২০২৬ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে নেত্রকোনা জেলার হাওরাঞ্চলের বোরো চাষিরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী ৪২ থেকে ৪৫ কেজি ধানকে এক মণ ধরে কিনছেন, অথচ দেশে এক মণ ধরা হয় ৪০ কেজিতে। খালিয়াজুরি, মদন ও মোহনগঞ্জ উপজেলায় তখন পুরোদমে ধান কাটা চলছিল। সেখানকার কৃষকেরা জাগো নিউজকে বলেন, অতিবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, শ্রমিকের চড়া মজুরি আর ডিজেলের সংকটের ক্ষতির ওপর এটি তাঁদের জন্য নতুন ‘জুলুম’। ব্যবসায়ীরা বলেন, নতুন কাটা ধান ভেজা বলে তাঁরা ওজনে কিছুটা বেশি নেন। জেলা খাদ্য বিভাগ অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার কথা জানায়। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় ২০২৬ সালের ২৫ এপ্রিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মাঠজুড়ে সোনালি ধান থাকলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। খালিয়াজুরি, মদন ও মোহনগঞ্জের হাওরে কিষান-কিষানিদের বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছিল। কোনো কোনো খেতের ধান তখনো আধা পাকা, তবে বেশির ভাগ খেতে পাকা ধান বাতাসে দুলছিল আর তা কাটার ধুম পড়েছিল। হাওরে জিরাতি, অর্থাৎ অস্থায়ী ঘর তুলে ধান কাটা হচ্ছিল। শ্রমিকের পাশাপাশি যন্ত্র দিয়েও ধান কাটা চলছিল। শ্রমিকেরা ধানের বোঝা মাথায় করে এনে সড়কের পাশে স্তূপ করছিলেন। কেউ কাটা ধানের আঁটি আঙিনায় এনে মেশিনে মাড়াই করছিলেন, কেউ জমির পাশে বা বাড়ির সামনে ধান সিদ্ধ ও শুকানোর জায়গা তৈরি করছিলেন। যন্ত্রে মাড়াই করা ধান মাঠেই স্থানীয় মহাজনদের কাছে বিক্রি হচ্ছিল, তারপর ট্রাক, লরি, টমটম ও ইজিবাইকে তা বিভিন্ন জায়গায় চলে যাচ্ছিল।
কৃষকের অভিযোগ: মণ এখন ৪৫ কেজির
কৃষকদের অভিযোগ, দেশে প্রচলিত নিয়মে ৪০ কেজিতে এক মণ ধরা হলেও স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী ৪২ থেকে ৪৫ কেজিতে এক মণ হিসাব করে ধান কিনছেন। ফলে প্রতি মণে কয়েক কেজি ধান বাড়তি দিতে হচ্ছে। তাঁরা বলেন, মাঠপর্যায়ে দরকষাকষির সুযোগ কম, হাতের কাছে অন্য ক্রেতাও নেই, তাই অনেকে বাধ্য হয়ে এই শর্তে ধান বিক্রি করছেন। একাধিক কৃষক বলেন, মৌসুমের দুর্যোগের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই তাঁরা নতুন করে ঠকছেন। সরকারি ক্রয় কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় কম দামে ধান বেচতে হচ্ছে, তার ওপর ওজনের বাড়তি নেওয়ায় লোকসান আরও বাড়ছে।
মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী এলাকার কৃষক জলিল মিয়া জাগো নিউজকে মৌসুমের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘আগাম বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে উঠতি বোরো ধান। জমিতে পানি থাকায় কম্বাইন্ড হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা যাচ্ছে না। মেশিনের জন্য ডিজেলও পাওয়া যাচ্ছে না। শ্রমিকের মজুরি অনেক বেশি। সব মিলিয়ে এমনিতেই হিসাব মিলছে না। এরপরও ধান বিক্রি করতে গিয়ে দেখি ব্যবসায়ীরা ৪৩-৪৫ কেজিতে মণ ধরছে। এতে আরও লসের মধ্যে পড়ে যাচ্ছি।’
