দেশের বড় জলাভূমি চলনবিলের মাত্র ১ শতাংশ এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির সম্ভাবনা "খুব বেশি"। ৭৭ শতাংশ এলাকায় সম্ভাবনা মাঝারি, ২২ শতাংশে কম। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের গবেষকদের এই গবেষণা চলতি মাসে ডিসকভার জিওসায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রথম আলো।
গবেষণায় নাটোরের সিংড়া ও গুরুদাসপুর, পাবনার চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া এবং সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়ার ৫ হাজার ৯৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা ধরা হয়। এর ৬৫ বর্গকিলোমিটার খুব বেশি, ৩ হাজার ৯৩৩ বর্গকিলোমিটার মাঝারি এবং ১ হাজার ৯৯ বর্গকিলোমিটার কম সম্ভাবনার শ্রেণিতে পড়েছে। স্যাটেলাইটের ছবি ও ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থায় (জিআইএস) বৃষ্টিপাত, মাটির ধরন, পানির স্তর, ভূমির ঢাল ও ব্যবহারসহ ১৭টি বিষয় বিশ্লেষণ করা হয়েছে; ১৯৯০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত উদ্ভিদের পরিবর্তনও দেখা হয়েছে।
গবেষণা দলের সদস্য ওয়াহিদুল আলম জানান, ভালো সম্ভাবনার এলাকায় বর্ষায় সর্বনিম্ন ৮ মিটার এবং শুকনা মৌসুমে ২০ মিটার গভীরে পানি মেলে। মাঝারি ও কম সম্ভাবনার এলাকায় বর্ষায় তা ১০ ও ১৫ মিটার, শুকনা মৌসুমে ২৫ ও ৪০ মিটার নিচে। এলাকার ৪৪ শতাংশে কাদামাটি থাকায় পানি মাটির গভীরে যেতে বাধা পায় বলে জানান তিনি।
গবেষণার প্রধান অধ্যাপক চৌধুরী সারোয়ার জাহান বলেন, পদ্মার প্রবাহ অনেক কমে গেছে, যমুনার পানিও কমছে; পদ্মা চলনবিলের ভূগর্ভস্থ পানি টেনে নিচ্ছে, আর শুষ্ক মৌসুমে কৃষিতে ব্যাপক হারে পানি তোলা হচ্ছে। তাঁর মতে, জলাভূমিতে পানির স্তর নেমে যাওয়া পরিবেশগত বিপর্যয়ের লক্ষণ। বোরো সেচের জন্য ২০টি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের ১৫টিতে বর্ষায় পানির স্তর বাড়ার প্রবণতা পরে অনেকটা কমে গেছে।
বিএডিসির নাটোর জেলার ক্ষুদ্র সেচ বিভাগের হিসাবে, ২০১৯-২০ সালের বোরো মৌসুমে বিদ্যুৎ ও ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র ছিল ৩৬ হাজার ৫০৫টি, ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে ৪৪ হাজার ২২৯টি হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সেচ বাড়ায় এর প্রভাব চলনবিলের ভূগর্ভস্থ পানিতে পড়া অস্বাভাবিক নয়। তিন জেলায় বছরে গড় বৃষ্টি ১৯৯০-৯৪ সালে ছিল ১ হাজার ৫৯৫ মিলিমিটার, ২০২৪ সালে তা কমে ১ হাজার ৩৭০ মিলিমিটার হয়েছে।
পানির স্তর দীর্ঘ মেয়াদে নামতে থাকলে কৃষকদের আরও গভীর থেকে পানি তুলতে হতে পারে, তাতে পাম্প চালানোর খরচ বাড়ার ঝুঁকি আছে; শুকনা মৌসুমে মাছ ও জলজ প্রাণীর আবাসেও প্রভাব পড়তে পারে, যদিও গবেষণায় তা সরাসরি মাপা হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ বলেন, চলনবিলের মতো জলাভূমিতেও ভূগর্ভস্থ পানি তোলার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে, সেচে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। সিংড়ার বড়িয়া গ্রামের মোহাম্মদ লিটনের কথায়, ছোটবেলার চলনবিল ছিল সমুদ্রের মতো; এখন পানি কম, মাছও কমছে।
প্রতিবেদন: পার্থ শঙ্কর সাহা, প্রথম আলো
ছবি: Shahnoor Habib Munmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)