সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুকুরে গোসলে নেমে দুই শিশুর মৃত্যু

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সিদলাই ইউনিয়নের পোমকাড়া গ্রামে ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই বাড়ির পাশের পুকুরে গোসলে নেমে আট বছর বয়সী দুই চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুকুরে গোসলে নেমে দুই শিশুর মৃত্যু
স্বাস্থ্য

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সিদলাই ইউনিয়নের পোমকাড়া গ্রামে ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই, বুধবার, পুকুরে গোসল করতে নেমে আট বছর বয়সী দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা একই পরিবারের, সম্পর্কে চাচাতো ভাই। জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে দুপুর ২টার দিকে। দুজনকে পানি থেকে তুলে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন জাগো নিউজের কাছে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এবং দৈনিক ইনকিলাবও সেদিন একই ঘটনার খবর দেয়। গ্রাম, ইউনিয়ন, শিশুদের বয়স ও হাসপাতালের বিষয়ে সব প্রতিবেদনের বিবরণ মিলে যায়। পরিবারের প্রতি সম্মান রেখে এই প্রতিবেদনে শিশু দুটির নাম প্রকাশ করা হলো না।

যেভাবে পানিতে তলিয়ে যায় দুই শিশু


শিশু দুটির চাচা জাগো নিউজকে যে বিবরণ দেন, সে অনুযায়ী দুপুরে দুই চাচাতো ভাই এবং তার নিজের ছেলে, তাদেরই সমবয়সী আরেকটি শিশু, বাড়ির পাশে খেলাধুলা শেষে পাশের পুকুরে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে দুই চাচাতো ভাই পানিতে তলিয়ে যায়। তৃতীয় শিশুটি গিয়ে পরিবারকে খবর দেয়। স্বজন ও প্রতিবেশীরা দ্রুত পুকুরে ছুটে গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

কুমিল্লা (উত্তর) ডেটলাইনে পাঠানো প্রতিবেদনে বাসসও স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রায় একই বিবরণ দেয়। বাসস লিখেছে, তিন শিশু বাড়ির পাশের একটি পুকুরে গোসল করতে যায়। দুই চাচাতো ভাই পানিতে ডুব দেওয়ার পর আর ওপরে না উঠলে সঙ্গে থাকা তৃতীয় শিশুটি চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডাকতে থাকে। চিৎকার শুনে স্থানীয় এক বাসিন্দা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পুকুরে নেমে দুই শিশুকে তুলে আনেন। পরে স্বজন ও স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর অবস্থায় তাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। বাসস জানায়, একসঙ্গে দুই শিশুর মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

একই দিন বিকেল ৫টা ৩৮ মিনিটে প্রকাশিত দৈনিক ইনকিলাবের ব্রাহ্মণপাড়া প্রতিবেদনে জলাশয়টিকে বাড়ির পাশের একটি ডোবা বলা হয়েছে এবং লেখা হয়েছে, ডোবার পাশে খেলার সময় শিশু দুটি পানিতে পড়ে তলিয়ে যায়। এই অংশটি জাগো নিউজ ও বাসসের বিবরণ থেকে আলাদা; ওই দুই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুরা গোসল করতে নেমেছিল। তিন প্রতিবেদনেই একমত যে স্বজন ও প্রতিবেশীরা দুজনকে পানি থেকে তুলে আনেন এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাদের মৃত্যু হয়। ইনকিলাব লিখেছে, পুরো এলাকায় শোকের মাতম চলছে; পরিবারটির কাছে যাওয়া এক স্থানীয় জনপ্রতিনিধির বরাতে পত্রিকাটি জানায়, গ্রামটি গভীর শোকে আচ্ছন্ন।

চিকিৎসক ও পুলিশ যা বলেছেন


ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. জ্যোতি প্রকাশ বিশ্বাস বাসসকে বলেন, পানিতে ডুবে যাওয়া দুই শিশুকে হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ইনকিলাবকেও তিনি একই কথা জানান: হাসপাতালে পৌঁছানোর সময়ই শিশু দুটি মৃত ছিল।

