আম কেনাবেচায় নগদ টাকার লেনদেন নির্বিঘ্ন রাখতে বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলের আমের বাজারসংলগ্ন ব্যাংক শাখা ও উপশাখা সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবারও সীমিত পরিসরে খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। জাগো নিউজ ২৪ ২০২৬ সালের ২৭ জুন, শনিবার জানায়, সেদিনও চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, রাজশাহী ও নাটোর জেলার এসব শাখা খোলা ছিল। এ ব্যবস্থা চলার কথা ছিল ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় যা ছিল
নির্দেশনাটি জারি হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ডিপার্টমেন্টের (এসডিএডি) সার্কুলার লেটার নং ০৮ হিসেবে, তারিখ ২০২৬ সালের ২৫ জুন। চিঠিতে সই করেন বিভাগের পরিচালক মো. আবদুল মান্নান। দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) কাছে চিঠিটি পাঠানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রতি শনিবার পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ব্যাংকগুলো নিজ বিবেচনায় সীমিত পরিসরে সংশ্লিষ্ট শাখা ও উপশাখা খোলা রাখার ব্যবস্থা নেবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

কোন কোন এলাকার শাখা খোলা ছিল
সুবিধাটি পান স্থায়ী ও অস্থায়ী আমের বাজারের পাশের তফসিলি ব্যাংক শাখার গ্রাহকেরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে এলাকাগুলো এভাবে উল্লেখ করা হয়:
- চাঁপাইনবাবগঞ্জ: শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলা
- নওগাঁ: সাপাহার, পোরশা ও নিয়ামতপুর উপজেলা
- রাজশাহী ও নাটোর: দুই জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গড়ে ওঠা আমের বাজার
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, লক্ষ্য ছিল তিনটি: আমের বাজারে নগদ টাকার পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা, ব্যবসায়ীদের টাকা জমা দেওয়া সহজ করা এবং নগদ টাকা নিজের কাছে রাখার ঝুঁকি কমানো। ছুটির দিনে শাখা চালানোর সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতেও ব্যাংকগুলোকে বলা হয়।
এমন ব্যবস্থা নতুন ছিল না। ২০২৫ সালের ৪ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফসাইট সুপারভিশন (ডিওএস) একই এলাকাগুলোর জন্য প্রায় একই নির্দেশনা দিয়েছিল; সেবার ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত ঈদের দিন বাদে প্রতি শনিবার শাখা খোলা রাখতে বলা হয়।

কেন এই অঞ্চলের আমের বাজারে নগদ টাকার চাপ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাংলাদেশের আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত; জেলার অর্থনীতিতে গ্রীষ্মের এই ফলই প্রধান উৎস। জেলায় সবচেয়ে বেশি আম হয় শিবগঞ্জ, ভোলাহাট, নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলায়। ফজলি, ল্যাংড়া, ক্ষীরশাপাতি, আশ্বিনা ও বোম্বাই এখানকার পরিচিত জাত। মৌসুমে শিবগঞ্জে জেলার সবচেয়ে বড় আমের বাজার বসে, আর সেখানে মৌসুমি আম ব্যবসায়ীদের ভিড় জমে।
ধানের জন্য পরিচিত নওগাঁয়ও আম প্রধান অর্থকরী ফল হয়ে উঠেছে। জেলার সীমান্তবর্তী সাপাহার, পোরশা, পত্নীতলা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় বিপুল আমবাগান রয়েছে। মৌসুমের ব্যস্ত সময়ে এসব বাজারে চাষি ও ব্যবসায়ীদের নগদ টাকা তোলা ও জমা রাখার প্রয়োজন বাড়ে, আর ছুটির দিনে ব্যাংক বন্ধ থাকলে সেই টাকা নিজের কাছে রাখতে হয়। শনিবার শাখা খোলা রাখার নির্দেশনা এই ঝুঁকি কমানোর জন্যই।

ছবি: Mahinur11 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাদেশ ব্যাংক (এসডিএডি সার্কুলার লেটার নং ০৮, ২৫ জুন ২০২৬; ডিওএস সার্কুলার লেটার নং ১০, ৪ জুন ২০২৫), উইকিপিডিয়া (চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা, নওগাঁ জেলা, আম)





মন্তব্য
(০)