সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৫%বাতাস ৪ কিমি/ঘ

তারা ধানক্ষেতের অদৃশ্য প্রহরী

প্রচণ্ড রোদে ধানক্ষেতের পাতাগুলো যেন ঝলসে ওঠে এক আশ্চর্য আলোয়। হালকা হাওয়া বয়ে যায়, পাতার ভেতর লুকিয়ে থাকা এক অজানা জীবনের গল্প কানে আসে পাতার সুরে। তখনই শোনা যায় একটানা কিচিরমিচির। কেউ যেন অলক্ষ্যে চেয়ে আছে, নজর রাখছে চারপাশে। হঠাৎই ধরা দেয় সে। তার একজোড়া তীক্ষ্ণ চোখ, হলুদ ঠোঁট, গা ছমছমে গ

প্রচণ্ড রোদে ধানক্ষেতের পাতাগুলো যেন ঝলসে ওঠে এক আশ্চর্য আলোয়। হালকা হাওয়া বয়ে যায়, পাতার ভেতর লুকিয়ে থাকা এক অজানা জীবনের গল্প কানে আসে পাতার সুরে। তখনই শোনা যায় একটানা কিচিরমিচির। কেউ যেন অলক্ষ্যে চেয়ে আছে, নজর রাখছে চারপাশে। হঠাৎই ধরা দেয় সে। তার একজোড়া তীক্ষ্ণ চোখ, হলুদ ঠোঁট, গা ছমছমে গম্ভীর রঙের পালক; ধানক্ষেতের সেই রহস্যময় পাখি শালিক।

পাখিটি শুধু পাখি নয়, ধানক্ষেতের এক অদৃশ্য প্রহরী। সে মাঠের ওপর দিয়ে উড়ে যায়, ক্ষেতে নামার আগে চারদিক দেখে। পাতার আড়ালে লুকানো মাজরা পোকা, ধান চুষে নেওয়া লেদা পোকা, ফড়িং বা ঘাসফড়িং সবই যেন তার শিকারের তালিকায়। কৃষকের জীবনে যখন কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে; তখন শালিকের মতো প্রাকৃতিক বন্ধু নিঃশব্দে কাজ করে চলে মাঠে মাঠে।

শালিকেরা দলবেঁধে আসে, দলবেঁধে যায়। দিনের বিভিন্ন সময়ে ধানক্ষেতের এক প্রান্তে বসে থাকে, আবার কখনো শীষের মাথায় উঠে বসে। কৃষকেরাও বলেন, 'যেখানে শালিক আছে; সেখানে পোকামাকড় বেশি ক্ষতি করতে পারে না।' তাই পাখিটিকে অনেকেই কৃষকের প্রকৃত বন্ধু মনে করেন। তাদের উপস্থিতি যেমন উপকারী; তেমনই মাঠে প্রাণের সঞ্চার করে।

শালিক শুধু ক্ষেতে পোকা খায় না বরং সে প্রকৃতির এক ভারসাম্য রক্ষাকারী যোদ্ধা। মাটি থেকে শুরু করে গাছ পর্যন্ত, তার চোখে পড়ে ক্ষতিকর জীবাণুর আনাগোনা। তার ঠোঁটে ধরা পড়ে সেইসব পোকা; যারা চুপিসারে ফসলের ক্ষতি করে।

শহরের ধুলাবালিতে তার চলাফেরা কিছুটা কমলেও গ্রামবাংলার মাঠে এখনো শালিকেরা সক্রিয়। তারা গাছের ডালে বসে, মাঠে নেমে আসে, আবার হঠাৎ উড়ে যায় বিশাল আকাশে। ছোট্ট ছেলেমেয়েরা তাদের দেখে খুশি হয়, কেউ কেউ তালি দেয়, কেউ ছুঁড়ে মারে ঢিল। তবুও শালিক আসে ধৈর্য নিয়ে, নীরব ভালোবাসা নিয়ে।

আরও পড়ুন

বিকেলের রোদ যখন একটু কমে আসে; তখন ধানক্ষেতের ওপর দিয়ে একঝাঁক শালিক উড়ে যায়। তাদের ডানার শব্দ আর কণ্ঠের ছন্দে যেন পরিবেশ জেগে ওঠে। মাঠের পাশে বসে থাকা কৃষক তখন খানিকটা নিশ্চিন্ত বোধ করেন। তারা হয়তো বলেন, প্রাকৃতিক পাহারাদার এসে গেছে তাদের ক্ষেত পাহারা দিতে।

