সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

মাগুরার মহম্মদপুরে মুকুলে ভরে গেছে আম গাছ, ভালো ফলনের আশায় কৃষক

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার আম গাছগুলো মুকুলে ছেয়ে যায়। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এবং পোকামাকড় ঠেকানো গেলে ভালো ফলনের আশা করছিলেন কৃষকেরা।

মাগুরার মহম্মদপুরে মুকুলে ভরে গেছে আম গাছ, ভালো ফলনের আশায় কৃষক
ফল

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার আম বাগানগুলো মুকুলে ভরে ওঠে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে সে বছর ভালো ফলনের আশা করছিলেন সেখানকার কৃষকেরা। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি, ফাল্গুন মাসে, জাগো নিউজ ২৪ জানায়, বসন্তের ছোঁয়ায় উপজেলার আম গাছের ডালে ডালে মুকুল দেখা দিয়েছে এবং শীতের পর বাগানগুলোতে যেন প্রাণ ফিরেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উপজেলার বিভিন্ন আম বাগান ঘুরে দেখা গেছে, সে বছর আমের ভালো ফলনের সম্ভাবনা আছে। তবে এলাকার অনেক কৃষকের এ সময়ে বাগানের সঠিক পরিচর্যার অভিজ্ঞতা কম। তবুও ভালো ফলনের জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা চালাচ্ছিলেন তারা। এই সময়টিকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় এক কৃষি কর্মকর্তা মনে করিয়ে দেন, মুকুল আসা থেকে গুটি ধরা পর্যন্ত কয়েক সপ্তাহেই মৌসুমের অনেকটা নির্ধারিত হয়ে যায়, এবং কৃষি কর্মকর্তারা যে চার ধাপে স্প্রে করার পরামর্শ দেন তা তুলে ধরেন।

মহম্মদপুরের বাগানে যা দেখা গেছে


বাগান মালিকেরা পত্রিকাটিকে বলেন, চারপাশে যেদিকে তাকানো যায় সেদিকেই মুকুল, এবং তারা আশা করছেন সে বছর ফলন খুবই ভালো হবে। আবহাওয়া তখনো অনুকূলে থাকায় কৃষকদের চোখে-মুখে ছিল আশার আলো। তবে কী কী বিপদ আসতে পারে, সে বিষয়েও তারা সচেতন ছিলেন: আম বাজারে পৌঁছানোর অনেক আগেই ঝড়, অসময়ের বৃষ্টি বা পোকার আক্রমণে ক্ষতির আশঙ্কা থেকে যায়।

প্রতিবেদনে উপজেলায় আম চাষের জমির পরিমাণ, গাছের সংখ্যা বা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি। সেখানে তুলে ধরা হয় মৌসুমের শুরুতে বাগানের চিত্র আর কৃষকদের প্রত্যাশা। এই পর্যায়ে চূড়ান্ত ফলন সম্পর্কে কিছুই নিশ্চিত নয়: মুকুল ফুটতে হবে, পরাগায়ন হতে হবে, গুটি ধরতে হবে, আর বসন্তের গরম ও ঝড়ো সপ্তাহগুলো পেরিয়ে সেই গুটি গাছে টিকে থাকতে হবে।

আম এমনিতেই উপজেলার প্রধান ফলগুলোর একটি। বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ায় মহম্মদপুরের প্রধান ফলের তালিকায় আমের নাম প্রথমে, এরপর কাঁঠাল, কলা, তাল ও নারকেল। আর উপজেলার প্রধান ফসল ধান, পাট, গম, পেঁয়াজ ও রসুন।

চার ধাপে স্প্রে, গুটি আসার সময় সার


উপসহকারী কৃষি অফিসার প্রণব কুমার রায় জাগো নিউজকে বলেন, মুকুল থেকে ভালো ফলন পেতে এ সময় সঠিক পরিচর্যা অত্যন্ত জরুরি। তিনি জানান, কৃষি কর্মকর্তারা চার ধাপে স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছেন, এবং এই ধাপগুলো মেনে চললে ভালো ফলনের সম্ভাবনা বাড়ে:

  • প্রথম স্প্রে: মুকুল আসার আগে।
  • দ্বিতীয় স্প্রে: মুকুল আসার পর, ফুল ফোটার ঠিক আগমুহূর্তে।
  • তৃতীয় স্প্রে: আমের গুটি আকার নিতে শুরু করলে।
  • চতুর্থ স্প্রে: গুটি বড় হয়ে মোটামুটি মার্বেলের আকার নিলে।

সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, গুটি আসার সময় গাছের গোড়ায় পটাশ সার এবং সেই সঙ্গে হিউমিক অ্যাসিড প্রয়োগ করলে ফলের বৃদ্ধি ভালো হয় এবং গুণগত মানও ভালো হয়। প্রতিবেদনে কোনো কীটনাশক, ছত্রাকনাশক বা সারের নাম কিংবা মাত্রা উল্লেখ করা হয়নি। কোন কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক লাগবে, কতটা লাগবে, এবং নির্দিষ্ট কোনো বাগানে আদৌ স্প্রে দরকার কি না, সে সিদ্ধান্ত উপজেলা কৃষি অফিসের; কৃষকের উচিত অনুমান না করে ওই অফিস ও পণ্যের মোড়কের নির্দেশনা থেকে মাত্রা জেনে নেওয়া।

ধাপে ধাপে স্প্রের এই সময়সূচি সে মৌসুমে প্রকাশিত অন্য পরামর্শের সঙ্গেও মেলে। ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি প্রথম আলো ঢাকার আসাদ গেটের ফলবীথি হর্টিকালচার সেন্টারের এক উদ্যানতত্ত্ববিদের পরামর্শ প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, মুকুল আসার এক থেকে দেড় মাস আগে প্রথমবার কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে, যাতে মুকুল আসার আগে গাছ রোগমুক্ত থাকে; মুকুল ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি লম্বা হলে কিন্তু ফুল না ফুটলে দ্বিতীয়বার; গুটি মটরদানার সমান হলে তৃতীয়বার; আর গুটি মার্বেলের আকার নিলে চতুর্থবার। পরামর্শে জোর দিয়ে বলা হয়, কেবল অনুমোদিত মাত্রায় স্প্রে করতে হবে এবং স্প্রের আগে প্যাকেটের নির্দেশনা ভালোভাবে দেখে নিতে হবে, কারণ বিভিন্ন কোম্পানির পণ্যের প্রয়োগমাত্রা ভিন্ন হতে পারে।

ওই উদ্যানতত্ত্ববিদের পরামর্শ থেকে বোঝা যায়, কর্মকর্তার বলা দ্বিতীয় স্প্রেটি কেন ফুল ফোটার আগেই করতে হয়। ফুল ফুটে গেলে কোনো ধরনের কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা যাবে না, কারণ তখন স্প্রে করলে ফুলের ক্ষতি হতে পারে, আর এ সময় বাগানে বিপুল সংখ্যায় আসা উপকারী পোকারও ক্ষতি হয়, যারা ফুলের পরাগায়নে সাহায্য করে। পরামর্শে বলা হয়, ফুল ফোটার আগে স্প্রে করা যতটা জরুরি, ফুল ফোটার পর স্প্রে থেকে বিরত থাকাও ততটাই জরুরি।

বাংলাদেশে আমের ফুল। ছবি: Md. Asad-Uz-Zaman Shakil / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)
বাংলাদেশে আমের ফুল। ছবি: Md. Asad-Uz-Zaman Shakil / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

মুকুল থেকে আম যেভাবে হয়


আমের বৈজ্ঞানিক নাম ম্যানজিফেরা ইন্ডিকা (Mangifera indica), এটি অ্যানাকার্ডিয়েসি গোত্রের উদ্ভিদ। বাংলাপিডিয়া জানায়, কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের মতে চাষ করা আমের জাতগুলো এসেছে এমন এক প্রজাতি থেকে, যা বাংলাদেশ, ভারতের আসাম ও মিয়ানমারসহ ভারতীয় উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চলের স্থানীয়। আম গাছ চিরসবুজ, এর কাণ্ড মোটা ও খসখসে, পাতার মাথা ঘন। ফাঁকা জায়গায় লাগালে গাছ ২০ মিটারের বেশি উঁচু এবং ৩০ মিটার পর্যন্ত চওড়া হতে পারে।

