রংপুরের ঐতিহ্য আর আভিজাত্যের প্রতীক আঁশবিহীন হাঁড়িভাঙা আম, যার সুনাম ছড়িয়েছে বিদেশেও। ২০২৬ সালের মে মাসের শুরুতে এই আম বাজারে আসতে বাকি ছিল মাত্র দেড় মাস। জাগো নিউজ ২০২৬ সালের ৪ মে রংপুর থেকে জানায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সেই মৌসুমে এই আমকে কেন্দ্র করে রংপুর অঞ্চলে ২০০ কোটি টাকার বেশি বাণিজ্যের সম্ভাবনা দেখছিলেন আম-সংশ্লিষ্টরা।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সে বছর জেলায় দুই হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ হয়েছিল। আগের কয়েক সপ্তাহের বৃষ্টি গুটি আম বড় ও রসালো হতে সাহায্য করেছিল। মাঝখানে কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় সামান্য ক্ষতি হলেও সার্বিকভাবে ফলন আগের বছরের চেয়ে ভালো হওয়ার আশা করা হচ্ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে বছর রংপুর জেলায় আম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর, যার মধ্যে ২ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে ছিল হাঁড়িভাঙা। প্রতি হেক্টরে হাঁড়িভাঙার ফলন হয় প্রায় ১০ থেকে ১২ মেট্রিক টন, আর জাগো নিউজ এই ফলনের মূল্য ধরেছিল ২০০ কোটি টাকার বেশি। বাণিজ্যের এই অঙ্কটি ছিল আম পাড়ার আগের প্রত্যাশা, বিক্রির হিসাব নয়।

জুনের মাঝামাঝি পরিপক্ব আম, আগাম পাড়ার সমস্যা
কৃষি বিভাগ ও আমচাষিরা জাগো নিউজকে জানান, সাধারণত জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে পরিপক্ব হাঁড়িভাঙা আম বাজারে মেলে। এর আগে বাজারে যে হাঁড়িভাঙা পাওয়া যায়, তা অপরিপক্ব। কৃষি বিভাগ ও চাষিদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটু বেশি দামের আশায় একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নিয়ম ভেঙে বাজারে অপরিপক্ব হাঁড়িভাঙা বিক্রি করেন। কৃষি অফিসের তথ্যমতে, সেই মৌসুমে ডিসেম্বরের প্রথম দিক থেকেই গাছে মুকুল আসতে শুরু করে; জুনের মাঝামাঝি গাছ থেকে আম পাড়া হয়, আর কৃষি বিভাগ আশা করছিল এবার ঠিক সময়েই আম পাড়া শুরু হবে।
আগের মৌসুমগুলোতে আম পাড়া শুরুর দিন স্থানীয়ভাবে ঠিক করা হতো। প্রথম আলো ২০২৫ সালের জুনে জানায়, প্রতিবছর আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে হাঁড়িভাঙা বাজারে আসার তারিখ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন; মিঠাপুকুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাইফুল আবেদীন পত্রিকাটিকে বলেন, আগের বছরগুলোতে ১৫ থেকে ২০ জুনের মধ্যে তারিখ দেওয়া হয়েছিল। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালে স্থানীয় প্রশাসন আম পাড়া শুরুর দিন ঠিক করেছিল ২০ জুন। প্রথম আলোর তথ্যমতে, ২০২৩ সালে প্রচণ্ড দাবদাহে আম আগেভাগে পাকতে শুরু করায় চাষিদের দাবিতে নির্ধারিত সময়ের ১০ দিন আগে আম পাড়া শুরু হয় এবং ১০ জুন থেকে বাজারে আম মেলে। ২০২৪ সালে আমবাগান মালিক ও জেলা প্রশাসনের যৌথ সভায় আবার ২০ জুনকে বাজারজাতের দিন ঠিক করা হয় বলে ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান ডিএই রংপুরের তৎকালীন উপপরিচালক রিয়াজ উদ্দিন। ২০২৫ সালে ১৩ জুন পর্যন্ত এমন কোনো তারিখ ঘোষণা হয়নি; জেলা ও উপজেলা কৃষি বিভাগ বাগানমালিক ও ব্যবসায়ীদের ১৫ জুনের পর পরিপক্ব আম বাজারজাত করার পরামর্শ দিচ্ছিল।