ওসি মো. ফারুক হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে পুলিশ অবগত রয়েছে। এ ব্যাপারে কারো অভিযোগ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। ইনকিলাবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি জানান যে পরিবারের অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ডিএমএ মজিদ বাসসকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে মৃত শিশুদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে এবং পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে এটি পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা বলে জানা গেছে।

ব্রাহ্মণপাড়া: নদী, খাল আর বিলের উপজেলা


ব্রাহ্মণপাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা জেলার ১৬টি উপজেলার একটি। বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, উপজেলার আয়তন ১২৮.৪৮ বর্গকিলোমিটার, অবস্থান ২৩°৩৫' থেকে ২৩°৪৪' উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে। এর উত্তরে কসবা ও মুরাদনগর উপজেলা, দক্ষিণে বুড়িচং, পূর্বে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য ও কসবা, আর পশ্চিমে দেবীদ্বার ও মুরাদনগর। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে উপজেলার জনসংখ্যা ছিল ২,০৪,৬৯১ জন: পুরুষ ৯৭,৪৩৪ এবং নারী ১,০৭,২৫৭ জন।

উপজেলায় আটটি ইউনিয়ন রয়েছে: চান্দলা, দুলালপুর, ব্রাহ্মণপাড়া, মাধবপুর, মালাপাড়া, শশীদল, সাহেবাবাদ এবং সিদলাই। পোমকাড়া গ্রামটি সিদলাই ইউনিয়নে। এই জনপদের ভূপ্রকৃতিতে পানির উপস্থিতি সর্বত্র। বাংলাপিডিয়া উপজেলার নদী হিসেবে গোমতী, বুড়ি, সালদা ও ঘুংগুরের নাম উল্লেখ করেছে; আছে বড় খাল এবং কয়েকটি বিল, অর্থাৎ বাংলার সমভূমির নিচু জলাভূমি, যেমন পাল্লার বিল, মকিমপুর গো-বক বিল এবং জামতলীর বারনী বিল। উপজেলার প্রধান ফসল ধান, সরিষা, আলু, পান ও শাকসবজি।

বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, এলাকাটি একসময় কসবা থানার অংশ ছিল এবং ১৯৫৪ সালে বুড়িচং থানার অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৬৮ সালে এখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপিত হয় এবং ১৯৮৩ সালে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় উন্নীত হয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় এলাকাটি ২ নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল। উপজেলায় একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে, যে সরকারি হাসপাতালে শিশু দুটিকে নেওয়া হয়েছিল; এ ছাড়া আছে তিনটি স্যাটেলাইট ক্লিনিক। উপজেলার গড় সাক্ষরতার হার ৫৪.৭ শতাংশ; পুরুষদের মধ্যে ৫৬.২ শতাংশ এবং নারীদের মধ্যে ৫৩.৫ শতাংশ।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরের পৌর এলাকা, ২০১৯ সালে তোলা। ছবি: CAPTAIN RAJU / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরের পৌর এলাকা, ২০১৯ সালে তোলা। ছবি: CAPTAIN RAJU / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, কুমিল্লা জেলার আয়তন ৩,০৩৪.৭৪ বর্গকিলোমিটার। জেলার উত্তরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জ, দক্ষিণে নোয়াখালী ও ফেনী, পূর্বে ত্রিপুরা এবং পশ্চিমে মুন্সীগঞ্জ ও চাঁদপুর জেলা। বাংলাপিডিয়ায় জেলার জনসংখ্যা দেওয়া আছে ৫১,৭৭,১০৬ জন। প্রধান নদী মেঘনা, গোমতী, ডাকাতিয়া, ছোট ফেনী ও বুড়ি; আর পরিবারের আয়ের সবচেয়ে বড় একক উৎস কৃষি, ৪৭.৩১ শতাংশ। ১৭৯০ সালে টিপেরা নামে জেলাটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৬০ সালে এর নাম হয় কুমিল্লা; ১৯৮৪ সালে চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমা আলাদা জেলা হয়।