কৃষকেরা যাকে মুকুল বলেন, তা আসলে গাছের পুষ্পমঞ্জরি। বাংলাপিডিয়ার বর্ণনায় আমের ফুল ছোট, সাদাটে-হলুদ বা বেগুনি রঙের এবং সুগন্ধি; ডালের মাথায় বড় মঞ্জরিতে এগুলো ফোটে, আর একটি মঞ্জরিতে ১০০ থেকে ২৫০টি ফুলের কুঁড়ি থাকতে পারে, যার সবগুলো ফোটে না। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ (ইউএফ/আইএফএএস) আম চাষের নির্দেশিকায় একটি মঞ্জরিতে ৫৫০ থেকে ৪ হাজারের বেশি ফুলের কথা বলেছে এবং জানিয়েছে, এর বেশির ভাগই পুরুষ ফুল, বাকিগুলো উভলিঙ্গ। জাত ও পরিবেশভেদে সংখ্যা আলাদা হয়, কিন্তু মূল কথায় দুই সূত্রই একমত: একটি গাছে যত ফুল আসে, তার খুব সামান্য অংশই ফলে পরিণত হয়।

বাংলাপিডিয়ার হিসাবে প্রতি এক হাজার ফুলের মধ্যে মাত্র একটি বা দুটি থেকে পরিপক্ব আম হতে পারে, এবং একটি মঞ্জরিতে দুই-তিনটি আম থাকলেই প্রায়ই সন্তোষজনক ফলন ধরা হয়। কতগুলো গুটি টিকবে, তা নির্ভর করে গাছে পূর্ণাঙ্গ বা উভলিঙ্গ ফুলের অনুপাতের ওপর। ইউএফ/আইএফএএসের তথ্যে ফুল ফোটা থেকে আম পরিপক্ব হতে সময় লাগে ১০০ থেকে ১৫০ দিন।

ফুল ফোটার সময়ের আবহাওয়াই সবচেয়ে বড় বিষয়, আর সে কারণেই মহম্মদপুরের কৃষকেরা আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। বাংলাপিডিয়া জানায়, বাংলাদেশে জানুয়ারি থেকে মার্চে যখন গাছে ফুল আসে, তখন কুয়াশা, বৃষ্টি বা মেঘলা আবহাওয়ায় গুটি ধরা ব্যাহত হয়। পরে ফল বড় হওয়ার সময় হালকা বৃষ্টি উপকারী, কিন্তু ঝড়, বিশেষ করে শিলাবৃষ্টি ফলনের ক্ষতি করে এবং প্রায়ই অপরিপক্ব আম ঝরে পড়ে। ইউএফ/আইএফএএসও ফুল আসার আগে ও ফুল ফোটার সময় শুষ্ক আবহাওয়াকে ভালো ফলনের জন্য সবচেয়ে উপযোগী মনে করে।

বাংলাপিডিয়া বলছে, খুব অগভীর মাটি বা নিচে আঠালো এঁটেল স্তর ছাড়া প্রায় সব মাটিতেই আম হয়; মাটির উপযুক্ত পিএইচ ৫.৫ থেকে ৭.৫, আর দেশের সেরা কিছু আম বাগান গাঙ্গেয় প্লাবনভূমির গভীর পলিময় দোআঁশ মাটিতে। কলমের গাছে রোপণের চতুর্থ বছরে প্রথম ফল আসে এবং মোটামুটি ৪৫তম বছর পর্যন্ত গাছ ভালো ফল দেয়; আঁটি থেকে জন্মানো গাছে ফল আসতে আরও কয়েক বছর বেশি লাগে, তবে সেগুলো ৬০ বছর বা তারও বেশি বয়স পর্যন্ত ফল দিতে পারে।

মুকুলে ভরা একটি আম গাছ। ছবি: Nahid.rajbd / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)
মুকুলে ভরা একটি আম গাছ। ছবি: Nahid.rajbd / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

