পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের কেকুপাড়া এলাকায় ২০২৬ সালের ৩১ মে রোববার বাড়ির পাশের একটি পুকুরে ডুবে দুই ভাই-বোনের মৃত্যু হয়। তারা হলো আসিফ ও সাথী আক্তার। স্থানীয়দের ধারণা ছিল, পুকুরপাড়ের একটি আমগাছ থেকে আম পাড়তে গিয়ে শিশু দুটি পানিতে পড়ে যায়।
সন্ধ্যায় শুরু হয় খোঁজাখুঁজি
জাগো নিউজ ২৪ ও এখন টিভির প্রতিবেদনে আসিফের বয়স ১১ বছর এবং সাথী আক্তারের বয়স ৯ বছর বলা হয়েছিল; ঢাকা পোস্ট তাদের বয়স লিখেছিল ১২ ও ১০ বছর। তাদের বাবা আগেই মারা গিয়েছিলেন। দুই শিশু মায়ের সঙ্গে থাকত, আর মা শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতেন।
রোববারও মা প্রতিদিনের মতো কাজে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে ছেলে-মেয়েকে না পেয়ে তিনি খোঁজ শুরু করেন; পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনও বিভিন্ন জায়গায় তাদের খুঁজতে থাকেন। ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাত আটটার দিকে বাড়ির পাশের পুকুরে আসিফের মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। এরপর স্থানীয় লোকজন পুকুরে নেমে তল্লাশি চালান এবং প্রায় এক ঘণ্টা পর একই পুকুর থেকে সাথীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
চাকলাহাট পঞ্চগড় সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের একটি। রংপুর বিভাগের পঞ্চগড় জেলার এই উপজেলার উত্তর ও পূর্ব দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য। উপজেলাটির আয়তন ৩৪৭.০৮ বর্গকিলোমিটার, আর ২০২২ সালের জনশুমারিতে এর জনসংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৩৬৬।

জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ যা বলেছিলেন
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চাকলাহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম জাগো নিউজ ২৪-কে বলেন, "আমাদের ধারণা, পুকুর পাড়ের আম গাছ থেকে আম পাড়তে গিয়ে তারা পানিতে পড়ে যায়।"
ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হক বলেন, "বাড়ির পাশের পুকুর থেকে দুই ভাই-বোনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক।"
পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম এখন টিভিকে বলেন, "সুরতহাল শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।"

শিশুদের পানিতে ডোবার ঝুঁকি ও প্রতিরোধ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০২৬ সালের ১ মে প্রকাশিত তথ্যপত্র অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর পানিতে ডুবে প্রায় ৩ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়, যার ৯২ শতাংশই ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে। ১ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর কারণের মধ্যে পানিতে ডোবা চতুর্থ এবং ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের মধ্যে তৃতীয়।
সংস্থাটির ব্যাখ্যা, ঝুঁকি বোঝার ক্ষমতা পুরোপুরি তৈরি না হওয়া এবং সাঁতার ও পানিতে নিরাপদ থাকার দক্ষতা না থাকায় ছোট শিশুরা বিশেষ ঝুঁকিতে থাকে। বড়দের সক্রিয় নজরদারির বাইরে শিশুরা পানির সংস্পর্শে এলে ঝুঁকি বাড়ে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে গোসল ও কাপড় ধোয়ার জন্য পুকুর, নদী বা হ্রদের নিয়মিত ব্যবহারও পানিতে ডোবার ঝুঁকি বাড়ায়। ডব্লিউএইচও প্রতিরোধের যেসব উপায়ের কথা বলে:
- কুয়া ঢেকে রাখা, দরজায় প্রতিবন্ধক ও প্লেপেন ব্যবহার এবং পানির বিপজ্জনক উৎসে যাওয়ার পথ নিয়ন্ত্রণ করা।
- প্রাক-স্কুল বয়সী শিশুদের জন্য সমাজভিত্তিক, তত্ত্বাবধানে পরিচালিত দিবাযত্ন।
- স্কুলবয়সী শিশুদের মৌলিক সাঁতার, পানিতে নিরাপত্তা ও নিরাপদে উদ্ধারের দক্ষতা শেখানো, নিরাপদ জায়গায় ও নিরাপত্তার নিয়ম মেনে।

ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, এখন টিভি, ঢাকা পোস্ট, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)