মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর ফার্নিচার মোড় এলাকার ‘আল্লাহর দান নার্সারি’র মালিক হারুনুর রশিদ পাকিস্তানি কেনু জাতের কমলা চাষে সাফল্য পেয়েছেন। বাড়ির পাশে প্রায় ২৪০টি গাছের বাগানে এ বছর প্রথমবার বেশির ভাগ গাছে ফল এসেছে, থোকায় থোকায় ঝুলছে কমলা।
প্রায় পাঁচ বছর আগে এক ব্যক্তি ভারত থেকে কেনু কমলার একটি চারা এনে নিজের বাড়িতে লাগান। সেই গাছে ফল ধরলে হারুনুর রশিদ কলম করে চারা সংগ্রহ করেন, নার্সারিতে চারা তৈরি করে নিজের বাগানে লাগান এবং কয়েকজনের কাছে বিক্রিও করেছেন। এখন প্রতিটি চারা ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তাঁর হিসাবে, গাছ লাগানোর প্রায় তিন বছরের মধ্যে ফল আসে, ফল পাকতে লাগে আট থেকে দশ মাস। সাধারণত ফেব্রুয়ারির দিকে ফুল আসে, ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে ফল পরিপক্ব হয়। তিন-চারটি কমলায় ওজন হয় প্রায় এক কেজি, আর পূর্ণ ফলনে একটি বড় গাছ থেকে তিন থেকে চার মণ কমলা পাওয়া সম্ভব বলে তিনি জানান।
২৭ বছর ধরে গাছের পরিচর্যা করা এই নার্সারি মালিকের কাছে তিন জাতের কমলা আছে। তাঁর পর্যবেক্ষণে কেনু জাতের ফলন ও মান তুলনামূলক ভালো। মাগুরার কয়েকজন কৃষক এরই মধ্যে এ জাতের চারা নিয়ে বাগান শুরু করেছেন, তাঁদের সার, বালাইনাশক ও পরিচর্যার পরামর্শও দিচ্ছেন তিনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. আজম উদ্দিন জানান, মাগুরায় এরই মধ্যে কয়েকটি চায়না কমলার বাগান হয়েছে, প্রায় এক হেক্টরে কমলার চাষ হচ্ছে এবং চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নতুন এই জাতের ফলন ভালো দেখা যাচ্ছে, বিষয়টি তাঁরা নজরে রাখছেন।
তবে তাঁর পরামর্শ, নতুন কোনো ফলের বাণিজ্যিক চাষ শুরুর আগে স্থানীয় মাটি, আবহাওয়া, জাত নির্বাচন, রোগবালাই, উৎপাদন খরচ ও বাজারজাতকরণের দিকগুলো বিবেচনা করা জরুরি।
প্রতিবেদন: কৃষি সময়ের মাগুরা সংবাদদাতা।
ছবি: Kinnow / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: কৃষি সময়



মন্তব্য
(০)