মুকুলের জন্য যেসব পোকা ও রোগ হুমকি


কৃষকেরা যে আরেকটি বিপদের কথা বলেছিলেন, তা হলো পোকা ও রোগ। বাংলাপিডিয়ার তথ্যে বাংলাদেশে চারা অবস্থা থেকে পরিপক্ব হওয়া পর্যন্ত আম গাছে প্রায় তিন ডজন ক্ষতিকর পোকা আক্রমণ করে। আক্রান্ত মঞ্জরিতে খুব কম আম ধরে বা একেবারেই ধরে না, আর আক্রান্ত আম আগেভাগে ঝরে যায় বা খাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়ে। প্রধান ক্ষতিকর পোকার মধ্যে বাংলাপিডিয়া আমের হপার পোকার তিনটি প্রজাতির (Idioscopus atkisoni, I. clypealis ও I. niveosparsus) নাম দিয়েছে, সেই সঙ্গে আমের ভোমরা পোকা, কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা, ডগা ছিদ্রকারী পোকা ও ফলের মাছি পোকা।

হপার পোকা এক ধরনের পাতাফড়িং, সিকাডেলিডি গোত্রের রস শোষণকারী পোকা। বাংলাপিডিয়া ব্যাখ্যা করেছে, পাতাফড়িং শোষক মুখাঙ্গ দিয়ে গাছের কোষ ছিদ্র করে রস টেনে নেয়, এবং অনুকূল পরিবেশে কিছু প্রজাতির সংখ্যা অল্প সময়েই বিপুল হারে বেড়ে যেতে পারে। সে মাসে অন্য এলাকার কৃষকেরাও একই বিপদ নিয়ে সতর্ক ছিলেন: ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর চারঘাটের এক আমচাষি বাসসকে বলেন, হপার বা শোষক পোকা সময়মতো নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আমের উৎপাদন কমে যেতে পারে।

বাংলাপিডিয়া আমের বেশ কয়েকটি ছত্রাকজনিত রোগের কথাও বলেছে, যেগুলো বাগানের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করে: অ্যানথ্রাকনোজ, শুটি মোল্ড, পাতা ঝলসানো, ডাইব্যাক ও পাউডারি মিলডিউ; সেই সঙ্গে ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতার দাগ রোগ। ফুলের মৌসুমে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি রোগের বর্ণনা দিয়েছে ইউএফ/আইএফএএস। পাউডারি মিলডিউ ও অ্যানথ্রাকনোজ দুটিই সদ্য বের হওয়া মঞ্জরি, ফুল ও কচি আমে আক্রমণ করে। অ্যানথ্রাকনোজে অনিয়মিত আকারের কালো, সামান্য বসে যাওয়া দাগ পড়ে, যা ক্রমে বড় হয়ে মুকুল ঝলসে দেয়, পাতায় দাগ ফেলে এবং ফল পচায়; বৃষ্টি বা ভারী শিশিরে রোগটি বাড়ে। পাউডারি মিলডিউ বসন্তের শুষ্ক আবহাওয়ায় আক্রমণ করে এবং আক্রান্ত অংশ সাদা পাউডারের মতো ছত্রাকে ঢেকে যায়; তীব্র আক্রমণে পুরো মঞ্জরি নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং গুটি ধরে না।

ইউএফ/আইএফএএস আরও একটি বিষয় তুলে ধরেছে, যা থেকে বোঝা যায় কেন স্প্রে ক্ষতির প্রথম লক্ষণ দেখে নয়, বরং গাছের বৃদ্ধির ধাপ ধরে করা হয়: সংক্রমণের আগেই সংবেদনশীল অংশগুলো ছত্রাকনাশকে ঢাকা থাকলে তবেই তা কাজ করে, সংক্রমণের পরে স্প্রে করলে রোগের ওপর কোনো প্রভাব পড়ে না। নতুন অংশ বের হলে সুরক্ষামূলক স্প্রে আবার দিতে হয়। ওই নির্দেশিকার স্প্রে সুপারিশ ফ্লোরিডার জন্য লেখা; বাংলাদেশে নির্দিষ্ট কোনো বাগানের জন্য কোন ওষুধ, কতটা মাত্রায় ও কখন দিতে হবে, তা জেনে নিতে হবে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে।