খালিয়াজুরি উপজেলার চাকুয়া গ্রামের কৃষক গফুর মিয়া বলেন, ‘আমাদের এলাকার রাস্তাঘাট নেই। সরকার থেকেও ধান কিনছে না। তাই বাধ্য হয়েই কম দামে বিক্রি করছি। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কম দামে ধান কিনছে। আবার ওজনে ঠকাচ্ছে। আমাদের দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই।’
মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর গ্রামের কৃষক কাজল চৌধুরী বলেন, তাঁর উপজেলায় যাওয়ার সড়কটি তিন বছর ধরে বন্ধ, হাওরের রাস্তা খারাপ থাকায় ধান শহরে নিয়ে বিক্রির উপায় নেই। তাঁর ভাষায়, ‘তাই ৭৫০ থেকে ৮২০ টাকা দরে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। আবার ওজনে মণপ্রতি ৫ কেজি ‘ঢলক’ নেওয়া হয়। কৃষকের ক্ষতি কেউ দেখছে না।’
সেই মাসে জেলার অন্য জায়গাতেও দাম ছিল কাছাকাছি। মদন উপজেলার এক তরুণ কৃষক ১১ একর জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন। তিনি ১৯ এপ্রিল প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয়ভাবে তিনি মণপ্রতি মাত্র ৮৫০ টাকায় ধান বেচছেন, অথচ প্রত্যেক শ্রমিককে দিনে ৯০০ টাকা মজুরি দিতে হচ্ছে। খালিয়াজুরির এক কৃষক ১৪ এপ্রিল পত্রিকাটিকে জানান, সরকার ধান কেনা শুরু না করায় তিনি স্থানীয় মহাজনদের কাছে মণপ্রতি ৯২০ টাকায় ধান বিক্রি করছেন। খালিয়াজুরির আরেক কৃষক ব্যাখ্যা করেন, কেন এত আগে ধান বিক্রি হয়ে যায়: প্রান্তিক কৃষকেরা মহাজনসহ নানা জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে ফসল ফলান এবং ঋণ শোধ করতে মৌসুমের শুরুতেই ধান বেচতে বাধ্য হন, ফলে কয়েক দিনের মধ্যেই ধান চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়াদের হাতে।

ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তারা যা বললেন
স্থানীয় ফড়িয়ারা দাবি করেন, তাঁরা ভেজা ধান কিনছেন বলে ওজনে কিছুটা বেশি ধরছেন। তাঁদের ভাষ্য, মিলমালিকদের কাছে ধান বিক্রির সময় তাঁদেরও মণে ৪১ কেজি করে দিতে হয়। কৃষকেরা এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, নিয়মের বাইরে গিয়ে ওজন নেওয়া অন্যায্য।
আশুগঞ্জ এলাকা থেকে ধান কিনতে আসা ফড়িয়া ব্যবসায়ী হবির মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘ধান ভেজা, তাই মণে তিন কেজি করে বেশি নিই। এটাই এই অঞ্চলের নিয়ম। কেউ কেউ ৫ কেজি করে বেশি নেয়। মিল মালিকদেরও ওজনে বেশি দিতে হয়।’
জেলা খাদ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, জেলায় তখনো সরকারিভাবে ধান-চাল কেনার নির্দেশনা জারি হয়নি, তবে দ্রুত সিদ্ধান্ত আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ওজনে বেশি নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মোয়েতাছেমুর রহমান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে; কৃষকেরা যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হবে। এর আগে ১৪ এপ্রিল তিনি প্রথম আলোকে বলেছিলেন, সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরুর তারিখ তখনো নির্ধারিত হয়নি।
নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জাগো নিউজকে বলেন, ‘ওজনে বেশি নেওয়ার বিষয়টি শুনেছি। কৃষকদের কষ্টার্জিত ফসল ওজনে বেশি নিয়ে ঠকানো হচ্ছে।’ কৃষকদের সমস্যা সমাধানের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
প্রতিবেদনে কৃষকদের দুটি দাবি উঠে আসে: দ্রুত সরকারি ক্রয় কার্যক্রম শুরু করে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, আর বাজারে ওজনের কারচুপি বন্ধে নজরদারি জোরদার করা। ওই তারিখ পর্যন্ত অভিযোগগুলো নিয়ে কোনো মামলা বা বাজার অভিযানের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল না।
বৃষ্টি, শিলা আর চড়া খরচের মৌসুম
নেত্রকোনার হাওরে কিছু এলাকায় এক সপ্তাহ আগে থেকে আগাম কাটা শুরু হলেও পুরোদমে ধান কাটা শুরু হয় ১২ এপ্রিল, রোববার। প্রথম আলো জানায়, ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যা পর্যন্ত মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরি, কলমাকান্দাসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৫ শতাংশ খেতের ধান কাটা শেষ হয়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম ১৯ এপ্রিল বলেন, শ্রমিকের পাশাপাশি ছয় শতাধিক কম্বাইন্ড হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা চলছে, এবং প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে মে মাসের মাঝামাঝি হাওরের শতভাগ জমির ধান কাটা সম্ভব হবে।
চৈত্রের মাঝামাঝি থেকে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় হাওরের নিচু ধানখেতে পানি জমে যায়। ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি হিসাবে ১ হাজার ১২০ হেক্টর জমির কাঁচা ধান তলিয়ে নষ্ট হয়, যদিও কৃষকেরা বলছিলেন ক্ষতি প্রায় দ্বিগুণ। ১৯ এপ্রিল প্রথম আলো এবং পরে জাগো নিউজ জানায়, অতিবৃষ্টিতে কলমাকান্দার গুড়াডোবা ও মেদাবিল; মদনের গোবিন্দশ্রী ও উচিতপুর; মোহনগঞ্জের ডিঙাপোতা; এবং খালিয়াজুরির কীর্তনখোলা, নন্দের পেটনা, লক্ষ্মীপুর, চুনাই, কাটকাইলেরকান্দা, বৈলং, লেপসাই ও চৈতারাসহ বিভিন্ন হাওরের নিচু খেতে জমে থাকা পানিতে প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির আধা পাকা বোরো ধান নষ্ট হয়েছে। যে খেতে পানি জমে থাকে, সেখানে কম্বাইন্ড হারভেস্টার নামানো যায় না, ফলে বেশি খরচে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটাতে হয়।
শিলাবৃষ্টিও ক্ষতি বাড়ায়। ৭ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রায় আধা ঘণ্টার শিলাঝড় মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী, তিয়শ্রী, নায়েকপুর ও মদন ইউনিয়নে আঘাত হানে। মদন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, উপজেলার ১৭ হাজার ৬৫০ হেক্টর বোরো জমির মধ্যে ৮৫২ হেক্টর শিলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আর তার আগে ২১১ হেক্টর জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত হয়েছিল; প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কর্মকর্তাদের হিসাবে এর আগের ভারী বৃষ্টিতে চার উপজেলায় ১ হাজার ৭২ হেক্টর বোরো তলিয়েছিল: বারহাট্টায় ৯০, কলমাকান্দায় ৪৮০, মদনে ২১১ ও খালিয়াজুরিতে ২৯১ হেক্টর। নেত্রকোনা ডিএইর অতিরিক্ত উপপরিচালক রাকিবুল হাসান বলেন, প্রাথমিক হিসাবে জেলায় জলাবদ্ধতা ও শিলাবৃষ্টিতে প্রায় ১৫ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
