নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণে সৃষ্ট রোগ কোভিড-১৯-কে বৈশ্বিক মহামারি বা প্যানডেমিক হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ২০২০ সালের ১১ মার্চ, বুধবার, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সংস্থার মহাপরিচালক ড. তেদ্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস এই মূল্যায়নের কথা জানান। তিনি বলেন, সংস্থাটি দিনরাত এই প্রাদুর্ভাব পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংক্রমণের বিস্তার ও তীব্রতার উদ্বেগজনক মাত্রা যেমন তাদের গভীরভাবে চিন্তিত করেছে, তেমনি উদ্বিগ্ন করেছে পদক্ষেপ না নেওয়ার উদ্বেগজনক মাত্রাও। সে কারণেই তাঁরা এই মূল্যায়নে পৌঁছেছেন যে কোভিড-১৯-কে প্যানডেমিক বলা যায়।
মহাপরিচালকের দেওয়া হিসাবে, সেদিন পর্যন্ত বিশ্বের ১১৪টি দেশে ১ লাখ ১৮ হাজারের বেশি মানুষের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল এবং মারা গিয়েছিলেন ৪ হাজার ২৯১ জন। আরও হাজারো মানুষ তখন হাসপাতালে জীবন বাঁচানোর লড়াই করছিলেন। তিনি জানান, আগের দুই সপ্তাহে চীনের বাইরে কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ১৩ গুণ বেড়েছে এবং আক্রান্ত দেশের সংখ্যা তিন গুণ হয়েছে। সামনের দিন ও সপ্তাহগুলোতে রোগী, মৃত্যু ও আক্রান্ত দেশের সংখ্যা আরও বাড়বে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া এই রোগ নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে 'প্যানডেমিক' শব্দটি ব্যবহার থেকে বিরত ছিল ডব্লিউএইচও। ১১ মার্চের ঘোষণায় সেই অবস্থান বদলাল। তবে মহাপরিচালক জোর দিয়ে বলেন, বেশ কয়েকটি দেশ দেখিয়েছে যে এই ভাইরাসকে দমন ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তিনি সরকারগুলোকে জরুরি ও জোরালো পদক্ষেপ নিয়ে সংক্রমণের গতিপথ বদলে দেওয়ার আহ্বান জানান।
ব্রিফিংয়ে মহাপরিচালক যা বললেন
ডব্লিউএইচও-র প্রকাশিত বক্তব্য অনুযায়ী, মহাপরিচালক বলেন যে 'প্যানডেমিক' এমন শব্দ নয় যা হালকাভাবে বা অসতর্কভাবে ব্যবহার করা যায়। তাঁর ভাষায়, শব্দটির অপব্যবহার হলে তা অযৌক্তিক ভয় ছড়াতে পারে, আবার লড়াই শেষ হয়ে গেছে এমন অন্যায্য ধারণাও তৈরি করতে পারে, যার পরিণতি অপ্রয়োজনীয় কষ্ট ও মৃত্যু। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, পরিস্থিতিকে প্যানডেমিক বলায় এই ভাইরাসের হুমকি নিয়ে ডব্লিউএইচও-র মূল্যায়ন বদলাচ্ছে না, সংস্থাটি যা করছে তা বদলাচ্ছে না এবং দেশগুলোর যা করণীয় তাও বদলাচ্ছে না।
মহাপরিচালক বলেন, এর আগে কখনো করোনাভাইরাস থেকে কোনো প্যানডেমিক দেখা যায়নি; এটিই করোনাভাইরাসের কারণে প্রথম প্যানডেমিক। আবার এমন প্যানডেমিকও আগে দেখা যায়নি, যা একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তিনি জানান, প্রথম রোগীদের খবর পাওয়ার পর থেকেই ডব্লিউএইচও পূর্ণ সাড়াদান অবস্থায় রয়েছে এবং প্রতিদিন দেশগুলোকে জরুরি ও জোরালো পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়ে আসছে।