কুমিল্লায় গোমতী নদী। এই নদী ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ভেতর দিয়েও বয়ে গেছে। ছবি: Shahidul Hasan Roman / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
কুমিল্লায় গোমতী নদী। এই নদী ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ভেতর দিয়েও বয়ে গেছে। ছবি: Shahidul Hasan Roman / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)

একই উপজেলায় এর আগের ঘটনা


সে বছর ব্রাহ্মণপাড়ায় পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর ঘটনা এটিই প্রথম ছিল না। দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৫ জুন, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে উপজেলার আরেক ইউনিয়ন মাধবপুরের বাদানী গ্রামে দুই বছর বয়সী একটি ছেলেশিশু পরিবারের অগোচরে বাড়ির পাশের খালে পড়ে যায়। তাকে তুলে দ্রুত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উদ্দিন পত্রিকাটিকে বলেন, এই মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দুটি ঘটনাতেই সেই চিত্র দেখা যায়, যা বাংলাদেশের আঘাতজনিত মৃত্যু নিয়ে গবেষকেরা বহু বছর ধরে বর্ণনা করে আসছেন: দিনের বেলা, বাড়ির কাছের পানিতে, এমন মুহূর্তে শিশু বিপদে পড়ে যখন কোনো বড় মানুষ তাকে দেখছেন না; আর চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যু ঘটে যায়।

বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ পানিতে ডোবা


বাংলাদেশে পানিতে ডুবে মৃত্যু সম্পর্কে যা জানা যায়, তার বড় অংশ এসেছে বাংলাদেশ হেলথ অ্যান্ড ইনজুরি সার্ভে (বিএইচআইএস) থেকে। এটি দেশজুড়ে পরিচালিত একটি খানা জরিপ, যা ২০০৫ সালে এবং আবার ২০১৬ সালে করা হয়। ২০০৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত ঢাকাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধের কাজে দুটি জরিপের তথ্যই ব্যবহার করেছে।

সিআইপিআরবি ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের গবেষকদের লেখা, ২০১৯ সালে বিএমজে ওপেন সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে ২০১৬ সালের জরিপের বরাতে বলা হয়েছে, ১ থেকে ৪ এবং ৫ থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুদের আঘাতজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ পানিতে ডোবা। প্রতিদিন ০ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় ৪০টি শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়, যা সব ধরনের আঘাতজনিত মৃত্যুর মধ্যে সর্বোচ্চ। এর বাইরে প্রতিদিন প্রায় ১৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষও পানিতে ডুবে মারা যান। নারী-পুরুষ মিলিয়ে দেশে পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার ছিল বছরে প্রতি লাখে ১১.৭ জন। সবচেয়ে কম বয়সীদের মধ্যে এই হার সবচেয়ে বেশি: এক বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে প্রতি লাখে ৫৩.৩, ১ থেকে ৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৭১.৭ এবং ৫ থেকে ৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ২৮.১। পোমকাড়ার দুই শিশু ছিল শেষোক্ত বয়সসীমার।

একই গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০০৫ সালের জরিপে ১ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে পানিতে ডোবাকে চিহ্নিত করা হয়েছিল; তখন বছরে প্রায় ১৭ হাজার শিশু পানিতে ডুবে মারা যেত। গবেষণাপত্রে আরও বলা হয়, ২০১১ সালের বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ অনুযায়ী ১ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের সব মৃত্যুর মধ্যে পানিতে ডোবার অংশ ২০০৪ সালের ১৯.০ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১১ সালে ৪৩.০ শতাংশ হয়।

