ক্যাপসুল না থাকায় ২০২৬ সালের জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত টানা ১৪ মাস বাংলাদেশে শিশুদের জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন হয়নি। বিবিসি বাংলা ২০২৬ সালের ১৩ জুন এই খবর জানায়। নিয়ম অনুযায়ী বছরে দুইবার ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কথা, কিন্তু সর্বশেষ ক্যাম্পেইন হয়েছিল ২০২৫ সালের ১৫ মার্চ।
২০২৫ সালের মার্চের পর সেপ্টেম্বরে এবং ২০২৬ সালের মার্চে আরও দুটি ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা ছিল। ক্যাপসুল সংকটের কারণে এর কোনোটিই হয়নি। কর্মসূচিটি পরিচালনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান (আইপিএইচএন)। বিবিসি বাংলার হিসাবে প্রতি বছর গড়ে দুই কোটি ৫৫ লাখ শিশু এর আওতায় আসে।
১০ জুনের আশ্বাস এবং জুনের শেষে নতুন সময়সূচি
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ২০২৬ সালের ১৭ মে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) এক সেমিনারে সংকটের কথা প্রকাশ্যে বলেন। ইউএনবি ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের খবর অনুযায়ী, তিনি বলেন, বছরে দুইবার ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা; আগের বছরের প্রথমার্ধে একটি ক্যাম্পেইন হয়েছিল, এরপর আর হয়নি এবং এখন ভিটামিন-এ ক্যাপসুলের তীব্র ঘাটতি রয়েছে।
মন্ত্রী সেদিন জানান, সরকারের হাতে সামান্য মজুত আছে এবং ইউনিসেফের মাধ্যমে এক কোটির বেশি ভিটামিন-এ ক্যাপসুল পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে আসার কথা, যার দাম আগেই পরিশোধ করা হয়েছে। ইউএনবির খবরে বলা হয়, ১০ জুনের মধ্যে এই সরবরাহ পৌঁছানোর কথা ছিল। বিবিসি বাংলার ১৩ জুনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই সময়ের মধ্যে ক্যাপসুল পাওয়া যায়নি।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী অবশ্য বিবিসি বাংলার কাছে ১০ জুনের কথা অস্বীকার করেন। ক্যাম্পেইন বন্ধ রয়েছে, "এটা বলা যাবে না" বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, "এটা চেষ্টা-তদবির চলছে। কিন্তু ক্যাপসুল পাইতে একটু দেরি হইতেছে। এইজন্য একটু দেরি হইছে জিনিসটা।"
তিনি জানান, ক্যাপসুল প্রাপ্তি সাপেক্ষে ক্যাম্পেইনের সম্ভাব্য সময় জুনের শেষ সপ্তাহে ঠিক করা হয়েছে। "আমাদের কাছে সংবাদ আসছে যে, ১৫ই জুনের মধ্যে ক্যাপসুলটা আমাদের দেশে আইসা পৌঁছাবে," বলেন তিনি। ক্যাপসুল বিদেশ থেকে বিমানে আসবে এবং ১৫ জুন আসার কথা মাথায় রেখেই তারিখ ঠিক করা হয়েছে। "২৭শে জুনের মধ্যে আমরা ইনশাআল্লাহ এটা করবো বলে মোটামুটি প্রস্তুতি নিচ্ছি," বলেন মোহাম্মদ ইউনুস আলী। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনের দিন পর্যন্ত এটি ছিল একটি সম্ভাব্য তারিখ, চূড়ান্ত ঘোষণা নয়।
কেন ক্যাপসুল আসেনি: দরপত্র থেকে ইউনিসেফ
বিবিসি বাংলাকে মোহাম্মদ ইউনুস আলী জানান, এর আগে স্বাস্থ্য খাতের অপারেশনাল প্ল্যানের (ওপি) আওতায় দরপত্রের মাধ্যমে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল কেনা হতো। স্বাস্থ্য খাতের সর্বশেষ অপারেশনাল প্ল্যান শেষ হয় ২০২৪ সালের জুনে। এরপরও দরপত্রের মাধ্যমে ক্যাপসুল কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়, কিন্তু পরে তা বাতিল হয়ে যায়। তাঁর ভাষায়, "আগে টেন্ডার হয়েছিল, কোনো কারণে মন্ত্রণালয় ওই টেন্ডারের সাথে দ্বিমত পোষণ করায় উনারা পরে ইউনিসেফ ফ্রি ফাইন্যান্সিং পদ্ধতিতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।"