ফুল আসার মৌসুমে গাছের যত্ন


জাগো নিউজের প্রতিবেদনের এক মাস আগে প্রথম আলোয় প্রকাশিত ফলবীথির উদ্যানতত্ত্ববিদের পরামর্শে স্প্রের বাইরেও আরও কিছু কথা ছিল। মুকুল আসার ৩০ থেকে ৪৫ দিন আগে থেকে গাছে পানি ও সার দেওয়া বন্ধ রাখতে হয়, কারণ এ সময় সার ও পানি পেলে গাছ মুকুল না দিয়ে নতুন পাতা ছাড়তে শুরু করে। তবে গুটি আসার পর মাটিতে কোনোভাবেই পানির ঘাটতি রাখা যাবে না, তাহলে মুকুল নেতিয়ে যেতে পারে এবং মুকুল ও গুটি ঝরে যেতে পারে।

পরামর্শে বলা হয়, মুকুলের সময় অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার দিলে মুকুল ঝরে যেতে পারে, আর বেশি নাইট্রোজেনে গাছে পাতা বাড়ে কিন্তু মুকুল কমে; তাই এ সময় নাইট্রোজেন সার ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। গাছের গোড়ার আগাছা, শুকনো পাতা ও ঝরে পড়া মুকুল নিয়মিত পরিষ্কার করলে রোগ ও পোকার ঝুঁকি কমে। গাছে আলো-বাতাস চলাচল, আকার নিয়ন্ত্রণ এবং মুকুল ও ফলন বাড়াতে প্রতিবছর ডাল ছাঁটাই দরকার; এর উপযুক্ত সময় ফল সংগ্রহের পরপরই, মুকুল আসার আগে বা পরে কখনোই নয়।

কলমের গাছে সাধারণত প্রথম বছরে আসা সব মুকুল ভেঙে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়; পরের বছর থেকে মুকুল রাখা যায়। গাছের বয়স অনুযায়ী অনুমোদিত মাত্রায় সার দিতে হয়, সাধারণত বছরে দুবার: বর্ষার আগে মার্চ-এপ্রিলে এবং বর্ষার পরে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে। ঘন কুয়াশা, অতিরিক্ত বৃষ্টি বা দীর্ঘ শুষ্কতায় গাছের বিশেষ যত্ন দরকার, আর ঝড়ে গাছ হেলে বা ভেঙে পড়া ঠেকাতে খুঁটি দিয়ে অবলম্বন দেওয়া যায়। ফল বড় হতে থাকলে ব্যাগিং করলে পোকামাকড় থেকে ফল রক্ষা পায় এবং আম দাগহীন থাকে।

সেচ নিয়ে ইউএফ/আইএফএএসেরও একই ধরনের পরামর্শ: গাছে ফুল বা ফল থাকা অবস্থায় পানি দিতে হলে ফুল ও ফল না ভেজানো ভালো, এতে ছত্রাকজনিত রোগ কমে। সংস্থাটি জানায়, ফ্লোরিডায় আমের ফুলের পরাগায়ন করে থ্রিপস ও মাছির মতো পোকা, আর অল্প পরিমাণে মৌমাছি।

মধুমতির তীরে মহম্মদপুর ও মাগুরা


খুলনা বিভাগের মাগুরা জেলার চারটি উপজেলার একটি মহম্মদপুর; বাকি তিনটি মাগুরা সদর, শালিখা ও শ্রীপুর। বাংলাপিডিয়ার তথ্যে মহম্মদপুর উপজেলার আয়তন ২৩৩.৭০ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তরে মধুখালী উপজেলা, দক্ষিণে লোহাগড়া, পূর্বে বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা, আর পশ্চিমে মাগুরা সদর, শালিখা ও মধুখালী। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে উপজেলার জনসংখ্যা ছিল ২ লাখ ৭ হাজার ৯০৫। মহম্মদপুর থানা গঠিত হয় ১৯২৪ সালে, উপজেলা হয় ১৯৮৩ সালে।