জ্বালানি আর শ্রমিক ছিল আরও দুটি চাপ। ১৯ এপ্রিল কৃষকেরা প্রথম আলোকে বলেন, হাওরে ডিজেল সহজে না মেলায় হারভেস্টার পাওয়া যাচ্ছে না; এক হারভেস্টারচালক জানান, তাঁর যন্ত্রে দিনে প্রায় ১০০ লিটার ডিজেল লাগে। মদন থেকে হারভেস্টার আনিয়ে নেওয়া এক কৃষক বলেন, কাঠাপ্রতি (১০ শতক) তাঁকে ৬০০ টাকা দিতে হচ্ছে। শ্রমিকের মজুরি ছিল দিনে ৯০০ টাকা, আর খালিয়াজুরির এক কৃষক বলেন, এক হাজার টাকা রোজ দিয়েও শ্রমিক মিলছে না। ডিঙাপোতা হাওরে এক কৃষক চুক্তিতে প্রতি ১০ শতক জমির ধান কাটাতে শ্রমিকদের ১ হাজার ৪০০ টাকা দিচ্ছিলেন। প্রথম আলো ১৪ এপ্রিল জানায়, জেলা প্রশাসন হাওর এলাকার বাজারগুলোতে প্রশাসনের তদারকিতে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে খুচরা ডিজেল কেনার ব্যবস্থা করেছে।
জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, বজ্রপাতের ঝুঁকি উপেক্ষা করেই শ্রমিকেরা দিনরাত ধান কাটছিলেন। হাওরের ধান কাটার মৌসুমে বজ্রপাত পরিচিত বিপদ। ২২ এপ্রিল সমকালে প্রকাশিত প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নেত্রকোনায় বজ্রপাতে ২০২০ সালে ৮ জন, ২০২১ সালে ১৫ জন, ২০২২ সালে ৩ জন, ২০২৩ সালে ১২ জন, ২০২৪ সালে ৮ জন ও ২০২৫ সালে ১৬ জনের মৃত্যু হয়, আর ২০২৬ সালের এপ্রিলে মারা যান আরও ৩ জন। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় জানায়, ২০২২ সালে জেলায় ৩২টি বজ্রনিরোধক দণ্ড (লাইটনিং অ্যারেস্টার) বসানো হয়েছিল; স্থানীয় কৃষকেরা সমকালকে বলেন, এগুলোর বেশির ভাগ হাওরের ফাঁকা জায়গার বদলে বাজার বা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের কাছে বসানো হয়েছে এবং অধিকাংশই অকেজো হয়ে পড়েছে।

নেত্রকোনার হাওর ও একমাত্র ফসল বোরো
নেত্রকোনা জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বে ময়মনসিংহ বিভাগে, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তঘেঁষা। জেলার আয়তন ২ হাজার ৭৪৪.২৮ বর্গকিলোমিটার। উপজেলা দশটি: আটপাড়া, বারহাট্টা, দুর্গাপুর, খালিয়াজুরি, কলমাকান্দা, কেন্দুয়া, মদন, মোহনগঞ্জ, নেত্রকোনা সদর ও পূর্বধলা। প্রধান নদীর মধ্যে আছে কংস, সোমেশ্বরী, ধলা, মগড়া ও তেওরখালী, যা সুরমা-মেঘনা নদীব্যবস্থার অংশ। বর্ষায় জেলার দক্ষিণ-পূর্ব অংশ হাওরে পরিণত হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখিত খালিয়াজুরি উপজেলার আয়তন ২৯৭.৬৪ বর্গকিলোমিটার, ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ৯৬ হাজার ৩৪৫। উদ্ধৃত এক কৃষকের গ্রাম চাকুয়া এই উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের একটি।
হাওর হলো গামলা বা পিরিচের মতো অগভীর নিম্নভূমি, যা বর্ষায় নদী ও বৃষ্টির পানিতে ভরে বিশাল উত্তাল জলরাশিতে পরিণত হয়। হাওর অববাহিকা ছড়িয়ে আছে সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার জেলা ও সিলেট সদরে; মূল এলাকার বাইরে আছে কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা। এই অঞ্চলে প্রায় ৪০০ হাওর ও বিল রয়েছে। বর্ষায় হাওর মাছের প্রজননক্ষেত্র; শুকনো মৌসুমে পানি নেমে গেলে জেগে ওঠা জমিতে বোরো ধান লাগানো হয়, যা পরের বন্যার পানি আসার আগেই কেটে ঘরে তুলতে হয়।