বিবিসি বাংলা জানায়, এবারই প্রথম বাংলাদেশ ইউনিসেফের কাছ থেকে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। ইউনিসেফের সঙ্গে একটি চুক্তির কথা জানিয়ে আইপিএইচএন পরিচালক বলেন, "মন্ত্রণালয় থেকে এবারই ইউনিসেফ থেকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কারণ হচ্ছে, এক রাউন্ডের ক্যাপসুল যদি ওনাদের কাছ থেকে কেনা হয়, আরেক রাউন্ডের ক্যাপসুল ওনারা আমাদের ফ্রি অব কষ্ট (বিনামূল্যে) দেবে।" তিনি জানান, লক্ষ্য রাখা হয় দুই কোটি ৬০ লাখ ক্যাপসুল, এবং ইউনিসেফের কাছে এই পরিমাণই চাওয়া হয়েছে।
সংকট নিয়ে ইউনিসেফের বক্তব্যও তখন প্রকাশিত হয়েছিল। ২০২৬ সালের ৫ মে প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইউনিসেফ বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি স্ট্যানলি গোয়াভুয়া বলেন, ক্রয়ে বিলম্বের কারণে ভিটামিন-এ সম্পূরকের দ্বিতীয় রাউন্ড করা যায়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকার রাজস্ব বাজেট থেকে ৫০ শতাংশ টিকা বিকল্প পদ্ধতিতে কেনার কথা ভেবেছিল, আর সেই সিদ্ধান্তে ক্রয়প্রক্রিয়ায় দেরি হয়। তিনি আরও জানান, টিকার সরবরাহ চালু রাখতে ইউনিসেফ ২০২৫ সালে প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার আগাম অর্থায়ন করেছিল এবং মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে সরকারকে একাধিকবার সতর্ক করেছিল। এসব বক্তব্য ইউনিসেফ প্রতিনিধির, এ নিয়ে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়া এই সূত্রগুলোতে নেই।
ক্যাপসুল নিয়ে জটিলতা এবারই প্রথম নয়। প্রথম আলোর ২০১৯ সালের ১৮ জানুয়ারির খবর অনুযায়ী, সে বছর মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন স্থগিত করা হয়েছিল। তখন দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ এলাকা থেকে ক্যাপসুল একটির সঙ্গে আরেকটি লেগে থাকা ও ছত্রাক জাতীয় দূষণের অভিযোগ আসে। ওই ক্যাম্পেইনে দুই কোটি ২০ লাখ শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর কথা ছিল। তখনকার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ স্থগিতের কথা নিশ্চিত করেন এবং মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। একই খবরে বলা হয়, ২০১২ সালেও কার্যাদেশ নিয়ে অনিয়মের কারণে একবার জটিলতা দেখা দিয়েছিল।
কর্মসূচির আওতা: কোন বয়সে কোন ক্যাপসুল
বিবিসি বাংলা জানায়, এই কর্মসূচিতে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। ছয় থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুরা পায় নীল রঙের ক্যাপসুল, আর ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুরা পায় লাল রঙের ক্যাপসুল। বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে দুই কোটি ৫৫ লাখ শিশুকে এর আওতায় আনা হয়।
সর্বশেষ যে ক্যাম্পেইনটি হয়েছিল, সেটি ২০২৫ সালের ১৫ মার্চের। দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১৩ মার্চের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সেবার ছয় থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় দুই কোটি ২৬ লাখ শিশুকে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) এক লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্রে ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য ছিল। ক্যাম্পেইনের দিনের খবরে রাঙামাটি জেলায় এক হাজার ২৩৮টি কেন্দ্রে ৮৫ হাজারের বেশি শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর কথা বলা হয়।
