খাতুনগঞ্জের বেচাকেনা নামল অর্ধেকে
দেশের বৃহত্তম ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চাকতাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসা বাণিজ্যে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। সোমবার লকডাউন শুরুর দিনে বেচাকেনায় ধস নেমেছে। নিত্যপণ্যের বাজার লকডাউনের আওতা
দেশের বৃহত্তম ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চাকতাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসা বাণিজ্যে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। সোমবার লকডাউন শুরুর দিনে বেচাকেনায় ধস নেমেছে। নিত্যপণ্যের বাজার লকডাউনের আওতামুক্ত হলেও বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে ব্যবসায়ীরা আসতে না পারায় এই বাণিজ্য কেন্দ্রে বেচাকেনা কমে গেছে। চাহিদা না থাকায় বেচাকেনা কম হলেও বিভিন্ন পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে আদা, রসুন, পেঁয়াজের দাম গত কয়েক দিনে বেড়েছে। তবে কোনো পণ্যের সংকট নেই বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সীমিত আকারেই চলছে চাকতাই-খাতুনগঞ্জের কেন্দ্রের ব্যবসা-বাণিজ্য। অন্য দিনের তুলনায় লকডাউনের প্রথম দিনে বেচাকেনা, পণ্যের সরবরাহ আদেশ (ডেলিভারি অর্ডার বা ডিও), ট্রেডিং বাণিজ্য অর্ধেকে নেমে এসেছে। ভোগ্যপণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে ডিও বা স্লিপ বাণিজ্য না থাকায় পণ্যের দামে যে হঠাৎ উত্থান বা পতন হতো তা নেই। তবে বেশির ভাগ পণ্যের দাম বেড়েছে।
খাতুনগঞ্জ-চাক্তাই থেকেই তিন পার্বত্য জেলা- খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান ও পর্যটন নগরী কক্সবাজারসহ চট্টগ্রামে বিভাগের ১১টি জেলায় পণ্যের জোগান দেওয়া হয়। এর বাইরে সারাদেশেও অনেক পণ্য সরবরাহ করা হয় খাতুনগঞ্জ থেকে।
সোমবার এক সপ্তাহের লকডাউনের প্রথম দিনে এই বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, বন্দর থেকে কোনো পণ্য নিয়ে ট্রাক আসেনি, তেমনি পণ্য নিয়ে কোথাও যাওয়ার মতো কোনো ট্রাক নেই। পণ্য ওঠানামার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন। পাইকারি ব্যবসায়ীরা দোকান খুলে বসে থাকলেও ছিল না ক্রেতা। অথচ প্রতিদিন অসংখ্য ট্রাক পণ্য ওঠানামা করার জন্য খাতুনগঞ্জের সড়কে অপেক্ষা করত।
সংশ্লিষ্টরা জানান, লকডাউনের শুরুর আগের দিন হঠাৎ করে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কেজিতে দুই টাকা, দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে চার টাকা। রসুনের দাম এক লাফে ৫ টাকা এবং ভারতীয় আদার দাম প্রায় ১৪ টাকা বেড়ে গেছে।
খাতুনগঞ্জে দেশি পেঁয়াজ দুই দিন আগেও ২৮ টাকা কেজি ছিল। সোমবার বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকা। ভারতীয় পেঁয়াজের কেজি ২৯ টাকা থেকে বেড়ে এখন ৩১ টাকা। পাইকারিতে ৪৬ টাকার আদা ৬০ টাকা, ৯৩ টাকার রসুন ৯৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে রমজানের প্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে ভোজ্যতেল, চিনি ও ডাল জাতীয় পণ্য ছোলা, মটর, মসুর, খেসারির দাম কমেছে পাইকারিতে। তবে খুচরা বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। খাতুনগঞ্জের পাইকারি পর্যায়ে মানভেদে প্রতি মণ অস্ট্রেলিয়ার ছোলা ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে এর দাম প্রতি মণ ছিল ২ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা টাকা। অর্থাৎ আগে যে ছোলা ৬২-৭২ টাকা ছিল, এখন তা কমে ৫৯-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে প্রতি মণ মিয়ানমারের ছোলা বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে। এখন ১০০ টাকা কমে ২ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহখানেক আগে প্রতি মণ মটর বিক্রি হয়েছে দেড় হাজার টাকায়, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকায়।
খাতুনগঞ্জ হামিদ উল্লাহ বাজার আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস যুগান্তরকে বলেন, লকডাউনের কারণে ব্যবসায় বাণিজ্য প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। চট্টগ্রামের বাইরের ব্যবসায়ীরা ভোগ্যপণ্য কিনতে আসতে পারছে না। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নেমে এসেছে। তবে প্রত্যেকটি ভোগ্যপণ্য চাহিদার চেয়ে বেশি মজুদ রয়েছে। কোনো পণ্যের সংকট নেই।



