সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

ঈশ্বরদীর লিচু বাগানে গাছে গাছে মুকুল, বাম্পার ফলনের আশা

২০২৬ সালের মার্চের শুরুতে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার লিচু-প্রধান এলাকাগুলোতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ গাছে মুকুল আসে। ২০২৫ সালের খারাপ ফলনের পর চাষি ও কৃষি কর্মকর্তারা বাম্পার ফলনের আশা করছিলেন।

ঈশ্বরদীর লিচু বাগানে গাছে গাছে মুকুল, বাম্পার ফলনের আশা
ফল

২০২৬ সালের মার্চের শুরুতে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার লিচু বাগানগুলো মুকুলে ভরে উঠেছিল, আর চাষি ও কৃষি কর্মকর্তারা বাম্পার ফলনের আশা করছিলেন। ২০২৬ সালের ২ মার্চ ঈশ্বরদী থেকে পাঠানো জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, উপজেলার সাতটি লিচু-প্রধান এলাকায় শতকরা ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ গাছে মুকুল এসেছে। 'লিচুর রাজ্য' হিসেবে পরিচিত এই উপজেলার পথেঘাটে তখন মুকুলের সুবাস ছড়িয়ে ছিল।

বাগানের গাছগুলোতে থোকায় থোকায় সোনালি মুকুল বসন্তের হাওয়ায় দুলছিল, আর মুকুল যেন ঝরে না যায় সেজন্য চাষিরা গাছে পানি দেওয়া, স্প্রে করা ও বাগান পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঈশ্বরদীতে লিচুর বাগান ছিল ১১ হাজার ২৭০টি, আর আগের বছর এ এলাকায় উৎপাদিত মৌসুমি লিচুর বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। গাছে পর্যাপ্ত মুকুল আসায় ২০২৬ সালের লিচুর বাজারমূল্য আগের যেকোনো সময়ের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছিলেন চাষিরা।

এই আশা এসেছিল একটি কঠিন মৌসুমের পর। চাষিরা জাগো নিউজকে জানান, ২০২৫ সালে ফলন খারাপ হওয়ায় অনেকে লোকসান গুনেছেন, কেউ কেউ বাগান কেটে ফেলার কথাও বলছিলেন। মার্চের শুরুর মুকুল শেষ পর্যন্ত ফলে পরিণত হবে কি না, তা যে সামনের কয়েক সপ্তাহের আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করছিল, চাষিরা নিজেরাই সে কথা বলেছিলেন।

৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ গাছে মুকুল


প্রতিবেদনটি তৈরি হয় উপজেলার জয়নগর, মিরকামারী, মানিকনগর, সাহাপুর, জগন্নাথপুর, ভাড়ইমারী ও আওতাপাড়া এলাকা ঘুরে, যেখানে উপজেলার লিচুর বড় অংশ চাষ হয়। এসব এলাকায় শতকরা ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ গাছে মুকুল এসেছিল, আর মুকুল আসা প্রতিটি গাছ ছিল মুকুলে পরিপূর্ণ। মুকুল ঝরা রোধে চাষিরা গাছে পানি দিচ্ছিলেন, কীটনাশক স্প্রে করছিলেন এবং বাগানের পরিচর্যায় সময় দিচ্ছিলেন।

চাষিরা জানান, ঈশ্বরদীতে সাধারণত মাঘের শেষ সপ্তাহ থেকে ফাল্গুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত লিচুর মুকুল আসে, অর্থাৎ শীতের শেষ থেকে বসন্তের প্রথম কয়েক সপ্তাহে।

সাহাপুর গ্রামের লিচু চাষি আব্দুল মজিদ জাগো নিউজকে বলেন, 'আমার বাগানে ১৩৫টি লিচু গাছ রয়েছে। এরমধ্যে ৭-৮টি গাছ বাদে প্রতিটি গাছে পর্যাপ্ত মুকুল এসেছে। মুকুল যেন ঝরে না যায় সেজন্য বাগানের নিয়মিত পরিচর্যা করছি। প্রতিটি লিচু গাছে প্রয়োজনীয় পানি দিচ্ছি ও কীটনাশক স্প্রে করছি। মুকুল যেভাবে এসেছে তাতে আশা করছি ফলন ভালো হবে।'