উচ্চমাত্রার এই ক্যাপসুল নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০১১ সালের নির্দেশিকার সারণি কমিউনিটি আই হেলথ জার্নাল ২০১৩ সালে প্রকাশ করে। সেখানে ছয় থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুর জন্য একবার এক লাখ আইইউ এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুর জন্য প্রতি চার থেকে ছয় মাসে দুই লাখ আইইউ ভিটামিন-এ মুখে খাওয়ানোর কথা বলা হয়েছে। ডব্লিউএইচও এটি সেসব জনগোষ্ঠীর জন্য সুপারিশ করে, যেখানে ২৪ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে রাতকানার হার এক শতাংশ বা বেশি, অথবা ছয় থেকে ৫৯ মাস বয়সীদের মধ্যে ভিটামিন-এ ঘাটতির হার ২০ শতাংশ বা বেশি। একই লেখায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত মাত্রায় দিলে উল্লেখযোগ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না; কখনো কখনো খিটখিটে ভাব, মাথাব্যথা, জ্বর, পাতলা পায়খানা, বমিভাব বা বমির মতো মৃদু ও ক্ষণস্থায়ী উপসর্গ দেখা যায়।
এই ক্যাপসুল খাওয়ানো হয় নির্ধারিত কেন্দ্রে, প্রশিক্ষিত কর্মীর হাতে। ২০২৩ সালের জুনে একটি ক্যাম্পেইনের আগে তখনকার স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে কয়েকটি নিয়মের কথা বলেছিলেন, যা দৈনিক ইনকিলাব প্রকাশ করে: জোর করে বা কান্নারত অবস্থায় ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না, এবং ছয় মাসের কম, পাঁচ বছরের বেশি বয়সী ও অসুস্থ শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না। কোনো শিশুর ক্ষেত্রে প্রশ্ন থাকলে চিকিৎসক বা কেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নেওয়াই নিয়ম।
ক্যাম্পেইনে শুধু ভিটামিন-এ নয়, কৃমিনাশকও থাকে। জার্নাল অব নিউট্রিশনাল সায়েন্সে ২০১৬ সালে প্রকাশিত আহমেদ ও সহকর্মীদের পর্যালোচনা অনুযায়ী, দেশের রক্তস্বল্পতা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২৪ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অ্যালবেনডাজল দিয়ে কৃমিমুক্ত করার কাজটি বছরে দুইবারের ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইনের সঙ্গেই হয়। একই গবেষণায় ক্যাপসুলের কভারেজ ছয় থেকে ১১ মাস বয়সীদের মধ্যে ৮৫.৪ শতাংশ এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সীদের মধ্যে ৯৩.৭ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়, শহর ও গ্রামের মধ্যে বড় পার্থক্য ছাড়াই। জনস্বাস্থ্যবিদ ড. মুশতাক হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, "ভিটামিন-এ এর সাথে আরেকটাও ছিল, সেটা হচ্ছে কৃমিনাশক খাওয়ানো। বাচ্চাদের পুষ্টি কৃমি খেয়ে ফেললে এটাও অপুষ্টির একটা কারণ হতে পারে। তাই ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইনের পাশাপাশি কৃমিনাশক ওষুধও খাওয়াতে হবে।"
পাঁচ দশকের কর্মসূচি: রাতকানা থেকে রোগ প্রতিরোধ
বিবিসি বাংলা জানায়, ১৯৭৪ সালে রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম হিসেবে শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের মার্চের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর দেশে শিশুদের মধ্যে রাতকানার হার ছিল ৪.১০ শতাংশ, আর ভিটামিন-এ ঘাটতিজনিত অন্ধত্বের হার পরে এক শতাংশের নিচে নেমে আসে। মন্ত্রণালয় সেখানে আরও বলে, ভিটামিন-এ পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যুহার প্রায় এক-চতুর্থাংশ কমাতে সাহায্য করে এবং সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যের চতুর্থ লক্ষ্য, অর্থাৎ শিশুমৃত্যু কমানোর লক্ষ্য অর্জনে ভূমিকা রেখেছে।