তিনি মনে করিয়ে দেন, শুধু রোগী ও আক্রান্ত দেশের সংখ্যা দেখলে পুরো চিত্র বোঝা যায় না। বিশ্বজুড়ে ১১৪টি দেশে শনাক্ত ১ লাখ ১৮ হাজার রোগীর ৯০ শতাংশের বেশি মাত্র চারটি দেশে, আর তার দুটি, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ায়, সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসছিল। ৮১টি দেশে তখনো কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি এবং ৫৭টি দেশে রোগী ছিল ১০ জন বা তার কম। মহাপরিচালকের মতে, যেসব দেশ রোগী শনাক্ত, পরীক্ষা, চিকিৎসা, আইসোলেশন ও সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার কাজ করবে এবং জনগণকে সাড়াদানে যুক্ত করবে, তারা হাতে গোনা কয়েকজন রোগীকে গুচ্ছ সংক্রমণে এবং গুচ্ছ সংক্রমণকে সামাজিক সংক্রমণে পরিণত হওয়া থেকে ঠেকাতে পারবে।
ব্রিফিংয়ে তিনি ইরান, ইতালি ও দক্ষিণ কোরিয়ায় ভাইরাসের গতি কমাতে নেওয়া পদক্ষেপের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং স্বীকার করেন যে এসব পদক্ষেপ চীনের মতোই সেসব দেশের সমাজ ও অর্থনীতির ওপর বড় চাপ ফেলছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, সব দেশকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতি কমানো এবং মানবাধিকারের প্রতি সম্মান, এই তিনের মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য রাখতে হবে। তিনি বলেন, এটি শুধু জনস্বাস্থ্যের সংকট নয়, এমন এক সংকট যা প্রতিটি খাতকে ছুঁয়ে যাবে; তাই প্রতিটি খাত ও প্রতিটি মানুষকে এই লড়াইয়ে যুক্ত হতে হবে।
মহাপরিচালক দেশগুলোর জন্য সংস্থার কৌশল চারটি ভাগে সংক্ষেপে তুলে ধরেন: প্রথমত, প্রস্তুতি নেওয়া ও প্রস্তুত থাকা; দ্বিতীয়ত, শনাক্ত করা, সুরক্ষা দেওয়া ও চিকিৎসা করা; তৃতীয়ত, সংক্রমণ কমানো; চতুর্থত, উদ্ভাবন ও শিক্ষা নেওয়া। এর সঙ্গে তিনি দেশগুলোর কাছে যে আহ্বানগুলো পুনরায় জানান, সেগুলো হলো:
- জরুরি সাড়াদান ব্যবস্থা চালু করা ও তার পরিধি বাড়ানো;
- ঝুঁকি এবং কীভাবে নিজেকে রক্ষা করা যায়, সে বিষয়ে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ করা, কারণ এটি সবার দায়িত্ব;
- প্রতিটি রোগী খুঁজে বের করা, আইসোলেশনে রাখা, পরীক্ষা ও চিকিৎসা করা এবং প্রত্যেক সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিকে শনাক্ত করা;
- হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখা;
- স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া।
বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, একটি শব্দ নিয়ে এত মনোযোগ তৈরি হয়েছে, কিন্তু এর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও কাজে লাগানোর মতো কিছু শব্দ আছে: প্রতিরোধ, প্রস্তুতি, জনস্বাস্থ্য, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সবচেয়ে বেশি, মানুষ।

প্যানডেমিক কী এবং কেন এটি করোনাভাইরাসের প্রথম প্যানডেমিক
কোনো ছোঁয়াচে রোগ যখন মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের মাধ্যমে পৃথিবীর বহু অংশে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তাকে প্যানডেমিক বা বৈশ্বিক মহামারি বলা হয়। কোনো নির্দিষ্ট এলাকা বা দেশে সীমাবদ্ধ প্রাদুর্ভাব থেকে এর পার্থক্য হলো বিস্তারের ভৌগোলিক পরিসর। ডব্লিউএইচও-র মহাপরিচালক নিজেই স্পষ্ট করেছেন, এই আখ্যা কোনো নতুন আইনি ধাপ নয়; এতে হুমকির মূল্যায়ন বা দেশগুলোর করণীয় বদলায় না। বরং সংক্রমণ কত দেশে ও কত দ্রুত ছড়িয়েছে, সেই বাস্তবতাকে এটি স্বীকার করে।
করোনাভাইরাস একটি বড় ভাইরাস পরিবার। এর আগে এই পরিবারের একটি ভাইরাস ২০০২-২০০৩ সালে সার্স (সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) প্রাদুর্ভাব ঘটিয়েছিল। ডব্লিউএইচও-র হিসাবে ২০০২ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০০৩ সালের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে অসুস্থ হওয়া সম্ভাব্য সার্স রোগী ছিলেন মোট ৮ হাজার ৯৬ জন, যাঁদের মধ্যে ৭৭৪ জন মারা যান। তবু ১১ মার্চের ব্রিফিংয়ে মহাপরিচালক কোভিড-১৯-কে করোনাভাইরাসের কারণে প্রথম প্যানডেমিক বলে উল্লেখ করেন।