সিআইপিআরবি শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুকে একটি "নীরব মহামারি" বলে বর্ণনা করে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বাংলাদেশে গড়ে প্রতিদিন ৫০ জন মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়, যাদের মধ্যে ৪০ জনই শিশু। ২০০৫ সাল থেকে চালানো তাদের গবেষণা দেখায়, এসব মৃত্যু প্রতিরোধে স্থানীয় ও কম খরচের উপায় রয়েছে: পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক তত্ত্বাবধান, পানি বিষয়ে নিরাপত্তা শিক্ষা, জলাশয়ের চারপাশে প্রতিবন্ধক বা বেড়া এবং প্রশিক্ষিত কমিউনিটি সাঁতার প্রশিক্ষকের মাধ্যমে সাঁতার শেখানো।

ঝুঁকি কোথায় ও কখন সবচেয়ে বেশি


পানিতে ডুবে মৃত্যু কীভাবে ঘটে, তা খুঁটিয়ে দেখতে সিআইপিআরবির গবেষকেরা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে একটি খানা জরিপ চালান, যার ফল ২০১৯ সালে বিএমজে ওপেনে প্রকাশিত হয়। জাতীয় জরিপে বরিশাল বিভাগ পানিতে ডুবে মৃত্যুর দিক থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় এই বিভাগকে বেছে নেওয়া হয়। জরিপে দুই বছরের স্মৃতিনির্ভর সময়সীমায় পানিতে ডুবে ২৮৫টি মৃত্যু পাওয়া যায়; সামগ্রিক হার ছিল বছরে প্রতি লাখে ৩৭.৯ জন, যা জাতীয় হারের প্রায় তিন গুণ।

মৃত্যুর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ঘটেছে বাড়ি থেকে ১০০ মিটারের মধ্যে, আর তিন-চতুর্থাংশের বেশি ঘটেছে পুকুর ও ডোবায়। অর্ধেকের বেশি, ৫৬.০ শতাংশ, ঘটেছে এমন খোলা জলাশয়ে, যা পরিবারগুলো গোসল ও কাপড় ধোয়ার কাজে ব্যবহার করত। প্রায় সব মৃত্যুই ঘটেছে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে, এবং ৬৩.০ শতাংশ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে। ১ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ৫৮ শতাংশ মৃত্যু ঘটেছে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে। মৃত্যু সবচেয়ে বেশি ছিল জুন ও সেপ্টেম্বরে; এই দুই মাস মিলিয়ে মোট মৃত্যুর ২৩.৭ শতাংশ।

মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের ঝুঁকি বেশি ছিল: পুরুষদের মধ্যে হার বছরে প্রতি লাখে ৪৮.২, নারীদের মধ্যে ২৭.৯। শহরের তুলনায় গ্রামের মানুষের ঝুঁকিও বেশি, ৩৮.৯ বনাম ২৯.৩। যারা পানিতে ডুবে মারা গেছে, তাদের ৬২.৩ শতাংশ ঘটনার সময় একা ছিল, সঙ্গে কোনো বড় মানুষ ছিল না। গবেষকেরা তত্ত্বাবধানের অভাবকে একটি বড় ঝুঁকির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং উল্লেখ করেন, শিশুরা প্রায়ই ভাইবোনদের সঙ্গে বা একা থাকত। যেসব খানায় চার বা তার বেশি শিশু আছে, সেখানে পানিতে ডুবে মৃত্যুর সম্ভাবনা বেশি পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলার একটি গ্রামের পুকুর, পটভূমি হিসেবে দেওয়া: বাড়ির পাশের এমন পুকুরেই দেশে বেশির ভাগ শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলার একটি গ্রামের পুকুর, পটভূমি হিসেবে দেওয়া: বাড়ির পাশের এমন পুকুরেই দেশে বেশির ভাগ শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ২০২৬ সালের ১ মে তারিখের পানিতে ডোবা বিষয়ক তথ্যপত্রে বিশ্বজুড়ে একই ঝুঁকির কথা বলেছে। সংস্থাটি বলছে, ঝুঁকি বোঝার সক্ষমতা পুরোপুরি গড়ে না ওঠায় ছোট শিশুরা বিশেষভাবে ঝুঁকিতে থাকে, এবং বড়দের সক্রিয় নজরদারির বাইরে শিশুরা পানির সংস্পর্শে এলে ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। গোসল ও কাপড় ধোয়ার জন্য পুকুর, নদী ও হ্রদের দৈনন্দিন ব্যবহারকে ডব্লিউএইচও পানির সংস্পর্শে আসার একটি পথ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং বলেছে, পানিতে ডুবে মৃত্যু দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষকে অসমভাবে বেশি আঘাত করে। ডব্লিউএইচও আরও জানায়, পুরুষদের মধ্যে পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার নারীদের দ্বিগুণেরও বেশি।