এ কারণেই হাওরপারের বেশির ভাগ পরিবারের একমাত্র ফসল বোরো, আর এ ফসলের ওপরই নির্ভর করে সন্তানদের লেখাপড়া, চিকিৎসাসহ সারা বছরের সংসার খরচ। স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ মৌসুমে জেলার ১০ উপজেলায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়, যার মধ্যে হাওরাঞ্চলে ৪১ হাজার ১২০ হেক্টর। প্রথম আলো ১৪ এপ্রিল জানায়, জেলা ডিএই ১১ লাখ ৮৬ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল। হাওরে উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড ধানই বেশি, যার জীবনকাল প্রায় ১৪৫ দিন; খালিয়াজুরির এক কৃষক এপ্রিলের মাঝামাঝি ব্রি ধান২৮ ও ব্রি ধান৮৮ কাটা শুরু করেন। জাগো নিউজের হিসাবে হাওরে উৎপাদিত বোরো ধানের বাজারমূল্য প্রায় ৭০০ কোটি টাকা; সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, কৃষক ন্যায্যমূল্য না পেলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আগাম বন্যা থেকে ফসল রক্ষায় সেই মৌসুমে জেলায় ১৩৭.৫৭৯ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এ জন্য ২০২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করা হয় এবং ব্যয় ধরা হয় ৩১ কোটি টাকা, প্রথম আলো স্থানীয় বাসিন্দা ও ডিএই কার্যালয়ের বরাতে জানায়। তবু কৃষকদের ভয় কাটেনি। তাঁরা পত্রিকাটিকে বলেন, ভারী বৃষ্টিতে আগাম বন্যা হলে ২০১৭ সালের মতো ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে হাওরের সব ধান তলিয়ে যেতে পারে।

মণ কী, আর আইন কী বলে
মণ উপমহাদেশের একটি প্রচলিত ওজনের একক, যার পরিমাণ স্থানভেদে ভিন্ন ছিল। ব্রিটিশ ভারতে ১৮৩৩ সালে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিতে প্রথম মণকে ১০০ ট্রয় পাউন্ড (৮২.২৮ অ্যাভোয়ারডুপোয়া পাউন্ড) হিসেবে মানসম্মত করা হয়। স্বাধীনতার পর মেট্রিক পদ্ধতিতে রূপান্তরের সময় এই সংজ্ঞা থেকে এক মণ দাঁড়ায় ৩৭.৩২৪২ কিলোগ্রাম। তবে বাংলাদেশের দৈনন্দিন কেনাবেচায় সর্বত্র এক মণ ধরা হয় ৪০ কেজি, আর কৃষক, ব্যবসায়ী ও সংবাদপত্র এই অর্থেই মণপ্রতি ধানের দাম বলে থাকেন।
বাংলাদেশে ওজন ও পরিমাপ নিয়ন্ত্রণ করে ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৫৬ নং আইন, তারিখ ১৪ নভেম্বর ২০১৮)। আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক পদ্ধতির এককগুলোই সারা দেশে ওজন ও পরিমাপের মানদণ্ড একক, আর ভরের ভিত্তি একক কিলোগ্রাম। ২৮ ধারায় বলা আছে, ব্যবসা-বাণিজ্য, কোনো লেনদেন বা মালামাল সরবরাহের কাজে মেট্রিক পদ্ধতি ছাড়া অন্য কোনো পদ্ধতির ওজন বা পরিমাপ ব্যবহার করা যাবে না। ২৯ ধারায় বলা আছে, কোনো প্রচলিত প্রথা, রীতিনীতি বা পদ্ধতিতে যা-ই থাকুক, কোনো ব্যক্তি মানদণ্ড এককে নির্ণীত এবং চুক্তিতে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম বা বেশি পণ্য দিতে, নিতে বা দাবি করতে পারবেন না।