সময়ের হিসাব জরুরি, কারণ হাঁড়িভাঙা বেশি দিন টেকে না। মিঠাপুকুরের দুজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ২০২৫ সালে প্রথম আলোকে বলেন, গাছ থেকে পাড়ার চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই এই আম পেকে যায়, তাই প্রতি মৌসুমে প্রচুর আম নষ্ট হয়। একই প্রতিবেদনে খোড়াগাছ ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, আম পাড়ার অন্তত ২০ থেকে ২৪ দিন আগে থেকে কোনো কীটনাশক ব্যবহার না করতে চাষিদের বলা হয়; বিষমুক্ত আম উৎপাদনে উত্তম কৃষিচর্চা নিয়ে চাষি প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনী করা হয়, তবে অতিরিক্ত প্রতিযোগিতার কারণে কীটনাশকের ব্যবহার কমানো যাচ্ছে না।
অফ ইয়ারের পর অন ইয়ার
কৃষি সংশ্লিষ্টরা জাগো নিউজকে বলেন, হাঁড়িভাঙা আমগাছ এক বছর কম ফলন দেয়, পরের বছর আবার ভালো ফলন দেয়। যে বছর কম ফলন হয়, তাকে বলা হয় অফ ইয়ার; যে বছর ভালো ফলন হয়, কৃষিবিদদের ভাষায় তা অন ইয়ার। ২০২৬ সালের মৌসুম ছিল হাঁড়িভাঙার অন ইয়ার: গাছে প্রচুর আম ধরেছিল, যা আগের বছরের চেয়ে অনেক বেশি। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, "এবার আমের অন ইয়ার। প্রচুর আম ধরেছে। কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে।"
আমবিজ্ঞানে এই একান্তর ফলন সুপরিচিত। ভারতের একান্তর ফলনশীল জাত দশেহরি নিয়ে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ফ্রন্টিয়ার্স ইন জেনেটিকস সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, আমের একান্তর বা দ্বিবার্ষিক ফলনের প্রবণতা প্রবল: এক বছর গাছে বেশি ফল ধরলে ফুলের কুঁড়ি গঠন কমে যায়, ফলে পরের বছর ফলন কম হয় বা হয়ই না; এভাবেই ভারী ফলন ও কম ফলনের বছরের চক্র তৈরি হয়। গবেষকদের মতে, এটি চাষিদের জন্য বড় সমস্যা, যা বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়; আমগাছে অঙ্গজ বৃদ্ধি থেকে ফুল আসার পর্যায়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি এখনো ভালোভাবে বোঝা যায়নি বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।
মুকুল ও গুটি আসার সময়ের আবহাওয়াই বাকিটা অনেকখানি ঠিক করে দেয়। বাংলাপিডিয়ার আম-বিষয়ক ভুক্তিতে বলা হয়েছে, জানুয়ারি থেকে মার্চে গাছে ফুল আসার সময় কুয়াশা, বৃষ্টি বা মেঘলা আবহাওয়া ফল ধরায় ক্ষতি করে; ফল বড় হওয়ার সময় হালকা বৃষ্টি উপকারী, কিন্তু ঝড়, বিশেষ করে শিলাবৃষ্টিতে অপরিপক্ব আম ঝরে পড়ে। প্রায় এক হাজার ফুলের মধ্যে মাত্র এক-দুটি থেকে পরিপক্ব আম হয়। ২০২৬ সালের প্রতিবেদনের চিত্রও তেমনই: সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে আম বড় হচ্ছিল, আর শিলা ও ঝড়ো হাওয়ায় কিছু আম ঝরেছিল।