বিশ্ব পরিস্থিতি


ডব্লিউএইচও পানিতে ডোবার সংজ্ঞা দিয়েছে এভাবে: তরলে নিমজ্জিত বা ডুবে থাকার কারণে শ্বাসপ্রশ্বাসে বিঘ্ন ঘটার প্রক্রিয়া। সংস্থার তথ্যপত্র অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৩ লাখ মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়, যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। ১ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর চতুর্থ প্রধান কারণ এবং ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের তৃতীয় প্রধান কারণ পানিতে ডোবা। পানিতে ডুবে মৃত্যুর ৯২ শতাংশ ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে, এবং বিশ্বের মোট মৃত্যুর অর্ধেকের বেশি ঘটে ডব্লিউএইচওর পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলে। ০ থেকে ২৯ বছর বয়সী শিশু ও তরুণেরা এসব মৃত্যুর ৫৭ শতাংশ, আর বন্যাজনিত দুর্যোগে মৃত্যুর ৭৫ শতাংশই ঘটে পানিতে ডুবে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ডব্লিউএইচও পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ বিষয়ে তাদের প্রথম বৈশ্বিক পরিস্থিতি প্রতিবেদন (গ্লোবাল স্ট্যাটাস রিপোর্ট অন ড্রাউনিং প্রিভেনশন) প্রকাশ করে, যা ১৩৯টি দেশ ও অঞ্চলের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, ২০২১ সালে প্রায় ৩ লাখ মানুষ পানিতে ডুবে মারা গেছে, অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় ৩০ জনের বেশি; আর ২০০০ সালের পর থেকে বিশ্বে পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার ৩৮ শতাংশ কমেছে। প্রবণতা অপরিবর্তিত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে ৭২ লাখের বেশি মানুষ, যাদের বেশির ভাগই শিশু, পানিতে ডুবে মারা যেতে পারে বলে সংস্থাটি সতর্ক করে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৭৩ শতাংশ দেশে অনুসন্ধান ও উদ্ধার সেবা থাকলেও মাত্র ৩৩ শতাংশ দেশ সাধারণ মানুষকে নিরাপদ উদ্ধার ও পুনরুজ্জীবন (রিসাসিটেশন) প্রশিক্ষণ দেয়, আর মাত্র ২২ শতাংশ দেশ স্কুলের পাঠ্যক্রমে সাঁতার ও পানি-নিরাপত্তা রেখেছে। সে সময় ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিজ বাংলাদেশ, ঘানা, ভারত, উগান্ডা, যুক্তরাষ্ট্র ও ভিয়েতনামে পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে অতিরিক্ত ৬ কোটি মার্কিন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশ। ২০২১ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ বিষয়ে প্রথম প্রস্তাব গ্রহণ করে এবং ২৫ জুলাইকে বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস ঘোষণা করে। সিআইপিআরবি জানায়, প্রস্তাবটি উত্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিল বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ড, আর এতে সহ-পৃষ্ঠপোষক ছিল ৭৯টি দেশ। ২০২৩ সালের মে মাসে ৭৬তম বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিষদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত কার্যক্রম জোরদারে আরেকটি প্রস্তাব গ্রহণ করে; এর আওতায় ডব্লিউএইচও পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে একটি বৈশ্বিক জোট (গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ড্রাউনিং প্রিভেনশন) গঠনের অঙ্গীকার করে।

