বাংলাদেশ, বলিভিয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস ও পেরুর ৩২ হাজারের বেশি গ্রামীণ পরিবার এখন ১৫টি প্রযুক্তি স্টার্টআপের তৈরি ডিজিটাল সেবা ব্যবহার করে বাজার ও আর্থিক সেবায় পৌঁছাচ্ছে, ফসলের ব্যবস্থাপনা করছে, পণ্যের উৎস শনাক্ত করছে এবং টেকসই চাষ করছে। ১৪ অক্টোবর আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ) ও জার্মান স্পারকাসেনস্টিফটুং ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (ডিএসআইকে) এ কথা জানায়।
সেবাগুলো এসেছে ইনোভাটেক ২.০ কর্মসূচি থেকে। ইফাদ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ডিএসআইকের বাস্তবায়িত এই কর্মসূচি ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে স্টার্টআপগুলোকে ৮১১টি গ্রামীণ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করে। এতে অংশ নেন প্রায় ১৭ হাজার নারী, ১১ হাজার ৩০০-র বেশি তরুণ ও ৮ হাজার ৩০০ আদিবাসী। ২০২১-২০২৩ সালে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে প্রথম পর্বের পর এবারই প্রথম কর্মসূচিটি বাংলাদেশে এসেছে।
সেবার মধ্যে আছে কৃষককে ক্রেতার সঙ্গে যুক্ত করার প্ল্যাটফর্ম, ফসল ব্যবস্থাপনা, তথ্য ও উৎস শনাক্তের সরঞ্জাম, ক্ষুদ্র উৎপাদকের উপযোগী সঞ্চয় ও ঋণসেবা এবং ডিজিটাল প্রশিক্ষণ। হন্ডুরাসে টেরা কাআপে ডিজিটাল নামের স্টার্টআপ একটি গ্রামীণ সঞ্চয় ও ঋণ সমিতির হিসাব ডিজিটাল করেছে। সমিতির সভাপতি রেইনা মেদিনা বলেন, এখন লেনদেনের সঙ্গে সঙ্গেই হিসাবের বিবরণী দেওয়া যায়, তাতে সদস্যদের আস্থা বেড়েছে। অংশ নেওয়া প্রতি তিনটি সংগঠনের দুটি জৈব উপকরণ ও পানির সাশ্রয়ী ব্যবহারের মতো কৃষি-পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিও গ্রহণ করেছে।
ইনোভাটেকের পরিচালক ক্রিস্টিনা ওলসেন বলেন, গ্রামের মানুষের প্রযুক্তির জন্য প্রযুক্তি দরকার নেই, দরকার নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান। তাই আগে চাহিদা খোঁজা হয়, তারপর স্টার্টআপ ও উৎপাদকদের একসঙ্গে আনা হয়। দুই পর্ব মিলে প্রায় ৩০টি কোম্পানি তাদের সেবা গ্রামের উপযোগী করেছে, যা এক হাজারের বেশি উৎপাদক সংগঠন ও ৫০ হাজারের বেশি পরিবারের কাছে পৌঁছেছে। ইফাদের তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এনরিকে হেনিংস বলেন, এখন লক্ষ্য মডেলটি বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া এবং একে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ব্যবস্থায় রূপ দেওয়ার পথ খোঁজা।
ছবি: CIAT / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: আইএফএডি




মন্তব্য
(০)