মানিকনগর গ্রামের চাষি রফিকুল ইসলাম ফারুকী বলেন, 'এ মৌসুমে লিচুর প্রচুর মুকুল এসেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে মুকুল বা গুটি ঝরে না গেলে ফলন খুব ভালো হবে। গত বছর ফলন খারাপ হওয়ায় চাষিদের লোকসান হয়েছে। এবার গাছের মুকুল দেখে মনে হচ্ছে চাষিরা লাভবান হবে।'

এলাকার জীবনে লিচুর গুরুত্ব তুলে ধরে মিরকামারী গ্রামের লিচু চাষি আবুল হাসেম বলেন, 'লিচু এ উপজেলার মানুষের প্রধান অর্থকরী ফসল। লিচুর ফলন ভালো না হলে এ এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থায় এর ব্যাপক প্রভাব পড়ে। গত বছর ফলন কম হওয়ায় অনেকেই ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। লিচু বাগান কেটে ফেলার কথা অনেককেই বলতে শোনা যায়। ইনশাআল্লাহ এ বছর ফলন ভালো হয়েছে, এবার চাষিরা লাভবান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।'

কৃষি দপ্তর যা জানাল


ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন জাগো নিউজকে বলেন, 'এ উপজেলায় এবার ৩১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। বাগানের গাছে গাছে মুকুল এসেছে। আশা করছি ফলন ভালো হবে। মুকুল ঝরা রোধে কৃষকদের নানান ধরনের পরামর্শ দিচ্ছি।'

জাগো নিউজের প্রতিবেদনে জমির পরিমাণ দুভাবে এসেছিল: উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের বরাতে একবার ৩ হাজার ১০০ একর, আর কর্মকর্তার নিজের কথায় ৩ হাজার ১০০ হেক্টর। উপজেলার আগের সরকারি হিসাবের সঙ্গে মেলে হেক্টরের হিসাবটি। ২০২৩ সালের এপ্রিলে তখনকার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঈশ্বরদীতে লিচুর জমি প্রায় ৩ হাজার ১০০ হেক্টর বলেছিলেন; ২০২৪ সালে পাবনার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) জানিয়েছিল ৩ হাজার ১৫০ হেক্টর; আর ২০২৫ সালের মার্চ ও এপ্রিলে ডিএইর সূত্র আবারও ঈশ্বরদীর জন্য ৩ হাজার ১০০ হেক্টরের কথা বলেছিল।

ডিএইর আগের এই হিসাবগুলো দেখায়, পাবনার লিচুর কত বড় অংশ এই এক উপজেলায় হয়। ২০২৪ মৌসুমে ডিএই জানিয়েছিল, পাবনা জেলায় ৪ হাজার ৭২১ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে ৩ হাজার ১৫০ হেক্টর ঈশ্বরদীতে, আর জেলার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৮ হাজার ৮০১ টন। ২০২৫ মৌসুমের জন্য ডিএই জেলায় ৪ হাজার ৭৭৮ হেক্টর জমি ও ৪৬ হাজার ৭৯০ টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল। ২০২৫ সালের মে মাসে পাবনা ডিএই দ্য ডেইলি স্টারকে জানায়, জেলায় প্রায় ৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়, যার প্রায় ৩ হাজার হেক্টর ঈশ্বরদীতে, বাকিটা সদর, আটঘরিয়া, চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া উপজেলায়।

লিচুর বাজারমূল্যের হিসাব অবশ্য প্রতিবেদন থেকে প্রতিবেদনে অনেক আলাদা। ২০২৩ সালের এপ্রিলে তখনকার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেছিলেন, সেই মৌসুমে ঈশ্বরদীতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার লিচু ব্যবসা হতে পারে; আর ২০২৫ সালের মার্চে এক শীর্ষস্থানীয় চাষি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন, ঈশ্বরদীর চাষিরা প্রতি মৌসুমে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার লিচু বিক্রি করেন। ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে আগের বছরের ফসলের যে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার হিসাব, তা উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের দেওয়া।

২০২৬ সালের আগের তিনটি কঠিন মৌসুম


২০২৬ সালের মার্চে চাষিদের সতর্ক আশার পেছনে ছিল আগের তিনটি মৌসুম, যা পাবনার সংবাদপত্রগুলো কাছ থেকে অনুসরণ করেছিল।