শিশুদের পানিতে ডোবা ঠেকাতে যা কাজ করে


ডব্লিউএইচও বলছে, সরকারগুলোকে প্রমাণিত প্রতিরোধ ব্যবস্থাগুলো জোরদার করতে হবে। সংস্থার তথ্যপত্রে কার্যকর প্রমাণিত ব্যবস্থাগুলো হলো:

  • পানিতে যাওয়ার পথে প্রতিবন্ধক, যেমন কুয়ার মুখ ঢেকে রাখা, দরজায় বাধা ও শিশুদের খেলার ঘেরা জায়গা (প্লেপেন), এবং সুইমিং পুলের চারপাশে বেড়া;
  • প্রাক-বিদ্যালয় বয়সী শিশুদের জন্য তত্ত্বাবধানে পরিচালিত কমিউনিটি শিশুযত্ন কেন্দ্র;
  • কঠোর নিরাপত্তা মান মেনে স্কুলগামী শিশুদের প্রাথমিক সাঁতার, পানি-নিরাপত্তা ও নিরাপদ উদ্ধারের কৌশল শেখানো;
  • নৌযান, জাহাজ ও ফেরি চলাচলে নিরাপত্তা বিধিমালা;
  • দুর্যোগ প্রস্তুতি, ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা ও আগাম সতর্কবার্তার মাধ্যমে বন্যা মোকাবিলার সক্ষমতা গড়ে তোলা;
  • একটি জাতীয় পানি-নিরাপত্তা কৌশল।

ডব্লিউএইচওর একটি বিনিয়োগ বিশ্লেষণে প্রাক্কলন করা হয়েছে, এর মধ্যে মাত্র দুটি ব্যবস্থা, প্রাক-বিদ্যালয় শিশুদের দিবাযত্ন এবং প্রাথমিক সাঁতার প্রশিক্ষণ, ব্যাপকভাবে চালু করা গেলে ২০৫০ সালের মধ্যে ৭ লাখ ৭৪ হাজার শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যু এবং ১ লাখ ৭৮ হাজার গুরুতর অপ্রাণঘাতী আঘাত ঠেকানো সম্ভব।

বাংলাদেশে এই ধারণাগুলো বাস্তবে প্রয়োগ করতে সিআইপিআরবি দুটি কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচি তৈরি করেছে। প্রথমটি আঁচল, একটি কমিউনিটি দিবাযত্ন কেন্দ্র। একটি আঁচলে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ১ থেকে ৫ বছর বয়সী ২০ থেকে ২৫টি শিশুকে দেখাশোনা করা হয়। এই সময়েই মা-বাবা সবচেয়ে ব্যস্ত থাকেন এবং ছোট শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। কেন্দ্রে শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ দেওয়া হয় এবং নিয়মিত তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ পর্যবেক্ষণ করা হয়। স্থানীয় নারীরা, যাদের আঁচল মা বলা হয়, সহকারীদের নিয়ে কম খরচে, স্থানীয়ভাবে পাওয়া উপকরণ দিয়ে কেন্দ্রগুলো চালান। সিআইপিআরবি জানায়, এক গবেষণায় দেখা গেছে আঁচল পানিতে ডুবে মৃত্যু থেকে ৮০ শতাংশের বেশি সুরক্ষা দেয়।