দুটির জন্যই আইনে দণ্ড রয়েছে। ৪৫ ধারা অনুযায়ী মানদণ্ড ছাড়া অন্য কোনো ওজন বা পরিমাপ ব্যবহার করলে অনূর্ধ্ব ছয় মাসের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। ৪৬ ধারা অনুযায়ী চুক্তি বা নির্দিষ্ট মূল্যের তুলনায় অতিরিক্ত পরিমাণ দাবি বা গ্রহণ করলে, কিংবা তার ব্যবস্থা করলে, অনূর্ধ্ব এক বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। আইনে ‘ইনস্টিটিউশন’ বলতে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনকে (বিএসটিআই) বোঝানো হয়েছে। হাওরের কোনো নির্দিষ্ট কেনাবেচায় এসব বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা কর্তৃপক্ষ ও আদালতের বিচার্য; কৃষকদের অভিযোগ এবং ভেজা ধানে ওজন কমে যাওয়ার কথা বলে ব্যবসায়ীদের জবাব, দুটিই দাবি হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
পুরোনো অভিযোগ, ভিন্ন নামে: ‘ঢলতা’
ধানে ওজন বেশি নেওয়ার অভিযোগ ২০২৬ সালের এপ্রিলে নতুন ছিল না। ২০১৯ সালের মে মাসে প্রথম আলো শেরপুরের নালিতাবাড়ী থেকে জানায়, আড়তদারেরা দুই মণ ধান হিসেবে ৮০ কেজির বদলে ৮৩ কেজি নিচ্ছেন: বস্তার বদলে এক কেজি আর স্থানীয়ভাবে ‘ঢলতা’ নামে পরিচিত দুই কেজি। কৃষকেরা বলেন, এই অনিয়মই সেখানে নিয়মে পরিণত হয়েছে। নালিতাবাড়ী খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বলেন, সব আড়তদারের সম্মতিক্রমে বস্তার ওজন হিসেবে এক কেজি ও ধানের ঘাটতির জন্য ঢলতা হিসেবে দুই কেজি নেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ৮০ কেজির স্থলে ৮৩ কেজি নেওয়ার কথা তিনি শুনেছেন এবং আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে স্থায়ী সমাধানের পদক্ষেপ নেবেন। তখন সেখানে চিকন বোরো ধান মণপ্রতি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা আর মোটা বোরো ৪২০ থেকে ৪৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।
২০২২ সালের জুনে নালিতাবাড়ীতেই উপজেলা কৃষক উন্নয়ন ফোরাম নামের একটি সংগঠন মণপ্রতি দুই কেজি ধান বেশি নেওয়ার প্রতিবাদে উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে দুই ঘণ্টার মানববন্ধন করে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দুই মণ ধান বেচতে চার কেজি বেশি দিতে হয়; সভাপতি বলেন, কৃষকেরা এক মণ হিসেবে ৪০ কেজি ধান দেবেন, এর বেশি নয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ধান ভেজা থাকলে একরকম দাম, শুকনা থাকলে আরেক রকম হবে, কিন্তু মাপে বেশি নেওয়া অযৌক্তিক; বিষয়টি সমাধানে আড়তদারদের আবার ডাকা হবে।
হাওরের ধানের কম দামও নতুন সমস্যা নয়। ২০১৯ সালের মে মাসে প্রথম আলো দেখতে পায়, সুনামগঞ্জের কৃষকেরা ভেজা ধান মণপ্রতি ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা আর শুকনো ধান ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বেচছেন, অথচ সরকার নির্ধারিত দাম ছিল মণপ্রতি ১ হাজার ৪০ টাকা। কৃষকেরা তখন বলেছিলেন, ২০১৭ সালের ফসলহানির প্রভাব তখনো রয়ে গেছে, কারণ সে বছর যাঁরা সব হারিয়েছিলেন তাঁরা ঋণ শোধ করতে পারেননি।

মাঠের দাম ও সরকারের ক্রয় পরিকল্পনা