উপজেলার প্রধান নদী গড়াই-মধুমতি, নবগঙ্গা ও নির্বিষখালী; উল্লেখযোগ্য জলাভূমি ওয়াপাড়া বিল ও তিতাদহ বিল। গঙ্গার প্রধান শাখানদী গড়াই দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বয়ে মহম্মদপুর উপজেলায় এসে মধুমতি নাম নেয়। বাংলাপিডিয়া জানায়, নদীটি যেসব এলাকা দিয়ে বয়ে গেছে সেখানকার কৃষি ও সেচ অনেকটাই এর ওপর নির্ভরশীল। উপজেলার নামের পেছনে আছেন সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে এ অঞ্চলের জমিদার রাজা সীতারাম রায়, যিনি তার রাজধানী বাগজানের নাম বদলে রাখেন মহম্মদপুর।

এখানকার অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি। বাংলাপিডিয়ার হিসাবে উপজেলার আয়ের প্রধান উৎসের ৬৮.৪৬ শতাংশই কৃষি। প্রধান ফসল ধান, পাট, গম, পেঁয়াজ ও রসুন, প্রধান রপ্তানি পণ্যও এগুলোই। উপজেলায় হাট-বাজার ৪০টি, এর মধ্যে মহম্মদপুর হাট, বিনোদপুর হাট, শিরগ্রাম হাট, বাবুখালী হাট, বালিদিয়া হাট, নহাটা হাট ও পলাশবাড়িয়া হাট উল্লেখযোগ্য। ১৯০৯, ১৯৬১ ও ১৯৬৩ সালের ঘূর্ণিঝড় এবং ১৯৭১ সালের বন্যায় উপজেলার ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল।

মাগুরা জেলার আয়তন ১০৩৯.১০ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তরে রাজবাড়ী, দক্ষিণে যশোর ও নড়াইল, পূর্বে ফরিদপুর এবং পশ্চিমে ঝিনাইদহ জেলা। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে জেলার জনসংখ্যা ছিল ৯ লাখ ১৮ হাজার ৪১৯। প্রধান নদী গড়াই-মধুমতি, নবগঙ্গা ও কুমার। মাগুরা মহকুমা হয় ১৯৪৫ সালে এবং জেলা হয় ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ। বাংলাপিডিয়ার তথ্যে জেলার আয়ের প্রধান উৎসের ৬৬.৩ শতাংশ কৃষি।

আমের চেয়ে লিচুর জন্যই জেলাটি বেশি পরিচিত। প্রথম আলো ২০২৫ সালের মে মাসে জানায়, মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে সে বছর জেলায় ৬৬৯ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে, এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৫৩১, শালিখায় ৪৩, শ্রীপুরে ৩৭ এবং মহম্মদপুরে ৫৮ হেক্টর। মাগুরার হাজরাপুরী লিচু তখন সবে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ পেয়েছে; ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের বিশ্ব মেধাসম্পদ দিবসের অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের হাতে এ সনদ তুলে দেওয়া হয়।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুরে মধুমতি নদী; আলফাডাঙ্গা মহম্মদপুরের পূর্ব সীমানায়। ছবিটি ২০১৬ সালের আগস্টে তোলা। ছবি: মুজাহিদুল ইসলাম নাঈম / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুরে মধুমতি নদী; আলফাডাঙ্গা মহম্মদপুরের পূর্ব সীমানায়। ছবিটি ২০১৬ সালের আগস্টে তোলা। ছবি: মুজাহিদুল ইসলাম নাঈম / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