রংপুরের চাষিরা এর আগে খারাপ মৌসুমও দেখেছেন। দ্য ডেইলি স্টার ২০২২ সালের জুনে জানায়, মুকুল আসার সময় তাপমাত্রার ওঠানামা এবং মার্চ-এপ্রিলের অসময়ের বৃষ্টির কারণে আগের দুই মৌসুমের তুলনায় সে বছর মোট উৎপাদন ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমতে পারে। ২০২৪ সালের মে মাসে প্রথম আলো খোড়াগাছে টানা তাপপ্রবাহে হাঁড়িভাঙার গুটি ঝরে পড়তে দেখে; চাষিরা জানান, পৌষ-মাঘে মুকুল আসার সময় বৃষ্টি হয়েছিল, তার ওপর খরা ও পোকার আক্রমণ। রংপুর আবহাওয়া অফিস তখন জানায়, এক সপ্তাহ ধরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছিল।

আগের মৌসুমগুলোর আবাদ, ফলন ও বাণিজ্য
আগের বছরগুলোতে প্রকাশিত ডিএইর হিসাব ২০২৬ সালের প্রত্যাশার পটভূমি দেয়। ২০২২ সালের জুনে ডিএই রংপুর জানায়, জেলায় ১ হাজার ৮৮৭ হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙার চাষ হয়েছে, সম্ভাব্য উৎপাদন প্রায় ৪৩ হাজার টন; মোট উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক আসে মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জ উপজেলা থেকে, আর জেলাজুড়ে প্রায় ৫ হাজার হাঁড়িভাঙা বাগান গড়ে উঠেছে। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৎকালীন উপপরিচালক ওবায়দুর রহমান বলেন, সে বছর প্রতি হেক্টরে প্রায় ১৮ টন আম হবে, যাতে চাষি ও ব্যবসায়ীদের ২০০ কোটি টাকার ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে।
২০২৩ সালের জুনে ডিএই রংপুরের উপপরিচালক ওবায়দুর রহমান মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, ওই এলাকায় ১৭ লাখের বেশি হাঁড়িভাঙা আমগাছ রয়েছে; সে বছর হাঁড়িভাঙার আবাদ ১ হাজার ৯০৫ হেক্টরে, আগের বছর ছিল ১ হাজার ৮৮৭ হেক্টরে, আর প্রতি হেক্টরে ১২ থেকে ১৫ টন আম পাওয়া যাবে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ও চাষিদের ধারণা ছিল, সে বছর ২৫০ কোটি টাকার হাঁড়িভাঙা বেচাকেনা হতে পারে। খরচের হিসাবও তাঁরা দেন: হেক্টরপ্রতি আম উৎপাদনে ব্যয় ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা, হেক্টরপ্রতি জমি বর্গা নিতে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা, সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকা; হেক্টরে ৩০০ থেকে ৩২৫ মণ আম হয়, আর তখন মণপ্রতি দাম ছিল ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা।
২০২৪ সালের জন্য ডিএইর জেলা হিসাবে সব জাত মিলিয়ে আমের আবাদ ছিল ৩ হাজার ৩৩৫ হেক্টরে, যার মধ্যে হাঁড়িভাঙা ১ হাজার ৯০৫ হেক্টরে, আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২৬ হাজার মেট্রিক টন, প্রথম আলো ২০২৪ সালের মে মাসে জানায়। এক মাস পর ঢাকা ট্রিবিউন ডিএইর বরাতে জানায়, হাঁড়িভাঙার আবাদ ১ হাজার ৯৩৫ হেক্টরে, আগের বছরের চেয়ে ৩০ হেক্টর বেশি, উৎপাদন হতে পারে প্রায় ৩২ হাজার মেট্রিক টন, আর চাষিরা ২৫০ কোটি টাকার আম বিক্রির আশা করছিলেন। ২০২৫ সালের মে মাসে ডিএই রংপুরের উপপরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বাসসকে (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে প্রকাশিত) বলেন, আগের মৌসুমে অঞ্চলের পাঁচ জেলায় ২ হাজার ৫৫৬ হেক্টরের বাগান থেকে ৩৮ হাজার ৫০৮ টন হাঁড়িভাঙা উৎপাদিত হয়েছিল, এর মধ্যে শুধু রংপুর জেলায় ১ হাজার ৯১০ হেক্টর থেকে ২৯ হাজার ৭৭২ টন; চাষি ও ব্যবসায়ীরা তখন শুধু রংপুরেই ১৮০ থেকে ২০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা করছিলেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য প্রথম আলো ডিএইর বরাতে জানায়, জেলায় হাঁড়িভাঙার আবাদ ১ হাজার ৯১৫ হেক্টরে, এর মধ্যে মিঠাপুকুরে ১ হাজার ২৬৮ হেক্টর, সম্ভাব্য উৎপাদন ২৯ হাজার ৮৫১ মেট্রিক টন; চাষি, ব্যবসায়ী ও কৃষি কর্মকর্তাদের হিসাবে গড়ে ৫০ টাকা কেজি ধরলেও প্রায় ১৫০ কোটি টাকার লেনদেন হবে।
ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে দামও ওঠানামা করেছে। দ্য ডেইলি স্টার ২০২২ সালে জানায়, ২০২০ ও ২০২১ সালে কোভিড-১৯ লকডাউনে চাষিরা আম পরিবহন করতে পারেননি, তখন মানভেদে প্রতি কেজি হাঁড়িভাঙা বিক্রি হয়েছিল ৪০ থেকে ৬০ টাকায়। প্রথম আলোর তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জুনে পদাগঞ্জে আকার ও মানভেদে হাঁড়িভাঙা বিক্রি হচ্ছিল প্রতি মণ ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়।
পদাগঞ্জ হাট ও আম-বাণিজ্যের মানুষ
রংপুরের হাঁড়িভাঙা আমের প্রধান বাজার মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের পদাগঞ্জ হাট, এটি একটি পাইকারি বাজার। পদাগঞ্জের তরুণ উদ্যোক্তা ও আমচাষি নাজমুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, তিনি ১২ একরের বেশি জমিতে আমের চাষ করেছেন। কয়েক দিন আগে শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে বাগানের কিছু ক্ষতি হয়েছে, সামনে আরও ঝড় হলে লোকসান গুনতে হবে; তবে শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান। স্থানীয় পাইকারি ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক বড় বড় পার্টি এরই মধ্যে যোগাযোগ শুরু করেছেন। "আশা করছি, এবার আমের দাম ও চাহিদা দুটোই সন্তোষজনক হবে," বলেন তিনি।
হাটটি কীভাবে চলে, তা আগের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রথম আলো ২০২৫ সালে জানায়, দেশের বিভিন্ন এলাকার আম ব্যবসায়ীরা মৌসুম শুরুর পাঁচ-সাত দিন আগে পদাগঞ্জে এসে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকেন; মৌসুমে পাঁচ-ছয়টি কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠান পদাগঞ্জ থেকে সারা দেশে ভোক্তার কাছে আম পৌঁছে দেয়। এর একটির এক কর্মী পত্রিকাটিকে বলেন, আগের মৌসুমে শুধু তাঁদের প্রতিষ্ঠানই পদাগঞ্জ থেকে ৬০ লাখ টাকার হাঁড়িভাঙা সরবরাহ করেছিল। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাগানমালিকেরা বলেন, বাজারজাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা পদাগঞ্জ হাটেই: সামান্য বৃষ্টিতে হাটে পানি জমে, কোনো শেড নেই, আর ট্রাক-পিকআপ চলাচলের রাস্তা সরু ও খানাখন্দে ভরা।
