মৌসুমের শেষ দিকের নাইট্রোজেন মাটিতে না দিয়ে পাতায় স্প্রে করার পদ্ধতি যুক্তরাজ্যের কিছু কৃষকের মধ্যে জনপ্রিয় হচ্ছে, লক্ষ্য নাইট্রোজেনের দক্ষ ব্যবহার আর উপকরণ কমানো। তিনটি খামার থেকে এ খবর দিয়েছে ফার্মার্স উইকলি। অনেকে মূল নীতিগুলো শিখেছেন ইন্টিগ্রেটেড সয়েলসের জোয়েল উইলিয়ামসের ২০২৩ সালে চালু অনলাইন কোর্স থেকে।
ক্যামব্রিজশায়ারের পিয়ারসন গেপ ফার্মিং পার্টনারশিপের ব্যবস্থাপক রিস জোন্স শুরু করেন এমন গম চাষ করতে গিয়ে, যেখানে মোট নাইট্রোজেন হেক্টরে ৮০ কেজিতে সীমিত ছিল; তাতে ১৩ শতাংশ প্রোটিনে হেক্টরে ৬ টন ফলন পান। কেনা পণ্য দামি দেখে এখন খামারেই ইউরিয়া গলান: ৩০ ডিগ্রিতে গরম করা বৃষ্টির পানিভরা ২ হাজার লিটারের শঙ্কু আকৃতির ট্যাংকে ৮০০ কেজি ইউরিয়া, কম্প্রেসরে নাড়ালে লাগে প্রায় চার ঘণ্টা। অর্ধেক পাতলা করে হেক্টরে প্রায় ১০ কেজি নাইট্রোজেন দেন, ৯০ শতাংশ ইউরিয়া আর ১০ শতাংশ অ্যামোনিয়াম সালফেট থেকে। মাটিতে প্রায় ১৪০ কেজি দেওয়ার পর ফ্ল্যাগ লিফ পর্যায় থেকে পাতায় স্প্রে, তাতে নাইট্রোজেন প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে, ফলন বা মানে কোনো প্রভাব ছাড়াই। স্প্রে করেন রাতে, যাতে ফোঁটা পাতায় কয়েক ঘণ্টা থাকে।
সাফোকের হল ফার্মের জেমস বুচার কেনা পণ্যে হেক্টরে প্রায় ১০ কেজি নাইট্রোজেন দেন, সঙ্গে মাছের হাইড্রোলাইসেট, সামুদ্রিক শৈবাল, হিউমিক অ্যাসিড আর রস বিশ্লেষণ দেখে অণুপুষ্টি; পাতা পোড়া এড়াতে স্প্রে করেন ভোরে। মার্চে দানাদার ৪০ কেজি আর বায়োগ্যাসের অবশিষ্ট মিলিয়ে তাঁর মোট নাইট্রোজেন হেক্টরে ২০০-২২০ থেকে প্রায় ১২০ কেজিতে নেমেছে।
পেমব্রোকশায়ারের দুগ্ধখামারি অ্যান্ড্রু রিস এক ইউরোপীয় প্রকল্প দেখে শুরু করেন, যেখানে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কম নাইট্রোজেনে একই পরিমাণ ঘাস হয়েছিল। ২০১৯ সালের হেক্টরে ২২০ কেজি থেকে ২০২১ সালে ৮৩ কেজিতে নামিয়েও ঘাসের ব্যবহার একই থেকেছে, আর গর্ভধারণে ব্যর্থ গাভি ও ওলানফোলা রোগ দুটোই প্রায় অর্ধেক হয়েছে বলে জানান তিনি। এখন চারণভূমিতে প্রায় কোনো কৃত্রিম নাইট্রোজেনই দেন না, বদলে আলাদা করা গোবর-মূত্র ব্যবহার করেন।
ছবি: Oast House Archive / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Farmers Weekly





মন্তব্য
(০)