ফরিদপুরের সালথায় রবি মৌসুমে পেঁয়াজের চারা রোপণের সময় সারের বাজার একশ্রেণির ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীর হাতে জিম্মি বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকেরা। সরকারি দরে ৫০ কেজির এক বস্তা ডিএপি বা টিএসপির দাম ১ হাজার ৫০ টাকা হলেও তাঁদের দিতে হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা, অর্থাৎ বস্তায় ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বেশি, জানিয়েছে বাংলানিউজ২৪।
খোয়াড়গ্রামের কৃষক মিলু শেখ বলেন, এখন পেঁয়াজের বীজতলা করা জরুরি, কিন্তু সরকারি দামে ডিলারের কাছে গেলে মাত্র ১৫ কেজি সার দেওয়া হচ্ছে, অথচ তাঁর অন্তত তিন বস্তা দরকার; গোপনে বেশি টাকা দিলে ঠিকই বস্তা ভরে সার মেলে। কৃষক লাভলু মাতুব্বরের অভিযোগ, সরাসরি গেলে বলা হয় সার নেই, বেশি টাকা দিলে অভাব থাকে না; নিয়মিত তদারকি ছাড়া ন্যায্য দামে সার মিলবে না।
কৃষক গোলাম মওলা বলেন, ফসলের সঠিক দাম নেই, তার ওপর বস্তায় ৭০০ টাকা বেশি দিতে হলে কৃষক টিকবে কীভাবে। সালথায় রবি মৌসুমে পেঁয়াজ, রসুন ও নানা সবজির ব্যাপক আবাদ হয়; এ সময় সারের চাহিদা বাড়ার সুযোগ নিচ্ছে চক্রটি, আর খুচরা দোকানের অবৈধ মজুতদারিকেও দায়ী করছেন স্থানীয়রা। রসিদ ছাড়া সার বিক্রি এবং দোকানে সরকারি দরের তালিকা না টাঙানোর অভিযোগও আছে একাধিক ডিলারের বিরুদ্ধে।
তবে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের দাবি, সারের কোনো সংকট নেই। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসানুল হাবীব আল আজাদ বলেন, সম্প্রতি অনিয়মের অভিযোগে দুটি সারের ডিলারকে জরিমানা করা হয়েছে, মাঠে নিয়মিত তদারকি চলছে এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ইউএনও দবির উদ্দিন জানান, উপজেলায় সারের ঘাটতি নেই; কেউ বেশি দামে সার বেচলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, এরই মধ্যে কয়েকজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হয়েছে এবং অভিযান চলবে।
পেঁয়াজের মৌসুমের শুরুতে বাড়তি সার খরচ কৃষকের উৎপাদন ব্যয় সরাসরি বাড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চাষিরা।
প্রতিবেদন: হারুন-অর-রশীদ, বাংলানিউজ২৪। ছবি: Hassanrakib04 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বাংলানিউজ২৪





মন্তব্য
(০)