ডব্লিউএইচও-চীন যৌথ মিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোভিড-১৯-এর ভাইরাসের পূর্ণ জিনোম বিশ্লেষণে দেখা গেছে এটি বেটাকরোনাভাইরাস গোত্রের, এবং বাদুড়ের সার্স-সদৃশ করোনাভাইরাস স্ট্রেইন 'ব্যাটকোভ আরএটিজি১৩'-এর সঙ্গে এর মিল ৯৬ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়, জিনোম তথ্য অনুযায়ী বাদুড়কেই ভাইরাসটির প্রাকৃতিক আধার বলে মনে হচ্ছে, তবে মধ্যবর্তী কোনো প্রাণীর মাধ্যমে মানুষে এসেছে কি না, তা তখনো চিহ্নিত হয়নি। ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কোনো প্রাণী-উৎস শনাক্ত করা যায়নি।
উহানের অজানা নিউমোনিয়া থেকে বৈশ্বিক মহামারি
ডব্লিউএইচও-র প্রথম পরিস্থিতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে কারণ অজানা নিউমোনিয়ার রোগী শনাক্ত হওয়ার খবর ডব্লিউএইচও-র চীন কার্যালয়কে জানানো হয়। ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত চীনা কর্তৃপক্ষ এমন ৪৪ জন রোগীর তথ্য দেয়। ১১ ও ১২ জানুয়ারি চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানায়, প্রাদুর্ভাবটি উহানের একটি সামুদ্রিক খাবারের বাজারের সংস্পর্শের সঙ্গে সম্পর্কিত। চীনা কর্তৃপক্ষ ৭ জানুয়ারি নতুন ধরনের একটি করোনাভাইরাস আলাদা করে এবং ১২ জানুয়ারি এর জিনগত ক্রম অন্য দেশগুলোর সঙ্গে ভাগাভাগি করে, যাতে তারা রোগনির্ণয়ের কিট তৈরি করতে পারে।
এরপর ১৩ জানুয়ারি থাইল্যান্ড, ১৫ জানুয়ারি জাপান এবং ২০ জানুয়ারি দক্ষিণ কোরিয়া উহানফেরত রোগী শনাক্তের খবর দেয়। ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত চার দেশে নিশ্চিত রোগী ছিল ২৮২ জন, যার ২৭৮ জনই চীনে। ডব্লিউএইচও-চীন যৌথ মিশন জানায়, উহান ও আশপাশের শহরগুলো ২৩ জানুয়ারি থেকে কর্ডন বা ঘেরাওয়ের আওতায় আনা হয়।
৩০ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধি (আইএইচআর ২০০৫)-এর অধীন ডব্লিউএইচও-র জরুরি কমিটি দ্বিতীয়বার বৈঠকে বসে। সেদিন চীনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানায়, দেশটিতে ৭ হাজার ৭১১ জন নিশ্চিত ও ১২ হাজার ১৬৭ জন সন্দেহভাজন রোগী রয়েছেন এবং ১৭০ জন মারা গেছেন। চীনের বাইরে তখন ১৮টি দেশে রোগী ছিল ৮৩ জন। কমিটি একমত হয় যে প্রাদুর্ভাবটি 'আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা' (পিএইচইআইসি)-এর মানদণ্ড পূরণ করেছে এবং ডব্লিউএইচও সেদিনই এই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। কমিটির মত ছিল, দেশগুলো দ্রুত রোগ শনাক্ত, আইসোলেশন ও চিকিৎসা, সংস্পর্শ অনুসরণ এবং ঝুঁকির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ সামাজিক দূরত্বের ব্যবস্থা নিলে ভাইরাসের বিস্তার তখনো থামানো সম্ভব।
১১ ফেব্রুয়ারি ডব্লিউএইচও রোগটির নাম দেয় কোভিড-১৯, যা 'করোনাভাইরাস ডিজিজ ২০১৯'-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। নতুন সংক্রামক রোগের নামকরণে বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা (ওআইই) ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-র সঙ্গে মিলে তৈরি করা নির্দেশনা অনুসরণ করে এই নাম ঠিক করা হয়। সেদিন বিশ্বে নিশ্চিত রোগী ছিল ৪৩ হাজার ১০৩ জন।