২০২৩ সালের ৯ এপ্রিল ডেইলি স্টার বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেবার ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি বৃষ্টিতে আগাম আসা মুকুলের বড় অংশ ঝরে যায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তখন জানান, আগের বছর প্রায় ৮০ শতাংশ গাছে মুকুল আসার পর সে বছর ৬০ শতাংশের বেশি গাছে মুকুল আসেনি। তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে মৌমাছি বের হতে না পারায় পরাগায়ন ব্যাহত হয়েছে, আর মুকুল আসার সময় বেশি পানি দেওয়ায় অনেক গাছে মুকুলের বদলে নতুন পাতা গজিয়েছে।

২০২৪ সালে গাছে আবারও প্রচুর মুকুল আসে। সে বছরের ১ এপ্রিল পাবনা ডিএইর এক কর্মকর্তা ডেইলি স্টার বাংলাকে বলেন, প্রতিটি গাছে আগের বছরের তুলনায় বেশি মুকুল এসেছে, আর বড় ঝড় না হলে উৎপাদন অন্তত ২৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে কৃষি বিভাগ আশা করছিল। এরপর চৈত্রের মাঝামাঝি দুই দফা বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মুকুল পচে ঝরে যায়, আর গ্রীষ্মের শুরুর প্রচণ্ড তাপে বহু গুটি ঝরে পড়ে। পাবনা ডিএইর উপপরিচালক চাষিদের হিসাব মানতে চাননি; তাঁর ভাষ্য ছিল, এবার স্মরণকালের সর্বাধিক মুকুল এসেছে, তবে খরায় কিছু ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। ২০২৪ সালের মে মাসে লিচু পাড়া শুরু হলে এক ব্যবসায়ী জানান, যেখানে গাছপ্রতি সাধারণত অন্তত ৫ হাজার লিচু পাওয়ার কথা, সেখানে মিলছে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার। এক শীর্ষ চাষি বলেন, ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় লিচুর উৎপাদন ব্যাহত হয়, অথচ সেই গ্রীষ্মে বেশিরভাগ সময় তাপমাত্রা ছিল ৩৭-৩৮ ডিগ্রি বা তার বেশি।

২০২৫ মৌসুম ছিল আরও খারাপ। ২০২৫ সালের মার্চের মাঝামাঝি ঈশ্বরদীর চাষিরা জানান, তাঁদের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ গাছে মুকুলের বদলে নতুন পাতা এসেছে। ৬০০ গাছের মালিক এক শীর্ষ চাষি বলেন, মাত্র ১২০ থেকে ১৫০টি গাছে মুকুল এসেছে, আর ৪০ বছরে তিনি এমন অবস্থা দেখেননি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, কারণ সম্পর্কে কর্মকর্তারা নিশ্চিত নন, তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থাকতে পারে। এপ্রিলের শেষে তিনি প্রায় ৩০ শতাংশ উৎপাদন কমার আশঙ্কার কথা জানান। মে মাসে লিচু পাড়ার সময় তিনি বলেন, ঈশ্বরদীতে সাধারণত অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি লিচু উৎপাদন হয়, কিন্তু সে বছর তা মাত্র প্রায় ১০০ কোটি; তাপপ্রবাহ ও বৈরী আবহাওয়ায় বেশিরভাগ মুকুল শুকিয়ে যাওয়াকে তিনি এর কারণ বলেন। ৮ লাখ টাকায় ৪০০ গাছ কেনা এক মৌসুমি ব্যবসায়ী জানান, তিনি অন্তত ৮ লাখ লিচুর আশা করেছিলেন, কিন্তু পেয়েছেন ৪ লাখের বেশি নয়। অন্যদিকে সে বছর পাবনার চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া উপজেলার চাষিরা ভালো ফলনের কথা জানান।

২০২৬ সালের মার্চে ঈশ্বরদীর চাষিরা যখন লোকসান আর বাগান কেটে ফেলার আলোচনার কথা বলছিলেন, তখন তাঁরা এই 'গত বছরের' কথাই বোঝাচ্ছিলেন।

পদ্মার তীরের উপজেলা ঈশ্বরদী


ঈশ্বরদী পাবনা জেলার পশ্চিমে, পদ্মা (গঙ্গা) নদীর তীরে। জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী উপজেলার আয়তন ২৫০.৮৯ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তরে লালপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলা, দক্ষিণে কুষ্টিয়া জেলার কুষ্টিয়া সদর ও মিরপুর উপজেলা এবং গঙ্গা নদী, পূর্বে পাবনা সদর ও আটঘরিয়া উপজেলা, পশ্চিমে ভেড়ামারা উপজেলা ও গঙ্গা নদী। উপজেলার প্রধান নদী পদ্মা ও কমলা, আর উল্লেখযোগ্য জলাভূমি পাতি বিল।