ফসলের বড় অংশ গাছে থাকতেই বিক্রি হয়ে যায়। প্রথম আলো খোড়াগাছের ৬৫ বছর বয়সী এক চাষির কথা জানায়, যিনি দুই একরের একটি আমবাগান এক মৌসুমের জন্য চার লাখ টাকায় ভাড়া নিয়েছিলেন; দ্য ডেইলি স্টার ২০২২ সালে এমন এক চাষির কথা লেখে, যিনি ৫৪টি গাছের একটি বাগান বছরে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছিলেন। ২০২৪ সালে কয়েকজন চাষি ঢাকা ট্রিবিউনকে অভিযোগ করেন, আগাম বাগান বিক্রি হয়ে যাওয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে তাঁরা ন্যায্য দাম পান না। মৌসুমটি অন্য কাজও তৈরি করে: দ্য ডেইলি স্টার জানায়, আম প্যাকেট ও পরিবহনে ব্যবহৃত বাঁশের ঝুড়ির চাহিদা এ সময় বহুগুণ বাড়ে; আর প্রথম আলো লেখে, মিঠাপুকুরের লালপুর, পদাগঞ্জ, তেয়ানিসহ আশপাশের গ্রামের তরুণেরা চাষিদের কাছ থেকে আম কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে বেকারত্ব ঘুচিয়েছেন।
একসময় অভাবের জন্য পরিচিত অঞ্চলে এই পরিবর্তনের গুরুত্ব আছে। দ্য ডেইলি স্টার ২০২২ সালে ব্যাখ্যা করে, মঙ্গা হলো উত্তরাঞ্চলের বার্ষিক দারিদ্র্য ও ক্ষুধার চক্র, যা মার্চ-এপ্রিল এবং সেপ্টেম্বর-নভেম্বরে দেখা দিত এবং দীর্ঘদিন রংপুরকে ভুগিয়েছে; সেই জেলায় হাঁড়িভাঙা হয়ে উঠেছে সবচেয়ে কার্যকর অর্থকরী ফসল। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ২০২৩ সালে প্রথম আলোকে জানায়, হাঁড়িভাঙা আম রংপুর অঞ্চলের অর্থনৈতিক দৃশ্যপটই বদলে দিয়েছে।

রপ্তানি, অনলাইন বিক্রি ও হিমাগারের দাবি
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর জেলার সভাপতি অধ্যক্ষ ফখরুল আনাম বেঞ্জু জাগো নিউজকে বলেন, হাঁড়িভাঙা আম এখন আর কেবল দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই; মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই আম রপ্তানি হয়। দেশের ভেতরে ফেসবুক ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি বাগান থেকে আম সরবরাহের হার গত কয়েক বছরে কয়েক গুণ বেড়েছে, আর ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে আমটির ব্র্যান্ড ভ্যালুও বেড়েছে, যা ভালো দাম নিশ্চিতে ভূমিকা রাখছে বলে তিনি মনে করেন। সুজন ২০০২ সালে গঠিত একটি নির্দলীয় নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, যার সদর দপ্তর ঢাকায়।
বেঞ্জু আরও বলেন, বিশাল এই বাণিজ্যের সম্ভাবনা থাকলেও হিমাগার বা আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাব নিয়ে চাষিদের কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে। হাঁড়িভাঙা দ্রুত পচনশীল হওয়ায় এটি পরিবহনে বিশেষ ট্রেন বা দ্রুতগামী যানবাহনের ব্যবস্থা করা উচিত বলে তাঁর মত।
দাবিটি নতুন নয়। ২০২৩ সালে এক পথিকৃৎ চাষির বরাতে প্রথম আলো জানায়, আমের মৌসুমে এলাকা থেকে বিপুল টাকা আয় হলেও আম প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য একটিও হিমাগার নির্মাণ হয়নি, বিপণনব্যবস্থা দুর্বল, রাস্তাঘাটও খারাপ। ২০২৫ সালে স্থানীয় লোকজন পত্রিকাটিকে বলেন, বিশেষায়িত হিমাগারের দাবি দীর্ঘদিনের; ২০২৪ সালের ২১ জুন পদাগঞ্জে জিআই পণ্য হাঁড়িভাঙা আম মেলা ও প্রদর্শনীর উদ্বোধন করে তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী আব্দুস শহীদ বিশেষায়িত হিমাগারের ঘোষণা দিয়েছিলেন, কিন্তু ২০২৫ সালের জুনে মিঠাপুকুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিমাগার স্থাপনে সরকারের কোনো উদ্যোগের কথা জানাতে পারেননি। ২০২৪ সালে ঢাকা ট্রিবিউন জানায়, রংপুরের চাষিরা মালয়েশিয়া, নেপাল ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে এরই মধ্যে ৩০ কোটি টাকার আগাম অর্ডার পেয়েছেন; জেলা প্রশাসক জানান, বিভিন্ন এলাকার পাইকারেরা যাতে সরাসরি বাগান থেকে আম কিনতে পারেন সে ব্যবস্থা, টাকা লেনদেনে বিভিন্ন ব্যাংকের বুথ এবং আম বাজারে এলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি নজরদারি থাকবে।
সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের আম রপ্তানি এখনো সামান্য। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে ২০২৫ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত ডিএইর হিসাবে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩০৯ টন আম রপ্তানি হয়েছিল, ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে হয় ১ হাজার ৭৫৭ টন এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩ হাজার ১০০ টন, তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩২১ টনে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বাণিজ্যবিষয়ক প্রকাশনা ফ্রেশপ্লাজা জানায়, ২০২৫ সালে ২৬টি দেশে ২ হাজার ১৯৪ টন আম রপ্তানি হয়েছে, শীর্ষে যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব ও ইতালি, আর রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই আম্রপালি। ২০২৫ সালের ২১ মে কৃষিসচিব ঘোষণা দেন, সে বছরের ২৮ মে চীনে প্রথমবারের মতো আম রপ্তানি শুরু হবে।
একটি হাঁড়ি, একটি গাছ ও একটি নাম
হাঁড়িভাঙার যাত্রা শুরু মিঠাপুকুরের খোড়াগাছের তেকানী গ্রাম থেকে। বৃক্ষপ্রেমী হিসেবে পরিচিত নফল উদ্দিন পাইকারের ছেলে আমজাদ হোসেন পাইকার ২০২৩ সালে প্রথম আলোকে বলেন, সম্ভবত ১৯৪৯ সালে তাঁর বাবা তখনকার ঝোপজঙ্গলে ভরা মিঠাপুকুরের উঁচা বালুয়া গ্রাম থেকে একটি আমের চারা এনে কলম করেন। তখন এর নাম ছিল মালদিয়া। গাছটিতে মাটির হাঁড়ি বেঁধে ফিল্টার বানিয়ে পানি দেওয়া হতো; এক রাতে কে বা কারা হাঁড়িটি ভেঙে ফেলে। পরে গাছে প্রচুর সুস্বাদু আম ধরে, আর বাজারে লোকজন আমটি সম্পর্কে জানতে চাইলে নফল উদ্দিন বলতেন, যে গাছের হাঁড়ি মানুষ ভেঙে ফেলেছে, এটি সেই হাঁড়িভাঙা গাছের আম। সেই থেকেই নাম হাঁড়িভাঙা। ২০২৫ সালেও তাঁর বাড়ির মাতৃগাছটি বেঁচে ছিল।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাতৃগাছ থেকে জোড়কলম নেওয়ার হিড়িক পড়ে যায়; নফল উদ্দিনের মৃত্যুর পর এত কলম করা হয় যে গাছের ডাল হেলে পড়তে শুরু করে, আর আশির দশকে মানুষ বাণিজ্যিকভাবে কলম করে আমবাগান গড়ে তুলতে নামে। মিঠাপুকুরের লুৎফর রহমান ও আবদুস সালাম সরকার ১৯৯০ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে হাঁড়িভাঙার চাষ শুরু করেন; আবদুস সালাম ২০২৫ সালে বাসসকে জানান, ১৫ একর জমিতে তাঁর ২৫টি বাগান। ডিএইর রংপুরের বুড়িরহাট হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক মো. আবু সায়েম ২০২৫ সালে বলেন, প্রায় তিন দশক আগে মিঠাপুকুরে হাঁড়িভাঙার বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয়, যা এখন রংপুরের আট উপজেলাসহ নীলফামারী, দিনাজপুর ও আশপাশের জেলায় ছড়িয়েছে।