প্রধান আম উৎপাদনকারী জেলাগুলোতে মৌসুমের চিত্র


মহম্মদপুরের মুকুল ছিল সেই ফেব্রুয়ারির বড় একটি চিত্রের অংশ। ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাসস জানায়, শীত শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহী অঞ্চলের হাজার হাজার আম গাছ মুকুলে ভরে উঠছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) রাজশাহী অঞ্চলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজশাহী জেলায় ১৯ হাজার ৬০৩ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয় এবং উৎপাদন হয় ২ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫২ মেট্রিক টন; ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও একই পরিমাণ জমিতে চাষের লক্ষ্য ধরা হয়, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৪৬ হাজার মেট্রিক টন। রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, সে বছর মুকুল বেশ আগেভাগেই এসেছে, আগের বছরের চেয়ে বেশি মুকুলের আশা করা হচ্ছে, এবং কৃষকদের বাগান রক্ষায় স্প্রে করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কুয়াশায় বড় ক্ষতি না হলে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একই প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন আম বাগান, বিশেষ করে আম্রপালি এবং বারি আম-৩ ও বারি আম-৪ জাতের চাষ প্রতিবছরই বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধান চাষের জন্য পরিচিত নওগাঁ তার আগের বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জকে ছাড়িয়ে সবচেয়ে বেশি আম উৎপাদনকারী জেলা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জে তখনো সবচেয়ে বেশি জমিতে আম বাগান, তবে ডিএইর তথ্যে গত ১০ বছরে নওগাঁয় আম চাষের জমি দেড় গুণ বেড়েছে; এ সময়ে নওগাঁয় বেড়েছে ১৪ হাজার ৯২৫ হেক্টর, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৯ হাজার ৫২০ হেক্টর। চাষের ধরনও বদলাচ্ছিল: শত বছরের জন্য বাগান না করে কৃষকেরা তখন মোটামুটি ১০ বছরের লক্ষ্য নিয়ে বাগান করছিলেন।

২০২৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বাসস জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে সে মৌসুমে জেলায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে প্রায় ৯২ লাখ ৪৪ হাজার ৭৬৫টি আম গাছ রয়েছে, আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন। জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী জানান, প্রায় ৭০ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে, এবং কৃষকদের কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পাশাপাশি সেচ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। গুটি, লক্ষণভোগ, আম্রপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি, ক্ষীরশাপাত ও আশ্বিনা গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছিল।

মাগুরার প্রতিবেদনের দুদিন আগে, ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি, বাসস রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিয়ে গঠিত ডিএইর পুরো রাজশাহী অঞ্চলের হিসাব দেয়: ৯২ হাজার ৫৫২ হেক্টর জমিতে আম বাগান, গাছ ৩ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ৫৫৪টি, যার প্রায় ৬৩ শতাংশে মুকুল এসেছে। রাজশাহী জেলায় আম বাগান কমে দাঁড়ায় ১৯ হাজার ৬২ হেক্টরে, যা আগের বছরের ১৯ হাজার ৬০৩ হেক্টরের চেয়ে ৫৪১ হেক্টর কম; অন্যদিকে নওগাঁয় তা ৩০ হাজার ৩০০ থেকে বেড়ে হয় ৩০ হাজার ৫০০ হেক্টর, সেখানে ৭১ শতাংশ গাছে মুকুল আসে। নাটোরে আম বাগান ৫ হাজার ৬৯ হেক্টর, মুকুল আসে ৫৩ শতাংশ গাছে। ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, সে বছর শীতকাল কুয়াশা বা বৃষ্টি ছাড়াই নির্বিঘ্নে শেষ হয়েছে এবং তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বেড়েছে, ফলে গাছগুলো মুকুল আসার প্রক্রিয়া বজায় রাখতে পেরেছে। প্রতিবেদনে আরও মনে করিয়ে দেওয়া হয়, আগের বছর উৎপাদন ভালো হলেও অতিরিক্ত বৃষ্টিতে বিপুল পরিমাণ আম নষ্ট হয়, দাম পড়ে যায় এবং কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী জুলফিকার আলী বাসসকে বলেন, লাভ কমে যাওয়ায় রাজশাহীর কিছু কৃষক আম গাছ কেটে ফেলছেন, আর সাতক্ষীরা ও বান্দরবানের কিছু এলাকায় আম চাষ বেড়েছে। তার ভাষ্য, রাজশাহী, নওগাঁ ও রংপুর অঞ্চলের আম মূলত দেরিতে পাকা জাতের, যেগুলো বাজারে আসে দাম পড়ে যাওয়ার সময়; অন্যদিকে সাতক্ষীরার আম আগে বাজারে আসে এবং ভালো দাম পায়। তিনি আরও বলেন, আম পচনশীল ফল, আলুর মতো সংরক্ষণ করা যায় না।

ধানখেতের পাশে একটি আম বাগান। ছবি: SyedAminul / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)
ধানখেতের পাশে একটি আম বাগান। ছবি: SyedAminul / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

