২০২৬ সালের ১৮ জুন, বৃহস্পতিবার, আমের জেলা হিসেবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে দেশি-বিদেশি ১৮৩ জাতের আম নিয়ে তিন দিনের 'আম মেলা' শুরু হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত মেলাটি শনিবার পর্যন্ত চলার কথা ছিল। জাগো নিউজ ২৪ ১৯ জুন এ খবর প্রকাশ করে।
এক স্টলে ১৮৩ জাতের আম
মেলার দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সকালে সেখানে জেলার বিভিন্ন এলাকার আমচাষি, উদ্যোক্তা ও কৃষি বিভাগের একাধিক স্টল দেখা যায়। দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশি টেনেছিল 'আমের জাত প্রদর্শনী' স্টল, যেখানে চাঁপাইনবাবগঞ্জে উৎপাদিত ১৮৩ জাতের আম একসঙ্গে সাজানো ছিল। এর মধ্যে ছিল ছাব্বিশ হাজারী গুটি, চাষা বুলি, কিউজাই, কেইট, ব্রুনাই কিং, ঊষাপন্নি, দিলসাদ, জাদুজেম, শরবতি ও তোতাপুরির মতো পরিচিত ও অপরিচিত নানা জাত।
প্রদর্শিত বিদেশি জাতগুলোর একটি কেইট। এই জাতের উৎপত্তি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ফ্লোরিডায়, ১৯৪৫ সালে এটি বাছাই করে নামকরণ করা হয়। দেরিতে পাকা এই আম আকারে বেশ বড়, কোনো কোনোটির ওজন কয়েক পাউন্ড পর্যন্ত হয়।
দর্শনার্থীরা জানান, এক জায়গায় এত রকমের আম তাঁরা আগে দেখেননি। কেউ ছবি তুলছিলেন, কেউ কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন জাত সম্পর্কে জেনে নিচ্ছিলেন। কিশোরগঞ্জ থেকে আসা ইয়াসিন আলী বলেন, 'কিশোরগঞ্জেও আম উৎপাদন হয়। কিন্তু এতো জাতের আম আগে কখনো দেখিনি। আমরা জানতাম পাঁচ-ছয় ধরনের আমই বেশি প্রচলিত।'
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা হাসিবুর রহমান বলেন, 'আমার বাড়ি এ জেলাতেই। কিন্তু এতো জাতের আমের নাম আমি জীবনেও শুনিনি। এখানে এসে নিজ চোখে দেখলাম। একেকটি আমের ওজন দেড় কেজিরও বেশি।'

হারিয়ে যেতে বসা জাত বাঁচানোর চেষ্টা
আয়োজকদের ভাষ্য, মেলায় প্রদর্শিত প্রতিটি জাতের স্বাদ, রং, আকার ও বৈশিষ্ট্য আলাদা। একসময় চাঁপাইনবাবগঞ্জে এসব জাতের অনেকগুলোর চাষ হলেও সময়ের সঙ্গে বেশ কিছু জাত বিলুপ্তির পথে। নতুন প্রজন্মকে দেশীয় ও বিলুপ্তপ্রায় জাতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং আমের বৈচিত্র্য তুলে ধরতেই এ আয়োজন করা হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সুনাইন বিন জামান জাগো নিউজকে বলেন, 'জেলার বিভিন্ন এলাকার পুরোনো ও নতুন বাগান থেকে এসব আম সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রদর্শিত জাতগুলোর মধ্যে কিছু বিদেশি জাত থাকলেও অধিকাংশই দেশীয়। হারিয়ে যেতে বসা বিভিন্ন জাতের আম সংরক্ষণ ও মানুষের মাঝে পরিচিত করে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।'
তিনি জানান, জেলায় তখন বাণিজ্যিকভাবে সীমিত কয়েকটি জাতের চাষই বেশি হতো, তবে গবেষণা ও সংরক্ষণের মাধ্যমে অন্য জাতগুলো টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চলছিল। আমকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ বাড়ানো এবং জেলার ঐতিহ্য তুলে ধরাও মেলার লক্ষ্য ছিল বলে জানান তিনি।

আমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ রাজশাহী বিভাগের একটি জেলা এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে উত্তর-পশ্চিমের অংশ। এর উত্তর ও পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ ও মুর্শিদাবাদ জেলা, পূর্বে নওগাঁ এবং দক্ষিণ-পূর্বে রাজশাহী জেলা। ১৯৮৪ সালে এটি আলাদা জেলার মর্যাদা পায়।
আমের আদি নিবাসও এই অঞ্চল: বর্তমান বাংলাদেশ, উত্তর-পূর্ব ভারত ও মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল। আমগাছ বাংলাদেশের জাতীয় বৃক্ষ। চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম দেশের তৃতীয় ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য। ২০১৯ সালের ২৭ জানুয়ারি শিল্প মন্ত্রণালয়ে এর জিআই নিবন্ধন সনদ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শফিকুল ইসলামের হাতে তুলে দেওয়া হয়। জেলার পাঁচটি উপজেলায় খিরসাপাতের বাণিজ্যিক চাষ হয়। দেরিতে পাকা বড় আকারের ফজলিও রাজশাহী বিভাগের একটি প্রধান জাত।

ছবি: Ferdous / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি), উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)