সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

কুয়াকাটায় অবৈধ ট্রলিং ট্রলার ও বেহুন্দি জাল বন্ধের দাবিতে জেলেদের মানববন্ধন

২০২৫ সালের ২৭ জুলাই পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় প্রায় এক হাজার জেলে অবৈধ ট্রলিং ট্রলার ও ছোট ফাঁসের বেহুন্দি জাল বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেন। তাঁদের অভিযোগ, এসব জালে মাছের রেণু ও ডিমওয়ালা মা মাছ ধরা পড়ায় সাগরে ইলিশসহ মাছ কমছে; প্রশাসনের কর্মকর্তারা টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

কুয়াকাটায় অবৈধ ট্রলিং ট্রলার ও বেহুন্দি জাল বন্ধের দাবিতে জেলেদের মানববন্ধন
মৎস্য

অবৈধ ট্রলিং ট্রলার ও নিষিদ্ধ জাল বন্ধের দাবিতে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই, রোববার সকালে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা চৌরাস্তায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন জেলেরা। ‘সাধারণ জেলেদের’ ব্যানারে কলাপাড়ার জেলেদের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে কক্সবাজার, ভোলা, নোয়াখালীসহ দেশের নানা এলাকার প্রায় এক হাজার জেলে এতে অংশ নেন। জাগো নিউজ ২৪ ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট এ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

জেলেরা জানান, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র আলীপুর-মহিপুর বন্দরের আশপাশে তাঁরা বছরের পর বছর ইলিশ ধরে আসছেন। কিন্তু কয়েক বছর ধরে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের সংকট চলছে, আর এর জন্য তাঁরা অবৈধ ট্রলিং বোটকে দায়ী করছেন।

কাঠের ট্রলার থেকে ট্রলিং ট্রলার, সঙ্গে ছোট ফাঁসের বেহুন্দি জাল


জেলেদের অভিযোগ, কাঠের তৈরি ছোট ট্রলারে স্থানীয় প্রযুক্তিতে যান্ত্রিক জাল টানার ব্যবস্থা বসিয়ে সেগুলোকে অবৈধভাবে ‘ট্রলিং ট্রলারে’ রূপান্তর করা হচ্ছে, আর তাতে যুক্ত করা হচ্ছে ছোট ফাঁসের বেহুন্দি জাল। আধা ইঞ্চি ফাঁসের এই জালে গভীর ও অগভীর সাগরের মাছের রেণু, ডিমওয়ালা মা মাছ এবং মাছের প্রাকৃতিক খাদ্যও ধরা পড়ছে। তাঁদের ভাষায়, এর ফলে গত চার থেকে পাঁচ বছরে মাছের প্রজনন আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।

বাংলাপিডিয়ার মাছ ধরার সরঞ্জামবিষয়ক নিবন্ধ অনুযায়ী, বেহুন্দি জাল এক ধরনের থলে জাল, যা কাঠামো দিয়ে খাড়া করে খোলা রাখা হয় এবং স্রোতের বিপরীতে পেতে রাখলে স্রোতই একে টানটান রাখে। একই নিবন্ধে ট্রল জালকে টানা জালের একটি ধরন বলা হয়েছে। সমুদ্রের তলদেশ ঘেঁষে জাল টেনে মাছ ধরাকে বলা হয় বটম ট্রলিং; এ পদ্ধতিতে লক্ষ্যের বাইরের প্রাণী ধরা পড়া ও সমুদ্রতলের ক্ষতি নিয়ে বিশ্বজুড়েই উদ্বেগ রয়েছে।

জেলেদের হিসাবে, শুধু আলীপুর-মহিপুরেই এমন ৪০ থেকে ৫০টি ট্রলার আছে, আর পাশের বরগুনা জেলার পাথরঘাটার অন্তত ২০ থেকে ৩০টি অবৈধ ট্রলিং ট্রলার এই বন্দরে এসে মাছ ধরে। তাঁদের মতে, এই প্রবণতা ভোলা থেকে চট্টগ্রামের বাঁশখালী পর্যন্ত ছড়িয়েছে। নোয়াখালীর জেলে আলম গাজীর দাবি, মহিপুরে ৫০টি, ভোলায় ৯০টি এবং চট্টগ্রামের কাঠখালী এলাকায় প্রায় ২০০টি রূপান্তরিত অবৈধ ট্রলার রয়েছে।