১৬ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি চীন, জার্মানি, জাপান, কোরিয়া, নাইজেরিয়া, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র ও ডব্লিউএইচও-র ২৫ জন বিশেষজ্ঞকে নিয়ে গঠিত যৌথ মিশন চীনে কাজ করে। মিশন জানায়, অগ্রবর্তী দলের কাজের প্রথম দিনে চীনে নতুন করে ২ হাজার ৪৭৮ জন রোগী নিশ্চিত হয়েছিল, আর মিশনের শেষ দিনে সেই সংখ্যা ছিল ৪০৯। ২৮ ফেব্রুয়ারি ডব্লিউএইচও কোভিড-১৯-এর বিস্তার ও প্রভাবের ঝুঁকি বৈশ্বিক পর্যায়ে 'খুব বেশি' বলে মূল্যায়ন করে।
ঘোষণার দুই দিন আগে, ৯ মার্চের ব্রিফিংয়ে মহাপরিচালক বলেছিলেন, সপ্তাহান্তে বিশ্বে কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ১০০টি দেশে ১ লাখ ছাড়িয়েছে এবং ভাইরাসটি এত দেশে ঘাঁটি গেড়েছে যে প্যানডেমিকের হুমকি খুবই বাস্তব হয়ে উঠেছে। তবে সেদিনও তিনি বলেন, এটি হবে ইতিহাসের প্রথম প্যানডেমিক যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তিনি জানিয়েছিলেন, চীনে শনাক্ত ৮০ হাজার রোগীর ৭০ শতাংশের বেশি সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

ঘোষণার দিনের বৈশ্বিক চিত্র
ডব্লিউএইচও-র ১১ মার্চের ৫১তম পরিস্থিতি প্রতিবেদনে সেদিন মধ্য ইউরোপীয় সময় সকাল ১০টা পর্যন্ত জাতীয় কর্তৃপক্ষগুলোর দেওয়া তথ্য সংকলিত হয়। এতে বিশ্বে মোট নিশ্চিত রোগী দেখানো হয় ১ লাখ ১৮ হাজার ৩১৯ জন, যার ৪ হাজার ৬২০ জন আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত। মোট মৃত্যু ৪ হাজার ২৯২ জন, যার ২৮০ জন আগের ২৪ ঘণ্টায়। চীনে নিশ্চিত রোগী ছিল ৮০ হাজার ৯৫৫ জন এবং মৃত্যু ৩ হাজার ১৬২ জন; চীনের বাইরে ১১৩টি দেশ, অঞ্চল বা এলাকায় রোগী ছিল ৩৭ হাজার ৩৬৪ জন এবং মৃত্যু ১ হাজার ১৩০ জন। আগের ২৪ ঘণ্টায় বলিভিয়া, জ্যামাইকা, বুরকিনা ফাসো ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রথমবারের মতো রোগী শনাক্তের খবর দেয়। চীন, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক তিন পর্যায়েই ঝুঁকি 'খুব বেশি' বলে মূল্যায়ন করা হয়।
চীনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ছিল হুবেই প্রদেশে, ৬৭ হাজার ৭৭৩ জন, আর সেখানে মৃত্যু হয়েছিল ৩ হাজার ৪৬ জনের। চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি রোগী ছিল ইতালিতে, ১০ হাজার ১৪৯ জন, যেখানে ৬৩১ জন মারা গিয়েছিলেন। এরপর ছিল ইরান, ৮ হাজার ৪২ জন রোগী ও ২৯১ জনের মৃত্যু, এবং দক্ষিণ কোরিয়া, ৭ হাজার ৭৫৫ জন রোগী ও ৬০ জনের মৃত্যু। ইউরোপে ফ্রান্সে ১ হাজার ৭৭৪ জন, স্পেনে ১ হাজার ৬৩৯ জন এবং জার্মানিতে ১ হাজার ২৯৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। প্রমোদতরী ডায়মন্ড প্রিন্সেসের ৬৯৬ জন রোগীকে আলাদাভাবে আন্তর্জাতিক যানবাহনের ঘরে দেখানো হয়।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের হিসাবে ভারতে ৬০ জন, থাইল্যান্ডে ৫৯ জন, ইন্দোনেশিয়ায় ২৭ জন, মালদ্বীপে ৮ জন এবং বাংলাদেশে ৩ জন রোগী ছিলেন। ভুটান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় ছিলেন একজন করে, এবং এই তিন দেশের রোগীরা সবাই বিদেশ থেকে সংক্রমিত হয়ে এসেছিলেন। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সংক্রমণকে 'স্থানীয় সংক্রমণ' শ্রেণিতে রাখা হয়, আর বাংলাদেশে সর্বশেষ রোগী শনাক্তের পর তখন দুই দিন পেরিয়েছিল।