ঈশ্বরদী থানা গঠিত হয় ১৯৪৯ সালে, উপজেলা হয় ১৯৮৩ সালে। এখানে একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়ন: দাশুড়িয়া, পাকশী, মুলাডুলি, লক্ষ্মীকুণ্ডা, সাঁড়া, সাহাপুর ও সলিমপুর। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে উপজেলার জনসংখ্যা ছিল ৩ লাখ ১৩ হাজার ৯৩২। ১৯১২ সালে এখানে পদ্মার ওপর প্রায় ৫ হাজার ৯৪০ ফুট দীর্ঘ হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মিত হয়, আর জ্ঞানকোষটি লালন শাহ সেতুকেও উপজেলার উল্লেখযোগ্য স্থাপনার তালিকায় রেখেছে।

পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর ওপর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। ছবি: Shahnoor Habib Munmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর ওপর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। ছবি: Shahnoor Habib Munmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

বাংলাপিডিয়ার তালিকায় ঈশ্বরদীর প্রধান ফসল ধান, গম, আখ, পান, আলু, পেঁয়াজ ও শাকসবজি, আর প্রধান ফল আম, কাঁঠাল, লিচু, পেঁপে, লেবু, কুল, তাল ও বেল। উপজেলায় কয়েকটি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রও আছে, তার মধ্যে আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, ডাল গবেষণা কেন্দ্র এবং ইক্ষু গবেষণা কেন্দ্র, যেটিকে বাংলাপিডিয়া বাংলাদেশের একমাত্র বলে উল্লেখ করেছে।

দেশের লিচু উৎপাদনকারী জেলাগুলোর মধ্যে পাবনা তুলনামূলক নতুন নাম। বাংলাপিডিয়ার লিচু নিবন্ধে প্রধান উৎপাদন এলাকা হিসেবে রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ ও নারায়ণগঞ্জের নাম আছে, আর ২০২৪ সালের এপ্রিলে ডেইলি স্টার বাংলা পাবনাকে লিচুর একটি নতুন উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেছিল।

লিচু গাছে মুকুল আসে কীভাবে


লিচুর বৈজ্ঞানিক নাম Litchi chinensis, এটি সাপিন্ডেসি (Sapindaceae) পরিবারের গাছ, আদি নিবাস চীন। বাংলাপিডিয়ার বর্ণনায়, লিচুর জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু দরকার, শুষ্ক গরম বাতাস ফলের ক্ষতি করে, গভীর দোআঁশ পলিমাটিতে গাছ সবচেয়ে ভালো হয়, আর গাছ আর্দ্র মাটি পছন্দ করলেও জলাবদ্ধতা সইতে পারে না। দেশের বৃক্ষজাত ফলের মধ্যে আমের পরেই লিচুর স্থান। এর ছোট, সাদাটে ফুল ডালের মাথায় বড় শাখায়িত মঞ্জরিতে ফোটে, আর ফলের খাওয়ার অংশটি হলো একটি বীজ ঘিরে থাকা মিষ্টি, স্বচ্ছ শাঁস বা অ্যারিল।

মুকুলের মঞ্জরিগুলো মৌসুমের নতুন ডালে জন্মায় এবং ১০ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার বা তার বেশি লম্বা হতে পারে; প্রতিটিতে থাকে শত শত ছোট সুগন্ধি ফুল। ঈশ্বরদীর প্রতিবেদনে উপজেলার পথেঘাটে যে সুবাসের কথা বলা হয়েছে, তা এই ফুলেরই।

কোনো ডালে মুকুল আসবে, নাকি শুধু পাতা গজাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে আগের শীতের আবহাওয়ার ওপর। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ২০০২ সালে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের লিচু উৎপাদন নিয়ে যে সংকলন প্রকাশ করে, তার সারসংক্ষেপ অধ্যায়ে পশ্চিমবঙ্গের বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এস কে মিত্র লিখেছেন, নতুন কুশি গজানোর শুরুর সময়টি ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার চেয়ে ঠান্ডা দিনের সঙ্গে মিললে মুকুল তৈরি হয়, আর মুকুল আসার আগে গাছের বৃদ্ধি থামাতে শীতকাল যথেষ্ট ঠান্ডা বা শুষ্ক হওয়া দরকার। কুঁড়ি কয়েক মিলিমিটারের বেশি বড় হওয়ার পর উষ্ণ আবহাওয়া এলে সেই ডালে শুধু পাতা হয়। দেরিতে বা বেশি মাত্রায় নাইট্রোজেন সার দেওয়ার পর শীতে অতিরিক্ত পাতা গজালে ফলন কমে যেতে পারে।

