যুক্তরাষ্ট্রের ৫৭ শতাংশ মানুষ মনে করেন, কোনো খাবার একই সঙ্গে অতি-প্রক্রিয়াজাত (আল্ট্রা-প্রসেসড) ও স্বাস্থ্যকর হতে পারে না। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের (এএইচএ) পক্ষে দ্য হ্যারিস পোলের দুই হাজার মানুষের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে গ্রিন কুইন। মার্কিনিদের খাদ্যশক্তির ৫৫ শতাংশ আর শিশুদের ৬৭ শতাংশ আসে এ ধরনের খাবার থেকে।
জরিপে ৯০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের কথা শুনেছেন, কিন্তু খুব ভালোভাবে জানেন মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। তবু ৭২ শতাংশ বলছেন, কোনো খাবার অতি-প্রক্রিয়াজাত কি না তা তাঁরা নিশ্চিতভাবে চিনতে পারেন। কোন বৈশিষ্ট্যে খাবার অতি-প্রক্রিয়াজাত হয়, এ প্রশ্নে ৩৮ শতাংশ বলেছেন কৃত্রিম উপাদান, রং বা দুর্বোধ্য নামের উপকরণ, ২৩ শতাংশ ভারী শিল্প-প্রক্রিয়া, আর মাত্র ১৫ শতাংশ বলেছেন বেশি চিনি, লবণ বা চর্বির জাংক ফুড। ৫৪ শতাংশ মনে করেন সাধারণ প্রক্রিয়াজাত খাবার সব সময়ই অতি-প্রক্রিয়াজাতের চেয়ে ভালো, আর ৮৩ শতাংশের মতে প্রাকৃতিক খাবারই সেরা।
এই বোঝাপড়ার ফাঁক দেখিয়ে এএইচএ অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের সরকারি সংজ্ঞা প্রকাশে চাপ দিচ্ছে। সংস্থাটির অভিযোগ, "শিল্পের স্বার্থের" বিরোধিতায় সংজ্ঞাটি মাসের পর মাস খসড়ায় পড়ে আছে। শব্দটি এসেছে ২০০৯ সালের নোভা শ্রেণিবিন্যাস থেকে, যেখানে কোমল পানীয় ও চিপসের সঙ্গে আটার রুটি বা পুষ্টি-সমৃদ্ধ সয়া দুধও এক দলে পড়ে। তাই অনেক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ একে অতি বিস্তৃত বলে সমালোচনা করেন।
এএইচএ নিজে যতটা সম্ভব কম প্রক্রিয়াজাত উপকরণ বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেয়, তবে সব অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারকে ক্ষতিকর ভাবতে নিষেধও করেছে। সংস্থাটির মতে, উদ্ভিদভিত্তিক মাংসের মতো বেশি আঁশযুক্ত কিছু পণ্য স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়া, অ্যারিজোনা ও ভার্জিনিয়াসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য স্কুলের খাবার থেকে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার ধাপে ধাপে বাদ দিচ্ছে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন অনয় মৃদুল।
ছবি: Wilfredor / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Green Queen



মন্তব্য
(০)