একই প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১০ মার্চ আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ফেডারেশন (আইএফআরসি), ইউনিসেফ ও ডব্লিউএইচও শিশু ও বিদ্যালয়কে কোভিড-১৯ থেকে রক্ষায় নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করেছে, যাতে বিদ্যালয় নিরাপদ রাখার জন্য করণীয় ও যাচাইতালিকা রয়েছে।
রোগটি সম্পর্কে তখন যা জানা ছিল
ঘোষণার সময় কোভিড-১৯ সম্পর্কে সবচেয়ে বিস্তারিত তথ্যসূত্র ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি জমা দেওয়া ডব্লিউএইচও-চীন যৌথ মিশনের প্রতিবেদন। ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চীনের ৫৫ হাজার ৯২৪ জন ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে মিশন জানায়, সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে জ্বর ছিল ৮৭.৯ শতাংশ রোগীর, শুকনো কাশি ৬৭.৭ শতাংশের, ক্লান্তি ৩৮.১ শতাংশের, কফ ৩৩.৪ শতাংশের, শ্বাসকষ্ট ১৮.৬ শতাংশের, গলাব্যথা ১৩.৯ শতাংশের এবং মাথাব্যথা ১৩.৬ শতাংশের। পেশি বা গাঁটে ব্যথা, শীত শীত ভাব, বমিভাব বা বমি, নাক বন্ধ ও ডায়রিয়াও কিছু রোগীর মধ্যে দেখা গিয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংক্রমণের গড়ে ৫ থেকে ৬ দিন পর লক্ষণ দেখা দেয়; সুপ্তিকাল ১ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত হতে পারে। ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশের অসুস্থতা ছিল মৃদু থেকে মাঝারি, ১৩.৮ শতাংশের গুরুতর এবং ৬.১ শতাংশের সংকটাপন্ন, যেমন শ্বাসযন্ত্র বিকল হওয়া, সেপটিক শক বা একাধিক অঙ্গ বিকল হওয়া। মিশন বলে, বেশির ভাগ সংক্রমিত মানুষ মৃদু অসুস্থ হয়ে সেরে ওঠেন।
গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি ছিল ৬০ বছরের বেশি বয়সী এবং উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগ ও ক্যানসারে আক্রান্ত মানুষের। ১৯ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে রোগী ছিল মোট রোগীর প্রায় ২.৪ শতাংশ। ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫৫ হাজার ৯২৪ জন নিশ্চিত রোগীর মধ্যে ২ হাজার ১১৪ জন মারা যান; মিশন এই অপরিশোধিত মৃত্যুহার ৩.৮ শতাংশ বলে উল্লেখ করে এবং জানায়, তা স্থানভেদে আলাদা ছিল, উহানে ৫.৮ শতাংশ আর চীনের অন্যান্য এলাকায় ০.৭ শতাংশ। ৮০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এই হার ছিল সবচেয়ে বেশি, ২১.৯ শতাংশ।
সংক্রমণের পথ নিয়ে মিশন জানায়, কোভিড-১৯ ছড়ায় সুরক্ষাহীন ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে হাঁচি-কাশির ড্রপলেট বা কণা এবং সংক্রমিত বস্তু ও পৃষ্ঠের মাধ্যমে। চীনে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ মূলত পরিবারের মধ্যে ঘটছিল; গুয়াংডং ও সিচুয়ান প্রদেশের ৩৪৪টি গুচ্ছ সংক্রমণের ৭৮ থেকে ৮৫ শতাংশই ছিল পরিবারকেন্দ্রিক। চিকিৎসা নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ফলাফল উন্নত করে এমন কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল বা রোগপ্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধ তখনো প্রমাণিত বা সুপারিশকৃত ছিল না; রোগীদের সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।
বাংলাদেশে তখনকার পরিস্থিতি