২০২৫ সালে ঈশ্বরদীর চাষিরা ঠিক এই সমস্যারই মুখোমুখি হয়েছিলেন, যখন বেশিরভাগ গাছে মুকুলের বদলে নতুন পাতা এসেছিল। এফএওর একই সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ায় ফুল শুকিয়ে যেতে পারে এবং বিকশিত হয় না, মেঘলা ঠান্ডা আবহাওয়ায় পরাগায়ন ও ফল ধরা বাধাগ্রস্ত হতে পারে, আর 'ভালো মুকুল আসা মানেই ফল ধরা বা ভালো ফলনের নিশ্চয়তা নয়।'

একই সংকলনে বাংলাদেশ অধ্যায়টি লিখেছেন সমন্বিত উদ্যান ও পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক এস বি এম আবু বকর সিদ্দিকী। তিনি লিখেছেন, দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে মুকুল আসার সময় তাপমাত্রা থাকে প্রায় ২৭ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং পরে তা বাড়ে, আর মুকুলের সময় আগাম বৃষ্টি হলে ফল কম ধরে। ফল ধরার প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ দিন পর, মে ও জুন মাসে লিচু সংগ্রহ করা হয়। তিনি সতর্ক করেছেন, ব্যবস্থাপনা দুর্বল হলে পরের বছরের ফলন প্রায়ই অর্ধেকে নেমে আসে, যাকে একান্তর ফলন বলা হয়।

বাংলাদেশের একটি লিচু গাছ। ছবি: RockyMasum / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাংলাদেশের একটি লিচু গাছ। ছবি: RockyMasum / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ঈশ্বরদীতে যেসব জাতের লিচু হয়


জাগো নিউজের প্রতিবেদনে চাষিদের বরাতে বলা হয়, ঈশ্বরদীতে মূলত দুই জাতের লিচু সবচেয়ে বেশি চাষ হয়, যেগুলোর নাম প্রতিবেদনে এসেছে মোজাফ্ফর বা দেশি এবং বোম্বাই বা চায়না-৩ হিসেবে। এর বাইরে স্বল্প পরিসরে কদমি, কাঁঠালি, বেদানা, চায়না-১ ও চায়না-২ জাতের লিচুরও চাষ হচ্ছিল।

এফএওর বাংলাদেশ অধ্যায়ে অবশ্য বোম্বাই ও চায়না-৩ আলাদা জাত হিসেবে বর্ণিত:

  • বোম্বাই: দেশের সবচেয়ে পুরোনো উচ্চফলনশীল এবং সবচেয়ে বেশি চাষ হওয়া জাত। ফল হৃৎপিণ্ডাকার ও গাঢ় লাল, ওজন ১৮ থেকে ২০ গ্রাম, পাকে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে।
  • মোজাফফরপুরী: ভারত থেকে আনা, প্রধানত দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে চাষ হয়। ফল গোলাপি ও ডিম্বাকার, ওজন প্রায় ২০ গ্রাম, পাকে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে।
  • বেদানা: মানে সবচেয়ে ভালো ধরা হয়, তবে ফলন সবচেয়ে কম। ফল গোলাকার ও উজ্জ্বল লাল, ওজন ২৫ থেকে ২৮ গ্রাম, পাকে জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে।
  • চায়না-৩: গোলাকার ফল, রং লাল ও কমলার মিশেলে সবুজ ছোপ, ওজন প্রায় ২৫ গ্রাম, পাকে জুনের শেষ সপ্তাহে। ভালো ব্যবস্থাপনা না পেলে এ জাত অনিয়মিত ফল দেয়।
  • কদমি: অধ্যায়টিতে রাজশাহী, মঙ্গলবাড়ী ও কালীপুরীর সঙ্গে স্থানীয় জাতের তালিকায় এর নাম আছে।