দ্বিতীয়টি সুইমসেফ, যার মাধ্যমে ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের, অর্থাৎ পোমকাড়ার দুই শিশুর বয়সসীমার শিশুদের, টিকে থাকার মতো সাঁতার শেখানো হয়। প্রশিক্ষিত কমিউনিটি সাঁতার প্রশিক্ষকেরা বিশেষভাবে প্রস্তুত করা পুকুরে ১৫ থেকে ২৫টি শিশুর একেকটি দলকে শেখান, যার অর্ধেক মেয়ে। পানিতে সাধারণত একজন প্রশিক্ষক পাঁচটি শিশুকে দেখেন, আর প্রতিবন্ধী শিশুর ক্ষেত্রে একজন প্রশিক্ষক একজন শিশুকে। দুই সপ্তাহে শিশুরা ২১টি দক্ষতা শেখে: পানির সঙ্গে পরিচিত হওয়া, ভেসে এগোনো, পানির নিচে শ্বাস ছাড়া, পা ছোড়া, ভেসে থাকা এবং ডাঙা থেকে উদ্ধার। কোর্স শেষ করতে একটি শিশুকে ২৫ মিটার সাঁতার কাটতে, ৩০ সেকেন্ড ভেসে থাকতে এবং ডাঙা থেকে উদ্ধারের কৌশল দেখাতে হয়। সিআইপিআরবির ভাষ্য, সুইমসেফ ৯৬ শতাংশ সুরক্ষা দেয় বলে দেখা গেছে এবং ডব্লিউএইচও এখন এটি সুপারিশ করে। প্রতিষ্ঠানটির ফার্স্ট রেসপন্ডার কর্মসূচিতে কমিউনিটির স্বেচ্ছাসেবকদের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যার মধ্যে আছে আহত ব্যক্তির সাড়া, শ্বাসনালি, শ্বাসপ্রশ্বাস ও রক্তসঞ্চালন যাচাই এবং কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর)-সহ প্রাথমিক জীবনরক্ষা সহায়তা।

পরিবারগুলোর জন্য ডব্লিউএইচও ও সিআইপিআরবির পরামর্শ কয়েকটি বিষয়ে এসে দাঁড়ায়: বড় কেউ সক্রিয়ভাবে নজর না রাখলে ছোট শিশুদের পুকুর, ডোবা বা অন্য কোনো পানির কাছে থাকতে দেওয়া উচিত নয়; বাড়ির কাছের কুয়া ও জলাশয় ঢেকে বা বেড়া দিয়ে রাখা যায়; স্কুলগামী শিশুদের সাঁতার শেখা এবং নিজে পানিতে না নেমে পাড় থেকে উদ্ধারের কৌশল জানা দরকার; আর প্রাথমিক চিকিৎসা দেবেন এ বিষয়ে প্রশিক্ষিত মানুষ। শিশুর নিরাপত্তা বা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে কাছের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনে নেওয়া যায়।

শিশুযত্ন ও সাঁতার শেখানোর সরকারি প্রকল্প


২০২২ সালে সরকার বড় পরিসরে সিআইপিআরবির এই মডেল গ্রহণ করে। ২০২২ সালের ১২ জুন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ শিশু একাডেমি শিশুযত্ন, সুরক্ষা ও সাঁতার সুবিধার জন্য সমাজভিত্তিক সমন্বিত কেন্দ্র প্রকল্পের (ইংরেজি নাম ইন্টিগ্রেটেড কমিউনিটি বেজড সেন্টার ফর চাইল্ড কেয়ার, প্রটেকশন অ্যান্ড সুইম-সেফ ফ্যাসিলিটিজ) যাত্রা শুরু করে। এতে কারিগরি সহযোগী সিআইপিআরবি, আর উন্নয়ন সহযোগী যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউশন (আরএনএলআই) ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিজ। সিআইপিআরবির নিউজলেটার অনুযায়ী, তিন বছরে ১৬ জেলার ৪৫টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা ছিল; ৮ হাজার শিশুযত্ন কেন্দ্রে ২ লাখ শিশুর দেখাশোনা এবং ৩ লাখ ৬০ হাজার শিশুকে টিকে থাকার মতো সাঁতার শেখানোর লক্ষ্য ছিল। মা-বাবা ও কমিউনিটির সচেতনতা বাড়ানোও ছিল এর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস প্রকল্পের ব্যয় জানায় ২,৭১০ মিলিয়ন টাকা।