জাতীয় জরিপের তথ্য এই পরিবর্তনের চিত্র দেয়। জার্নাল অব নিউট্রিশনাল সায়েন্সের পর্যালোচনা অনুযায়ী, ১৯৮২-৮৩ সালের জাতীয় জরিপে প্রাক-স্কুল বয়সী শিশুদের মধ্যে রাতকানার হার ছিল শহরে ২.৮ শতাংশ ও গ্রামে ৩.৮ শতাংশ; সামগ্রিক হার ছিল ৩.৭ শতাংশ। ২০০৫ সালে সেই হার নেমে আসে ০.০৪ শতাংশে। ১৯৯৭-৯৮ সালের জাতীয় ভিটামিন-এ জরিপে ছয় থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে রাতকানা ছিল ০.৬২ শতাংশ, আর রক্তে রেটিনলের মাত্রা দিয়ে মাপা ভিটামিন-এ ঘাটতি ছিল ২১.৭ শতাংশ। পর্যালোচনাটি বলছে, ১৯৬০-এর দশক থেকেই বাংলাদেশে ভিটামিন-এ ঘাটতি জনস্বাস্থ্যের গুরুতর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত।
২০২৩ সালের জুনে তখনকার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ২০১০ সাল থেকে নিয়মিত বছরে দুইবার ক্যাপসুল খাওয়ানোর ফলে রাতকানায় আক্রান্ত শিশুর হার ০.০৪ শতাংশে নেমেছে এবং সব ধরনের কারণে শিশুমৃত্যু ২৪ শতাংশ কমেছে। এই ২৪ শতাংশের হিসাব আন্তর্জাতিক গবেষণার সঙ্গে মেলে: আহমেদ ও সহকর্মীদের পর্যালোচনায় উদ্ধৃত একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনায় দেখা যায়, ছয় থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ভিটামিন-এ দিলে সব কারণে মৃত্যু ২৪ শতাংশ এবং ডায়রিয়াজনিত মৃত্যু ২৮ শতাংশ কমে।
মহামারির মধ্যেও কর্মসূচি থামেনি। ইউনিসেফের ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে বছরের অক্টোবরে ভিড় এড়াতে এক দিনের বদলে ১২ দিন ধরে ক্যাম্পেইন চালানো হয় এবং ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী দুই কোটি আট লাখ শিশু ক্যাপসুল পায়, যা দুই কোটি ১০ লাখের বেশি শিশুর লক্ষ্যমাত্রার ৯৭ শতাংশ। এক লাখ ২০ হাজারের বেশি কেন্দ্রে কাজ হয় এবং ইউনিসেফ স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য তিন লাখ ৬০ হাজার মাস্ক দেয়। ইউএনবির বরাতে প্রথম আলোর ২০২০ সালের ২৩ ডিসেম্বরের খবর অনুযায়ী, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ১৪ হাজার কেন্দ্রের অগ্রগতি সরাসরি নজরে রাখা হয়, যাতে কোথাও ক্যাপসুল কম পড়লে দ্রুত সরবরাহ পাঠানো যায়। ইউনিসেফের তখনকার বাংলাদেশ প্রতিনিধি তোমো হোজুমি একে বাংলাদেশের শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলেছিলেন।
দেশে ভিটামিন-এ ঘাটতির চিত্র
বিবিসি বাংলা মনে করিয়ে দেয়, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-ডি, ভিটামিন-ই, জিংক, আয়রন ও আয়োডিনের মতো উপাদানকে অনুপুষ্টিকণা বলা হয়। শরীরে এগুলোর প্রয়োজন খুব অল্প, কিন্তু সামান্য ঘাটতিতেও বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ নিয়ে বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় জরিপ হয় ২০১১-১২ সালে, দ্বিতীয়টি ২০১৯-২০ সালে, যার ফল প্রকাশ হয় ২০২২ সালের অক্টোবরে।
প্রথম জরিপে (২০১১-১২) প্রাক-স্কুল বয়সী প্রতি পাঁচ শিশুর মধ্যে প্রায় একজনের ভিটামিন-এ ঘাটতি পাওয়া যায়; জার্নাল অব নিউট্রিশনাল সায়েন্সের পর্যালোচনার সারণিতে ছয় থেকে ৫৯ মাস বয়সীদের মধ্যে এই হার ২০.৯ শতাংশ। গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নন এমন নারীদের মধ্যে ঘাটতি ছিল ৫.৪ শতাংশ, তবে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারীর ভিটামিন-এ মাত্রা কাঙ্ক্ষিত মানের নিচে ছিল। পর্যালোচনায় বস্তিবাসী শিশুদের মধ্যে ঘাটতি সবচেয়ে বেশি বলে উল্লেখ করা হয়।