একই অধ্যায়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) উদ্ভাবিত তিনটি জাতের বর্ণনা আছে: রাজশাহী থেকে আসা আগাম ও উচ্চফলনশীল বারি লিচু-১; আকবরপুর থেকে আসা নাবি জাত বারি লিচু-২, যা ফলছিদ্রকারী পোকা ও মাকড় সহনশীল বলে উল্লেখ আছে; আর আকবরপুর থেকে আসা মধ্য-মৌসুমি জাত বারি লিচু-৩, যা দেখতে চায়না-৩-এর মতো এবং মরিচা রোগ সহনশীল। এফএওর সংকলনের বর্ণনায় ফলের আকার, শাঁস, রং ও ফলনের দিক থেকে তিনটির মধ্যে বারি লিচু-৩ সবচেয়ে ভালো বিবেচিত হয়েছিল।

সিলেটের জৈন্তাপুরে সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্রে বারি লিচু-৩। ছবি: Abu Sayeed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সিলেটের জৈন্তাপুরে সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্রে বারি লিচু-৩। ছবি: Abu Sayeed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

আগাম জাতগুলো মে মাসে আর নাবি জাতগুলো জুনে পাকে বলে কয়েকটি জাত চাষ হওয়া এলাকায় বাজারে লিচু বেশি দিন ধরে আসতে পারে। এফএওর অধ্যায়ে আরও বলা হয়েছে, আমের মতো লিচু পাড়ার পর আর পাকে না, এবং প্রতিটি গাছ থেকে কয়েক দফায় থোকা ধরে লিচু পাড়া হয়।

মুকুল ও গুটি রক্ষায় পরিচর্যা


২০২৬ সালের মার্চে ঈশ্বরদীর চাষিরা গাছে পানি দিচ্ছিলেন ও কীটনাশক স্প্রে করছিলেন, আর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, মুকুল ঝরা রোধে তাঁর দপ্তর কৃষকদের নানান ধরনের পরামর্শ দিচ্ছে। কোন ওষুধ বা কী মাত্রায় ব্যবহার হচ্ছিল, প্রতিবেদনে তা বলা হয়নি।

আগের মৌসুমগুলোতে খরার সময় পাবনা ডিএই একই ধরনের মৌলিক পরামর্শ দিয়েছিল। ২০২৪ সালের এপ্রিলে তাপ ও খরায় গাছ শুকিয়ে যেতে থাকলে পাবনা ডিএইর উপপরিচালক জানান, কৃষকদের নিয়মিত গাছের ওপরের অংশে পানি স্প্রে করতে এবং গাছের গোড়ায় পর্যাপ্ত পানি দিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। চাষিরা ইউএনবিকে বলেন, এত বড় বাগানে এভাবে পানি স্প্রে করা কঠিন।

এফএওর বাংলাদেশ অধ্যায়েও পানির এই প্রয়োজনের কথা আছে। সেখানে বলা হয়েছে, মুকুল আসা ও ফল ধরার সময় সম্পূরক সেচ দরকার, পানির অভাবে ফল ঝরে পড়ে, সরকারি বাগানে মুকুলের সময় ও ফল ধরার পর দুবার সেচ দেওয়া হতো, আর ফল ধরার পর পনেরো দিন পরপর সেচ দিলে ভালো ফলন পাওয়া যেত। তবে সময়টা গুরুত্বপূর্ণ: ২০২৩ সালে ঈশ্বরদীর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেছিলেন, মুকুল আসার সময় বেশি পানি দেওয়ায় অনেক গাছে ফুলের বদলে পাতা গজিয়েছিল।

মুকুল থেকে ফলের পথে আরেকটি ধাপ পরাগায়ন, আর তাতে মৌমাছির ভূমিকা আছে: ২০২৩ সালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেছিলেন, মুকুলের সময় বৃষ্টির কারণে মৌমাছি বের হতে না পারায় সে মৌসুমে পরাগায়ন ব্যাহত হয়েছিল।

এফএওর অধ্যায়ে এই পর্যায়ের প্রধান শত্রুদের কথাও আছে। লিচুর মাকড় (Aceria litchi) সবচেয়ে ক্ষতিকর বলে বর্ণিত: এটি পাতায় মখমলের মতো গল তৈরি করে এবং মুকুল ও কচি ফল আক্রমণ করে; ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আক্রমণ থাকে, সবচেয়ে বেশি এপ্রিল ও মে মাসে। অধ্যায়টিতে জুন ও আগস্টে আক্রান্ত ডাল ছেঁটে পুড়িয়ে ফেলার সুপারিশ আছে। মৌসুমের পরের দিকে ফলছিদ্রকারী পোকা ফল আক্রমণ করে, যার কীড়া বোঁটার দিক দিয়ে ঢুকে বীজ খায়; আর পাকা ফল নষ্ট করে বাদুড় ও পাখি।