কুয়াকাটা আশার আলো মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি মো. নিজাম শেখ জাগো নিউজকে জানান, একটি সাধারণ কাঠের ট্রলারকে ট্রলিং বোটে রূপান্তর করতে ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা খরচ হয়। তাঁর কথায়, ‘এসব ট্রলারে যে ধরনের বেহুন্দি জাল ব্যবহার করা হয়, তাতে পানি ছাড়া আর কিছুই বের হতে পারে না।’ তিনি বলেন, এতে মাছের পোনা, ডিম, এমনকি মাছের খাবারও নষ্ট হয়।

কুয়াকাটার কাছে সাগরে মাছ ধরছেন স্থানীয় জেলেরা। ছবি: Samiul33bhuiyan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
কুয়াকাটার কাছে সাগরে মাছ ধরছেন স্থানীয় জেলেরা। ছবি: Samiul33bhuiyan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, কর্মকর্তাদের অস্বীকার


আলীপুরের জেলে মো. সেলিম ফরাজী অভিযোগ করেন, ট্রলার মালিকেরা কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে প্রতি মাসে টাকা দেন বলেই তাঁরা ট্রলিং বন্ধে উদাসীন। তিনি বলেন, ট্রলিং বন্ধ না হলে জেলেরা আরও বড় আন্দোলনের ঘোষণা দেবেন।

কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিকাশ মণ্ডল জাগো নিউজকে বলেন, তাঁরা অবৈধ মাছ ধরার বিষয়ে সব সময় সচেতন; এই ট্রলিং নিয়ে আদালতে মামলা চলছে, যা দ্রুত নিষ্পত্তি হবে। তিনি তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলেন এবং জানান, লজিস্টিক সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে অনেক সময় গভীর সমুদ্রে অভিযান চালানো সম্ভব হয় না।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলামও অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি জানান, রূপান্তরিত ট্রলিং ট্রলারের মালিকেরা তাঁদের ট্রলারের বৈধতা দাবি করে আদালতে রিট করেছেন, যা শিগগির নিষ্পত্তি হবে; কোস্টগার্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং অবৈধ ট্রলিং বন্ধে দ্রুত অভিযান শুরু হবে। তাঁর ভাষায়, ‘মৎস্য বিভাগে টাকা দেওয়ারতো কোনো সুযোগ নেই।’ তিনি আরও বলেন, মৎস্য বিভাগ কোনো ট্রলারকে সাগরে মাছ ধরার অনুমতি দেয়নি।

গবেষকের চোখে ইলিশ কমার কারণ


পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. রাজিব সরকার জাগো নিউজকে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রের ধারাবাহিকতা বদলে যাওয়া জেলেদের ইলিশ শিকার ও জীবনমান বদলের অন্যতম কারণ। তাঁর মতে, অতিরিক্ত প্লাস্টিক ও পলিথিন সমুদ্রের তলদেশের ক্ষতি করছে এবং অবৈধ জালের কারণে ইলিশ কমেছে, যার ক্ষতি বইছেন দরিদ্র জেলেরা। অবৈধ জাল উৎপাদন, যত্রতত্র প্লাস্টিক ও নিবন্ধনহীন ট্রলিং বন্ধ হলে ইলিশ বাড়বে বলে তিনি আশা করেন।

বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ। ছবি: Mamun2a / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5)
বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ। ছবি: Mamun2a / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5)

আলীপুর-মহিপুর বন্দর ও ইলিশের গুরুত্ব


আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দরটি কুয়াকাটা থেকে প্রায় চার কিলোমিটার উত্তরে, দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় মাছ ধরার কেন্দ্রগুলোর একটি। কুয়াকাটা কলাপাড়া উপজেলায়, বঙ্গোপসাগরের তীরে প্রায় ১৮ কিলোমিটার লম্বা সৈকতের জন্য পরিচিত। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী কলাপাড়া উপজেলার জনসংখ্যা ২ লাখ ৮৬ হাজার ৯৯৩।

ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ; ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট একে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য ঘোষণা করা হয়। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়ে বাংলাদেশে; ২০২৩ সালের হিসাবে বিশ্বের মোট ইলিশ সরবরাহের ৯৭ শতাংশই আসে এ দেশ থেকে।

কুয়াকাটা সৈকতে জেলেদের বিশ্রামের জায়গা। ছবি: Shafiul / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
কুয়াকাটা সৈকতে জেলেদের বিশ্রামের জায়গা। ছবি: Shafiul / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ছবি: Shafiul / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)