পাহাড়ের ঢালের বাগানে পাকা মাল্টা, আর রাঙ্গামাটির বাজারে স্থানীয় সেই মাল্টা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০ টাকায়। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে মাল্টার চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে সম্ভাব্য উৎপাদন ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা।
পাহাড়ের মাটি ও আবহাওয়ায় রাঙ্গামাটিতে দীর্ঘদিন ধরে আম, কাঁঠাল, আনারস, কলা, লিচু ও কমলার চাষ হয়; এখন মাল্টাও গুরুত্ব পাচ্ছে। উঁচু-নিচু জমিতে ফলের বাগান করে অনেক চাষি বিকল্প আয়ের পথ পেয়েছেন।
বনরূপা বাজারের ফুটপাতে মাল্টা বিক্রেতা শ্যামল চাকমা বলেন, তাঁর মাল্টা বাঘাইছড়ির মারিশ্যা এলাকার বাগানের; বাগানিদের কাছ থেকে কিনে তিনি খুচরা বিক্রি করছেন কেজি ৭০ টাকায়। তাঁর ভাষায়, বাজারে বিদেশি মাল্টার দাম অনেক বেশি, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে কেনা কঠিন।
দেশি মাল্টার সরবরাহ বাড়লে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং ভোক্তারা সাশ্রয়ী দামে ফল পাবেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে দাম জাত, আকার, মান, সরবরাহ ও বিক্রির জায়গাভেদে কমবেশি হয়, আর সম্ভাব্য উৎপাদন ও বাজারমূল্যের হিসাব চূড়ান্ত আয় নয়; প্রকৃত ফলন, বাজারদর, পরিবহন ও পরিচর্যার খরচের ওপর চাষির আয় নির্ভর করবে।
মাল্টায় সফল হতে উপযোগী জাতের চারা, সুষম সার, রোগবালাই দমন, নিয়মিত পরিচর্যা ও সময়মতো ফল সংগ্রহ জরুরি। পাহাড় থেকে শহরে পরিবহনের ব্যয় ও সময় বেশি হলে লাভ কমে, আর বাছাই, প্যাকেজিং ও সংরক্ষণ না থাকলে ফলের মান নষ্ট হয়। উৎপাদন এলাকায় সংগ্রহকেন্দ্র, উন্নত প্যাকেজিং, কৃষক সমবায় ও সরাসরি বিপণনে চাষিদের যুক্ত করলে মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা কমবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন: আরমান খান, জাগো নিউজ।
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪



মন্তব্য
(০)