বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ২০২৬ সালের জুলাইয়ে চার প্রতিষ্ঠানের আট ধরনের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়। পরীক্ষাগারে পণ্যগুলো বাংলাদেশ মান (বিডিএস) পূরণ করতে পারেনি; কোনোটিতে অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি প্রিজারভেটিভ, কোনোটিতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অণুজীব পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ফ্রেশ গার্ডেন এগ্রো রিসোর্সেস, কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, অলিভ বাংলাদেশ লিমিটেড ও ডেকো ফুডস লিমিটেড। লাইসেন্স নবায়ন বা নতুন অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত এসব পণ্যের উৎপাদন, বিক্রি ও বিতরণ বন্ধ রাখতে এবং সব বিতরণ মাধ্যম থেকে পণ্য তুলে নিতে বলা হয়।
কোন পণ্যে কী ত্রুটি পাওয়া যায়
বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রেশ গার্ডেন এগ্রো রিসোর্সেসের আমের আচারের একটি ব্যাচের (FGMP200G0426) নমুনায় অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি প্রিজারভেটিভ বা সংরক্ষণকারী রাসায়নিক পাওয়া যায়। কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের বেলিসিমো ব্র্যান্ডের রোটোন্ডো হ্যাজেলনাট কোটেড চকলেট আইসক্রিমের একটি ব্যাচে মোট মিল্ক সলিড নন-ফ্যাট, অর্থাৎ দুধের চর্বিবিহীন কঠিন উপাদান, নির্ধারিত মানের চেয়ে বেশি ছিল।
অলিভ বাংলাদেশ লিমিটেডের লাবণ্য ব্র্যান্ডের মিল্ক স্কিন লোশনসহ কয়েকটি স্কিন লোশন, ফেসওয়াশ ও শ্যাম্পুতে ক্ষতিকর অণুজীব শনাক্ত হয়। আর ডেকো ফুডসের ডেকো ফ্রুট ফান্ডা ব্র্যান্ডের ম্যাঙ্গো ও অরেঞ্জ স্বাদের সফট ড্রিংক পাউডারে বাংলাদেশ মানে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে কম ভিটামিন সি পাওয়া যায়।
প্রথম আলোকে দেওয়া বক্তব্যে কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ জানায়, "বিএসটিআই কর্তৃপক্ষ বেলিসিমো ব্র্যান্ডের রোটনডো (ব্যাচ নং-২৬০৫০১০১এ) এর টোটাল মিল্ক সলিড নন-ফ্যাট মান নির্ধারিত মানদণ্ডের (স্ট্যান্ডার্ড ১০-১১) চেয়ে বেশি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা গত ২ জুলাই পুনরায় নমুনা পরীক্ষার জন্য আবেদন করেছি।"

দুই দিনের সময়, না মানলে আইনগত ব্যবস্থা
বিএসটিআইয়ের সার্টিফিকেশন মার্কস উইংয়ের পরিচালক মো. আলাউদ্দিন হুসাইন বিবিসি বাংলাকে বলেন, "আজ ও কাল সময় দেওয়া হয়েছে। এর মাঝে তারা তাদের সরবরাহকৃত মালামাল দোকান থেকে প্রত্যাহার করে নিয়ে যেতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "তারা সরিয়ে না নিলে আইনগত ব্যবস্থায় যাবো। জেল-জরিমানা করা হবে।" বিবিসি বাংলা জানায়, নির্দেশ অমান্য করলে বিএসটিআই লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করতে পারে এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মামলা, জরিমানা ও কারাদণ্ডের সুযোগ আছে।
বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক বিবিসি বাংলাকে জানান, এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডকে লক্ষ্য করে অভিযান নয়, নিয়মিত বাজার তদারকির অংশ হিসেবে এলোমেলোভাবে নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁর ব্যাখ্যা, লাইসেন্স দেওয়ার সময় একটি ব্যাচের সব মানদণ্ড পরীক্ষা করা হয়; পরে কোনো ব্যাচ মান থেকে সরে গেলে ফলো-আপ পরীক্ষায় তা ধরা পড়ে। তিনি জানান, ৬৪ জেলার মধ্যে মাত্র ২০টিতে বিএসটিআইয়ের অফিস আছে এবং জনবলও কম। ক্রেতাদের প্রতি বিএসটিআইয়ের পরামর্শ ছিল, কেনার আগে মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখে নেওয়া।

প্রত্যাহার কতটা কার্যকর, পুরোনো প্রশ্ন
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মাহবুব কবীর মিলন বিবিসি বাংলাকে বলেন, "আমার ধারণা, এক শতাংশ পণ্যও রিকল হবে না। বেশিরভাগ পণ্য মানুষের কাছে বিক্রি হয়ে খাওয়ার মাধ্যমেই শেষ হয়ে যাবে।" তাঁর মতে, বাংলাদেশে খাদ্যের মান দেখে বিএসটিআই আর নিরাপত্তা তদারক করে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, ফলে সমন্বয়ে সমস্যা হয়। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর অধীনে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই কর্তৃপক্ষ গঠিত হয়। ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বিএসটিআই শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা।
এমন নির্দেশ এটাই প্রথম নয়। বিবিসি বাংলা জানায়, এর আগের সপ্তাহেও মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভের কারণে তিন প্রতিষ্ঠানের তিন ধরনের খাদ্যপণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছিল বিএসটিআই। ২০১৯ সালের ১২ মে বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় মানহীন প্রমাণিত ৫২টি খাদ্যপণ্য অবিলম্বে বাজার থেকে সরানোর নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট; তালিকায় সরিষার তেল, লবণ, হলুদ ও মরিচের গুঁড়া, ঘি, নুডলস ও সফট ড্রিংক পাউডারসহ নানা পণ্য ছিল।

ছবি: Rht bd / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: বিবিসি বাংলা, বাসস, দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলো, উইকিপিডিয়া




মন্তব্য
(০)