আমটির গুণই এর জনপ্রিয়তার কারণ। জাগো নিউজ ও আগের প্রতিবেদনগুলো অনুযায়ী, হাঁড়িভাঙা আঁশবিহীন, মিষ্টি ও সুস্বাদু; আঁটি খুব ছোট, ছাল পাতলা, আর প্রতিটি আমের ওজন ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম। স্থানীয় চাষিরা প্রথম আলোকে বলেন, মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জের লাল মাটি এই আমের উপযোগী; ঢাকা ট্রিবিউনকে চাষিরা জানান, উত্তরের অন্য জেলাতেও হাঁড়িভাঙা হয়, তবে রংপুরের আমের স্বাদ বেশি।
ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের স্বীকৃতি
২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি হাঁড়িভাঙা আম রংপুরের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পায়। যুগান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেদিন আরও চারটি পণ্যকে বাংলাদেশের জিআই পণ্য হিসেবে অনুমোদন দিয়ে জার্নাল প্রকাশিত হয়: রংপুরের হাঁড়িভাঙা আম, মৌলভীবাজারের আগর, মৌলভীবাজারের আগর আতর এবং মুক্তাগাছার মণ্ডা। এতে দেশে অনুমোদিত জিআই পণ্যের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৮টি।
জিআই নিবন্ধনের দায়িত্বে আছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি), যা ২০০৩ সালে যাত্রা শুরু করে। ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (নিবন্ধন ও সুরক্ষা) আইন পাস হয় ২০১৩ সালে, এর দুই বছর পর ২০১৫ সালে প্রণীত হয় ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য বিধিমালা। ২০১৬ সালে জামদানি শাড়ি দেশের প্রথম জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পায়। হাঁড়িভাঙার আগেই আমের কয়েকটি জাত এই তালিকায় ছিল: চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের ল্যাংড়া ও আশ্বিনা।
ডিএইর সিরাজুল ইসলাম ২০২৫ সালের মে মাসে বাসসকে বলেন, জিআই স্বীকৃতি দেশে-বিদেশে হাঁড়িভাঙার বিপুল চাহিদা তৈরি করেছে; আর ঢাকা ট্রিবিউন ২০২৪ সালের জুনে জানায়, এই স্বীকৃতিতে পদাগঞ্জ ও খোড়াগাছের চাষিরা খুবই খুশি।
মিঠাপুকুর, রংপুর ও হাঁড়িভাঙার এলাকা
হাঁড়িভাঙার মূল এলাকা মিঠাপুকুর রংপুর জেলার ৫১৫.৬২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের একটি উপজেলা। এর উত্তরে রংপুর সদর ও পীরগাছা, দক্ষিণে পীরগঞ্জ ও সাদুল্লাপুর, পূর্বে পীরগাছা ও সুন্দরগঞ্জ এবং পশ্চিমে বদরগঞ্জ ও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা। মিঠাপুকুর থানা গঠিত হয় ১৮৮৫ সালে, উপজেলা হয় ১৯৮৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, ২০১১ সালের আদমশুমারিতে উপজেলার জনসংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৮ হাজার ১৩৩, আর ৬৯.৪৭ শতাংশ পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি। বাংলাপিডিয়ায় উপজেলার প্রধান ফলের তালিকায় প্রথমেই আম, এরপর কাঁঠাল, জাম, পেঁপে ও কলা।