ঘোষণার তিন দিন আগে, ২০২০ সালের ৮ মার্চ রোববার, রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) বাংলাদেশে প্রথম তিনজন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্তের কথা জানায়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সাংবাদিকদের বলেন, আক্রান্তদের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে; তাঁদের দুজন সম্প্রতি ইতালি থেকে ফিরেছেন এবং তৃতীয়জন তাঁদের একজনের পরিবারের সদস্য। তিনি জানান, তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল এবং হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। তাঁদের সংস্পর্শে আসা আরও তিনজনকে সতর্কতা হিসেবে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়।
রয়টার্স জানায়, সেদিন সরকার চীন, ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, ইরান ও থাইল্যান্ড, এই ছয় দেশ থেকে ফেরা বাংলাদেশিদের ১৪ দিন নিজ বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে থাকার আহ্বান জানায়। কর্তৃপক্ষ জানায়, বিমানবন্দর ও অন্যান্য প্রবেশপথে যাত্রী পরীক্ষা জোরদার করা হয়েছে এবং ৪ লাখের বেশি মানুষকে স্ক্রিনিং করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেদিন এক অনুষ্ঠানে বলেন, সরকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে; তিনি মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান। নিউ এজের ৮ মার্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম রোগী শনাক্তের কয়েক ঘণ্টা পর সরকার জনসমাগম এড়াতে ১৭ মার্চ শুরু হতে যাওয়া দেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান জাতীয় প্যারেড ময়দানের বদলে সীমিত পরিসরে করার সিদ্ধান্ত নেয়।
দ্য ডেইলি স্টারের ৮ মার্চের প্রতিবেদনে বলা হয়, আইইডিসিআর পরিচালক এর আগের দিনের সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন যে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, এবং কোভিড-১৯ রোগী থাকা দেশগুলো থেকে আসা ব্যক্তিদের গণপরিবহন ও ভিড় এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তখন দেশে কোভিড-১৯ পরীক্ষার একমাত্র ব্যবস্থা ছিল ঢাকায় আইইডিসিআরের ল্যাবরেটরিতে। প্রতিষ্ঠানটি তখন পর্যন্ত ১১১ জনের নমুনা পরীক্ষা করেছিল এবং সবার ফল নেতিবাচক এসেছিল। আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশকারী ১৫ হাজার ৬৯৭ জনের শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয়েছিল।
বাংলাদেশের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল আরও আগে। নিউ এজের ১ ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেদিন উহান থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিশেষ ফ্লাইটে ফেরা ৩১২ জন বাংলাদেশিকে ঢাকার আশকোনা হজ ক্যাম্পে দুই সপ্তাহের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। তাঁদের বেশির ভাগ ছিলেন হুবেই প্রদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গবেষক। আইইডিসিআর তখন বিদেশফেরত কারও জ্বর, কাশি, হাঁচি, সর্দি বা নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে প্রতিষ্ঠানটির হটলাইনে বা নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানায়। ডব্লিউএইচও-র ৯ মার্চের পরিস্থিতি প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে আগের ২৪ ঘণ্টায় প্রথমবার রোগী শনাক্ত করা তিন দেশের একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়; বাকি দুটি ছিল আলবেনিয়া ও প্যারাগুয়ে।
সংক্রমণ ঠেকাতে তখনকার স্বাস্থ্য পরামর্শ