দ্বিতীয় জরিপের (২০১৯-২০) ফল তুলে ধরার অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আইপিএইচএনের জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস) এবং আইসিডিডিআর,বি; জরিপের প্রধান গবেষক ছিলেন আইসিডিডিআর,বির বিজ্ঞানী আলিয়া নাহিদ। দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের ২০২২ সালের ৩০ অক্টোবরের খবর অনুযায়ী, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ৭ শতাংশের মাঝারি মাত্রার ভিটামিন-এ ঘাটতি পাওয়া যায়। একই বয়সের শিশুদের ৩১ শতাংশের জিংক, ২০ শতাংশের আয়োডিন, ১৫ শতাংশের আয়রন ও ২২ শতাংশের ভিটামিন-ডি ঘাটতি ছিল, আর ২১ শতাংশ শিশু মৃদু থেকে তীব্র রক্তস্বল্পতায় ভুগছিল। প্রথম জরিপের তুলনায় শিশুদের ভিটামিন-এ, জিংক ও ভিটামিন-ডির অবস্থার উন্নতি হয়েছিল, তবে আয়রনের অবস্থা খারাপ হয়েছিল।
পর্যালোচনাটি একটি সীমাবদ্ধতার কথাও বলে। ছয় মাস পরপর উচ্চমাত্রার ক্যাপসুল রক্তে রেটিনলের মাত্রা অল্প সময়ের জন্য বাড়ায়, যা মোটামুটি দুই মাস টেকে। ফলে ক্যাপসুল চোখকে ভিটামিন-এ ঘাটতির গুরুতর রূপ থেকে রক্ষা করতে পারলেও মৃদু থেকে মাঝারি ঘাটতি পুরো ছয় মাস ঠেকাতে পারে না। দারিদ্র্য, বস্তিতে বসবাস, ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার সম্পর্কে কম জানা, প্রাণিজ খাবার কম খাওয়া এবং উদ্ভিজ্জ উৎসের ভিটামিন-এ শরীরে কম শোষিত হওয়াকে ঘাটতির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। লেখকদের মতে, নিয়মিত খাবার ও খাদ্য সমৃদ্ধকরণের মাধ্যমে ভিটামিন-এ পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ, তবে ঝুঁকিতে থাকা মানুষের কাছে পর্যাপ্ত ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার না পৌঁছানো পর্যন্ত ক্যাপসুলের বিকল্প হিসেবে শুধু খাবারের ওপর নির্ভর করা তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব নয়।
হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে ক্যাম্পেইনে বিরতি
ক্যাম্পেইনের এই বিরতি চলেছে এমন সময়ে, যখন দেশে হামের বড় প্রাদুর্ভাব চলছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২৬ সালের ২৩ এপ্রিল প্রকাশিত ডিজিজ আউটব্রেক নিউজে জানায়, ৪ এপ্রিল বাংলাদেশ হামের সংক্রমণ বৃদ্ধির কথা সংস্থাটিকে জানায়; দেশের ৬৪ জেলার ৫৮টিতে, আটটি বিভাগের সবগুলোতে রোগী পাওয়া যায়। ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ১৯ হাজার ১৬১ জন সন্দেহভাজন ও দুই হাজার ৮৯৭ জন পরীক্ষাগারে নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয় এবং হামসংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন মৃত্যু হয় ১৬৬টি। রোগীদের ৭৯ শতাংশ ছিল পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। ডব্লিউএইচও জাতীয় পর্যায়ে ঝুঁকিকে উচ্চ বলে মূল্যায়ন করে।
ডব্লিউএইচওর একই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালে দেশজুড়ে হাম-রুবেলা টিকার মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় দুই ডোজের টিকার কভারেজ কমে যায় এবং ২০২০ সালের পর নিয়মিত দেশব্যাপী হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন না হওয়ায় সংক্রমণযোগ্য শিশুর সংখ্যা বাড়ে। প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, হামের সব সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত রোগীকে আদর্শ চিকিৎসার অপরিহার্য অংশ হিসেবে ভিটামিন-এ দেওয়া হচ্ছে। হাম-রুবেলা টিকার ক্যাম্পেইন অগ্রাধিকার জেলাগুলোতে ৫ এপ্রিল এবং সারা দেশে ২০ এপ্রিল শুরু হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ২০২৬ সালের ১৭ মে জানায়, ১৫ মার্চ থেকে ৬৩ দিনে দেশে হাম বা হামের মতো উপসর্গ নিয়ে ৪৫৯টি শিশুর