একই সপ্তাহগুলোতে হাওরের অন্য জেলাতেও কৃষকেরা দাম নিয়ে হতাশা জানান। কিশোরগঞ্জ থেকে প্রথম আলো ২২ এপ্রিল জানায়, হাওরাঞ্চলের ধান বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র করিমগঞ্জ উপজেলার চামড়া নৌবন্দরে আড়তদারেরা হাইব্রিড হীরা জাতের ধানের দাম দিচ্ছিলেন মণপ্রতি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা; এক কৃষক ব্রি ধান২৯ বিক্রি করেন একই দামে, যা আগের বছরের চেয়ে মণপ্রতি ১০০ টাকা কম। এক কৃষক পত্রিকাটিকে বলেন, এক মণ ধান উৎপাদনে খরচ পড়ে ১ হাজার ২০০ টাকার বেশি। সুনামগঞ্জের এক কৃষক ২৩ এপ্রিল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, তিনি মণপ্রতি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায় ধান বেচছেন, আগের মৌসুমে যা ছিল প্রায় ৮০০ টাকা।
২২ এপ্রিল বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায় বোরো মৌসুমের সংগ্রহ লক্ষ্য ঠিক হয়: কেজিপ্রতি ৩৬ টাকা দরে ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান, ৪৯ টাকা দরে ১২ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, ৪৮ টাকা দরে ১ লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং ৩৬ টাকা দরে ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম। ধান ও গম সংগ্রহ শুরু হওয়ার কথা ৩ মে, চাল ১৫ মে থেকে, চলবে ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। সমকাল জানায়, দাম আগের বছরের সমানই রাখা হয়েছে; দ্য ডেইলি স্টারের তথ্যে আগের বছর ধান সংগ্রহের লক্ষ্য ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার টন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে সেই মৌসুমে বোরো উৎপাদনের খরচ কেজিপ্রতি ৩২.৯৭ টাকা, আগের বছর যা ছিল ৩২.৯৬ টাকা। দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলা অর্থনীতিবিদেরা দাম বাড়ানো উচিত ছিল বলে মত দেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল বায়েস সিদ্ধান্তটিকে হঠকারী বলেন এবং বলেন, দামে উৎপাদন খরচের সঙ্গে প্রায় ১০ শতাংশ যুক্তিসংগত মুনাফা থাকা উচিত। কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, কেজিতে দুই-তিন টাকা বাড়ালেও কৃষক বাড়তি খরচ কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারতেন। খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, নির্ধারিত দামে কৃষকের মুনাফা নিশ্চিত হয়।
হাওরের অনেক কৃষকের পক্ষে সরকারি দামে ধান বেচা বাস্তবে কঠিন। সুনামগঞ্জের এক কৃষক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, সরকারি গুদামে দিতে হলে ধান নির্দিষ্ট আর্দ্রতা পর্যন্ত শুকাতে হয়, যা অনেকের সামর্থ্যে কুলায় না, আর উপজেলা সদরের গুদামে ধান নিয়ে যাওয়ার খরচও অনেকে বহন করতে পারেন না। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক গবেষণা পরিচালক এম আসাদুজ্জামান প্রতিটি ইউনিয়নে ক্রয়কেন্দ্র খোলার পরামর্শ দেন এবং সতর্ক করেন, বেশির ভাগ ধান বেসরকারি মিলাররা কেনেন বলে বাজারদর সরকারি দরের কাছাকাছি না এলে কৃষক উপকৃত হবেন না। মিলাররা বলেন, পর্যাপ্ত মজুতের কারণে মৌসুমের শুরুতেই ধানের দাম পড়ে গেছে; পত্রিকাটির উদ্ধৃত খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ১১ লাখ ৪১ হাজার টন চাল আমদানি হয়েছিল।