শালিককে অনেকেই সাধারণ পাখি ভাবেন। কিন্তু সে কেবল পাখি নয়। সে বাংলার ধানের গল্পে এক নীরব চরিত্র। যে নায়কের মতো কোনো কৃতিত্ব দাবি করে না। তবুও দিনের পর দিন নিজের ভূমিকা পালন করে যায়। তার ডানায় ভর করেই অনেক সময় টিকে থাকে ফসল আর কৃষকের মুখে ফোটে হাসি।

শালিকই আমাদের শেখায় প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে, তুচ্ছ মনে হলেও প্রতিটি প্রাণ কীভাবে জীবনের জন্য অপরিহার্য হয়ে ওঠে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, নিরীহ প্রাণীটি আজ কিছুটা বিপর্যস্ত। পরিবেশদূষণ, অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার, নগরায়ন আর গাছপালার অভাবে দিন দিন কমে যাচ্ছে শালিকের সংখ্যা। আগের মতো আর তেমন দেখা যায় না দলবেঁধে উড়ে যাওয়া চেনা পাখিগুলোকে। একসময়ের মাঠ কাঁপানো কিচিরমিচির শব্দ এখন অনেকটাই ম্লান।

অথচ শালিক না থাকলে এর প্রভাব শুধু পাখির জগতে সীমাবদ্ধ থাকে না। তারা যেসব পোকামাকড় খেয়ে ফেলে, সেগুলো অবারিত হারে বেড়ে ফসলের ওপর আক্রমণ চালায়। ধান গাছের গোড়ায় মাজরা পোকা, পাতার রস চুষে নেওয়া লেদা বা গলগ্রন্থি পোকারা সহজেই বিস্তার লাভ করে। ফসলের পরিমাণ কমে যায়, কৃষক আর দেশের খাদ্য উৎপাদনে দেখা দেয় সংকট। একেকটা পাখির অনুপস্থিতি মানে পুরো খাদ্যচক্রে এক অদৃশ্য ঘাটতি, যার খেসারত দিতে হয় মানুষকেই।

তবুও যতদিন মাঠে ধান গজাবে, পাতার ফাঁকে লুকোবে পোকামাকড়; ততদিন শালিকের প্রয়োজন ফুরাবে না। তাকে বাঁচাতে হলে আমাদেরই ভাবতে হবে। প্রকৃতিকে ভালোবাসার অর্থ শুধু বৃক্ষরোপণ নয় বরং যারা নীরবে তার ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছে, তাদের জন্যও নিরাপদ আশ্রয় তৈরি করা।

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

২০২৫ সালে বিশ্বে বন উজাড় কমেছে ১৫ শতাংশ, তবু ২০৩০ সালের লক্ষ্য নাগালের বাইরে

ফরেস্ট ডিক্লারেশন অ্যাসেসমেন্ট ২০২৬ বলছে, ২০২৫ সালে বিশ্বে ৭০ লাখ হেক্টর বন হারিয়েছে, যা ২০১৮-২০ সালের পর সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতন। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে বন উজাড় বন্ধের পথ থেকে বিশ্ব ১ কোটি ৭ লাখ হেক্টর পিছিয়ে।

ডাউন টু আর্থ১৭ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফসল

খাবার পানি বাঁচাতে কৃষকদের এক মৌসুম ধান না লাগানোর অনুরোধ তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীর

বৃষ্টির ঘাটতি প্রায় ২৮ শতাংশ, জলাধারে স্বাভাবিক ৪৬২ টিএমসির জায়গায় পানি মাত্র ২০০ টিএমসি ফুট। মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি বলছেন, আগামী বর্ষা পর্যন্ত খাবার পানি নিশ্চিত করতে কৃষিকে এক মৌসুম ছাড় দিতে হবে।

ডাউন টু আর্থ১৭ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সমুদ্র ঠান্ডা হলেও ১৫০ বছর গলতে থাকবে অ্যান্টার্কটিকার ‘ডুমসডে’ হিমবাহ

ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভের মডেলিং গবেষণা বলছে, সমুদ্রের তাপে গলন পুরো বন্ধ করে দিলেও পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার থোয়াইটস হিমবাহ বরফ হারাতে থাকবে। এটি পুরোপুরি ধসে পড়লে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে প্রায় ৬৫ সেন্টিমিটার।

ইউরোনিউজ১৭ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)