মৃত্যু হয়। সেদিনের সেমিনারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে দেখেছেন, পুষ্টির ঘাটতির কারণে হামে আক্রান্ত অনেক শিশু নিউমোনিয়ায় ভুগছে। তিনি মায়ের বুকের দুধ ও সঠিক পুষ্টির ওপর জোর দেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিবিসি বাংলাকে সতর্ক করে বলেন, এই ক্যাম্পেইন ব্যাহত হলে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, দৃষ্টিশক্তি ও পুষ্টির ওপর প্রভাব পড়তে পারে। ড. মুশতাক হোসেন বলেন, "রাতকানা রোগটা কিন্তু নাই, নির্মূল হয়ে গেছে। ইপিআই টিকা দেওয়ার সাথে সাথে এটা দেওয়াতে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ছে। এখন এটা না দিলে এসব রোগ রাতকানা, অপুষ্টি, হাম সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।" তিনি জানান, রাতকানা দূর করার জন্যই ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছিল। হামে মৃত্যুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "একেতো হামের টিকা ছিল না। তার ওপর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য যে ভিটামিন-এ, সেটাও ছিল না। ফলে যাদের হাম হয়েছে তাদের সেরে উঠতে দেরি হয়েছে বা অনেকে সেরে উঠতে পারেনি। নিউমোনিয়া বা অন্যান্য জটিলতা হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।"

ভিটামিন-এ শরীরে কী করে
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের স্বাস্থ্যতথ্য সেবা মেডলাইনপ্লাসের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিটামিন-এ দাঁত, হাড়, নরম কলা, শ্লেষ্মা ঝিল্লি ও ত্বক গঠন ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এবং বিশেষ করে কম আলোয় দেখার ক্ষমতা ঠিক রাখে। পর্যাপ্ত ভিটামিন-এ না পেলে রাতকানার মতো চোখের সমস্যা হয়, যা ঠিক হতে পারে; কিন্তু জেরোফথালমিয়া নামে কর্নিয়ার যে ক্ষতি হয়, তা আর ফেরানো যায় না।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের বরাতে শিশুর শরীরে ভিটামিন-এ ক্যাপসুলের যে ভূমিকাগুলোর কথা বলা হয়, সেগুলো হলো:
- দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং রাতকানা প্রতিরোধ করে।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ফলে শিশু বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকে।
- শারীরিক বৃদ্ধি ও সঠিক ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- ডায়রিয়া ও হামসহ অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়।
- ত্বকের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।
- রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়তা করে।
মেডলাইনপ্লাস একই সঙ্গে সতর্ক করে, প্রয়োজনের বেশি ভিটামিন-এ শরীরে জমে গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই উচ্চমাত্রার ক্যাপসুল জাতীয় কর্মসূচির কেন্দ্রেই দেওয়া হয়; শিশুর পুষ্টি বা কোনো সম্পূরক নিয়ে প্রশ্ন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

খাবার ও ভোজ্যতেলে ভিটামিন-এ
মেডলাইনপ্লাস জানায়, তৈরি অবস্থার ভিটামিন-এ পাওয়া যায় মাংস, মাছ, হাঁস-মুরগি ও দুধজাত খাবারের মতো প্রাণিজ উৎসে। আর ফল ও সবজিতে থাকে প্রোভিটামিন-এ, যার সবচেয়ে প্রচলিত রূপ বিটা-ক্যারোটিন। মেডলাইনপ্লাসের তালিকায় ভিটামিন-এ বা বিটা-ক্যারোটিনের উৎস হিসেবে রয়েছে কলিজা ও অন্যান্য অঙ্গের মাংস, কয়েক ধরনের মাছ ও মাছের তেল, ডিম, পনির ও সমৃদ্ধ করা দুধ, গাজর, মিষ্টি আলু, আম, ক্যান্টালুপ বা বাঙ্গি জাতীয় ফল, ব্রকলি, পালংশাক ও গাঢ় সবুজ শাক।