প্রথম আলো ২০২৬ সালের ২৮ মে জানায়, প্রকল্পের প্রথম পর্যায় চলে ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত; এ সময় ৮,০২০টি কমিউনিটি শিশুযত্ন কেন্দ্রে ১ থেকে ৫ বছর বয়সী প্রায় ২ লাখ ৫০০ শিশু ভর্তি হয়। কেন্দ্রগুলো সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত খোলা থাকে, আর প্রতিটি কেন্দ্র ২৫টি শিশুর জন্য তৈরি। প্রকল্পের মূল্যায়ন প্রতিবেদনের বরাতে পত্রিকাটি জানায়, ৮০০টি সাঁতার কেন্দ্রে ৩ লাখ ৬০ হাজার শিশুকে সাঁতার শেখানো হয়েছে। মূল্যায়নে দুর্বলতাও ধরা পড়ে: পরিদর্শন করা ৪০২টি শিশুযত্ন কেন্দ্রের ৯৬ শতাংশ চালু থাকলেও মাত্র ১৩ শতাংশ ২৫০ বর্গফুটের ন্যূনতম জায়গার মান পূরণ করেছে এবং ১৪ শতাংশে প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স ছিল; পরিদর্শন করা ৮১টি সাঁতার কেন্দ্রের ৮৫ শতাংশে পুকুরের চারপাশে পূর্ণ বেড়া ছিল, আর প্রায় ৪৭ শতাংশে ভেসে থাকার সরঞ্জাম ছিল না। ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্টের আলাদা এক মূল্যায়নে দেখা যায়, কেন্দ্রে আসা শিশুরা যোগাযোগ, শোনা, সমস্যা সমাধান এবং ব্যক্তিগত-সামাজিক বিকাশে ভালো করেছে।

পোমকাড়ার ঘটনার দিন, ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই, দ্য ডেইলি স্টার জানায়, প্রথম পর্যায় শেষ হওয়ার পর গত ডিসেম্বর থেকে প্রকল্পের শিশুযত্ন কেন্দ্রগুলো বন্ধ রয়েছে, আর ৮৩৮ কোটি টাকার নতুন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। প্রস্তাব অনুযায়ী কার্যক্রম ৩০ জেলার ৭৯টি উপজেলায় সম্প্রসারিত হবে, ১৩ হাজারের বেশি কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ ৬ হাজার শিশুর কাছে পৌঁছানো হবে এবং শিশু পরিচর্যাকারীদের মাসিক ভাতা ৪ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হবে। প্রকল্প ব্যবস্থাপক তারিকুল ইসলাম চৌধুরী পত্রিকাটিকে বলেন, প্রকল্প অনুমোদন পেলে বিদ্যমান কেন্দ্রগুলো আবার চালু করাই হবে প্রথম অগ্রাধিকার। প্রকল্পের কোনো কেন্দ্র ব্রাহ্মণপাড়ায় ছিল কি না, সেসব প্রতিবেদনে তা বলা হয়নি।

ছবি: মো: সাইফুল ইসলাম (রয়েল) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), দৈনিক ইনকিলাব, বাংলাপিডিয়া, বিএমজে ওপেন, সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

স্বাস্থ্য

সম্পর্কিত খবর

বিশ্ব

ভালো ফসলের বছরেও আফগানিস্তানে শীতে তীব্র খাদ্যসংকটে পড়বে ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ

অনুকূল বৃষ্টি ও ভালো ফসলের পরও নভেম্বর-এপ্রিলে আফগানিস্তানের ৩৮ শতাংশ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এফএও ও ডব্লিউএফপি; গত বছর একই সময়ের পূর্বাভাস ছিল ১ কোটি ৭৪ লাখ।

ডব্লিউএফপি১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
স্বাস্থ্য

ক্যানসার অস্ত্রোপচারের রোগীর পুষ্টিসেবায় বৈশ্বিক নির্দেশিকা তৈরির উদ্যোগ

ওয়ার্ল্ড সোসাইটি অব সার্জিক্যাল অনকোলজি ও নেসলে বিশ্বের ১৫ জন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞকে নিয়ে ক্যানসার অস্ত্রোপচারের আগে-পরে রোগীর অপুষ্টি শনাক্ত ও পুষ্টি সহায়তার বাস্তবসম্মত নির্দেশিকা তৈরি করবে।

FoodNavigator১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)