বাংলাদেশে আম: উৎপাদন, জাত ও রপ্তানি


বাংলাপিডিয়া জানায়, আম গাছ সারা দেশেই জন্মে এবং বেশির ভাগই বসতবাড়ির আশপাশের বাগানে। দেশের আম মোটামুটি দুই ভাগে পড়ে: কলম ও অন্যান্য অঙ্গজ পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করা উন্নত জাত, আর আঁটি থেকে জন্মানো স্থানীয় গাছ, যা দেশি বা গুটি আম নামে পরিচিত; এগুলোর স্বীকৃত কোনো জাতের নাম নেই এবং স্বাদও নিশ্চিত নয়। উন্নত জাতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হিমসাগর, ক্ষীরশাপাত, আশ্বিনা, কিষাণভোগ, কুয়াপাহাড়ি, লতা বোম্বাই, মোহনভোগ ও মিছরিভোগ; দেশে আমের জাত প্রায় ১০০টি।

উৎপাদন বহু গুণ বেড়েছে। বাংলাপিডিয়ার তথ্যে ২০০৫-০৬ সালে প্রায় ৬ লাখ ৪১ হাজার ৫২৫ একর জমি থেকে প্রায় ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৮২০ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়। ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে দেশের বার্ষিক আম উৎপাদন ধরা হয় ২৪ থেকে ২৫ লাখ টন, যার দেশীয় বাজারের মূল্য ১৩ থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকা; বাণিজ্যিক আম চাষ হয় ২৩টি জেলায় এবং সারা দেশে ৭২টি জাতের আম চাষ হয়।

রপ্তানি এখনো সামান্য। ডিএইর তথ্যে বাংলাদেশ ২০২৩ সালে ৩ হাজার ১০০ টন এবং ২০২৪ সালে ১ হাজার ৩২১ টন আম রপ্তানি করে; ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ সে মৌসুমের রপ্তানি দাঁড়ায় ২ হাজার ১৯৪ টনে, যা ৬৬ শতাংশ বেশি, আর আম যায় ২৬টি দেশে; সবচেয়ে বেশি, ৬৮৬ টন, নেয় যুক্তরাজ্য। রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল আম্রপালি; অন্য রপ্তানি জাতের মধ্যে হিমসাগর, ল্যাংড়া, বারি-৪ ও ফজলি। আম রপ্তানি শুরু হয় ২০১৫ সালে, আর প্রতিবছর রপ্তানি চলে মে মাসের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত।

আম নিয়ে গবেষণার নেতৃত্বে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)। বারির উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধীনে ১৯৮৫ সালে নবাবগঞ্জে আম গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়, যেখানে আম চাষ, জাত উন্নয়ন ও উৎপাদনের সব দিক নিয়ে গবেষণা হয়; বাংলাপিডিয়ার বর্ণনায় সেখানকার বাগানে প্রায় ৬৫টি জাতের ৩০০টির বেশি আম গাছ রয়েছে। অন্যদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সারা দেশে তাদের বাগান, হর্টিকালচার সেন্টার ও নার্সারি থেকে উন্নত জাতের আমের কলম উৎপাদন ও বিতরণ করে।

ছবি: Sd Raihan / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, বাংলাপিডিয়া, ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডা আইএফএএস এক্সটেনশন

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারটি তাজা আপেলের একটি যায় বিদেশে, রপ্তানি আয় রেকর্ড

২০২৫/২৬ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৭ কোটি পাউন্ড তাজা আপেল রপ্তানি করেছে, যা মোট তাজা উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশ। রপ্তানি আয় রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে; বড় ক্রেতা মেক্সিকো ও কানাডা।

ers_usda১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

আপেলগাছের গোড়ায় লালচে গুঁড়া? সতর্ক করছে বিরল কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কানাডার ম্যানিটোবার কৃষি বিভাগ ফলচাষিদের রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছে। এই লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকার কীড়া জীবন্ত আপেল ও সাস্কাটুন গাছের ভেতরে তিন বছর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কাটে; কাণ্ডের গোড়ায় লালচে গুঁড়াই সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)