বাংলাদেশ খাবারের মাধ্যমে ভিটামিন-এ পৌঁছে দিতে ভোজ্যতেল সমৃদ্ধকরণের পথও নিয়েছে। জার্নাল অব নিউট্রিশনাল সায়েন্সের পর্যালোচনা অনুযায়ী, দেশে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে ভোজ্যতেলে ভিটামিন-এ যোগ করা শুরু হয় এবং তখন ২২টি শোধনাগারের ১৬টি ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ তেল উৎপাদন করত। পরে 'ভোজ্যতেলে ভিটামিন এ সমৃদ্ধকরণ আইন, ২০১৩' (২০১৩ সালের ৬৫ নম্বর আইন) পরিশোধিত ভোজ্যতেলে ভিটামিন-এ বাধ্যতামূলক করে। বিবিসি বাংলা জানায়, ভিটামিন-এ ছাড়া ভোজ্যতেল বাজারজাত করলে আইনে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
আইনের প্রয়োগে ঘাটতির কথাও আগে উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ঢাকার বিএমএ ভবনে প্রজ্ঞা ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের এক কর্মশালায় বক্তারা আইসিডিডিআর,বির ২০১৭ সালের একটি গবেষণা তুলে ধরেন, যা দৈনিক ইত্তেফাক প্রকাশ করে। তাতে দেখা যায়, দেশের মোট ভোজ্যতেলের ৬৫ শতাংশ ড্রামে বিক্রি হয়; এর ৫৯ শতাংশে কোনো ভিটামিন-এ নেই, ৩৪ শতাংশে সঠিক মাত্রায় নেই, আর মাত্র ৭ শতাংশ খোলা তেলে আইনে নির্ধারিত ন্যূনতম মাত্রা পাওয়া যায়। বক্তারা জানান, শিল্প মন্ত্রণালয় ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর ড্রামে খোলা সয়াবিন তেল এবং ডিসেম্বরের পর খোলা পাম তেল বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দিলেও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। ২০২৫ সালের নভেম্বরে একই বিষয়ে আরেক কর্মশালায়ও ড্রামে তেল বিক্রি চলতে থাকার কথা বলা হয়, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর জানায়। ওই কর্মশালায় আরও বলা হয়, আলোয় ভিটামিন-এ দ্রুত নষ্ট হয়, তাই অস্বচ্ছ বোতলে তেল রাখা জরুরি।

কর্মসূচির পেছনের প্রতিষ্ঠানগুলো
জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, যা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে কাজ করে এবং দেশের জাতীয় পুষ্টিসেবা কার্যক্রমও এর আওতায় চলে। ইউনিসেফের ২০২০ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকার প্রতিবছর দুটি জাতীয় ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন করে এবং ইউনিসেফ এতে সহায়তা দেয়। ক্যাপসুল খাওয়ানো হয় ইপিআইয়ের নিয়মিত টিকাকেন্দ্রে, যেখানে শিশুরা নিয়মিত টিকাও পায়।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) ২০১৯-২০ সালের জাতীয় অনুপুষ্টিকণা জরিপে সরকারের সঙ্গে যুক্ত ছিল; জরিপের প্রধান গবেষক ছিলেন এর বিজ্ঞানী। বিবিসি বাংলা জানায়, ২০১৯-২০ সালের জরিপের ফল প্রকাশ অনুষ্ঠান আয়োজনে আইসিডিডিআর,বি ও জাতীয় পুষ্টি কর্মসূচির সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনালসহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ছিল। ২০২৬ সালের জুনে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে প্রশ্ন ছিল একটাই: ১৪ মাসের বিরতির পর কবে আবার দেশের প্রায় আড়াই কোটি শিশুর কাছে ক্যাপসুল পৌঁছাবে।
ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বিবিসি বাংলা, ইউএনবি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর, প্রথম আলো, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ বাংলাদেশ, দেশ রূপান্তর, দৈনিক ইনকিলাব, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, দৈনিক ইত্তেফাক, জার্নাল অব নিউট্রিশনাল সায়েন্স, কমিউনিটি আই হেলথ জার্নাল, মেডলাইনপ্লাস, ইউএনইপি আইন তথ্যভান্ডার




মন্তব্য
(০)