রংপুর জেলার আয়তন ২ হাজার ৪০০.৫৬ বর্গকিলোমিটার, জেলা গঠিত হয় ১৯৮৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। প্রথম আলো ২০২৫ সালে জেলার প্রধান হাঁড়িভাঙা এলাকা হিসেবে মিঠাপুকুরের খোড়াগাছ, ময়েনপুর, চ্যাংমারী ও বালুয়া মাসুমপুর এবং বদরগঞ্জের কুতুবপুর, গোপালপুর, লোহানীপাড়া, রামনাথপুর ও কালুপাড়া ইউনিয়নের নাম উল্লেখ করে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২০২৫ সালে জানায়, হাঁড়িভাঙার বাণিজ্যিক চাষ রংপুরের আট উপজেলাতেই দ্রুত বাড়ছে, ছড়াচ্ছে দিনাজপুর, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের বহু গ্রামেও।
বাংলাদেশে আম
বাংলাপিডিয়া জানায়, আম (Mangifera indica) বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চলের আদি ফল হিসেবে বিবেচিত, আর দেশে প্রায় ১০০টি আমের জাত আছে। মাতৃগাছের বৈশিষ্ট্য ধরে রাখতে উন্নত জাতের চারা কলম করে তৈরি হয়; কলমের গাছে চতুর্থ বছরে প্রথম ফল আসে এবং প্রায় ৪৫ বছর পর্যন্ত ভালো ফলন দেয়। দেশের সেরা কিছু বাগান গভীর পলিমাটিতে, আর আমের জন্য মাটির উপযুক্ত পিএইচ ৫.৫ থেকে ৭.৫। বাংলাদেশে প্রায় তিন ডজন প্রজাতির পোকা আমগাছ আক্রমণ করে, যার মধ্যে আছে আমের হপার বা শোষক পোকা, আঁটির উইভিল, কাণ্ড ও ডগা ছিদ্রকারী পোকা এবং ফলের মাছি; অ্যানথ্রাকনোজ ও পাউডারি মিলডিউর মতো ছত্রাকজনিত রোগও ক্ষতি করে।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে ২০২৫ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত ডিএইর হিসাবে, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ লাখ ২ হাজার ৯৬৮ হেক্টর জমি থেকে দেশে ২৩ লাখ ৫০ হাজার ৪৯৯ টন আম উৎপাদিত হয়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে উৎপাদন দাঁড়ায় ২৭ লাখ ৭ হাজার ৪৫৯ টনে, আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২ লাখ ৫ হাজার ৩৪ হেক্টর থেকে ২৫ লাখ ৮ হাজার ৯৭৩ টন; ২০২৫ সালের লক্ষ্যমাত্রা ছিল রেকর্ড ২৭ লাখ টন। দেশে চাষ হওয়া ভালো জাতগুলোর ডিএই তালিকায় ফজলি, ল্যাংড়া, হিমসাগর, খিরসাপাত, আম্রপালি প্রভৃতির সঙ্গে হাঁড়িভাঙাও আছে। কর্মকর্তারা জানান, রাজশাহী, নওগাঁ, সাতক্ষীরা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের ১৫টি জেলায় মূলত আম উৎপাদিত হয়, আর ২০২৫ সালের আম পাড়া শুরু হবে ৫ মে সাতক্ষীরার গোপালভোগ দিয়ে। হাঁড়িভাঙা, এর বিপরীতে, মৌসুমের শেষ দিকে প্রায় দুই মাস ধরে পাড়া হয় বলে দ্য ডেইলি স্টার ২০২২ সালে উল্লেখ করে।
ছবি: Rezowan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ, প্রথম আলো, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা), ঢাকা ট্রিবিউন, দ্য ডেইলি স্টার, যুগান্তর, ফ্রেশপ্লাজা, বাংলাপিডিয়া, ফ্রন্টিয়ার্স ইন জেনেটিকস, উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)