সেই এপ্রিলে দেশের বোরো চিত্র
বোরো সেচনির্ভর শুকনো মৌসুমের ফসল; ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে চারা রোপণ আর এপ্রিল-মে মাসে কাটা হয়। দেশের বার্ষিক চাল উৎপাদনের প্রায় ৫৫ শতাংশ আসে বোরো থেকে। ডিএইর প্রাথমিক তথ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বোরো আবাদ হয় ৫০ লাখ ৫০ হাজার হেক্টরে, যা আগের বছরের চেয়ে ৩.২৯ শতাংশ বেশি এবং টানা পঞ্চম বছরের বৃদ্ধি; ২০২১-২২ অর্থবছরে এ আবাদ ছিল ৪৮ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর। উৎপাদন ২০২১-২২ অর্থবছরের ২ কোটি ১ লাখ টন থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে হয় ২ কোটি ১৩ লাখ টন, আর ২০২৬ মৌসুমে ডিএইর লক্ষ্য ছিল ২ কোটি ২৪ লাখ টন বোরো চাল।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান এপ্রিলের শুরুতে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, হাওর অঞ্চলের যেসব এলাকা একসময় বোরো চাষের উপযোগী ছিল না, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) খাল খনন ও লো-লিফট পাম্প বসানোর মতো উদ্যোগে সেগুলোতেও এখন চাষ হচ্ছে। ডিএইর মাঠ পরিচর্যা উইংয়ের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মণ্ডল বলেন, শিলাবৃষ্টি না হলে প্রকৃত উৎপাদন ২ কোটি ১৭ লাখ থেকে ২ কোটি ১৮ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে। এপ্রিলের শুরুতে মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) পূর্বাভাস দেয়, জ্বালানি ও সারের সংকটে সেচ ও সার প্রয়োগ ব্যাহত হওয়ায় ২০২৬-২৭ বিপণন বছরে বোরো উৎপাদন ১.৪ শতাংশ কমে ২ কোটি ২ লাখ টন হতে পারে। অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খানের তথ্যে দেশের সেচব্যবস্থার প্রায় ৭০ শতাংশ ডিজেলচালিত।
নেত্রকোনার এই ধান কাটা ছিল হাওরের বড় ও ঝুঁকিপূর্ণ এক মৌসুমের অংশ। পাশের কিশোরগঞ্জ জেলায় সেই মৌসুমে ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়, যার ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৫ হেক্টর হাওরাঞ্চলে; জেলা ডিএইর তথ্যে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২ লাখ ৯৫ হাজার ২৯ মেট্রিক টন ধান। জেলা ডিএইর উপপরিচালক সাদিকুর রহমান কিশোরগঞ্জকে খাদ্যে উদ্বৃত্ত জেলা বলেন, যেখানে বছরে প্রায় সাড়ে চার লাখ মেট্রিক টন খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকে, এবং শিলাবৃষ্টি ও আগাম পানির ঝুঁকির কারণে জমির ধান ৮০ ভাগ পাকলেই কেটে ফেলার পরামর্শ দেন। ডিএইর তথ্যে ৩১ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিলের মধ্যে ঝড়, বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ছয় জেলায় ১ হাজার ৭২৩ হেক্টর বোরো জমি এবং ৯ হাজার ৩৯০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন।
ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, সমকাল, বাংলাদেশের আইন সংকলন, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ (ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮), উইকিপিডিয়া (মণ, হাওর, নেত্রকোনা জেলা, খালিয়াজুরি উপজেলা)




মন্তব্য
(০)