কানাডার ম্যানিটোবা ও সাসকাচেওয়ান প্রদেশে এজিসিও, ফেন্ট, ম্যাসি ফার্গুসন ও ক্লাস ব্র্যান্ডের কৃষিযন্ত্র বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান এজিওয়েস্ট (AgWest) পাওনাদারদের হাত থেকে আদালতের সুরক্ষা চেয়ে আবেদন করেছে। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে দেখা যাচ্ছে, অঞ্চলটির কৃষিযন্ত্রের বাজার একসঙ্গে কয়েক দিক থেকে চাপে পড়েছে।
নথি অনুযায়ী, ফসলের দাম কমা, সুদের হার বাড়া আর উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রেইরি অঞ্চলের অনেক কৃষক বড় বিনিয়োগ কমিয়ে দিয়েছেন এবং নতুন যন্ত্র কেনা পিছিয়ে দিচ্ছেন। নতুন যন্ত্র কেনাকে কৃষি অর্থনীতির প্রতি আস্থার মাপকাঠি ধরা হয়; লাভের প্রান্ত সরু হলে এই খরচই সবার আগে স্থগিত হয়। অথচ ডিলারকে বিশাল মজুত ঋণ করে টানতে হয়, তাই বিক্রি কমলেই নগদ টাকার সংকট দেখা দেয়।
পুরোনো যন্ত্রের দাম কমে যাওয়াকেও বড় কারণ বলা হয়েছে নথিতে। ছাড়ে বিক্রি আর নিলামের কারণে পশ্চিম কানাডাজুড়ে মজুত যন্ত্রের দাম নেমে গেছে। নতুন যন্ত্রের অনেক বিক্রিই পুরোনো যন্ত্র বদলে নেওয়ার ওপর নির্ভর করে, ফলে ডিলারের হাতে প্রচুর পুরোনো ট্রাক্টর, কম্বাইন হারভেস্টার, স্প্রেয়ার ও খড়ের যন্ত্র জমে থাকে। দাম প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত পড়লে সেই মজুতের মূল্যও কমে যায়, আর কৃষকও পুরোনো যন্ত্র দিয়ে নতুন যন্ত্র নিতে গেলে কম দাম পান।
চড়া সুদ দুই পক্ষকেই ভোগাচ্ছে। একেকটি নতুন যন্ত্রের দাম কয়েক লাখ ডলার, কোনো কোনো বড় যন্ত্রের দাম দশ লাখ ডলারও ছাড়ায়। সুদ বাড়লে কৃষকের কিস্তি বাড়ে, ডিলারের মজুত ধরে রাখার খরচও বাড়ে; ফলে যন্ত্র বদলানোর চক্র দীর্ঘ হয়।
নেদারল্যান্ডসের জুইগার্স ইকুইপমেন্ট গ্রুপ ২০২৩ সালে এজিওয়েস্টকে কিনে নেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি সাসকাচেওয়ানে ব্যবসা বাড়ায়। এখন ম্যানিটোবা ও পূর্ব সাসকাচেওয়ানে এর আটটি শাখা রয়েছে, কর্মী প্রায় ১০৯ জন।
যেসব কৃষক এজিওয়েস্টের কাছ থেকে যন্ত্র কিনেছেন, তাঁদের প্রথম চিন্তা সার্ভিস ও খুচরা যন্ত্রাংশ। নথি বলছে, পুনর্গঠন চলাকালেও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালু থাকার কথা। প্রধান জামানতধারী ঋণদাতা ব্যাংক অব মন্ট্রিয়ল কার্যক্রম, কর্মীদের বেতন ও গ্রাহকসেবা চালাতে ৬০ লাখ ডলার পর্যন্ত অন্তর্বর্তী অর্থায়নের সুযোগ দিয়েছে।
আদালতের তত্ত্বাবধানে পুনর্গঠন ও বিক্রির প্রক্রিয়াতেই ঠিক হবে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ। তবে নথি অনুযায়ী ফসলের দাম কমা, কৃষকের সাবধানী কেনাকাটা, অর্থায়নের খরচ ও পুরোনো যন্ত্রের দরপতন মিলে এজিওয়েস্টের নগদ সংকট তৈরি করেছে, আর এই পরিস্থিতি গোটা কৃষিযন্ত্র সরবরাহ ব্যবস্থাতেই ছড়িয়ে আছে।
ছবি: Bryan Wittal / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: Farms.com





মন্তব্য
(০)