধ্যানে বসার বর্ণনা আছে, আর হিন্দু ঐতিহ্যেও ফলটির উল্লেখ আছে। বাংলায় পল্লিকবি জসীম উদ্‌দীনের ‘মামার বাড়ি’ কবিতার পঙ্‌ক্তি ‘পাকা জামের মধুর রসে রঙিন করি মুখ’ মনে করিয়ে দিয়েই ইত্তেফাক ২০২৪ সালে ঈশ্বরদীর জামের হাটের প্রতিবেদন শুরু করেছিল।

কারা সাবধানে জাম খাবেন


কিডনির রোগীদের ক্ষেত্রে সাবধানতা দরকার। মেডলাইনপ্লাস (এপ্রিল ২০২৬) জানায়, কিডনির সমস্যা আছে এমন মানুষ, বিশেষ করে যাঁরা ডায়ালাইসিস নেন, তাঁদের পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়া উচিত নয়। দ্য ডেইলি স্টার বাংলায় ২০২৪ সালের ১২ জুন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রেহানা বেগমও বলেন, কিডনির রোগীরা জাম খেতে চাইলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

ডায়াবেটিসের রোগীরা আগের অংশে বলা কারণে জাম, জামের বীজ বা পাতা ওষুধের বিকল্প হিসেবে নেবেন না এবং ওষুধ বন্ধ করবেন না; যেকোনো ভেষজ পণ্য ব্যবহারের আগে চিকিৎসককে জানাবেন, কারণ এনসিসিআইএইচের মতে খাদ্যসম্পূরক ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করতে পারে। জামের ছাল বা বীজের ঘরোয়া পাঁচন বেশি পরিমাণে খাওয়া নিয়েও সাবধান থাকা দরকার, কারণ মর্টনের বইয়ে ট্যানিনসমৃদ্ধ উদ্ভিদজাত পণ্য অতিরিক্ত খাওয়াকে স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক বলা হয়েছে। অন্তঃসত্ত্বা নারী, শিশু বা দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগা কেউ জামের বীজ বা পাতা ওষুধ হিসেবে ব্যবহারের কথা ভাবলে আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।

সাধারণ সুস্থ মানুষের জন্য জাম অন্য মৌসুমি ফলের মতোই সুষম খাদ্যের অংশ হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারির স্বাস্থ্যকর খাদ্যবিষয়ক তথ্যপত্রে বলা হয়েছে, ১০ বছরের বেশি বয়সী সবার দিনে অন্তত ৪০০ গ্রাম ফল ও শাকসবজি খাওয়ার লক্ষ্য রাখা উচিত, এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্য অপুষ্টির পাশাপাশি ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক ও ক্যানসারের মতো অসংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। সংস্থাটি বাড়তি চিনি দৈনিক মোট শক্তির ১০ শতাংশের কম রাখার পরামর্শ দেয়, তাই চিনি মেশানো জামের শরবত বা জ্যামের চেয়ে গোটা ফল খাওয়াই ভালো।

ছবি: Adityamadhav83 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট (ফুড কম্পোজিশন টেবিল ফর বাংলাদেশ, ২০১৩), ইউএসডিএ ফুডডেটা সেন্ট্রাল, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, মেডলাইনপ্লাস (ইউএস ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন), ন্যাশনাল সেন্টার ফর কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ হেলথ, এশিয়ান প্যাসিফিক জার্নাল অব ট্রপিক্যাল বায়োমেডিসিন, ফুডস (এমডিপিআই), ডায়াবেটিস কেয়ার, জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড থেরাপিউটিকস, জার্নাল অব এথনোফার্মাকোলজি, জুলিয়া মর্টন: ফ্রুটস অব ওয়ার্ম ক্লাইমেটস (পারডু বিশ্ববিদ্যালয়), দৈনিক ইত্তেফাক, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, দ্য ডেইলি অবজারভার, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

স্বাস্থ্য

সম্পর্কিত খবর

বিশ্ব

ভালো ফসলের বছরেও আফগানিস্তানে শীতে তীব্র খাদ্যসংকটে পড়বে ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ

অনুকূল বৃষ্টি ও ভালো ফসলের পরও নভেম্বর-এপ্রিলে আফগানিস্তানের ৩৮ শতাংশ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এফএও ও ডব্লিউএফপি; গত বছর একই সময়ের পূর্বাভাস ছিল ১ কোটি ৭৪ লাখ।

ডব্লিউএফপি১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
স্বাস্থ্য

ক্যানসার অস্ত্রোপচারের রোগীর পুষ্টিসেবায় বৈশ্বিক নির্দেশিকা তৈরির উদ্যোগ

ওয়ার্ল্ড সোসাইটি অব সার্জিক্যাল অনকোলজি ও নেসলে বিশ্বের ১৫ জন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞকে নিয়ে ক্যানসার অস্ত্রোপচারের আগে-পরে রোগীর অপুষ্টি শনাক্ত ও পুষ্টি সহায়তার বাস্তবসম্মত নির্দেশিকা তৈরি করবে।

FoodNavigator১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)