কোন কীটনাশক, কী মাত্রায় এবং কখন স্প্রে করতে হবে, তা নির্ভর করে পোকার ধরন ও ফসলের পর্যায়ের ওপর। তাই মুকুল বা কচি গুটিতে স্প্রে করার আগে চাষিদের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বা ডিএইর স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বাগান কেনাবেচা ও এলাকার অর্থনীতি


ঈশ্বরদীর লিচুর বড় অংশ পাকার অনেক আগেই গাছে থাকতেই বিক্রি হয়ে যায়। ২০২৫ সালের মার্চে ডেইলি স্টার বাংলা জানায়, মৌসুমি ব্যবসায়ীরা মুকুল দেখে বাগান কেনেন, আর একটি গাছ এক মৌসুমে অন্তত তিন থেকে চারবার হাতবদল হয়: মুকুল দেখে, গুটি আসার পর এবং লিচু পাকার পরও। প্রতিবার বিক্রিতে দাম বাড়ে। সেই বসন্তে এক ব্যবসায়ী জানান, তিনি ২০০টির বেশি গাছ কিনেছেন প্রায় ৫ লাখ টাকায়, অথচ আগের বছর ১০০টি গাছ কিনেছিলেন প্রায় দেড় লাখ টাকায়।

এই ব্যবস্থায় খারাপ মৌসুমের ঝুঁকি গিয়ে পড়ে ব্যবসায়ীদের ঘাড়ে। ২০২৪ সালে এক ব্যবসায়ী ১২ লাখ টাকায় ৩০০টি গাছ কিনে দেখেন, গাছে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম ফল। ২০২৫ সালের মে মাসে এক ব্যবসায়ী জানান, পাড়ার খরচ বাদ দিয়ে সামান্য লাভ করতেও তাঁকে পাইকারিতে প্রতি শ লিচু ৩০০ টাকায় বিক্রি করতে হবে, যেখানে আগের বছর দাম ছিল প্রতি শ ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা।

ফলন ভালো হলে এই ব্যবসা উপজেলার সীমা ছাড়িয়ে অনেক দূর যায়। ২০২৪ সালের মে মাসে ঢাকা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ীরা ঈশ্বরদীর আওতাপাড়া এলাকায় লিচু কিনছিলেন, আর ২০২৫ সালে চাষিরা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, স্বাভাবিক মৌসুমে মে মাসের মাঝামাঝি প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ ট্রাক লিচু ঈশ্বরদী থেকে বাইরে যায়। ২০২৪ সালের মে মাসে লিচু পাড়ার সময় ডেইলি স্টার বাংলা প্রতিটি বাগানে কয়েক ডজন নারী-পুরুষকে লিচু পাড়া, বাছাই ও প্যাকেট করার কাজে দেখেছিল।

এ কারণেই ২০২৬ সালের মার্চে মিরকামারীর চাষি লিচুকে উপজেলার প্রধান অর্থকরী ফসল বলেছিলেন, আর মার্চের শুরুর মুকুলের দিকে সবাই এত মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে ছিলেন: ঈশ্বরদীতে আসন্ন ফলনের আকার চাষি, ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সবার আয়েই প্রভাব ফেলে।

ছবি: B.navez / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দ্য ডেইলি স্টার, ডেইলি স্টার বাংলা, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (ইউএনবি), টিবিএস বাংলা, বাংলাপিডিয়া, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারটি তাজা আপেলের একটি যায় বিদেশে, রপ্তানি আয় রেকর্ড

২০২৫/২৬ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৭ কোটি পাউন্ড তাজা আপেল রপ্তানি করেছে, যা মোট তাজা উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশ। রপ্তানি আয় রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে; বড় ক্রেতা মেক্সিকো ও কানাডা।

ers_usda১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

আপেলগাছের গোড়ায় লালচে গুঁড়া? সতর্ক করছে বিরল কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কানাডার ম্যানিটোবার কৃষি বিভাগ ফলচাষিদের রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছে। এই লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকার কীড়া জীবন্ত আপেল ও সাস্কাটুন গাছের ভেতরে তিন বছর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কাটে; কাণ্ডের গোড়ায় লালচে গুঁড়াই সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)