প্যানডেমিক ঘোষণার দিনের পরিস্থিতি প্রতিবেদনে ডব্লিউএইচও বলে, যিনি কোভিড-১৯ ছড়াচ্ছে এমন এলাকায় নেই, এমন এলাকা থেকে আসেননি বা কোনো সংক্রমিত রোগীর সংস্পর্শে আসেননি, তাঁর সংক্রমণের ঝুঁকি কম। প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ বোধ করা স্বাভাবিক, তবে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য জেনে যুক্তিসংগত সতর্কতা নিতে হবে; সঠিক তথ্যের জন্য ডব্লিউএইচও, চিকিৎসক, জাতীয় জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বা কর্মস্থলের পরামর্শ নিতে বলা হয়। আর যেখানে রোগী আছে, সেখানে সংক্রমণের ঝুঁকিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মানতে বলা হয়।
ডব্লিউএইচও-চীন যৌথ মিশন সাধারণ মানুষের জন্য যে সুপারিশ করেছিল, তা হলো:
- মনে রাখা যে কোভিড-১৯ একটি নতুন ও উদ্বেগজনক রোগ, তবে সঠিক সাড়াদানে প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং সংক্রমিতদের অধিকাংশই সেরে ওঠেন;
- এখনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ ব্যবস্থাগুলো কঠোরভাবে মেনে চলা: ঘন ঘন হাত ধোয়া এবং হাঁচি বা কাশির সময় সবসময় মুখ ও নাক ঢেকে রাখা;
- রোগটি ও এর লক্ষণ, যেমন জ্বর ও শুকনো কাশি, সম্পর্কে নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য জানা;
- আরও কঠোর সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা এবং উচ্চঝুঁকির বয়স্ক মানুষদের সহায়তা করার মতো উপায়ে সাড়াদানে অংশ নিতে প্রস্তুত থাকা।
১১ মার্চের প্রতিবেদনে বয়স্ক মানুষ এবং আগে থেকে রোগে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য ডব্লিউএইচও আলাদা পরামর্শ দেয়, কারণ তখনকার প্রমাণ অনুযায়ী ৬০ বছরের বেশি বয়সী এবং হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগ ও ক্যানসারে আক্রান্তদের গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেশি, আর প্রায় ৪০ বছর বয়স থেকেই এই ঝুঁকি ধীরে ধীরে বাড়ে। পরামর্শগুলো ছিল: বাড়িতে অতিথি এলে হাত না মিলিয়ে হাত নেড়ে, মাথা নেড়ে বা মাথা নুইয়ে 'এক মিটার দূরত্বের শুভেচ্ছা' জানানো; অতিথি ও পরিবারের সদস্যদের হাত ধুতে বলা; ঘরের যেসব জায়গায় বেশি হাত পড়ে, তা নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা; একসঙ্গে থাকা কেউ অসুস্থ হলে ভাগাভাগি করা জায়গা সীমিত রাখা; কোভিড-১৯-এর লক্ষণ দেখা দিলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার আগে ফোনে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা; এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে হালনাগাদ তথ্য জানা।
৯ মার্চের ব্রিফিংয়ে মহাপরিচালক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা হিসেবে হাত পরিচ্ছন্ন রাখা, শ্বাসতন্ত্রের শিষ্টাচার, অর্থাৎ হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢাকা, এবং সামাজিক দূরত্বের কথা উল্লেখ করেন। বাংলাদেশে আইইডিসিআর বিদেশফেরতদের বাড়িতে ১৪ দিন আলাদা থাকা এবং গণপরিবহন ও ভিড় এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিল। জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্ট হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে; আইইডিসিআরও লক্ষণ দেখা দিলে হটলাইনে বা হাসপাতালে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছিল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভূমিকা ও করণীয়ের তালিকা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জাতিসংঘের জনস্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষায়িত সংস্থা, যার সদর দপ্তর জেনেভায়। প্যানডেমিক ঘোষণার ব্রিফিংয়ে মহাপরিচালক বলেন, ডব্লিউএইচও-র ম্যান্ডেট জনস্বাস্থ্য, তবে প্যানডেমিকের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব কমাতে সংস্থাটি সব খাতের বহু অংশীদারের সঙ্গে কাজ করছে। শুরু থেকেই তিনি পুরো সরকার ও পুরো সমাজকে যুক্ত করে সংক্রমণ প্রতিরোধ, জীবন রক্ষা ও প্রভাব কমানোর একটি সমন্বিত কৌশলের কথা বলে আসছিলেন।
১১ মার্চের পরিস্থিতি প্রতিবেদনে ডব্লিউএইচও তাদের কৌশলগত লক্ষ্যগুলো তুলে ধরে: মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ থামানো, যার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ কমানো এবং আন্তর্জাতিক বিস্তার ঠেকানো; রোগীদের দ্রুত শনাক্ত, আইসোলেশন ও যত্ন নিশ্চিত করা; প্রাণী-উৎস থেকে সংক্রমণ শনাক্ত ও কমানো; রোগের তীব্রতা, সংক্রমণের মাত্রা ও চিকিৎসার উপায় নিয়ে অজানা প্রশ্নের উত্তর খোঁজা এবং রোগনির্ণয়, চিকিৎসা ও টিকা উদ্ভাবন ত্বরান্বিত করা; সব জনগোষ্ঠীর কাছে ঝুঁকির তথ্য পৌঁছে দেওয়া ও ভুল তথ্য মোকাবিলা করা; এবং বহু খাতের অংশীদারত্বে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি কমানো।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ডব্লিউএইচও ল্যাবরেটরিতে রোগনির্ণয়, বাড়িতে ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে মাস্ক ব্যবহার, রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং বাড়িতে সন্দেহভাজন রোগীর যত্ন নিয়ে অন্তর্বর্তী নির্দেশনা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সমিতির (আইএটিএ) সঙ্গে মিলে কেবিন ক্রু ও বিমানবন্দরকর্মীদের জন্য নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছে, আর ওপেনডব্লিউএইচও নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য কোভিড-১৯ বিষয়ে বিভিন্ন ভাষায় কোর্স চালু রয়েছে। ৯ মার্চ মহাপরিচালক জানিয়েছিলেন, সংস্থাটি ৫৭টি দেশে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম এবং ১২০টি দেশে ল্যাবরেটরি সামগ্রী পাঠিয়েছে।
প্যানডেমিক ঘোষণার ব্রিফিংয়ে মহাপরিচালকের মূল বার্তা ছিল, সংখ্যা যত বড়ই হোক, সব দেশ তখনো এই প্যানডেমিকের গতিপথ বদলাতে পারে। তাঁর ভাষায়, অনেক দেশের সামনে চ্যালেঞ্জ এটি নয় যে তারা পারবে কি না, বরং তারা করবে কি না। কিছু দেশ সক্ষমতার অভাবে, কিছু দেশ সম্পদের অভাবে আর কিছু দেশ দৃঢ় সংকল্পের অভাবে হিমশিম খাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন, এবং সবাইকে একে অপরের পাশে থাকার আহ্বান জানান।
ছবি: National Institute of Allergy and Infectious Diseases (NIAID) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: বিবিসি বাংলা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (মহাপরিচালকের ৯ ও ১১ মার্চ ২০২০-এর ব্রিফিং বক্তব্য; কোভিড-১৯ পরিস্থিতি প্রতিবেদন ১, ১১, ২২, ৩৯, ৪৯ ও ৫১; আইএইচআর জরুরি কমিটির ৩০ জানুয়ারি ২০২০-এর বিবৃতি; ডব্লিউএইচও-চীন যৌথ মিশনের প্রতিবেদন, ফেব্রুয়ারি ২০২০; সার্স রোগীর সারসংক্ষেপ ২০০২-২০০৩), রয়টার্স (৮ মার্চ ২০২০), নিউ এজ (১ ফেব্রুয়ারি ও ৮ মার্চ ২০২০), দ্য ডেইলি স্টার (৮ মার্চ ২০২০)




মন্তব্য
(০)